মালয়েশিয়ায় ফিজিওথেরাপি নিচ্ছেন মির্জা আব্বাস

ডিএনবি নিউজ ডেস্ক: 

ঢাকা-৮ আসনের সংসদ সদস্য, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) স্থায়ী কমিটির সদস্য ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা মির্জা আব্বাসের শারীরিক অবস্থার উন্নতি হওয়ায় তাকে সিঙ্গাপুরে চিকিৎসা শেষে উন্নত ফিজিওথেরাপি ও পুনর্বাসন চিকিৎসার জন্য মালয়েশিয়ায় স্থানান্তর করা হয়েছে।

বুধবার (১৫ এপ্রিল) বিকেলে মির্জা আব্বাসের একান্ত সচিব মিজানুর রহমান সোহেল গণমাধ্যমকে জানান, সিঙ্গাপুরের জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকার পর তার শারীরিক অবস্থার উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়েছে। উন্নত ফিজিওথেরাপি ও পুনর্বাসন চিকিৎসার জন্য মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) তাকে মালয়েশিয়ায় নেয়া হয়েছে।

তিনি আরও জানান, বর্তমানে মির্জা আব্বাস আগের তুলনায় অনেকটাই সুস্থ এবং চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী তার পরবর্তী চিকিৎসা প্রক্রিয়া চলবে মালয়েশিয়ায়। দ্রুত সুস্থতা কামনায় তিনি দেশবাসীর কাছে দোয়া চেয়েছেন।

উল্লেখ্য, গত ১১ মার্চ ইফতারে পানি পান করার সময় হঠাৎ করেই জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন মির্জা আব্বাস। তখন অবস্থার উন্নতি না হলে গভীর রাতে তাকে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় গত ১৫ মার্চ ঢাকা থেকে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে তাকে সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালে নেয়া হয়।




দুর্গাপুরে হাম-রুবেলার টিকা বিষয়ে সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত

ডিএনবি নিউজ ডেস্ক:

দেশব্যাপী হাম ও রুবেলা সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যে আগামী ২০ এপ্রিল ২০২৬ থেকে শুরু হতে যাচ্ছে বিশেষ হাম-রুবেলা টিকাদান ক্যাম্পেইন (এমআর)। এই কর্মসূচি সফল করতে নেত্রকোনার দুর্গাপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আয়োজনে এক বিশেষ সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৬ মে) সকালে উপজেলায় কর্মরত বিভিন্ন দপ্তর প্রধানদের অংশগ্রহনে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স মিলনায়তনে আয়োজিত সভায় ভারপ্রাপ্ত উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ এএসএম তানজিরুল ইসলামের সভাপতিত্বে, স্যানেটারী ইন্সপেক্টার মো. আলী আকবরের সঞ্চালনায় অন্যদের মাঝে বক্তব্য রাখেন, প্রধান শিক্ষক বজলুল কাদের, ডিএসকে হাসপাতাল ইনচার্জ ধ্রুব সরকার, অফিসার ইনচার্জ দুর্গাপুর থানা মো. কামরুল আহসান, সাংবাদিক সমিতির আহবায়ক সজিম সাইন, প্রেসক্লাব সভাপতি তোবারক হোসেন খোকন, সমাজসেবা অফিসার মাসুল তালুকদার, মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মো. বজলুর রহমান আনছারী, প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মো. ফজলুর রহমান, দ্বীনি আলীম দারাসার অধ্যক্ষ আব্দুর রহমান প্রমুখ।

বক্তারা বলেন, ৬ মাস থেকে শুরু করে ৫ বছর বয়সী সকল শিশুকে এই ক্যাম্পেইনের আওতায় এক ডোজ হাম-রুবেলা (এমআর) টিকা প্রদান করা হবে। যে সকল শিশু ইতোপূর্বে ৯ মাস ও ১৫ মাস বয়সে নিয়মিত এমআর টিকা গ্রহণ করেছে, তারাও এই বিশেষ ক্যাম্পেইনের অধীনে পুনরায় তাদের টিকা দেয়া হবে।

