ডিএনবি নিউজ ডেস্ক:
সংবিধানে ধর্মনিরপেক্ষতা ও সমাজতন্ত্র বাতিল করে ‘ইসলামি প্রজাতন্ত্র বাংলাদেশ’ প্রতিষ্ঠা, সাধারণ শিক্ষার সব স্তরে ইসলামি শিক্ষা বাধ্যতামূলক করা এবং কওমি শিক্ষার স্বকীয়তা রক্ষাসহ ১৮ দফা দাবি জানিয়েছে কওমি মাদরাসা শিক্ষক পরিষদ।
সোমবার (১৮ মে) সকালে রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাব-এর তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনটির সভাপতি অধ্যক্ষ মুহাম্মদ মিজানুর রহমান চৌধুরী (পীর সাহেব দেওনা) এসব দাবি তুলে ধরেন।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের সিনিয়র সহ-সভাপতি মাওলানা খালিদ সাইফুল্লাহ আইয়ুবী, সহ-সভাপতি মাওলানা আব্দুল বাসেত খান ও মাওলানা আলী আজম বি.বাড়িয়া, মহাসচিব মাওলানা মুস্তাকীম বিল্লাহ হামিদী, মাওলানা মেরাজুল হক মাযহারী, সাংগঠনিক সম্পাদক মুফতি দ্বীন মুহাম্মদ আশরাফ, মাওলানা লুৎফুর রহমান ফরায়েজী, মুফতি রেজুওয়ান রফিকী, মাওলানা নজরুল ইসলাম এবং মুফতি ইমরানুল বারী সিরাজীসহ অন্যান্য নেতারা।
সংবাদ সম্মেলনে নেতারা বলেন, বর্তমান শিক্ষা ব্যবস্থায় ইসলামী শিক্ষাকে প্রান্তিক করে রাখা হয়েছে। প্রাথমিক থেকে উচ্চমাধ্যমিক পর্যন্ত ইসলামী শিক্ষা বাধ্যতামূলক করার আহ্বান জানিয়ে তারা বলেন, ধর্মীয় শিক্ষার ঘাটতির কারণে নতুন প্রজন্ম দ্বীনি জ্ঞান ও নৈতিকতা থেকে দূরে সরে যাচ্ছে। একই সঙ্গে কওমি মাদরাসা শিক্ষার স্বাধীনতা ও স্বকীয়তা অক্ষুণ্ণ রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
তারা অভিযোগ করেন, কওমি শিক্ষাব্যবস্থাকে “সংস্কার” করার নামে এর মৌলিক বৈশিষ্ট্য নষ্টের চেষ্টা চলছে। কওমি শিক্ষাকে মূলধারার শিক্ষার সঙ্গে একীভূত করার যেকোনো উদ্যোগ বন্ধের দাবি জানিয়ে নেতারা বলেন, এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে দেশের শীর্ষ আলেম ও কওমি বোর্ডগুলোর মতামত নিতে হবে।
সংবাদ সম্মেলনে কওমি মাদরাসাগুলোর সামাজিক ও মানবিক অবদানের কথাও তুলে ধরা হয়। নেতারা বলেন, সরকারি অনুদান ছাড়াই কওমি মাদরাসাগুলো দীর্ঘদিন ধরে দরিদ্র ও এতিম শিক্ষার্থীদের আবাসন, খাদ্য ও ধর্মীয় শিক্ষা দিয়ে আসছে। এছাড়া কভিড-১৯ মহামারির সময় কওমি আলেমদের ভূমিকারও প্রশংসা করা হয়।
সংগঠনটির ঘোষিত ১৮ দফা দাবির মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো—সংবিধান সংশোধন করে “ইসলামী প্রজাতন্ত্র বাংলাদেশ” প্রতিষ্ঠা, সব স্তরে ইসলামী শিক্ষা বাধ্যতামূলক করা, ইসলামি সংস্কৃতি সংরক্ষণে সাংবিধানিক সংশোধন, ধর্ম অবমাননা বিরোধী আইন প্রণয়ন, শরিয়াহ আদালত প্রতিষ্ঠা, কওমি মাদরাসার আইনি সুরক্ষা নিশ্চিত করা, কওমি মাদরাসার দান-অনুদান আয়করমুক্ত রাখা, শিক্ষা কমিশন ও জাতীয় শিক্ষাক্রম বোর্ডে কওমি আলেমদের অন্তর্ভুক্তি, অশ্লীলতা ও মাদকাসক্তি রোধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ এবং কোরবানির চামড়ার ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা।
সংবাদ সম্মেলনের শেষে সংগঠনের নেতারা তাদের দাবির পক্ষে জনমত গড়ে তুলতে গণমাধ্যমকর্মীদের সহযোগিতা কামনা করেন।
