মাজার জিয়ারতের মধ্য দিয়েই নির্বাচনি কার্যক্রম শুরু করেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান

ডিএনবি নিউজ ডেস্ক :

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রচার শুরু করতে সিলেটে হজরত শাহজালাল (রহ.)-এর মাজার জিয়ারত করেছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। দলীয় রেওয়াজ অনুযায়ী তিনি মাজার জিয়ারতের মধ্য দিয়েই নির্বাচনি কার্যক্রম শুরু করেন।

বুধবার (২১ জানুয়ারি) রাত ৮টার পর ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে সড়কপথে মাজারের উদ্দেশে রওনা হয়ে রাত সোয়া ৯টার দিকে সেখানে পৌঁছান তারেক রহমান। শাহজালালের মাজার জিয়ারতের পর তিনি খাদিমনগরে হযরত শাহপরাণ (রহ.)-এর মাজার জিয়ারত করবেন।

দুই মাজার জিয়ারত শেষে তিনি দক্ষিণ সুরমা উপজেলার সিলাম ইউনিয়নের বিরাইমপুর গ্রামে তার শ্বশুর প্রয়াত মাহবুব আলী খানের বাড়িতে যান। সেখানে কিছু সময় অবস্থানের পর শহরের গ্র্যান্ড সিলেট হোটেল অ্যান্ড রিসোর্টে রাত্রিযাপন করেন।

২২ বছর আগে সিলেট জেলা বিএনপির কর্মী সম্মেলনে অংশ নিতে এসে তারেক রহমান তখন দলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব ছিলেন। সে সময় জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া শাহজালাল ও শাহপরাণের মাজার জিয়ারতের মাধ্যমে নির্বাচনী প্রচার শুরু করতেন। মায়ের অনুসৃত সেই পথ ধরেই দীর্ঘ ১৭ বছর যুক্তরাজ্যে নির্বাসিত জীবন কাটানোর পর এবার তারেক রহমান দেশে ফিরে একইভাবে নির্বাচনী প্রচার শুরু করলেন। গত বছরের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর তিনি ২৫ ডিসেম্বর দেশে ফেরেন।




মঞ্চের আসন ছেড়ে জুলাইযোদ্ধাকে কাছে ডেকে নিলেন তারেক রহমান

ডিএনবি নিউজ ডেস্ক :

রাজধানীর ফার্মগেটস্থ কৃষিবিদ ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে রোববার (১৮ জানুয়ারি) এক আবেগঘন পরিবেশের অবতারণা হয়। জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ পরিবার ও আহতদের সঙ্গে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্ধারিত মতবিনিময় সভায় মঞ্চের প্রটোকল ভেঙে জুলাইযোদ্ধাদের কাছে ডেকে নেন।

বেলা সকাল ১১টায় শুরু হওয়া এই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে যোগ দেন তারেক রহমান। অনুষ্ঠানের এক পর্যায়ে দেখা যায় এক অনন্য মানবিক দৃশ্য।

মঞ্চে নিজের নির্ধারিত আসন ছেড়ে মঞ্চের কোনায় আসেন বিএনপির এই শীর্ষ নেতা। সে সময় তিনি জুলাই বিপ্লবে এক আহতকে কাছে ডেকে নেন। 

মতবিনিময় সভায় সভাপতিত্ব করছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান। উপস্থিত আছেন বিএনপির চেয়ারম্যানের স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমান এবং দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবীর রিজভী।

এর আগে শনিবার (১৭ জানুয়ারি) বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে গুম, খুন ও নির্যাতনের শিকার ব্যক্তিদের পরিবারের সঙ্গে মতবিনিময় করেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। রাজধানীর একটি সম্মেলন কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত ওই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে ‘মায়ের ডাক’ ও ‘আমরা বিএনপি পরিবার’।

পরপর এই দুটি মতবিনিময় সভার মাধ্যমে রাজনৈতিক সহিংসতায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর অভিজ্ঞতা শোনা এবং তাদের দাবি-দাওয়া তুলে ধরার উদ্যোগ নিয়েছে বিএনপি।