ডাঃ তানজিরুল ইসলাম বলেন, টিকা গ্রহণের প্রক্রিয়া সহজ ও সু-শৃঙ্খল করতে অভিভাবকদের নির্দিষ্ট অনলাইন প্ল্যাটফর্ম “ঠধীঊচও”- তে নিবন্ধন সম্পন্ন করতে হবে। নিবন্ধন শেষে টিকা কার্ডটি ডাউনলোড করে টিকাদান কেন্দ্রে নিয়ে আসার জন্য বিশেষভাবে আহ্বান জানানো হয়েছে। এই ক্যাম্পেইন সফলভাবে বাস্তবায়িত হলে অত্র এলাকায় হাম ও রুবেলা সংক্রমণের ঝুঁকি অনেকাংশে হ্রাস পাবে এবং শিশুদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে। আগামী ১২ মে পর্যন্ত উপজেলা পর্যায়ে এই ক্যাম্পেইন চলবে।




দুর্গাপুরে নানা আয়োজনে পালিত হয়েছে বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩

ডিএনবি নিউজ ডেস্ক:

পুরনো বছরের জীর্ণতা ও গ্লানিকে বিদায় জানিয়ে শুরু হয়েছে নতুন প্রাণের উৎসব ‘পহেলা বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ’। বাঙালীর হাজার বছরের ইতিহাস ও ঐতিহ্যের মেলবন্ধনে গড়ে ওঠা এই দিনটি উদযাপনে নেত্রকোনার দুর্গাপুরে বৈশাখী শোভাযাত্রা, লোকজ শিল্পমেলার উদ্বোধন সহ নানা আয়োজনে এ উৎসব পালিত হয়েছে।

মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) সকালে জাতীয় সংগীত ও বৈশাখের গান পরিবেশনের মধ্য দিয়ে দিবসের সুচনা করা হয়। পরে উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে পুলিশ প্রশাসন, উপজেলা বিএনপি ও তার অঙ্গসংগঠন, মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড কাউন্সিল, সিপিবি, বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সম্মিলিত সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক পরিষদ, শিল্পকলা একাডেমি, পথ পাঠাগার সহ বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক সংগঠনের অংশগ্রহনে একটি বৈশাখী শোভাযাত্রা বের করা হয়। শোভাযাত্রাটি শহরের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে উপজেলা পরিষদ চত্ত্বরে গিয়ে শেষ হয়। পরে সেখানে লোকজ শিল্পমেলার উদ্বোধন করেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার আফরোজা আফসানা।

আলোচনা সভায় একাডেমিক সুপারভাইজার মুহাম্মদ নাসির উদ্দিন এর সঞ্চালনায়, উপজেলা নির্বাহী অফিসার আফরোজা আফসানা‘র সভাপতিত্বে সহকারি কমিশনার (ভুমি) মো. মিজানুর রহমান, বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ এডভোকেট এম এ জিন্নাহ্, উপজেলা বিএনপি‘র সভাপতি জহিরুল আলম ভুইয়া, সহ:সভাপতি এম রফিকুল ইসলাম, সাংগঠনিক সম্পাদক আলহাজ্ব জামাল উদ্দীন মাস্টার, বীর মুক্তিযোদ্ধাগণ, অফিসার ইনচার্জ মো. কামরুল হাসান, উপজেলায় কর্মরত বিভিন্ন দপ্তরের প্রধানগণ, বিএনপি ও তার অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীগণ, বিভিন্ন্ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধানগণ, দুর্গাপুর প্রেসক্লাব ও সাংবাদিক সমিতির সাংবাদিকগণ সহ অন্যান্য সকল দপ্তরের কর্মকর্তা কর্মচারীগন উপস্থিত ছিলেন। আলোচনা শেষে উপজেলা শিল্পকলা একাডেমি ও ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর কালচারাল একাডেমি, শিল্পী মিজানুর রহমান কাঞ্চন এক মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশন করে।

এছাড়া সুসঙ্গ সরকারি মহাবিদ্যালয়, মহিলা ডিগ্রি কলেজ, ডন বসকো কলেজ, সুসঙ্গ আদর্শ বিদ্যানিকেতন, এডভান্স মডেল স্কুল, সিপিবি, পথ পাঠাগার, বিরিশিরি বর্ষবরণ উদযাপন কমিটি, সম্মিলিত সাহিত্য ও সাংস্কৃতিক পরিষদ সহ অন্যান্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান দিবসের তাৎপর্য তুলে ধরে পৃথক ভাবে আলোচনা সভা, চিত্রাংকন প্রতিযোগিতা, ঘুড়ি উড়ানো সহ লোকজ খেলা ও মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশন করেন।




