কক্সবাজারে মসজিদে ঢুকে ছুরিকাঘাত, অভিযুক্ত যুবককে আটক করেছে পুলিশ

কক্সবাজার পৌরসভার উত্তর টেকপাড়ায় একটি মসজিদে ঢুকে ছুরিকাঘাতের ঘটনায় এক মুসল্লি আহত হয়েছেন। এ ঘটনায় অভিযুক্ত এক যুবককে আটক করেছে পুলিশ।

মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) রাত সাড়ে ৮টার দিকে উত্তর টেকপাড়ার বায়তুশরফ জামে মসজিদে এ ঘটনা ঘটে। কক্সবাজার সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ছমি উদ্দিন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, এশার নামাজের আগে জায়নামাজ ও টুপি হাতে নিয়ে নুরুল আজিম নাহিদ নামে এক যুবক মসজিদে প্রবেশ করেন। শুরুতে তাঁর আচরণ স্বাভাবিক থাকলেও হঠাৎ করে তিনি হাতে থাকা ছুরি দিয়ে এলোপাতাড়ি আঘাতের চেষ্টা করেন। এতে মসজিদে উপস্থিত মুসল্লিদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

একপর্যায়ে হামলায় পেশকারপাড়া এলাকার আক্তার হোসেন নামের এক মুসল্লির হাতে ছুরিকাঘাত করা হয়। এতে তিনি আহত হন।

ঘটনার পর অভিযুক্ত যুবক মসজিদের মিম্বারে উঠে ছুরি হাতে অঙ্গভঙ্গি করতে থাকেন, যা উপস্থিত লোকজনের মধ্যে আরও ভীতির সৃষ্টি করে।

পরে স্থানীয় লোকজন ও পুলিশের সহায়তায় তাকে নিয়ন্ত্রণে এনে আটক করা হয়। আহত মুসল্লিকে উদ্ধার করে দ্রুত হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে বলে জানা গেছে।




কুয়েতের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর লক্ষ্য করে ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইরান

ডিএনবি নিউজ আন্ত: ডেস্ক-

কুয়েতের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর লক্ষ্য করে ড্রোন হামলা চালিয়েছে ইরান। হামলায় বিমানবন্দরের একটি জ্বালানি ট্যাংককে লক্ষ্য করা হয়েছে।

রোববার (৮ মার্চ) বাংলাদেশ সময় সকাল সাড়ে ৬টার দিকে এ তথ্য জানায় দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়।

প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় বলেছে, গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোকে সরাসরি লক্ষ্যবস্তু করে কুয়েত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের জ্বালানি ট্যাংকে ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে।

কুয়েতের পাশাপাশি সৌদি আরবেও একের পর এক ড্রোন হামলা চালাচ্ছে ইরান। সৌদির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় বাংলাদেশ সময় রোববার সকালে জানায়, তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এক ঘণ্টায় রাজধানী রিয়াদের পূর্ব দিকে সাতটি ড্রোন ভূপাতিত করেছে।

এই তথ্যের প্রায় এক ঘণ্টা আগে সৌদির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছিল, তাদের আকাশসীমায় পৌঁছানোর পর ইরানের আটটি ড্রোন ভূপাতিত করা হয়েছে।

অন্যদিকে, ইরানের রাজধানী তেহরানে তেল মজুত রাখার কয়েকটি কমপ্লেক্সে ভয়াবহ বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে।

ইসরায়েলি ডিফেন্স ফোর্স (আইডিএফ) এই খবর নিশ্চিত করেছে। বিস্ফোরণের পর শহরের আকাশে কালো ধোঁয়ার কুণ্ডলী দেখা গেছে।

আইডিএফের বক্তব্য অনুযায়ী, এটি জ্বালানি সংরক্ষণ ট্যাংকগুলোর ওপর চালানো একটি ‘উল্লেখযোগ্য হামলা’। তারা দাবি করেছে, ইরানের শাসকগোষ্ঠী এসব ট্যাংক সরাসরি ও নিয়মিতভাবে সামরিক অবকাঠামোর কাজে ব্যবহার করে।




খামেনি হত্যায় তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ পীর সাহেব চরমোনাইয়ের

