নারী বিষয়ক সংস্কার কমিশন যে সুপারিশ করেছে এটা সরকারি কোনো সিদ্ধান্ত নয়-আইন উপদেষ্টা

ডিএনবি নিউজ ডেস্ক:

নারী বিষয়ক সংস্কার কমিশন সম্প্রতি যে সুপারিশ পেশ করেছে এর বিরুদ্ধে হেফাজতে ইসলামসহ ইসলামি দলগুলো আন্দোলন করে আসছে। এই অবস্থায় নারী সংস্কার কমিশনের সুপারিশের ব্যাপারে সরকারের পক্ষ থেকে প্রথমবারের মতো মুখ খুললেন আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল।

মঙ্গলবার (৬ মে) বিকেলে রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠক নিয়ে আয়োজিত ব্রিফিংয়ে তিনি এ ব্যাপারে কথা বলেন।

আইন উপদেষ্টা জানান, নারী বিষয়ক সংস্কার কমিশন যে সুপারিশ করেছে এটা সরকারি কোনো সিদ্ধান্ত নয়। বড় ধরনের কোনো সংস্কার করতে হলে জাতীয়ভাবে ঐকমত্য হতে হবে।

নারী কমিশনের সুপারিশ নিয়ে কারও কোনো ভিন্নমত থাকলে সেটা সহনশীলতা এবং শালীনতার মাধ্যমে পেশ করার আহ্বান জানিয়েছেন আইন উপদেষ্টা।

নারী বিষয়ক সংস্কার কমিশনের প্রধান শিরীন পারভীন হকের নেতৃত্ব কমিশনের সদস্যরা গত ১৯ এপ্রিল প্রধান উপদেষ্টার কাছে তাদের প্রতিবেদন জমা দেন। প্রতিবেদনে নারীর প্রতি বৈষম্য দূর করতে মুসলিম, হিন্দু ও খ্রিষ্টান পারিবারিক আইনের সংস্কার করার প্রস্তাব করা হয়েছে। এসব আইনের পরিবর্তে অভিন্ন পারিবারিক আইনের মাধ্যমে সব ধর্মের নারীর জন্য বিয়ে, তালাক ও সন্তানের ভরণপোষণে সমান অধিকার নিশ্চিত করার জন্য অধ্যাদেশ জারি করার সুপারিশের পাশাপাশি সব সম্প্রদায়ের জন্য আইনটিকে ঐচ্ছিক রাখার সুপারিশ করা হয়েছে।

এছাড়া উত্তরাধিকার আইন সংশোধন করে মুসলিম ও অন্যান্য ধর্মীয় উত্তরাধিকার আইন সংশোধন করে সম্পদে নারীর ৫০ শতাংশ নিশ্চিত করার সুপারিশ করেছে কমিশন। এর অংশ হিসেবে সিডও সনদের ওপর অবশিষ্ট দুটি সংরক্ষণ প্রত্যাহার এবং আইএলও সনদ সি১৮৯ ও সি১৯০ অনুস্বাক্ষর ও পূর্ণ বাস্তবায়ন করার সুপারিশ করা হয়েছে। পাশাপাশি শ্রম আইনে যৌনকর্মীদের শ্রমিক হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার সুপারিশ করেছে নারী বিষয়ক সংস্কার কমিশন।

তবে কমিশনের এসব সুপারিশ নিয়ে তুমুল আপত্তি দেখা দিয়েছে। জামায়াতে ইসলামী, হেফাজতে ইসলামসহ ইসলামি দলগুলো এর কড়া সমালোচনা করেছে। এই সুপারিশের বিভিন্ন ধারাকে সরাসরি কোরআন-সুন্নাহ পরিপন্থী আখ্যায়িত করে পুরো কমিশন বাতিরের দাবি জানিয়েছে। হেফাজতে ইসলাম গত ৩ মে রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে যে চার দাবিতে মহাসমাবেশ করে এর প্রধানতম দাবি ছিল এই কমিশন বাতিল করা।