কুমিল্লার দেবিদ্বারে দেয়াল ধ্বসে সিফাত নামের এক শিক্ষার্থীর মৃত্যু

কুমিল্লার দেবিদ্বারে মাদরাসার দেয়াল ধ্বসে পড়ে সিফাত (১২) নামের এক শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়েছে।

সোমবার (১৩ এপ্রিল) সন্ধ্যায় দেবিদ্বার পৌরসভার ছোট আলমপুর কওমি মাদরাসায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত শিক্ষার্থী সিফাত উপজেলার বড়শালঘর এলাকার মাসুম রহমানের ছেলে।

স্থানীয়রা জানান, ছোট আলমপুর কওমি মাদরাসাটির একটি পুরনো দেয়াল ভেঙে নতুন করে নির্মাণের কাজ করছিলেন মাদরাসা কর্তৃপক্ষ। সোমবার সন্ধ্যায় মিস্ত্রিদের পাশাপাশি মাদরাসার শিক্ষার্থীদের দিয়ে পুরনো দেয়ালটি ভাঙার কাজ করাচ্ছিলেন। হঠাৎ কাজ করতে থাকা শিক্ষার্থী সিফাতের ওপর ধসে পড়ে দেয়ালের বড় একটি অংশ। এ সময় অন্য শিক্ষার্থীরা চিৎকার শুরু করলে প্রতিবেশীরা গিয়ে সিফাতকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

দেবিদ্বারের ওসি মনিরুজ্জামান জানান, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছিল। যতটুকু জেনেছি মিস্ত্রিদের পাশাপাশি শিক্ষার্থীরাও দেয়াল ভাঙার কাজ করছিল। হঠাৎ বড় একটি অংশ সিফাতের ওপর পড়লে এতে তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় শিশুটির পরিবার মামলা করলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।




চলমান বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে ৯ ক্ষেত্রে ব্যয় কমাতে সরকারের বিশেষ নির্দেশনা

ডিএনবি নিউজ ডেস্ক:

চলমান বৈশ্বিক পরিস্থিতি ও অর্থনৈতিক অস্থিরতা বিবেচনায় নিয়ে বাংলাদেশ সরকার ৯টি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে ব্যয় কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। গত ৯ এপ্রিল মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের উপসচিব তানিয়া আফরোজ স্বাক্ষরিত এ সংক্রান্ত পরিপত্র জারি করা হয়।

সোমবার (১৩ এপ্রিল) পরিপত্র প্রকাশ করা হয়েছে। সব সচিব, বিভাগীয় কমিশনার, জেলা প্রশাসক এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর দেওয়া সেই পরিপত্রে নির্দেশনাগুলো অবিলম্বে কার্যকরের নির্দেশনা দেওয়া হয়।

মূলত গত ২ এপ্রিল মন্ত্রিসভা বৈঠকে বর্তমান বৈশ্বিক প্রেক্ষাপট ও চলমান সংঘাতের ফলে জ্বালানি তেল, গ্যাস, বিদ্যুৎ ও সার খাতে সৃষ্ট প্রভাব নিয়ে আলোচনা করা হয়। পরিস্থিতি মোকাবিলায় অর্থ বিভাগের স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি কর্মকৌশল এবং অর্থায়ন পরিকল্পনা পর্যালোচনা করে বেশকিছু ব্যয় সাশ্রয়ী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে সরকার।

বৈঠকে সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে অফিস সময় এক ঘণ্টা কমানো এবং দোকানপাট ও বিপণিবিতান বন্ধের সময়সীমা নির্দিষ্ট করে দেওয়াসহ জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে একগুচ্ছ গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

পরিপত্রে বলা হয়, সরকার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে যে সরকারের পরিচালন ব্যয় হ্রাসকল্পে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত—

১. সরকারি গাড়িতে মাসিক ভিত্তিতে বরাদ্দকৃত জ্বালানির ব্যবহার ৩০ শতাংশ হ্রাস করতে হবে।