ডিএনবি নিউজ ডেস্ক :

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম, পীর সাহেব চরমোনাই বলেছেন, ইরান একটি স্বাধীন-স্বার্বভৌম দেশ। সেই দেশের প্রধান ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খোমেনিকে নিজ বাসভবনে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা করে হত্যা করা প্রতিষ্ঠিত বিশ্বব্যবস্থার প্রতি স্পষ্ট উপেক্ষা ও আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এই বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ডের তীব্র নিন্দা জানাচ্ছে।

রোববার (১ মার্চ) এক বিবৃতিতে পীর সাহেব চরমোনাই উপর্যুক্ত মন্তব্য করেন।

বিশ্ব পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে পীর সাহেব চরমোনাই আরো বলেন, মার্কিন-ইজরাইলী এই বর্বরতা গোটা মধ্যপ্রাচ্যকে অগ্নিগর্ভে পরিনত করবে এবং এর অভিঘাত বিশ্বের সকলকেই স্পর্শ করবে।তাই এই সংঘাত বন্ধ করতেই হবে।

পীর সাহেব চরমোনাই শোকাহত ইরানী জনতার প্রতি সমবেদনা ও সহমর্মিতা প্রকাশ করেছেন।




নেত্রকোনার দুর্গাপুরে কাঠমিলে ভয়াবহ আগুন, অল্পের জন্য রক্ষা পেলো পুরো এলাকা




দুর্গাপুর সীমান্ত থেকে বিজিবির অভিযানে ৪৮ বোতল ভারতীয় মাদক জব্দ

ডিএনবি নিউজ ডেস্ক:

নেত্রকোনার সীমান্তবর্তী উপজেলা দুর্গাপুরে মাদকবিরোধী অভিযান চালিয়ে মালিকবিহীন অবস্থায় ৪৮ বোতল ভারতীয় মদ জব্দ করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) সকাল পৌনে ১০টায় নেত্রকোনা ব্যাটালিয়নের (৩১ বিজিবি) অধিনায়ক লে. কর্নেল তৌহিদুল বারী (পিএসসি) কর্তৃক প্রেরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

এর আগে এদিন ভোরে দুর্গাপুর উপজেলার ২নং দুর্গাপুর ইউনিয়নের গাজিকোনা এলাকা থেকে এসব মদ জব্দ করা হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে ৩১ বিজিবি’র অধিনায়ক জানান, নিজস্ব গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে সোমবার রাত আনুমানিক সাড়ে ৩টার দিকে নেত্রকোনা ব্যাটালিয়নের অধীনস্থ ভরতপুর বিওপি’র (বর্ডার অবজারবেশন পোষ্ট) ছয় সদস্যের একটি বিশেষ টহল দল সীমান্ত এলাকায় মাদক বিরোধী অভিযান পরিচালনা করে। টহল দলটি ওই বিওপি’র দায়িত্বপূর্ণ এলাকার সীমান্ত মেইন পিলার ১১৬৫/২-এস হতে আনুমানিক দুইশো গজ বাংলাদেশের অভ্যন্তরে গাজিকোনা নামক স্থানে এ অভিযানে বিভিন্ন ব্র্যান্ডের ৪৮ বোতল ভারতীয় মদ পরিত্যক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে।

এ সময় ঘটনাস্থলে কাউকে পাওয়া না যাওয়ায় কোনো চোরাকারবারিকে আটক করা সম্ভব হয়নি। জব্দকৃত ভারতীয় মদ নেত্রকোনা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর কর্তৃপক্ষের কাছে জমা করার কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে জানান বিজিবি’র ঊর্ধ্বতন এই কর্মকর্তা। জনস্বার্থে এ অভিযান অব্যাহত থাকবে।




নেত্রকোণার দুর্গাপুর থেকে হত্যা মামলার আসামি গ্রেফতার করেছে র‌্যাব

ডিএনবি নিউজ ডেস্ক:

ময়মনসিংহের নান্দাইলে সিএনজি চালক আবুল কালাম (৪০) হত্যা মামলার অন্যতম আসামি আল আমিনকে (৩৫) নেত্রকোনার দুর্গাপুর উপজেলা থেকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব-১৪)।