তবে নারী সংস্কার কমিশনের সুপারিশ নিয়ে পক্ষে-বিপক্ষে তুমুল আলোচনা-সমালোচনা হলেও এ ব্যাপারে সরকারের দায়িত্বশীল কেউ এত দিন মুখে খোলেননি। এবারই প্রথম আইন উপদেষ্টা এই কমিশন নিয়ে সরকারের অবস্থান পরিষ্কার করলেন।




চিকিৎসা শেষে দেশে ফিরলেন খালেদা জিয়া: বিমানবন্দরে বিএনপি নেতাকর্মীদের ঢল

ডিএনবি নিউজ ডেস্ক:

বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া যুক্তরাজ্যে উন্নত চিকিৎসা শেষে ঢাকায় পৌঁছেছেন।

আজ (মঙ্গলবার) সকাল ১০টা ৪০ মিনিটে তাকে বহনকারী কাতারের আমিরের বিশেষ বিমানটি (এয়ার অ্যাম্বুলেন্স) হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে। একই ফ্লাইটে খালেদা জিয়ার সঙ্গে দেশে ফিরেছেন দুই পুত্রবধূ জোবাইদা রহমান ও সৈয়দা শর্মিলা রহমান।

খালেদা জিয়াকে স্বাগত জানাতে বিমানবন্দরে উপস্থিত ছিলেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরসহ দলের জ্যেষ্ঠ নেতারা। দলীয় চেয়ারপারসনকে একনজর দেখতে এবং তাকে শুভেচ্ছা জানাতে সকাল থেকেই রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা থেকে নেতাকর্মীরা ছুটে আসেন বিমানবন্দর সড়কে।

এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে বেগম খালেদা জিয়া

বিমানবন্দর থেকে গুলশানের ফিরোজা পর্যন্ত বিভিন্ন মোড়ে মোড়ে দলীয় নেতাকর্মীরা অবস্থান নেন ফুটপাতে। অনেকেই হাতে ফুল, ব্যানার-প্ল্যাকার্ড ও খালেদা জিয়ার ছবি নিয়ে দাঁড়িয়ে ছিলেন। তাঁদের স্লোগানে স্লোগানে মুখর হয়ে ওঠে বিমানবন্দর সড়ক ও আশপাশের এলাকা। বেগম জিয়া কিছুটা সুস্থ হয়ে দেশে ফেরায় স্বস্তি প্রকাশ করছেন তারা।

হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে খালেদা জিয়া সরাসরি তাঁর গুলশান-২ নম্বরের ৭৯ নম্বর সড়কের বাসভবন ফিরোজায় যান। বিমানবন্দর থেকে ফিরোজায় যাওয়ার সময় পথে পথে খালেদা জিয়াকে স্বাগত জানান দলের বিপুলসংখ্যক নেতা-কর্মী। বেলা ১টা ২৫ মিনিটে তিনি ‘ফিরোজা’য় পৌঁছান।

খালেদা জিয়ার দেশে ফেরা উপলক্ষ্যে রাজধানীর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়। সেখানে অন্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি কাজ করে সেনাবাহিনীও।

প্রসঙ্গত, গতকাল (সোমবার) বাংলাদেশ সময় রাত ৯টা ৩৫ মিনিটে বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়াকে বহনকারী এয়ার অ্যাম্বুলেন্সটি লন্ডনের হিথ্রো বিমানবন্দর থেকে বাংলাদেশের উদ্দেশে রওনা হয়।

খালেদা জিয়া গত ৮ জানুয়ারি উন্নত চিকিৎসার জন্য যুক্তরাজ্যের লন্ডনে যান। সেখানে লন্ডন ক্লিনিকের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে চিকিৎসাধীন ছিলেন তিনি।

খালেদা জিয়ার শারীরিক অসুস্থতার কথা জেনে কাতারের আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল থানি তার যুক্তরাজ্য গমনের জন্য এয়ার অ্যাম্বুলেন্স পাঠিয়েছিলেন। সেটিতেই লন্ডন যান এবং একই এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে দেশে ফিরলেন।#

সূত্র: পার্সটুডে




দুর্গাপুরে বিচার বিভাগীয় কর্মচারীদের কর্মবিরতি

ডিএনবি নিউজ ডেস্ক:

বেতন-ভাতা কাঠামো, পৃথক সচিবালয়, গ্রেড পরিবর্তন ও স্বতন্ত্র নিয়োগবিধি বাস্তবায়নের দাবিতে সারাদেশের মতো নেত্রকোনার দুর্গাপুরে দুই ঘণ্টার কর্মবিরতি পালন করেছেন বিচার বিভাগীয় কর্মচারীরা। সোমবার (৫ মে) সিনিয়র সহকারি জজ আদালত প্রাঙ্গণে বাংলাদেশ বিচার বিভাগীয় কর্মচারী অ্যাসোসিয়েশন, নেত্রকোনা জেলা শাখার আয়োজনে এ কর্মসূচি পালিত হয়।

কর্মবিরতি চলাকালে বক্তারা বলেন, বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিসের বেতন স্কেলের আলোকে ন্যায্য বেতন-ভাতা নির্ধারণ এবং স্বতন্ত্র নিয়োগবিধি প্রণয়নের দাবিতে তারা দীর্ঘদিন ধরে আন্দোলন করে আসছেন। তবে এখনও পর্যন্ত কোনও কার্যকর উদ্যোগ দেখা যায়নি। এর ফলে তারা অবহেলা ও বঞ্চনার শিকার হচ্ছেন বলে দাবি করা হয়। এ বৈষম্য নিরসনের লক্ষে মাননীয় প্রধান উপদেস্টার হস্তক্ষেপ কামনা করেন তারা। দ্রুত এই সংকট সমাধান না হলে আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করবেন বলেও হুঁশিয়ারি দেন তারা।

কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন, সিনিয়র আইনজীবি মানেশ চন্দ্র সাহা, সিনিয়র সহকারী জজ আদালতের সেরেস্তাদা মোস্তাফিজুর রহমান, বেঞ্চ সহকারি সোহেল রানা, সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের স্টেনো কাম কম্পিউটার অপারেটর আব্দুল রায়হান প্রমুখ। এছাড়া আদালতের অন্যান্য কর্মচারীগণ উপস্থিত ছিলেন।




ময়মনসিংহের ব্রহ্মপুত্র নদের স্টিল আর্চ সেতুর সংযোগ সড়ক নির্মাণে দুর্নীতির অভিযোগ

ময়মনসিংহের ব্রহ্মপুত্র নদের উপর নির্মাণাধীন কেওয়াটখালী স্টিল আর্চ সেতুর সংযোগ সড়কের নকশায় পরির্বতন আনা হয়েছে। এতে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা। তারা বলছেন, স্থানীয় ভুক্তভোগীদের সঙ্গে সমঝোতা না করে তড়িঘড়ি করে ভূমি অধিগ্রহণ প্রক্রিয়া সম্পন্নের মাধ্যমে প্রকল্পের কোটি কোটি টাকা লুটপাট নিশ্চিত করতে যাচ্ছে একটি চক্র।

শনিবার (৩১ আগস্ট) ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির মিলনায়তনে সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ করেন তারা।

তারা বলেন, এ সেতু প্রকল্পের নকশায় পরিবর্তন এনে উত্তর-পূর্ব অংশের সংযোগ সড়কটি বাঁকা করে নেওয়ায় সৌন্দর্য নষ্টের পাশাপাশি ব্যয় বাড়বে। ৩ হাজার ২৬৩ কোটি টাকার এ প্রকল্পটি ত্রুটিপূর্ণ নকশায় ঘুরিয়ে পেঁচিয়ে সংযোগ সড়কটি ঘন জনবসতিপূর্ণ এলাকা ও শতাধিক মিল-কারখানা, বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের মধ্য দিয়ে নেওয়া হয়েছে। এই বিষয়টি ঘিরেই শুরু হয়েছে ভূমি অধিগ্রহণকেন্দ্রিক লুটপাটের কার্যক্রম।

লাখ টাকার সম্পদ-স্থাপনাকে কয়েক কোটি টাকা মূল্য নির্ধারণের নকশা আঁকাআঁকির অপকর্ম চলছে প্রকাশ্যেই। এমন পরিস্থিতিতে প্রকল্পটি জনকল্যাণ নিশ্চিতকরণে ব্যর্থ হওয়ারও আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