২. সরকারি কর্মকর্তাদের গাড়ি ক্রয়ের জন্য সুদমুক্ত ঋণ দেওয়া এবং সরকারি অর্থায়নে সব বৈদেশিক প্রশিক্ষণ বন্ধ থাকবে।

৩. প্রশিক্ষণ ব্যয় ব্যতীত অভ্যন্তরীণ প্রশিক্ষণ ব্যয় ৫০ শতাংশ হ্রাস করতে হবে।

৪. সভা/সেমিনারে আপ্যায়ন ব্যয় ৫০ শতাংশ হ্রাস করতে হবে এবং সেমিনার/কনফারেন্স ব্যয় ২০ শতাংশ হাস করতে হবে।

৫. ভ্রমণ ব্যয় ৩০ শতাংশ হ্রাস করতে হবে।

৬. সরকারি খাতে গাড়ি, জলযান, আকাশযান এবং কম্পিউটার ক্রয় শতভাগ হ্রাস করতে হবে।

৭. সরকারি কার্যালয়ে জ্বালানি/বিদ্যুৎ/গ্যাস ব্যবহার ৩০ শতাংশ হ্রাস করতে হবে।

৮. আবাসিক ভবন শোভাবর্ধন ব্যয় ২০ শতাংশ এবং অনাবাসিক ভবন শোভাবর্ধন ব্যয় ৫০ শতাংশ হ্রাস করতে হবে।

৯. ভূমি অধিগ্রহণ ব্যয় শতভাগ হ্রাস করতে হবে।




জুলাই গণ-অভ্যুত্থানকে রক্ষা করতে আমরা আবারও আন্দোলনের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছি, নাহিদ ইসলাম

ডিএনবি নিউজ ডেস্ক:

জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেছেন, আমরা আবারও প্রস্তুতি নিচ্ছি। আমরা দল-মত নির্বিশেষে ঐক্যবদ্ধ আছি। এটি কোনো দলের বিষয় নয়, এটি কোনো জোটের বিষয় নয়; এটি বাংলাদেশকে রক্ষা করার বিষয়। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানকে রক্ষা করার বিষয়। জুলাইয়ের শহীদদের রক্ত যাতে বৃথা না যায়, এটি সেই উদ্যোগের বিষয়। এর জন্য আমরা সবাই ঐক্যবদ্ধ থাকব।

রোববার (১২ এপ্রিল) দুপুরে ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স, বাংলাদেশ (আইডিইবি) মিলনায়তনে জুলাইয়ের শহীদ পরিবার ও যোদ্ধাদের সঙ্গে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

নাহিদ ইসলাম বলেন, আমরা হয়তো অন্তর্বর্তী সরকারের সময় আপনাদের পাশে সম্পূর্ণভাবে দাঁড়াতে পারিনি। তারপরও আমরা সর্বাত্মক চেষ্টা করেছি। এই সরকার জুলাই যোদ্ধাদের পক্ষে বড় বড় কথা বলে; আমরা দেখতে চাই তারা জুলাই যোদ্ধাদের জন্য এবং সংস্কারের জন্য অন্তর্বর্তী সরকারের চেয়ে বেশি কী করছে?

জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ বলেন, জুলাই অধিদপ্তর ও জুলাই শহীদ স্মৃতি ফাউন্ডেশন অন্তর্বর্তী সরকারের সময় গঠন করা হয়েছিল। তারা সেই বিষয়গুলো কিছুটা বাস্তবায়ন করার চেষ্টা করছে, তবে অনেক ক্ষেত্রে তাদের অনীহা দেখা যাচ্ছে।

নাহিদ বলেন, আপনাদের প্রতি আহ্বান ও অনুরোধ থাকবে, আমরা আবারও প্রস্তুতি নিচ্ছি। আমরা দল-মত নির্বিশেষে ঐক্যবদ্ধ আছি। এটি কোনো দলের বা জোটের বিষয় নয়; এটি বাংলাদেশকে রক্ষা করার এবং জুলাই গণ-অভ্যুত্থানকে রক্ষার বিষয়। জুলাইয়ের শহীদদের রক্ত যেন বৃথা না যায়, সেই লক্ষ্যে আমরা সবাই ঐক্যবদ্ধ থাকব।