রবিবার (২২ ফেব্রুয়ারি) বেলা সোয়া ১১টায় ময়মনসিংহ র‌্যাব-১৪ এর অধিনায়কের পক্ষে মিডিয়া অফিসার (সিনিয়র সহকারী পরিচালক) এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এর আগে আজ (শনিবার) দিবাগত রাত ১টা ৫ মিনিটে দুর্গাপুর উপজেলার নোয়াগাঁও এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করা হয়।

র‌্যাব ও এজাহার সূত্রে জানা যায়, নিহত আবুল কালাম পেশায় একজন সিএনজি চালক ছিলেন। নিজের বাড়িতে যাওয়ার রাস্তা না থাকায় তিনি প্রতিদিন প্রতিবেশী আল আমিনসহ অন্যান্য আসামিদের উঠানে সিএনজিটি রাখতেন। সিএনজি রাখাকে কেন্দ্র করে আল আমিনের সঙ্গে তার বাগবিতন্ডা হয়। পরবর্তীতে আবুল কালাম বিষয়টি স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের জানালে আসামিরা ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে।

এরই জেরে গত ২৬ জানুয়ারি দুপুর আনুমানিক ৩টার দিকে নান্দাইল চৌরাস্তা বাজার সিএনজি স্ট্যান্ড থেকে বাড়ি ফেরার পথে আল আমিনের বাড়ির সামনে পৌঁছালে আসামিরা দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে আবুল কালামের পথরোধ করে। এসময় আল আমিনসহ এ হত্যা মামলার অন্যান্য এজাহার নামীয় আসামিরা তাকে এলোপাতাড়ি মারধর করলে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।

এ ঘটনায় পরদিন ২৭ জানুয়ারি নিহতের বড় ভাই মো. ফারুক মিয়া (৫২) বাদী হয়ে নান্দাইল থানায় একটি হত্যা মামলা (মামলা নং-২৪) দায়ের করেন। মামলা রুজুর পর ময়মনসিংহ র‌্যাব-১৪ (সিপিএসসি) ছায়াতদন্ত শুরু করে এবং পলাতক আসামিদের গ্রেফতারে তৎপরতা চালায়। অবশেষে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে আসামির অবস্থান নিশ্চিত হয়ে নেত্রকোনার দুর্গাপুরে অভিযান চালিয়ে আল আমিনকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয় র‌্যাবের আভিযানিক দল।

গ্রেফতারকৃত আসামির বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য ধৃত আসামিকে নান্দাইল থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে বলে র‌্যাবের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।




দুর্গাপুরে এক নারীর ঘরে থেকে গাঁজা উদ্ধার, তিন মাসের কারাদণ্ড

ডিএনবি নিউজ ডেস্ক:

নেত্রকোনার দুর্গাপুর উপজেলায় মাদক কান্ডে জড়িত থাকার ঘটনায় জহুরা খাতুন (৪৫) নামে এক নারীকে তিন মাসের কারাদণ্ড ও এক হাজার টাকা অর্থদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। রবিবার (১৫ ফেব্রুয়ারী) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে পৌর শহরের দক্ষিণপাড়া আশ্রয়ন প্রকল্প এলাকায় অভিযান পরিচালনা করেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. মিজানুর রহমান।

তিনি জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে দক্ষিণপাড়া আশ্রয়ন প্রকল্পে অভিযান পরিচালনা করা হয়। এ সময় ওই এলাকার জহুরা খাতুনের বসতঘরে তল্লাশি চালিয়ে ১০ পুরিয়া গাঁজা ও গাঁজা সেবনের বিভিন্ন সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়। পরবর্তীতে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন অনুযায়ী তাকে তিন মাসের কারাদণ্ড ও এক হাজার টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করা হয়েছে।

নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আরও বলেন, উদ্ধারকৃত মাদক আগুনে পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়েছে। জনস্বার্থে মাদকবিরোধী এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।




কুষ্টিয়া-৩ আসনের জামায়াতের প্রার্থী আমির হামজার বিরুদ্ধে মানহানির মামলা

কুষ্টিয়া-৩ আসনে জামায়াতের প্রার্থী আমির হামজার বিরুদ্ধে সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ঝিনাইদহ সদর আমলী আদালতে মানহানির মামলা দায়ের করা হয়েছে। জানা গেছে, সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া ও আরাফাত রহমান কোকোকে নিয়ে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করায় এ মামলা করা হয়েছে।