জানা যায়, ময়মনসিংহ ব্রহ্মপুত্র নদীর উপর অস্ট্রেলিয়ার সিডনী হারবার ব্রিজের আদলে কেওয়াটখালী সেতু নির্মাণ প্রকল্প হাতে নিয়েছে সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর। উত্তরাঞ্চলের জেলাসমূহের সঙ্গে রাজধানী ঢাকার নিরাপদ, উন্নত ও ব্যয় সাশ্রয়ী যোগাযোগ স্থাপনের জন্য সরকার ময়মনসিংহে এই সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে। শহরের বাইপাস থেকে শম্ভূগঞ্জ পর্যন্ত ৬ দশমিক ২০ কিলোমিটারের মধ্যে নদের উপর সেতুটি নির্মিত হচ্ছে। মূল সেতুর দৈর্ঘ্য এক হাজার ১০০ মিটার; এর মধ্যে আর্চ স্টিলের অংশ থাকছে ৩২০ মিটার। এ ছাড়া সেতুর দু-পাশের সংযোগ সড়কের দৈর্ঘ্য ৫ দশমিক ১ কিলোমিটার।

অভিযোগ করা হয়েছে, প্রকল্পে ভূমি অধিগ্রহণ চক্রের অন্যতম সদস্য বিদায়ী প্রকল্প পরিচালক নূরে আলম ও সদ্য বিদায়ী জেলা ভূমি অধিগ্রহণ কর্মকর্তা মাহফুজুল হক এবং বিদায়ী ও বর্তমান প্রজেক্ট ম্যানেজার যথাক্রমে নূরে আলম ও দিদারুল আলমের যৌথ কারসাজিতে মাত্রাতিরিক্ত অপচয় করা হচ্ছে। এলাকাবাসি এমন অভিযোগ তুলে অবিলম্বে সংযোগ সড়কের ত্রুটিপূর্ণ নকশা সংশোধনেরও দাবি জানান।




ফ্যাসিবাদের দোসর একশ্রেণীর ব্যবসায়ীর কাছে মিডিয়া হাউজগুলো জিম্মি ছিলো-অধ্যক্ষ হাফেজ মাওলানা ইউনুস আহমেদ

ডিএনবি নিউজ ডেস্ক:

বিশ্ব মুক্ত গণমাধ্যম দিবসকে কেন্দ্র করে আজ ৪ মে’২৫ (রোববার) এক বিবৃতিতে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মহাসচিব অধ্যক্ষ হাফেজ মাওলানা ইউনুস আহমেদ বলেছেন, ফ্যাসিবাদী শাসনামলে দেশের গণমাধ্যমগুলোকে ফ্যাসিবাদের হাতিয়ারে পরিণত করা হয়েছিল।

ফ্যাসিবাদের দোসর একশ্রেণীর ব্যবসায়ীর কাছে মিডিয়া হাউজগুলো জিম্মি ছিলো। অসৎ ও লোভী একদল লোক সাংবাদিক পরিচয় ধারণ করে গণমাধ্যমকে ফ্যাসিবাদের পক্ষে সমর্থন উৎপাদন করতো। ফ্যাসিবাদের বয়ানকে সমাজে প্রতিষ্ঠা করতো, ভিন্নমতের বিরুদ্ধে মিডিয়া ট্রায়াল পরিচালনা করতো। গণমাধ্যম থেকে প্রকৃত সাংবাদিকদের উৎখাত করে ছিলো পতিত স্বৈরাচার। ৫ আগষ্টের পরে অবস্থার পরিবর্তন হয়েছে, যার প্রতিফলন বৈশ্বিক জরিপেও দেখা গেছে।

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মহাসচিব বলেন, সাম্প্রতি মুক্ত গণমাধ্যম সূচকে অগ্রগতি আশাব্যঞ্জক হলেও সাংবাদিকদের জন্য নিরাপদ, স্বাধীন এবং সহনশীল কর্মপরিবেশ তৈরি করতে এখনো অনেক কাজ করতে হবে। বিশেষ করে সাইবার নিরাপত্তা আইন ও অন্যান্য নিয়ন্ত্রণমূলক ব্যবস্থার কারণে সাংবাদিকরা যে চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হচ্ছেন, তা দ্রুত নিরসন করতে হবে।

