যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের হুমকির বিরুদ্ধে জাতিসংঘ মহাসচিব ও নিরাপত্তা পরিষদে ইরানের চিঠি

ডিএনবি নিউজ আন্ত: ডেস্ক:

জাতিসংঘে ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের স্থায়ী প্রতিনিধি নিরাপত্তা পরিষদ ও জাতিসংঘের মহাসচিবের কাছে একটি চিঠি পাঠিয়ে ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের সাম্প্রতিক হুমকিগুলোকে জাতিসংঘ সনদের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন হিসেবে উল্লেখ করেছেন এবং এর স্পষ্ট নিন্দা জানানোর আহ্বান জানিয়েছেন।

পার্সটুডে’র প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জাতিসংঘে ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের রাষ্ট্রদূত ও স্থায়ী প্রতিনিধি আমির সাঈদ ইরাভানি মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ইরানবিরোধী নতুন হুমকির পর নিরাপত্তা পরিষদ ও জাতিসংঘের মহাসচিবকে লেখা এক চিঠিতে এসব বেপরোয়া হুমকির নিন্দা জানান। তিনি বলেন, শক্তি প্রয়োগের প্রকাশ্য হুমকি জাতিসংঘ সনদের উদ্দেশ্য ও নীতিমালার সুস্পষ্ট ও গুরুতর লঙ্ঘন। এ বিষয়ে দৃঢ় ও স্পষ্ট নিন্দা জানাতে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের প্রতি আহ্বান জানান ইরাভানি।

ইরাভানি চিঠিতে আরও বলেন, ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরান এসব বেপরোয়া হুমকির কঠোর নিন্দা জানাচ্ছে এবং জাতিসংঘ সনদের ৫১ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী যেকোনো সশস্ত্র হামলা বা আগ্রাসী কার্যকলাপের বিরুদ্ধে বৈধ আত্মরক্ষার স্বাভাবিক ও অখণ্ড অধিকার পুনরায় জোর দিয়ে উল্লেখ করছে। ইরানের সার্বভৌমত্ব, অখণ্ডতা, জনগণ বা গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় স্বার্থ যদি আরও কোনো আগ্রাসী কর্মকাণ্ডের মুখে পড়ে, তবে ইরান এই অধিকার দৃঢ় ও আনুপাতিকভাবে প্রয়োগ করবে।

তিনি আরও বলেন, ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরান নিরাপত্তা পরিষদ বিশেষকরে এর দায়িত্বশীল সদস্যদের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের বিরুদ্ধে শক্তি প্রয়োগের প্রকাশ্য হুমকিকে জাতিসংঘ সনদের উদ্দেশ্য ও নীতির সুস্পষ্ট ও গুরুতর লঙ্ঘন হিসেবে স্পষ্ট ও দৃঢ়ভাবে নিন্দা জানানো হোক; যুক্তরাষ্ট্রকে অবিলম্বে সনদ ও আন্তর্জাতিক আইনের অধীনে তার দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানানো হোক; সব ধরনের হুমকি ও শক্তি প্রয়োগ বন্ধ করতে বলা হোক এবং নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী সদস্য হিসেবে তার দায়িত্ব এমনভাবে পালন করতে বলা হোক, যা জাতিসংঘের উদ্দেশ্য ও নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। পাশাপাশি দ্বিমুখী নীতি পরিহার করে দৃঢ় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হোক, যাতে নিরাপত্তা পরিষদের এক স্থায়ী সদস্য এবং তার আঞ্চলিক মিত্র ইহুদিবাদী ইসরায়েলের দায়মুক্তি ও আন্তর্জাতিক আইনের প্রতি প্রকাশ্য অবহেলার ফলে সৃষ্ট পরিস্থিতির আরও অবনতি রোধ করা যায়।

জাতিসংঘে ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের স্থায়ী প্রতিনিধি জোর দিয়ে বলেন, এ বিষয়ে কোনো পদক্ষেপ না নিলে তা কেবল আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তাকে আরও দুর্বল করবে না, বরং যে নিরাপত্তা পরিষদের ওপর আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তা রক্ষার প্রাথমিক দায়িত্ব ন্যস্ত করা হয়েছে, সেই পরিষদের বিশ্বাসযোগ্যতা, কর্তৃত্ব ও বৈধতাকেও মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ন করবে। শক্তি প্রয়োগ বা এর হুমকি নিষিদ্ধ করা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি একটি সার্বজনীন বাধ্যবাধকতা এবং এর লঙ্ঘন উপেক্ষা করা বা ন্যায্যতা দেওয়া যায় না। এ ধরণের লঙ্ঘন অনিবার্যভাবে সেই আন্তর্জাতিক আইনি ব্যবস্থার ওপর গুরুতর ও স্থায়ী আঘাতের সমতুল্য।#

সূত্র: পার্সটুডে

Print

সম্পর্কিত পোস্ট

''আপনার মতামত দিন''

ডিএনবি নিউজ ২৪.কম