রোববার (২৫ জানুয়ারি) দুপুর দেড়টার দিকে আব্দুল আলীম নামের এক আইনজীবী মামলাটি দায়ের করেন। এ সময় আদালতের বিচারক মখলেসুর রহমান পিবিআইকে তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেন।

মামলার বাদী ও আইনজীবী আব্দুল আলিম বলেন, সম্প্রতি আমির হামজা বাংলাদেশের সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া ও তার সন্তান আরাফাত রহমান কোকোকে নিয়ে অশালীন ও কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করেছে। যা জিয়া পরিবারের সম্মান ক্ষুন্ন করেছে। বিএনপি সহ আমাদের সবার মানহানি হয়েছে। এ ঘটনার প্রতিবাদ ও সঠিক বিচার দাবিতে তার বিরুদ্ধে মামলাটি দায়ের করা হয়েছে। আমরা চাই আইনগতভাবেই আমির হামজার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করা হোক।




প্রকাশ্যে যুবককে পিটিয়ে হত্যার পর মিষ্টি বিতরণ নোয়াখালীর কবিরহাট উপজেলায়

ডিএনবি নিউজ ডেস্ক :

নোয়াখালীর কবিরহাট উপজেলায় ছয় মামলার আসামি মিজানুর রহমান ওরফে রনি (৩৫) কে প্রকাশ্যে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। ঘটনার পর নিহতকে ডাকাত আখ্যা দিয়ে একদল যুবক বাজারে মিষ্টি বিতরণ করেছে, যা এলাকায় ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করেছে।

শনিবার (১৭ জানুয়ারি) রাত ১০টার দিকে উপজেলার নরোত্তমপুর ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের কালিরহাট বাজারসংলগ্ন কাজী বাড়ির সামনের সড়কে এ ঘটনা ঘটে।

নিহত মিজানুর রহমান কবিরহাট পৌরসভার জৈনদপুর এলাকার মো. শহীদের ছেলে। তিনি দুই সন্তানের জনক ছিলেন।  পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মিজানুর রহমানের বিরুদ্ধে একটি ডাকাতি, দুটি চুরি, একটি অস্ত্র মামলা ও সরকারি কর্মচারীর ওপর হামলাসহ অন্তত ছয়টি মামলা রয়েছে। শনিবার রাত ৮টার দিকে কালিরহাট বাজারে ২ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির একটি নির্বাচনী বৈঠক চলছিল। এ সময় মিজান সেখানে উপস্থিত হয়ে নিজেকে দলের ত্যাগী কর্মি দাবি করেন এবং বৈঠকে উপস্থিত নেতাকর্মিদের সঙ্গে গালাগাল ও বাকবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হলে তাকে ধাওয়া দিলে তিনি সেখান থেকে চলে যান।
পরে কালিবাজারের উত্তরে কাজী বাড়ির সামনে তাকে আটক করে কয়েকজন ব্যক্তি লাঠি ও লোহার পাইপ দিয়ে মুখ ও মাথায় এলোপাতাড়ি পিটিয়ে গুরুত্বর জখম করে। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। পরে মরদেহ সড়কে ফেলে রাখা হয়।

স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দার দাবি, নিহত মিজানের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে চাঁদাবাজি ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির অভিযোগ ছিল। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে সুরতহাল প্রস্তুত করে। এ সময় ঘটনাস্থল থেকে রক্তমাখা একটি লাঠি ও একটি লোহার পাইপ উদ্ধার করা হয়। নিহতের পকেট থেকে একটি খেলনা পিস্তল ও টিপ চুরি উদ্ধার করা হয়েছে।
নরোত্তমপুর ইউনিয়নের ২নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাবেক সভাপতি হারুনুর রশীদ হারুন বলেন, আমরা আমাদের অফিসে বসে নির্বাচনী কথাবার্তা বলছিলাম। সেখানে মিজান এলে কথাকাটাকাটি হয়। পরে সেখান থেকে সে চলে যায়। পরে শুনি কে বা কাহারা তাকে হত্যা করে মরদেহ রাস্তার ফেলে যায়। মিষ্টি বিতরণের বিষয়টি আমার জানা নেই।

কবিরহাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো.নিজাম উদ্দিন ভূঁঞা বলেন, গণপিটুনিতে ডাকাত নিহত হওয়ার খবর পেয়ে আমি ঘটনাস্থলে যাই। ঘটনাস্থলে সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করা হয়েছে। নিহতের পকেট থেকে একটি খেলনা পিস্তল ও টিপ ছুরি উদ্ধার করা হয়েছে। নিহতের পরিবার এখনো কোনো সুনির্দিষ্ট অভিযোগ করেনি। তবে অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। রোববার সকালে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হবে।




আবুল সরকারের শাস্তির দাবিতে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশ ও বিক্ষোভ মিছিল

ডিএনবি নিউজ ডেস্ক :

বাউল আবুল সরকারের মহান আল্লাহ, কুরআন ও ইসলাম নিয়ে চরম কটূক্তির প্রতিবাদে হেফাজতে ইসলামের উদ্যোগে এক প্রতিবাদ সমাবেশ ও বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। এতে বিপুলসংখ্যক তৌহিদি জনতা অংশগ্রহণ করেন।

শুক্রবার (২৮ নভেম্বর) বাদ জুমা রাজধানীর বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের উত্তর গেটে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ ঢাকা মহানগর পল্টন জোনের উদ্যোগে এই সমাবেশ ও বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়।

সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে হেফাজতের কেন্দ্রীয় সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব ও ঢাকা মহানগর সভাপতি মাওলানা জুনায়েদ আল হাবিব বলেন, আবুল সরকার যে ধৃষ্টতা দেখিয়েছে, তা কোনো মুসলমান কখনো মেনে নিতে পারে না। এটি শুধু ধর্ম অবমাননা নয়, বরং মুসলমানদের ঈমানের বিরুদ্ধে প্রকাশ্য আঘাত। আমরা তার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাচ্ছি।

প্রতিবাদ সমাবেশ ও বিক্ষোভ মিছিল জোনের সিনিয়র সহ-সভাপতি মুফতি জুবায়ের রশিদের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক মুফতি ইমরানুল বারী সিরাজী ও মাওলানা আব্দুল্লাহ আল মাস‌উদ খানের পরিচালনায় অনুষ্ঠিত হয়।

আরো বক্তব্য রাখেন, মাওলানা আবদুর রব ইউসুফী, মাওলানা মুহিউদ্দীন রব্বানী, মাওলানা আহমদ আলী কাসেমী, মাওলানা আজিজুল হক ইসলামাবাদী, মাওলানা মুজিবুর রহমান হামিদী, মুফতি ফখরুল ইসলাম,মুফতি জাবের কাসেমী, মাওলানা মুহাম্মদ ফয়সাল, মাওলানা ফজলুর রহমান, মাওলানা হোসাইন আকন্দ, মুফতি খলিলুর রহমান, মাওলানা জুবায়ের আহমদ, মাওলানা আব্দুর রহমান, মাওলানা দেলাওয়ার আজমী, মুফতি আসাদুল্লাহ জাকির প্রমুখ।

বক্তারা বলেন, যারা এই অপরাধীকে আশ্রয়-প্রশ্রয় দিচ্ছে, কিংবা তৌহিদী জনতার বিরুদ্ধে হয়রানিমূলক মামলা দিয়েছে, তাদেরকেও মনে রাখতে হবে—এই দেশের ঈমানদার জনতা নিঃশব্দে বসে থাকবে না। যদি অবিলম্বে মামলা প্রত্যাহার ও আবুল সরকারের বিচার না হয়, তাহলে তৌহিদী জনতা রাজপথে নামবে এবং প্রয়োজনে দেশ অচল করে দেওয়া হবে।

বক্তারা সরকারকে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ধর্মদ্রোহীদের রক্ষা করা মানেই ইসলামবিদ্বেষীদের মদদ দেওয়া। মুসলমানরা তা কখনো মেনে নেবে না। ইনশাআল্লাহ, এই জাতি উপযুক্ত জবাব দিতে জানে।