তিনি আরো বলেন, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা একটি রাষ্ট্রের বিকাশের অপরিহার্য উপাদান। তথ্যের অবাধ প্রবাহ নিশ্চিত না হলে নাগরিকদের মতপ্রকাশের অধিকারও ক্ষুন্ন হয়। একটি স্বাধীন গণমাধ্যমই পারে জনগণের কণ্ঠস্বর তুলে ধরতে, প্রশাসনের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে এবং নীতি-নির্ধারকদের সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে সহায়তা করতে।

ইসলামী আন্দোলনের মহাসচিব বলেন, স্বাধীন গণমাধ্যম যেমন একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রত্যয়, তেমনি ব্যক্তির স্বাধীনতাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কেননা অন্যের অধিকার হরণ করে নিজের অধিকার প্রতিষ্ঠাকে স্বাধীনতা বলা যায় না। তাই মুক্ত গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠায় ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ তার অব্যাহত সংগ্রাম জারি রাখবে ইনশাআল্লাহ।




শাপলা গণহত্যার বিচার দাবিতে আগামীকাল সারাদেশে মানববন্ধন করবে ইসলামী ছাত্রশিবির

ডিএনবি নিউজ ডেস্ক :

২০১৩ সালের ৫ মে মতিঝিলের শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের ঢাকা অবরোধকে কেন্দ্র করে চালানো হত্যাকাণ্ডকে গণহত্যা হিসেবে আখ্যায়িত করেছে ইসলামী ছাত্রশিবির। শাপলা হত্যাকাণ্ডের এক যুগ পূর্তিতে আগামীকাল সোমবার (৫ মে) মানববন্ধনের ডাক দিয়েছে সংগঠনটি।

ছাত্রশিবিরের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সব বিভাগীয় শহরে এই মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হবে।

শিবিরের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি আবু সাদিক কায়্যিম তার ফেসবুক পোস্টে লিখেন-

৫ মে ২০১৩—গণহ’ত্যার সাক্ষী এক ভয়াল দিন। ইসলাম ও দেশের পক্ষে লক্ষ লক্ষ মানুষ শাপলা চত্বরে জমায়েত হলে, ফ্যাসিবাদী ও খুনি হাসিনা ক্ষমতা রক্ষার নেশায় রাতের আঁধারে বিদ্যুৎ ও যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে চালায় বর্বর হামলা। নিরস্ত্র ধর্মপ্রাণ মানুষের রক্তে রঞ্জিত হয় রাজপথ, রচিত হয় বাংলাদেশের ইতিহাসের নিষ্ঠুরতম অধ্যায়।

খুনি হাসিনার জুলুম, গ্রেফতার ও হত্যার হুমকির ভয়ে সন্তানহারা বহু বাবা-মা মুখ খুলতে পারেনি—বলতে পারেনি, তাদের ছেলে শাপলার শহীদ। মানবাধিকার সংস্থার তদন্ত সর্বস্তরে বাধাগ্রস্ত করা হয়।

হত্যাকারী জালিমদের প্রতি ধিক্কার ও লানত। সেই সাথে আমাদের সম্মিলিত দাবি— শাপলা গণহত্যার দৃষ্টান্তমূলক বিচার নতুন বাংলাদেশে দ্রুত সময়ের মধ্যে নিশ্চিত করতে হবে ।




হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে সৌদিতে পৌঁছলেন প্রথম ফ্লাইটের হজযাত্রীরা

ডিএনবি নিউজ ডেস্ক:

৩৯৮ জন হজযাত্রী নিয়ে প্রথম ফ্লাইট সৌদি আরবের জেদ্দায় পৌঁছেছে।

সোমবার (২৮ এপ্রিল) দিবাগত রাত ২টা ১৫ মিনিটে হজযাত্রীদের নিয়ে ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে উড্ডয়ন করে সৌদিয়া এয়ারলাইন্সের এসভি-৮০৩ ফ্লাইটটি। এতে ছিলেন ৩৯৮ জন হজযাত্রী।

বোয়িং ৭৭৭-৩০০ মডেলের এই উড়োজাহাজটি সৌদি সময় সকাল ৬টায় জেদ্দার কিং আব্দুল আজিজ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে।

ধর্ম মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, হজ ফ্লাইট শুরুর প্রথম ২৪ ঘণ্টায় মোট ১০টি ফ্লাইটে ৪ হাজার ১৮০ জন হজযাত্রী সৌদি আরব যাবেন। এর মধ্যে আটটি ফ্লাইট জেদ্দায় এবং দুটি মদিনার প্রিন্স মুহাম্মদ বিন আব্দুল আজিজ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নামবে।

এ বছর তিনটি এয়ারলাইন্স ২৩২টি প্রাক-হজ ফ্লাইটের মাধ্যমে এদেশের হজযাত্রী পরিবহন করবে। বাংলাদেশ বিমান ১১৮ টি প্রাক্‌-হজ ফ্লাইটে ৪৪ হাজার ৩০৭ জন, সাউদিয়া ৮০টি ফ্লাইটে ৩২ হাজার ৭৪০ জন ও ফ্লাইনাস ৩৪টি ফ্লাইটে ১৩ হাজার ৬৫ জন হজযাত্রী পরিবহন করবে। ৩১ মে প্রাক-হজ ফ্লাইট শেষ হবে। হজের আনুষ্ঠানিকতা শেষে ১০ জুন ফিরতি ফ্লাইট শুরু হবে।

এ বছর বাংলাদেশ থেকে মোট ৮৭ হাজার ১০০ জন হজযাত্রী হজ পালনের জন্য সৌদি আরব যাবেন। এর মধ্যে ৫ হাজার ২০০ জন সরকারি মাধ্যমে এবং বেসরকারি মাধ্যমে ৮১ হাজার ৯০০ জন। চাঁদ দেখা সাপেক্ষে ৫ জুন হজ অনুষ্ঠিত হবে।

হাজীদের জন্য যোগাযোগ সুবিধাসহ বিভিন্ন দরকারি ফিচার সম্বলিত একটি মোবাইল অ্যাপ চালু করা হয়েছে। এছাড়া তাদেরকে হজ প্রিপেইড কার্ড ও মোবাইল সিম রোমিং সুবিধা প্রদান করা হচ্ছে।




সব প্রস্তুতি সম্পন্ন, আজ রাতেই শুরু হচ্ছে হজ ফ্লাইট-ধর্ম মন্ত্রণালয়

পবিত্র হজের প্রথম ফ্লাইট আজ সোমবার (২৮ এপ্রিল) মধ্যরাত থেকে শুরু হচ্ছে। রাত ২টা ১৫ মিনিটে হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে সৌদি এয়ারলাইন্সের প্রথম ফ্লাইটটি জেদ্দার উদ্দেশে যাত্রা করবে। ইতোমধ্যে এ ব্যাপারে সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে ধর্ম মন্ত্রণালয়।

এবারও ঢাকা থেকেই হজযাত্রীদের সৌদি আরব অংশের ইমিগ্রেশন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে ৮৭ হাজার হজযাত্রীর মধ্যে ৭৯ শতাংশের ভিসাপ্রাপ্তি নিশ্চিত হয়েছে। হজ ফ্লাইট আজ থেকে শুরু হয়ে আগামী ৩১ মে পর্যন্ত চলবে।

এবছর বাংলাদেশ থেকে মোট ৮৭ হাজার ১০০ জন হজযাত্রী হজে যাবেন। এর মধ্যে সরকারি ব্যবস্থাপনায় ৫ হাজার ২০০ জন এবং বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় ৮১ হাজার ৯০০ জন রয়েছেন। আজ সন্ধ্যায় হজ ফ্লাইটের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন অনুষ্ঠিত হবে। এরই মধ্যে হজযাত্রীরা আশকোনা হজ ক্যাম্পে আসা শুরু করেছেন।