তিনি বলেন, আজকে আপনারা যারা উপস্থিত হয়েছেন, সবাই হয়তো কথা বলতে পারেননি; কিন্তু যারা বলেছেন সবার মধ্যেই আমরা সমান স্পিরিট দেখেছি। সবার মনের ভাষা আমরা বুঝতে পেরেছি। আমরা আবারও ঐক্যবদ্ধ আছি এবং রাজপথের জন্য প্রস্তুত আছি। ইনশাআল্লাহ, আপনারাও সবাই প্রস্তুত আছেন।

এনসিপি আহ্বায়ক বলেন, রাজপথের আন্দোলনে আপনারা সন্তান হারিয়েছেন, কেউ পা হারিয়েছেন, কেউ হাত হারিয়েছেন। এবার আপনারা সামনে নয়, বরং আজকে এই মঞ্চে যারা বসে আছি, আমরাই সবার সামনের সারিতে থাকব।

তিনি বলেন, গুলি এলে আগে আমাদের বুকে লাগবে। আপনারা শুধু আমাদের সহযোগিতা করবেন এবং দোয়া করবেন। ইনশাআল্লাহ, নতুন বাংলাদেশ ও সংস্কার প্রতিষ্ঠিত হবেই। শুধু বিএনপি কেন, অন্য যে শক্তিই হোক না কেন, চাই সে কোনো পরাশক্তি বা বৈদেশিক শক্তি হোক, আমরা তাদের পরাজিত করে ছাড়ব।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।




পহেলা বৈশাখে ১০ জেলায় ‘কৃষক কার্ড’ বিতরণ শুরু, উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী

ডিএনবি নিউজ ডেস্ক:

কৃষকদের জন্য নতুন উদ্যোগ নিয়ে পহেলা বৈশাখে শুরু হচ্ছে ‘কৃষক কার্ড’ বিতরণ কার্যক্রম। সোমবার (১৪ এপ্রিল) টাঙ্গাইলসহ দেশের ১০টি জেলায় একযোগে এই কার্যক্রমের উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

বৃহস্পতিবার (০৯ এপ্রিল) সরকারি এক তথ্যবিবরণীতে জানানো হয়, কৃষি খাতকে আরও সংগঠিত ও আধুনিক করতে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী নিজেই উপস্থিত থেকে নির্বাচিত কৃষকদের হাতে কার্ড তুলে দেবেন।

সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, কৃষক কার্ডের মাধ্যমে কৃষকদের বিভিন্ন সেবা ও সুবিধা সহজে পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হবে। এতে কৃষি খাতে সরকারি সহায়তা ব্যবস্থাপনা আরও কার্যকর হবে বলেও আশা করা হচ্ছে।

তথ্যবিবরণীতে উল্লেখ করা হয়, টাঙ্গাইলসহ দেশের ১০টি জেলায় প্রাথমিকভাবে এই কর্মসূচি চালু হচ্ছে। পর্যায়ক্রমে এটি দেশের অন্যান্য জেলাতেও সম্প্রসারণ করা হতে পারে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, কৃষকদের একটি কেন্দ্রীয় ডাটাবেইস তৈরির ক্ষেত্রেও এই কার্ড গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এক কর্মকর্তা বলেন, “এই কার্ডের মাধ্যমে কৃষকদের সুনির্দিষ্ট তথ্য সংরক্ষণ করা যাবে, ফলে সহায়তা দেওয়া হবে আরও সহজ ও স্বচ্ছভাবে।”

বিশ্লেষকদের মতে, ডিজিটাল পদ্ধতিতে কৃষকদের অন্তর্ভুক্ত করার এই উদ্যোগ ভবিষ্যতে ভর্তুকি, ঋণ ও অন্যান্য সহায়তা বিতরণে স্বচ্ছতা আনতে সহায়ক হতে পারে।




‘যেকোনো মূল্যে গণভোটের রায়কে আদায় করেই ছাড়ব’ মন্তব্য-ডা. শফিকুর রহমান

ডিএনবি নিউজ ডেস্ক:

যেকোনো মূল্যে গণভোটের রায় বাস্তবায়ন করা হবে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও সংসদের বিরোধী দলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান।

সোমবার (০৬ এপ্রিল) জাতীয় প্রেসক্লাবে জাগপার ৪৬তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন তিনি।

সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠের অহমিকায় বিএনপি ফ্যাসিবাদী আচরণ করছে, বলে মন্তব্য করে, আমির অভিযোগ করেন, ‘শুধু ব্যক্তি পরিবর্তনের জন্য অভ্যুত্থান সংগঠিত হয়নি। অভ্যুত্থান পুরো ফ্যাসিবাদী কাঠামোর বিরুদ্ধে ছিল। কিন্তু জাতীয় নির্বাচনের ফলাফল হাইজ্যাক করেছে একটি পক্ষ।’

হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি বলেন, ‘যেকোনো মূল্যে গণভোটের রায়কে আমরা আদায় করেই ছাড়ব। এই প্রজন্ম ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে সজাগ রয়েছে। তাদেরকে সঙ্গে নিয়ে যেকোনো অন্যায়ের বিরুদ্ধে আমরা লড়াই করবো।’

তিনি আরও বলেন, ‘জ্বালানি সংকট ও হাম সংক্রমণ ইস্যু নিয়ে সংসদে কথা বলতে গেলেই আমাদের মুখ বন্ধ করে দেয়া হয়। আমাদের নোটিশ আলোচনার জন্য উত্থাপন করা হয় না। সরকার বলছে, জ্বালানি সংকট নেই। কিন্তু আমি নিজের গাড়ির জন্যই প্রয়োজন মাফিক তেল পাই না।’

বিরোধী দলীয় নেতা আরও বলেন, ‘সংসদে জনগণের ভাগ্য নিয়ে যেন কেউ ছিনিমিনি খেলতে না পারে, সেজন্য আমরা লড়াই করে যাব।’




১৩৩টি অধ্যাদেশ নিয়ে সংসদে আলোচনা চান বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান

ডিএনবি নিউজ ডেস্ক :

১৩৩টি অধ্যাদেশ নিয়ে সংসদে বিস্তারিত আলোচনা করতে চান জামায়াতে ইসলামীর আমির ও সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান।

তিনি বলেন, ১৩৩টি অধ্যাদেশ যাচাই-বাছাই করার জন্য গঠিত হয়েছিল একটি বিশেষ কমিটি। সেই কমিটির পেশ করা রিপোর্ট আপনি (স্পিকার) অনুমোদন করেছেন। সেখানে কিছু অধ্যাদেশ ‘ল্যাপস’ (বিলুপ্ত) করার প্রস্তাব রয়েছে। আমরা আগের নোটিশের সঙ্গে মিলিয়ে দেখলাম, যে অধ্যাদেশগুলো ল্যাপস করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে সেগুলো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং ‘জুলাই স্পিরিটের’ সঙ্গে সম্পৃক্ত।

রোববার (৫ এপ্রিল) জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের দ্বিতীয় কার্যসূচি শুরুর আগে স্পিকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করে তিনি এ প্রস্তাব উত্থাপন করেন। তিনি বলেন, আমরা এই বিষয়ে আলোচনা করতে চাই।

বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, আজকের কার্যসূচিতে ‘সম্পূরক কার্যসূচি’ নামে একটি পাতা পেয়েছি। সেখানে কিছু বিল সামনে আনা হয়েছে এবং আমার ধারণা, সেগুলো অধ্যাদেশকে কেন্দ্র করেই আনা হয়েছে। যদি তাই হয়ে থাকে, তবে যে অধ্যাদেশগুলো ল্যাপসের তালিকায় রয়েছে সেগুলো নিয়ে সংসদে আলোচনার সুযোগ তৈরি করে দেওয়া হোক।

এমন প্রস্তাবের প্রেক্ষিতে স্পিকার আইনমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করলে আইনমন্ত্রী শুরুতে বলেন, বিরোধীদলীয় নেতা যে দুটি বিলের ব্যাপারে কথা বলেছেন, সেগুলো কোনো অধ্যাদেশ থেকে উৎসারিত নয়। এগুলো মন্ত্রণালয় থেকে পাঠানো একদম নতুন (ফ্রেশ) বিল, যা ওই ১৩৩টি অধ্যাদেশের অন্তর্ভুক্ত নয়। উনারা যেটা বলছেন আমরা ল্যাপস করেছি, কোনো কোনোটা হেফাজত করা হচ্ছে। আমরা পরবর্তীতে বিল আকারে অধিকতর যাচাই বাছাই করে আপনাদের সামনে সেগুলো আনবো। সেটা যথাসময় উত্তর দেব।