বিএনপি ক্ষমতায় আসলে ইমাম ও মুয়াজ্জিনদের বিশেষ ভাতা দেওয়া হবে-সালাহউদ্দিন আহমদ

ডিএনবি নিউজ ডেস্ক :

বিএনপি ক্ষমতায় আসলে ইমাম ও মুয়াজ্জিনদের বিশেষ ভাতা দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ।

মঙ্গলবার (২৩ ডিসেম্বর) বিএনপির গুলশান কার্যালয়ে জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের সঙ্গে নির্বাচনি সমঝোতা উপলক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই তথ্য জানান।

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, বিএনপি ক্ষমতায় আসলে কোরআন সুন্নাহ বিরোধী কোন আইন পাস করবে না। কওমি মাদ্রাসা থেকে পাস করা শিক্ষার্থীদের ধর্মীয় শিক্ষক হিসেবে নিয়োগে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।

সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জানান, জমিয়তের সঙ্গে নির্বাচনি সমঝোতার ভিত্তিতে ৪টি আসনে বিএনপি প্রার্থী দেবে না।

বিএনপির মহাসচিব বলেন, বিএনপির কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এসব আসনে বিএনপি কোনো প্রার্থী দেবে না। এখানে কেউ স্বতন্ত্র প্রার্থী হলে দল ব্যবস্থা নেবে।

জমিয়তের জন্য ছেড়ে দেওয়া আসনগুলো হলো: নীলফামারী-১ থেকে মনজুরুল ইসলাম আফেন্দী, নারায়ণগঞ্জ-৪ থেকে মনির হোসাইন কাসেমী, সিলেট-৫ থেকে আমির উবায়দুল্লাহ ফারুক এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ থেকে জুনায়েদ আল হাবিব।

জানা গেছে, জমিয়ত প্রাথমিকভাবে ৫টি আসনের দাবি জানালেও বিএনপি ৩টি আসনে সম্মত হয়। পরে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সুপারিশে আরও ১টি আসন বাড়িয়ে মোট ৪টি করা হয়।




ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে আসন ভাগাভাগির আলোচনায় আট দল

ডিএনবি নিউজ ডেস্ক :

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে জামায়াতে ইসলামী, ইসলামী আন্দোলনসহ আটটি দল একসঙ্গে কয়েকটি দাবিতে আন্দোলন করে আসছে। এবার দলগুলো আগামী নির্বাচনে একবাক্স দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর অংশ হিসেবে আসন ভাগাভাগি নিয়ে আলোচনা শুরু করেছে।

আটটি দল একসঙ্গে হলেও তারা এটাকে কোনো জোট বলতে নারাজ। তারা এটাকে নির্বাচনি সমঝোতা বা মোর্চা বলতে চাচ্ছে। দলগুলো হলো— বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস, খেলাফত মজলিস, নেজামে ইসলাম পার্টি, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলন, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টি ও জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি (জাগপা)।

দলগুলো সূত্রে জানা গেছে, পাঁচ দফা দাবির আন্দোলন ও প্রার্থী বাছাইয়ের কার্যক্রম একসঙ্গে চলায় প্রার্থী তালিকা চূড়ান্ত করতে কিছুটা বিলম্ব হচ্ছে।

ঐক্যভুক্ত দলগুলোর নেতাদের মতে, ডিসেম্বরের শুরুতেই আনুষ্ঠানিকভাবে প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করা হবে। এখন চলছে আসন ভাগাভাগির আলোচনা। কোন দল কত আসনে প্রার্থী দেবে—তা এখনো চূড়ান্ত হয়নি।

দলগুলোর শীর্ষ পর্যায়ে চলছে দরকষাকষি। বিভিন্ন দল সম্ভাব্য আসন চাহিদা তুলে ধরলেও সবকিছু নির্ভর করছে আলোচনার ফলাফলের ওপর।

ইসলামি দলগুলোর একাধিক সূত্রের মাধ্যমে জানা যায়, আসন ভাগাভাগি হবে আলোচনার ভিত্তিতে। স্থানীয় অবস্থান ও শক্তিমত্তা বিবেচনায় করা হবে প্রার্থী নির্ধারণ। যেখানে যে দলের অবস্থান শক্তিশালী, তাকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। ঐক্য টিকিয়ে রাখতে সব দলের ‘ত্যাগের মানসিকতা’ প্রয়োজন বলেও দলগুলো মনে করে।

আগামী ফেব্রুয়ারির শুরুতেই দেশে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন হওয়ার কথা রয়েছে। ডিসেম্বরের প্রথম সপ্তাহেই নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা হতে পারে। এবারের নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ও তাদের মিত্রদের অনুপস্থিতিতে একদিকে বিএনপি ও তাদের মিত্ররা এবং অপর দিকে জামায়াত ও তাদের সঙ্গীদের মধ্যে মূল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। যদিও জাতীয় পার্টি নির্বাচনে অংশ নিলে দৃশ্যপট অন্যদিকে মোড় নিতে পারে বলেও কেউ কেউ মনে করেন।




মেলান্দহে মসজিদে রাজনৈতিক কার্যক্রম পরিচালনা করায়: বিএনপি-জামায়াত সংঘর্ষে আহত ১

জামালপুরের মেলান্দহে মসজিদে রাজনৈতিক কার্যক্রম পরিচালনা করাকে কেন্দ্র করে জামায়াতে ইসলামী ও বিএনপি নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। শুক্রবার (৭ নভেম্বর) রাত ৮টার দিকে উপজেলার মাহমুদপুর ইউনিয়নের পাঁছপয়লা জামে মসজিদে এ ঘটনা ঘটে। এতে রবিউল ইসলাম (৪০) নামে ইউনিয়ন জামায়াতের এক নেতা আহত হয়েছেন।

আহত রবিউল ইসলাম মাহমুদপুর ইউনিয়ন জামায়াত ইসলামীর সহ সাধারণ সম্পাদক ও ওই ইউনিয়নের ইমামপুর এলাকার আব্দুর রাজ্জাকের ছেলে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, এশার নামাজ শেষে মাহমুদপুর ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড জামায়াত ইসলামীর নেতাকর্মীরা মসজিদের ভেতরে বৈঠক করছিলেন। এ সময় মাহমুদপুর ইউনিয়ন বিএনপির শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক ও মসজিদ কমিটির সহ-সভাপতি মো. জিয়াউল হক সোহেলসহ স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীরা সেখানে উপস্থিত হয়ে মসজিদে রাজনৈতিক আলোচনা না করার জন্য অনুরোধ জানান। এনিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে প্রথমে বাগবিতণ্ডা হয় এবং পরে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। এতে মাহমুদপুর ইউনিয়ন জামায়াত ইসলামী’র সহ-সাধারণ সম্পাদক মো. রবিউল ইসলাম আহত হন। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পরে আহত রবিউল ইসলামকে মেলান্দহ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে। তার অবস্থা অবনতি হলে রাতেই সেখান থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য জামালপুর জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়।

এ ঘটনায় রাতেই জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীরা মেলান্দহ বাজারে বিক্ষোভ মিছিল করেন। পরে ইউনিয়ন বিএনপির নেতাকর্মীরা মাহমুদপুর বাজারে বিক্ষোভ করে।

মাহমুদপুর ইউনিয়ন বিএনপির শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক মো. জিয়াউল হক সোহেল বলেন, এশার নামাজ পর জামায়াত ইসলামীর নেতারা মিটিং করছিল। আমিসহ কয়েকজন নিষেধ করতে গেলে তারা আমাদের ওপর আক্রমণ করে জামা ছিড়ে দেয়। আমাকে মসজিদ থেকে ধাক্কা দিয়ে বের করে দেয় জামায়াত নেতা রবিউল। পরে কি হয়েছে জানি না। এর আগেও কয়েকবার জামায়াত ইসলামীর নেতাদের মসজিদে রাজনৈতিক কার্যক্রম করতে নিষেধ করা হয়েছে। কিন্তু তারা শোনেনি।

এ বিষয়ে ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি তৈয়বুর রহমান বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়েছিলাম। সে সময় ইউনিয়ন জামায়াত ইসলামীর নেতাদের সঙ্গে বসার একটা প্রক্রিয়া চলছিল। কিন্তু তারাই আবার বিক্ষোভ মিছিল করে। পরে আর বসা হয়নি।

উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির ইদ্রিস আলী বলেন, মাহমুদপুর ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ডে শুক্রবার গণসংযোগ কর্মসূচি ছিল। সে বিষয়ে আলোচনা চলাকালে বিএনপি নেতাকর্মীরা আকস্মিকভাবে হামলা চালিয়ে ইউনিয়ন জামায়াত ইসলামীর সহ-সম্পাদক রবিউল ইসলামকে আহত করেছে। তার পায়ে আঘাত করা হয়েছে। সে গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছে।

মেলান্দহ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) সফিকুল ইসলাম বলেন, জামায়াত ইসলামীর পক্ষ থেকে একটি অভিযোগ পেয়েছি। সেটি তদন্ত চলছে। এছাড়া বিএনপির পক্ষ থেকে মৌখিকভাবে জানানো হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক আছে। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।




১০ দিনের কর্মসূচি ঘোষণা বিএনপির

ডিএনবি নিউজ ডেস্ক :

আগামী ৭ নভেম্বর জাতীয় সংহতি ও বিপ্লব দিবস উপলক্ষে ১০ দিনব্যাপী কর্মসূচি ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল- বিএনপি।

রোববার (২ নভেম্বর) দুপুরে রাজধানীর নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক যৌথ সভার পর দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এক সংবাদ সম্মেলনে এ ঘোষণা দেন।

সংবাদ সম্মেলনে মির্জা ফখরুল বলেন, দেশ এখন একরকম অনিশ্চিত সময় পার করছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রতিনিয়ত অপতথ্য ছড়িয়ে দেশকে অস্থিতিশীল তৈরি করার চেষ্টা চলছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

এদিকে সকালে ভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে জুলাই সনদ ইস্যুতে চলমান বিতর্কের বিষয়ে সরকারের নীরবতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়। তিনি জানান, প্রতিবাদের ভাষা হিসেবে মাঠে নেমে সরকারকে হুমকিতে ফেলতে চায় না তার দল।

গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, ‘জুলাই সনদ ইস্যুতে বিএনপি প্রতিবাদের পথ বেছে নিলে বর্তমান সরকার টিকতে পারবে না। পরিস্থিতি মোকাবেলায় ধৈর্য ধারণ করে এই সরকারের অধীনেই অবাধ ও সুষ্ঠু নিবর্বাচনের প্রত্যাশা করি।’




নির্বাচন কমিশনে স্বারকলিপি প্রদান ইসলামী আন্দোলনের

ডিএনবি নিউজ ডেস্ক :

পিআর পদ্ধতিসহ ৫ দফা দাবীতে চলমান যুগপৎ আন্দোলনের ৫ম ধাপের কর্মসূচির অংশ হিসেবে আজ ৩০ অক্টোবর, বৃহস্পতিবার আগারগাঁও এ নির্বাচন কমিশন অফিসে প্রধান নির্বাচন কমিশনার বরাবর স্বারকলিপি প্রদান করেছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ।

স্বারকলিপিতে একটি সুষ্ঠু, অবাধ ও গ্রহণযোগ্য জাতীয় নির্বাচন এবং জাতীয় সংসদকে অধিকতর কার্যকর করার লক্ষ্যে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ও বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন বিরামহীনভাবে কাজ করে যাচ্ছে প্রশংসা করা হয়।নভেম্বরে গণভোট আয়োজনের যৌক্তিকতা তুলে ধরে বলা হয়, দেশবাসী মনে করে- গণভোট ব্যতীত জুলাই জাতীয় সনদ আইনগত টেকসই ভিত্তি পাবে না। জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পূর্বে আগামী নভেম্বর মাসের মধ্যেই গণভোট সম্পন্ন করতে হবে।

পিআরের পক্ষে অবস্থান তুলে ধরে বলা হয়, আমাদের অতীত অভিজ্ঞতা অনুযায়ী কালো টাকার ব্যবহার বন্ধ, ভোটকেন্দ্র দখল রোধ, পেশিশক্তি প্রদর্শন ও ভোটের বিভিন্ন অনিয়ম ও অপতৎপরতা বন্ধ, কোয়ালিটি-সম্পন্ন পার্লামেন্ট এবং দক্ষ আইনপ্রণেতা তৈরিসহ প্রতিটি ভোট মূল্যায়নের লক্ষ্যে পিআর পদ্ধতিতে নির্বাচনের জন্য জোর দাবি জানিয়ে আসছি।

সংশোধিত আরপিও-র পক্ষে অবস্থান জানিয়ে বলা হয়, উপদেষ্টা পরিষদ গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ সংশোধনী অনুমোদন করেছে। আমরা লক্ষ্য করছি সরকার কর্তৃক সংশোধিত গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশের কিছু বিষয় পরিবর্তনের জন্য একটি রাজনৈতিক দল দাবি জানিয়েছে। আমরা মনে করি এ দাবি কোনো অবস্থাতেই গ্রহণ করার সুযোগ নেই।

দলের রাজনৈতিক অবস্থান উল্লেখ করে বলা হয়, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশসহ অনেক রাজনৈতিক দল জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন, আগামী নভেম্বরে গণভোট অনুষ্ঠান ও ফেব্রুয়ারি ২০২৬ এ সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানের লক্ষ্যে ৫ দফা দাবীতে আন্দোলন করে আসছে। আমাদের উত্থাপিত দাবিগুলোর প্রতি দেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, বুদ্ধিজীবী, সাংবাদিক, গবেষক ও শিক্ষাবিদসহ সচেতন নাগরিকসমাজ আন্তরিক সমর্থন জানিয়েছে। দেশের সাধরণ জনগণও এসব দাবির প্রতি ব্যাপক সমর্থন দিয়ে রাজপথে আন্দোলনে শামিল হয়েছে ।

এমতাবস্থায় দেশে অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠানের লক্ষ্যে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ -এর এসব যৌক্তিক ও বাস্তবসম্মত গণদাবি নির্বাচন কমিশন মেনে নিবেন এবং গণ-মানুষের অধিকার পুনরুদ্ধারের অভিযাত্রায় গতিপথ নির্বারণ করবেন।

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ আয়োজিত স্বারকলিপিপূর্ব জমায়েতে সভাপতিত্ব করেন, যুগ্মমহাসচিব ও ঢাকা দক্ষিণের সভাপতি মাওলানা ইমতেয়াজ আলম, প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আরেক যুগ্মমহাসচিব ও ঢাকা উত্তরের সভাপতি মাওলানা শেখ ফজলে বারী মাসউদ। অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, দলের মহাসচিব অধ্যক্ষ হাফেজ মাওলানা ইউনুস আহমদ, প্রেসিডিয়াম সদস্য অধ্যাপক আশরাফ আলী আকন প্রমূখ।




নেত্রকোনার দুর্গাপুরে যুবদলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে আনন্দ র‌্যালি

ডিএনবি নিউজ ডেস্ক :

নেত্রকোনার দুর্গাপুরে আনন্দঘন পরিবেশের মধ্যে দিয়ে জাতীয়তাবাদী যুবদলের ৪৭তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত হয়েছে। মঙ্গলবার (২৮ অক্টোবর) দুপুরে নানা আয়োজনের মধ্যদিয়ে এ কর্মসুচী পালিত হয়।

উপজেলা ও পৌরযুবদলের আয়োজনে দলীয় কার্যলয়ে জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলন শেষে বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মীদের অংশগ্রহনে এক বিশাল আনন্দ র‌্যালি পৌর শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে, স্থানীয় শহীদ মিনারে উপজেলা যুবদলের সদস্য সচিব ইউসুফ খানের সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন, উপজেলা যুবদলের সিনি: যুগ্ন-আহবায়ক এস এম কাইউম, নোমান আহমেদ, মেহেদী হাসান সাহস, পৌর যুবদলের আহবায়ক আবু সিদ্দিক রুক্কু, সদস্য সচিব আল ইমরান সম্রাট গণি, পৌর বিএনপি‘র সাধারণ সম্পাদক হারেজ গণি, উপজেলা বিএনপির সহ:সভাপতি এডভোকেট এম এ জিন্নাহ্, আব্দুল্লাহ্ আল মামুন মুকুল, আব্দুল মালেক তালুকদার, এম রফিকুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক আব্দুল আওয়াল, যুগ্ন-সাধারণ সম্পাদক আক্তারুজ্জামান আব্বাসী, সাংগঠনিক সম্পাদক আলহাজ জামাল উদ্দিন মাস্টার সহ আরো অনেকে।

বক্তারা বলেন, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের স্বপ্ন ছিল একটি উন্নত ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার। সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ঘোষিত ৩১ দফা বাস্তবায়নের মধ্য দিয়েই দেশের অগ্রগতি সম্ভব। আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ‘ধানের শীষ’ প্রতীকের প্রার্থী ব্যারিস্টার কায়সার কামালের বিজয় নিশ্চিত করতে যুবদলের সকল নেতাকর্মীরা ঐক্যবদ্ধভাবে মাঠে কাজ করার আহবান জানানো হয়। আলোচনা শেষে সোমেশ্বরী নদীতে মাছের পোনা অবমুক্ত করা হয়।




মিথ্যা হত্যা মামলা প্রত্যাহারের দাবীতে দুর্গাপুরে হাজারো নারীদের বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন

ডিএনবি নিউজ ডেস্ক :

নেত্রকোনার দুর্গাপুরে বিএনপির নেতাকর্মীদের নামে হত্যা মামলা প্রত্যাহারের দাবীতে বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার (২৬ মে) দুপুরে নারী সমাজের উদ্দ্যেগে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।

এ উপলক্ষে হাজারো নারীদের অংশগ্রহনে এক বিক্ষোভ মিছিল পৌরশহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিন শেষে প্রেসক্লাব মোড়ে এসে শেষে হয়। পরে এখানে ঘন্টাব্যাপি মানববন্ধন করেন তারা।

মানববন্ধনে অংশগ্রহনকারী আফরোজা আক্তার বলেন, গত বৃহস্পতিবার (২২ মে) রাতে পুর্ব-বাকলজোড়া গ্রামে সংঘঠিত বাড়ীঘর ভাংচুর, আহত ও নিহতের ঘটনায় আমার স্বামী তাজুল ইসলামকে গ্রেফতার করা হয়েছে। মূলত ঘটনার দিন সে নেত্রকোনা অবস্থান করে বাড়ির জন্য প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র কিনতেছিলো, যার ভিডিও ফুটেজ ইতোমধ্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। আমার স্বামী সহ বিএনপি নেতাকর্মীদের নামে যে মিথ্যা মামলা দেয়া হয়েছে আমি প্রত্যাহারের দাবী জোর জানাই।

নারী সমাজের সদস্য জাহানারা বেগম বলেন, বিএনপি নেতাকর্মীদের নামে যে মিথ্যা মামলা দেয়া হয়েছে তা সঠিক নয়। মূলত বিএনপি‘র রাজনীতি থেকে জামাল মাস্টার সহ অন্যান্যদের কুলষিত করার জন্য, কৌশলে তাদের নাম ব্যবহার করা হয়েছে। আমরা এই মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের জন্য জোর দাবী জানাচ্ছি।

মানবাধিকার কর্মী শিউলী আক্তার বলেন, জামাল মাস্টার একজন আদর্শবান শিক্ষক, তার জনপ্রিয়তাকে ধংস করার জন্য কিছু কু-চক্রী মহল তাকে হত্যা মামলায় জড়াতে চাচ্ছে। জামাল মাস্টার উপজেলার বিভিন্ন সামাজিক কার্যক্রমে জড়িত, তাকে দাবিয়ে দেয়ার জন্যই এই নীল নকশা করা হয়েছে। আমি এই মামলা প্রত্যাহারের দাবী জানাই।

এ সময় অন্যদের মাঝে বক্তব্য রাখেন, শ্যামলী বেগম, হাসিনা আক্তার, তানজিনা আক্তার সাবিনা বেগম, মুন্নি আক্তার, জমিলা খাতুন ও তাহেরা বেগম প্রমুখ।




বরিশালে মুফতি ফয়জুল করীমকে সিটি মেয়র ঘোষণা করুন: চরমোনাই পীর

ডিএনবি নিউজ ডেস্ক:

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম, পীর সাহেব চরমোনাই শনিবার (১৯ এপ্রিল) এক বিবৃতিতে বলেছেন, ২০২৩ এর জুনে অনুষ্ঠিত বরিশাল সিটি করপোরেশন নির্বাচন পতিত ফ্যাসিজমের একটি নিকৃষ্ট মহড়া ছিল। জনরায়কে পদদলিত করতে এবং ভোট জালিয়াতির নগ্ন ও চুড়ান্ত দৃষ্টান্ত স্থাপিত হয়েছিল সেই নির্বাচনে। বরিশাল সিটি নির্বাচন একটি স্থানীয় সরকার নির্বাচন হলেও সেই নির্বাচনের ফলাফল জালিয়াতির সাথে পতিত ফ্যাসিবাদের শীর্ষমহলও জড়িত ছিল। তার প্রমাণ পাওয়া গিয়েছিলে তৎকালীন প্রধান নির্বাচন কমিশনারের কথায়। একজন প্রার্থীকে রক্তাক্ত করার প্রশ্নে সে বলেছিল, ‘তিনি কি ইন্তেকাল করেছেন?’ কতটা নির্মম ও জঘন্য রসিকতা ছিল।  আওয়ামী লীগ সরকারের একটা বীভৎস উদাহরণ রচিত হয়েছিল সেদিন। এখন সময় এসেছে এর প্রতিকার করার।

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির বলেন, সেই নির্বাচনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ ফয়জুল করীমের প্রতি যেভাবে জনতার আগ্রহ ও উৎসাহ দেখা গেছে এবং নির্বাচনের দিন সকল বুথ থেকে হাতপাখার এজেন্টদের মারধোর করে বের করে একতরফা ভোট জালিয়াতি করার পরেও অল্পসময়ে হাতপাখায় যে পরিমাণ ভোট পড়েছে তাতে এটা স্পষ্ট যে, সেই নির্বাচনে মুফতি সৈয়দ ফয়জুল করীম-ই প্রকৃত বিজয়ী। এই প্রকৃত বিজয়ীকে তার প্রাপ্য দিতে ব্যর্থ হলে জুলাই আন্দোলনের চেতনা ক্ষতিগ্রস্ত হবে। রাষ্ট্রের মালিক নাগরিকের রায়ের প্রতি অসন্মান করা হবে। তাই হাতপাখার প্রার্থী মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ ফয়জুল করীমকে বরিশাল সিটি নির্বাচনে বিজয়ী ঘোষণা করতে হবে।

পীর সাহেব চরমোনাই বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এবং মুফতি সৈয়দ ফয়জুল করীম যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন, তাতে ইনসাফের দাবি ছিল তাঁকে তার প্রাপ্য অধিকার রাষ্ট্র স্বউদ্যোগে বুঝিয়ে দেওয়া। কিন্তু দুঃখজনক বিষয় হলো তা করা হয় নাই। তাই জনতার রায় বাস্তবায়ন করার জন্য পতিত ফ্যাসিবাদের নির্মমতার শিকার ব্যক্তিকেই আদালতে মামলা করতে হলো। আমরা আশা করি, কালবিলম্ব না করে দ্রুততার সাথে আইনি প্রক্রিয়া শেষ করে বরিশাল সিটি করপোরেশনে জনতার রায়ের প্রতি সন্মান রেখে মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ ফয়জুল করীমকে মেয়র হিসেবে ঘোষণা করতে হবে।

তিনি সতর্ক করে বলেন, জনতার রায়ের প্রতি সন্মান দেখানো এবং জনরায়কে বাস্তবায়ন করার জন্য আমাদের সংগ্রাম অবিরত ছিল, আগামীতেও অবিরাম থাকবে; ইনশাআল্লাহ।