বিমানবন্দরের এডিসি আরিফুল ইসলাম জানিয়েছেন, হজযাত্রীদের বাংলাদেশ অংশের ইমিগ্রেশন আশকোনা হজ ক্যাম্পে এবং সৌদি আরবের ইমিগ্রেশন শাহজালাল বিমানবন্দরে অনুষ্ঠিত হবে। নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিমানবন্দরে সার্বক্ষণিক দুই শতাধিক পুলিশ সদস্যের পাশাপাশি গোয়েন্দা নজরদারিও থাকবে।

হজ এজেন্সি এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (হাব) মহাসচিব ফরিদ আহমেদ মজুমদার জানান, বিমান বাংলাদেশসহ মোট তিনটি এয়ারলাইন্সের ২৩২টি ফ্লাইট এ বছর হজযাত্রী পরিবহন করবে। তিনি আরও জানান, এখন পর্যন্ত ৬০ হাজারের বেশি যাত্রীর ভিসা সম্পন্ন হয়েছে এবং হজ ফ্লাইট পরিচালনায় কোনো জটিলতা সৃষ্টি হয়নি।




দিল্লি-ইসলামাবাদ উত্তেজনায় পাক পররাষ্ট্রমন্ত্রীর ঢাকা সফর স্থগিত

ডিএনবি নিউজ ডেস্ক:

কাশ্মীর ইস্যুতে ভারত-পাকিস্তানের মধ্যে সৃষ্ট তীব্র উত্তেজনাকর পরিস্থিতিতে পাকিস্তানের উপপ্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্র মন্ত্রী ইসহাক দারের আসন্ন ঢাকা সফর স্থগিত করা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার ঢাকাস্থ পাকিস্তান হাইকমিশনের পক্ষ থেকে এই সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়। ইসহাক দারের আসন্ন সফর স্থগিতের ব্যাপারে পাকিস্তান হাইকমিশনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতির কারণে উপপ্রধানমন্ত্রী ইসহাক দার আগামী ২৭ ও ২৮ এপ্রিল তার পূর্ব নির্ধারিত ঢাকা সফরে যেতে পারছেন না। দু’দেশের পারস্পরিক আলোচনার ভিত্তিতে এই সফরের নতুন সূচি চূড়ান্ত করা হবে বলে পাকিস্তান হাইকমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

উল্লেখ্য, চলতি মাসের ১৭ তারিখে ঢাকায় অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ-পাকিস্তান পররাষ্ট্র সচিব পর্যায়ের বৈঠকে ইসহাক দারের ঢাকা সফরের সূচি চূড়ান্ত করা হয়েছিল।

গত ২২ এপ্রিল ভারত নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরে সন্ত্রাসী হামলায় ২৮ জন নিহত হয়েছে। নিহতের সকলেই পর্যটক বলে গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়েছে। ওই ঘটনার পেছনে পাকিস্তানের হাত হয়েছে বলে ভারতের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে। তবে পাকিস্তান এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে। ওই ঘটনার জের ধরে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। এক দেশ অপর দেশের বিরুদ্ধে ভিসা বাতিল, নিজ নিজ দেশের নাগরিকদের দেশত্যাগের নির্দেশ, কূটনৈতিকের সংখ্যা কমানোসহ নানা পদক্ষেপ গ্রহণ করছে।#

সূত্র: পার্সটুডে




ভারতে মুসলিম নির্যাতনের প্রতিবাদ ও নারী সংস্কার কমিশন বাতিলের দাবিতে সাভারে হেফাজতের বিক্ষোভ

ডিএনবি নিউজ ডেস্ক :

ভারতে মুসলিম নির্যাতনের প্রতিবাদ ও ইসলাম বিদ্বেষী নারী সংস্কার কমিশন বাতিলের দাবিতে সাভারে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ।

আজ (২৫ এপ্রিল) শুক্রবার বাদ জুমা সাভার মডেল মসজিদের সামনে আয়োজিত বিক্ষোভে প্রধান অতিথি ছিলেন প্রবীণ আলেমেদ্বীন ও ব্যাংক কলোনি মাদরাসার মুহতামিম মাওলানা আবদুল্লাহ। হেফাজত ঢাকা জেলা উত্তরের সভাপতি ও যাদুরচর মাদরাসার মুহতামিম হাফেজ মাওলানা আলী আকবর কাসেমীর সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন সাধারণ সম্পাদক মাওলানা আলী আজম, যমযমনূর গ্রুপের এমডি হাফেজ মাওলানা নূর মোহাম্মদ, মাওলানা শাহেদ জহিরী, মুফতি আমিনুল ইসলাম কাসেমী, মুফতি নাজমুল হাসান বিন নূরী, মুফতি মাহফুজ হায়দার কাসেমী, মুফতি আলী আকরাম প্রমুখ।

বিক্ষোভে বক্তারা ভারতে ওয়াকফ আইন বাতিল ও মুসলিম নির্যাতনের প্রতিবাদ জানিয়ে আরও বলেন, ভারতে মুসলিম নির্যাতন ভয়াবহ রূপ নিয়েছে, যা গভীর উদ্বেগের কারণ। লাউড স্পিকারে আজান দেয়ায় ইমামের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। হোলি উৎসবের নামে নামাজ আদায়ে বাধা দেওয়া এবং নামাজরত মুসল্লিদের ওপর সরাসরি হামলা চালানো হচ্ছে।

ভারতে মুসলিম নির্যাতন মোটেই দুয়েকটি ঘটনায় সীমাবদ্ধ নয়। সেখানে অনেক বড় পরিসরে মসজিদ আক্রান্ত, বাড়িঘর উচ্ছেদ, পরিবারকে বিচ্ছিন্ন, তরুণদের গণপিটুনি, নারীদের হেনস্তাসহ সমগ্র মুসলিম জাতীকে নিজ ভূমিতে দ্বিতীয় শ্রেণীর নাগরিকে পরিণত করা হয়েছে।
ভারতের মুসলমানদের ওপর এ নির্যাতন নিপীড়ন বন্ধে ড. ইউনূসের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে জোরাল ভূমিকা রাখার দাবি জানান তারা।

সমাবেশে বক্তারা নারী বিষয়ক সংস্কার কমিশনের প্রদত্ত প্রতিবেদন ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করে অবিলম্বে কমিশন বাতিলের দাবি জানান। তারা বলেন, কমিশনের প্রতিবেদনে মুসলিম উত্তরাধিকার আইন বাতিলের প্রস্তাব করা হয়েছে। মুসলিম পারিবারিক আইন সংস্কার করে সকল ধর্মের জন্য অভিন্ন পারিবারিক আইন প্রণয়নের প্রস্তাব করা হয়েছে যেখানে বিয়ে, তালাক, উত্তরাধিকার ও ভরণপোষণে নারী-পুরুষের কথিত সমান অধিকার থাকবে। স্ত্রী স্বামীর বিরুদ্ধে ধর্ষণ মামলা করতে পারবে। যৌনকর্মীদের শ্রমিক হিসেবে স্বীকৃতি প্রদানের প্রস্তাব করা হয়েছে। এসব প্রস্তাবনা পবিত্র কুরআন ও সুন্নাহর বিধানের সাথে সরাসরি সাংঘর্ষিক। বাংলাদেশের মুসলিম নারী সমাজের সাথে এর কোন সম্পর্ক নেই। এই প্রস্তাবনার মাধ্যমে দেশের ধর্মীয় ও সামাজিক ভারসাম্য এবং পারিবারিক কাঠামো ধ্বংস করার গভীর ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে। এই কমিশনের সদস্যরা দেশকে অস্থিতিশীল করতে চায়। আমরা অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের কাছে অবিলম্বে নারী সংস্কার কমিশন বাতিল এবং তাদের সকল বিতর্কিত প্রস্তাবনা রাষ্ট্রীয়ভাবে প্রত্যাখ্যানের দাবি জানাই।

বিক্ষোভ সমাবেশ শেষে হাফেজ মাওলানা আলী আকবর কাসেমীর নেতৃত্বে বিশাল একটি মিছিল ঢাকা আরিচা মহাসড়কের বিভিন্ন স্থান প্রদক্ষিণ করে।