১৩৩টি অধ্যাদেশের বিষয়ে তিনি পরবর্তীতে বিল আকারে যাচাই-বাছাই করে সংসদে উত্থাপন করার কথা জানান।

এরপর স্পিকার সংসদ সদস্যদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, আমাদের ৯ তারিখের মধ্যে প্রায় ৯৩টি বিল পাস করতে হবে। আপনাদের অনেক বক্তব্য সেখানে থাকবে, আমরা বিষয়টি পরবর্তীতে দেখব।

আছরের নামাজের বিরতির পর আইনমন্ত্রী স্পিকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করে তার আগের বক্তব্যের সংশোধনী দেন। তিনি বলেন, একটি ছোট সংশোধন আছে। বিরোধীদলীয় নেতা যে দুটি আইনের কথা বলছেন, সেগুলো ওই ১৩৩টি অধ্যাদেশের মধ্যেই ছিল।

এরপর বিরোধীদলীয় নেতা পুনরায় আলোচনার প্রসঙ্গ টেনে বলেন, যে অধ্যাদেশগুলো ল্যাপস করার কথা বলা হয়েছে, আমাদের মতে তার প্রতিটি অতি গুরুত্বপূর্ণ এবং জনগণের অধিকার সংরক্ষণের সঙ্গে সম্পর্কিত। তাই আমার সুস্পষ্ট প্রস্তাব হচ্ছে, এগুলো সংসদে উত্থাপন করা হোক এবং আমরা এতে আলোচনা করতে চাই।

বিরোধীদলীয় নেতার এই প্রস্তাবের প্রেক্ষিতে আইনমন্ত্রী বলেন, প্রত্যেকটি অধ্যাদেশই সংসদে উত্থাপিত হবে। ফার্স্ট রিডিং ও সেকেন্ড রিডিংয়ের সময় আলোচনার সুযোগ থাকবে। বর্তমানে যে দুটি অধ্যাদেশ বিল আকারে এসেছে, সেগুলোর বিষয়ে বিশেষ কমিটি নিঃশর্তভাবে পাস করার পক্ষে মত দিয়েছিল।




এবার বরিশালের চরমোনাই মাহফিলে অংশ নিতে এনসিপি’র নেতৃবৃন্দ

সাবেক অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উপদেষ্টা ও এনসিপির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার নেতৃত্বে দলের একটি প্রতিনিধি দল বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) সকালে বরিশালের চরমোনাই দরবারে পৌঁছেছে। তারা চরমোনাই মাহফিলে অংশ নিতে সেখানে যান।

জানা গেছে, ফজর নামাজের পর পীর সাহেব চরমোনাই মুফতী সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম বয়ানে অংশ নেন। বয়ান শেষে তিনি এনসিপি প্রতিনিধি দলের সঙ্গে সংক্ষিপ্ত এক ঘরোয়া মতবিনিময় সভায় অংশ নেন।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় মিডিয়া সেলের প্রধান সমন্বয়ক কেএম শরীয়াতুল্লাহ।

এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন ইসলামী আন্দোলনের যুগ্ম মহাসচিব ও মুখপাত্র মাওলানা গাজী আতাউর রহমান, যুগ্ম মহাসচিব ইঞ্জিনিয়ার আশরাফুল আলম, এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক সারোয়ার তুষার, যুগ্ম সদস্য সচিব ফয়সাল মাহমুদ শান্ত, কেন্দ্রীয় সংগঠক ও ন্যাশনাল ওলামা এলায়েন্সের সদস্য সচিব মাওলানা সানাউল্লাহ খান, কেন্দ্রীয় সদস্য হামজা মাহবুব, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কেন্দ্রীয় সভাপতি রিফাত রশীদ, ছাত্রনেতা ও সাবেক ডাকসু ভিপি প্রার্থী আব্দুল কাদের এবং জাতীয় ছাত্র শক্তির নেতা যোবায়ের হোসেনসহ অন্যান্যরা।

এনসিপি নেতারা বৃহস্পতিবার সারাদিন চরমোনাইয়ে অবস্থান করবেন। বাদ জোহর মাহফিলের মূল মঞ্চে বক্তব্য রাখার কথা রয়েছে এনসিপির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার।