দুর্দশাগ্রস্ত শরিয়াহ ভিত্তিক ৫ ব্যাংকের বোর্ড ভেঙে দিলো বাংলাদেশ ব্যাংক

দুর্দশাগ্রস্ত ৫ শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংক একীভূত করে একটি বৃহৎ ইসলামি ব্যাংক গঠনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এ লক্ষে ব্যাংকগুলোর বোর্ড ভেঙে দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। বুধবার ব্যাংকগুলোর ব্যবস্থাপনা পরিচালকদের চিঠি দিয়ে এ সিদ্ধান্ত জানিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

বোর্ড ভেঙে দেওয়া ব্যাংকগুলো হলো- এক্সিম, সোশ্যাল ইসলামী, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী, ইউনিয়ন ও গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক।

পতিত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে এ ৫ ব্যাংকের মধ্যে ৪টি মালিকানায় ছিল এস আলম। একটির মালিকানায় ছিল নজরুল ইসলাম মজুমদার।

ওই সময়ে ব্যাংকগুলো থেকে নামে-বেনামে হাজার হাজার কোটি টাকা সরিয়ে নেওয়া হয়। ফলে ব্যাংকগুলোর আর্থিক অবস্থা দুর্বল হয়ে পড়ে।

এতে গ্রাহকের জমানো অর্থ ফেরত দিতে পারছে না। এমন পরিস্থিতিতে এসব ব্যাংকে একীভূত করার উদ্যোগ নেয় বাংলাদেশ ব্যাংক। এতে সরকারও সম্মতি দিয়েছে।




মাওলানা মামুনুল হকের পছন্দের আসনে প্রার্থী দেয়নি বিএনপি, নেপথ্যে কী?

ডিএনবি নিউজ ডেস্ক :

মাওলানা মামুনুল হকের (ইবনে শাইখুল হাদিস) নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস কোন জোট বা বলয়ে যাবে সেই আলোচনা চলছে অনেক দিন ধরেই। বর্তমানে দলটি জামায়াতে ইসলামীসহ আটটি দল নিয়ে গঠিত প্লাটফর্মে রয়েছে। জুলাই সনদের আইনি স্বীকৃতিসহ পাঁচ দফা দাবিতে চলমান আন্দোলনেও সক্রিয়। তবে আলোচিত নেতা মাওলানা মামুনুল হকের কদর রয়েছে বিএনপির কাছে। শেষ পর্যন্ত তিনি এবং তার দল বিএনপি বলয়ে যেতে পারে বলেও গুঞ্জন আছে।

বিএনপি গতকাল প্রাথমিকভাবে ২৩৭টি আসনে প্রার্থী তালিকা প্রকাশ করেছে। বাকি ৬৩টি আসন ফাঁকা রেখেছে দলটি। সেই আসনগুলোর মধ্যে একটি বড় অংশ জোটসঙ্গীদের ছাড়ার ইঙ্গিত দিয়েছে বিএনপি। এছাড়া নিজেদের আভ্যন্তরীণ জটিলতার কারণেও কিছু আসনে প্রার্থী ঘোষণা স্থগিত রেখেছে দলটি।

বিএনপি যেসব আসনে প্রার্থী দেয়নি এর মধ্যে তিনটি আসন এমন রয়েছে, যেখান থেকে নির্বাচন করার ব্যাপারে নিজের আগ্রহের কথা ইতোমধ্যে জানিয়েছেন মাওলানা মামুনুল হক। তবে তিনটি আসনের মধ্যে একটিতে ইতোমধ্যে অন্য দলের একজন প্রার্থীকে সবুজ সংকেত দেওয়ার কথা জানা গেছে।

সম্প্রতি মাওলানা মামুনুল হক জানিয়েছিলেন, তিনি নির্বাচন করার ব্যাপারে ব্যক্তিগতভাবে ততটা আগ্রহী না। তবে দল তাকে প্রার্থী করার প্রয়োজন বোধ করলে তিনি নির্বাচন করবেন। সে ক্ষেত্রে তিনটি আসন তার পছন্দের তালিকায় রয়েছে। এর মধ্যে দুটি ঢাকায় এবং একটি বাগেরহাটে।

মাওলানা মামুনুল হক জানিয়েছিলেন, তার কর্মক্ষেত্র রাজধানীর মোহাম্মদপুর এলাকায় হওয়ায় ঢাকা-১৩ আসনে তিনি প্রার্থী হতে আগ্রহী। তিনি বেড়ে উঠেছেন লালবাগ এলাকায়। সে ক্ষেত্রে ঢাকা-৭ আসনও তার পছন্দের তালিকায় আছে। এছাড়া নানার বাড়ি এবং বাবার কিছুদিনের কর্মস্থল হিসেবে বাগেরহাট-১ আসনেও তিনি নির্বাচন করতে পারেন।

বিএনপি ঘোষিত তালিকায় দেখা যায়, তিনটি আসনই ফাঁকা রাখা হয়েছে। তবে এর মধ্যে মোহাম্মদপুর আসনে ইতোমধ্যে বিএনপির যুগপৎ আন্দোলনের সঙ্গী জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক আন্দোলন-এনডিএমের চেয়ারম্যান ববি হাজ্জাজকে সবুজ সংকেত দেওয়া হয়েছে এবং তিনি কাজও শুরু করেছেন। বাকি দুটি আসন অবশ্য মাওলানা মামুনুল হকের সঙ্গে সমঝোতা হলে বিএনপি ছাড়তে রাজি বলে জানা গেছে।

মাওলানা মামুনুল হক সম্প্রতি নিজেই জানিয়েছেন, নির্বাচনে তিনি কোন জোট বা বলয়ে যাবেন সেটা এখনো সিদ্ধান্ত নেননি। তবে তিনি আট দলের সঙ্গে আছেন। নির্বাচনি সমঝোতা যে কারও সঙ্গে হতে পারে বলে আভাস দিয়েছিলেন। সে ক্ষেত্রে বিএনপির সঙ্গেও তার একটা বোঝাপড়া হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। যদিও বিষয়টি চূড়ান্ত হতে আরও কিছু দিন অপেক্ষা করতে হবে।




‘দলগুলো ঐক্যবদ্ধ সিদ্ধান্ত দিতে ব্যর্থ হলে সরকার নিজের মতো সিদ্ধান্ত নেবে’

ডিএনবি নিউজ ডেস্ক:

বাংলাদেশে জুলাই জাতীয় সনদ বা সংস্কার প্রস্তাব বাস্তবায়নের বিষয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে যে মতভেদ দেখা দিয়েছে, তাতে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা পরিষদ।

এ বিষয়ে রাজনৈতিক দলগুলোকে নিজ উদ্যোগে নিজেদের মধ্যে আলাপ-আলোচনা করে সম্ভাব্য দ্রুততম সময়ে অন্তর্বর্তী সরকারকে ঐক্যবদ্ধ দিকনির্দেশনা দেওয়ার জন্য আহ্বান জানানো হয়েছে। রাজনৈতিক দলগুলো যদি ঐক্যবদ্ধ সিদ্ধান্ত দিতে না পারে, তাহলে সরকার তার মতো করে সিদ্ধান্ত নেবে।

আজ (সোমবার) রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে উপদেষ্টা পরিষদের ‘জরুরি সভায়’ এই সিদ্ধান্ত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস। পরে সেখানে এক সংবাদ সম্মেলনে সরকারের সিদ্ধান্ত জানান আইন উপদেষ্টা অধ্যাপক আসিফ নজরুল। সংবাদ সম্মেলনে উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান, আদিলুর রহমান খান ও প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম উপস্থিত ছিলেন।

গত মঙ্গলবার জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নের উপায় নিয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের কাছে সুপারিশ জমা দিয়েছে জাতীয় ঐকমত্য কমিশন। এতে বলা হয়েছে, সনদের সংবিধান-সম্পর্কিত সংস্কার প্রস্তাবগুলো বাস্তবায়নে বিশেষ আদেশ জারি করে তার ভিত্তিতে গণভোট হবে। গণভোটে প্রস্তাব পাস হলে আগামী সংসদ সংবিধান সংস্কার পরিষদ হিসেবে ২৭০ দিনের মধ্যে সংবিধান সংস্কার করবে।

তবে গণভোট কবে হবে, সে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ভার সরকারের ওপর ছেড়ে দিয়েছে ঐকমত্য কমিশন। সরকার সিদ্ধান্ত নেবে গণভোট কি জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিন একই সঙ্গে হবে, নাকি আগে হবে। এসব সুপারিশ জমা দেওয়ার পর রাজনৈতিক দলগুলো পরস্পরবিরোধী অবস্থান নিয়েছে। এ রকম পরিস্থিতিতে আজ জরুরি বৈঠকে বসে অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা পরিষদ।

সংবাদ সম্মেলনে আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল বলেন, উপদেষ্টা পরিষদের সভায় জুলাই জাতীয় সনদ, সংবিধান সংস্কার চূড়ান্ত করা এবং এতে উল্লেখিত গণভোট আয়োজন ও গণভোটের বিষয়বস্তু নিয়ে আলোচনা হয়। সভায় লক্ষ করা হয়, দীর্ঘদিন আলোচনা করার পরেও কয়েকটি সংস্কারের সুপারিশের বিষয়ে ভিন্নমত রয়েছে। এ ছাড়া গণভোট কবে ও তার বিষয়বস্তু কী হবে—এসব প্রশ্নে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে যে মতভেদ দেখা দিয়েছে, তা নিয়ে সভায় উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়।

আসিফ নজরুল বলেন, এর পরিপ্রেক্ষিতে গণভোটের সময় কখন হবে, কবে অনুষ্ঠিত হবে, গণভোটের বিষয়বস্তু কী হবে, জুলাই সনদে বর্ণিত ভিন্নমত প্রসঙ্গে কী পদক্ষেপ নেওয়া হবে—এগুলোসহ ঐকমত্য কমিশনের প্রস্তাবগুলোর আলোকে জরুরি ভিত্তিতে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া প্রয়োজন বলে সভায় অভিমত ব্যক্ত করা হয়। এসব ক্ষেত্রে ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে দীর্ঘদিনের মিত্র রাজনৈতিক দলগুলো নিজ উদ্যোগ নিজেদের মধ্যে আলাপ-আলোচনা করে সম্ভাব্য দ্রুততম সময়ে, সম্ভব হলে আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে সরকারকে ঐক্যবদ্ধ দিকনির্দেশনা দেওয়ার জন্য আহ্বান জানানো হয়। দিকনির্দেশনা পেলে সরকারের পক্ষে সিদ্ধান্ত নেওয়া অত্যন্ত সহজ হবে।

আসিফ নজরুল বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে কালক্ষেপণের কোনো সুযোগ নেই। সেটি সভায় বিবেচনায় রাখা হয়। উপদেষ্টা পরিষদের সভায় আগামী বছরের ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠানের বিষয়ে সরকারের সংকল্প পুনর্ব্যক্ত করা হয়।

প্রশ্নের জবাবে যা বললে আইন উপদেষ্টা

সংবাদ সম্মেলনে একজন সাংবাদিক জানতে চান, কবে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন আদেশ জারি হতে পারে?

জবাবে আইন উপদেষ্টা বলেন, ‘আমরা ফ্যাসিবাদবিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোকে একটু সময় দিতে চাই। যে বিষয়টি উল্লেখ করলাম, আমরা একটু দেখি।’

রাজনৈতিক দলগুলোকে আলোচনার জন্য এক সপ্তাহের আলটিমেটাম দেওয়া হয়েছে। তারা যদি আলোচনায় ব্যর্থ হয়, তাহলে সরকার কী করবে, কী সিদ্ধান্ত নেবে? এমন প্রশ্নের জবাবে আসিফ নজরুল বলেন, ‘আমরা কোনো আলটিমেটাম দিইনি, আহ্বান জানিয়েছি। আমরা অপেক্ষা করব। তারপর সরকার সরকারের মতো পদক্ষেপ নেবে।’

সরকার রাজনৈতিক দলগুলোর জন্য আলোচনার আয়োজন করে দেবে কি না— এক সাংবাদিকের এমন প্রশ্নের জবাবে আইন উপদেষ্টা বলেন, সরকার বহু আলোচনা করেছে। সরকার আর কোনো আয়োজন করতে যাচ্ছে না। ফ্যাসিবাদবিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো ১৫ বছরে আলোচনা করে বহু সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তারা অত্যন্ত প্রতিকূল সময়ে একসঙ্গে আন্দোলন করেছে, নির্যাতনের শিকার হয়েছে। তারা নিজেরা আলোচনা করে ঐক্যবদ্ধ নির্দেশনা দেবে—এ প্রত্যাশা সরকার করছে।

আরেকজন সাংবাদিক প্রশ্ন করেন, একটি বড় রাজনৈতিক দলের পক্ষে অভিযোগ করা হচ্ছে, ঐকমত্য কমিশনে যে বিষয়গুলো আলাপ-আলোচনা করা হয়েছিল, বাস্তবায়ন সুপারিশে এসে, সেই আলাপ-আলোচনার বিষয়গুলোর ব্যত্যয় ঘটেছে বা সম্পূর্ণভাবে সেগুলো রক্ষা করা হয়নি।

এর জবাবে কোনো মন্তব্য নেই বলে জানান আসিফ নজরুল। তিনি বলেন, ‘রাজনৈতিক দলগুলো নিজেরা আলাপ-আলোচনা করে এই বিষয়েও আমাদের একটি ঐক্যবদ্ধ নির্দেশনা দেবে—এ প্রত্যাশা করছি। ওনারা যদি আলাপ-আলোচনা করেন, আমাদের জন্য কাজটি অত্যন্ত সহজ হয়। ওনারা যদি ঐক্যবদ্ধ সিদ্ধান্ত দিতে না পারে, অবশ্যই সরকার সরকারের মতো সিদ্ধান্ত নেবে।’#




জামায়াত ক্ষমতায় আসলে কওমি ও সুন্নিদের অস্তিত্ব থাকবে না: আল্লামা শাহ মহিবুল্লাহ বাবুনগরী

ডিএনবি নিউজ ডেস্ক :

হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের আমির শায়খুল হাদিস আল্লামা শাহ মুহিবুল্লাহ বাবুনগরী বলেছেন,আওয়ামী লীগ ইসলামের দুশমন আর জামায়াতে ইসলামী কওমি মাদ্রাসার দুশমন।

তিনি দাবি করেন, যদি কখনও জামায়াত ক্ষমতায় আসে, তাহলে দেশে কওমি দেওবন্দী ধারা ও আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাত ধারার মাদ্রাসাগুলোর অস্তিত্ব টিকবে না।

সম্প্রতি চট্টগ্রামে এক সমাবেশে অংশ নিয়ে ভিডিও বার্তায় তিনি এসব মন্তব্য করেন।

মহিবুল্লাহ বাবুনগরী বলেন, আল্লাহ তা না করুক, যদি এই ফেরাউনের জাত আবার ক্ষমতায় ফিরে আসে, তাহলে এ দেশের মাদ্রাসাগুলোর কোনো অস্তিত্ব থাকবে না। আমি কসম করে বলছি, তারা কওমি ও সুন্নিয়ত ধারার মাদ্রাসা মুছে ফেলবে।

তিনি আরও বলেন, জামায়াত ইসলামী মুখে ইসলামের কথা বললেও বাস্তবে তারা ইসলামী শিক্ষার সবচেয়ে বড় ক্ষতি করেছে। এই দলের নেতারা ক্ষমতায় থাকাকালীন কওমি মাদ্রাসাকে নানা প্রকারভাবে অবমূল্যায়ন করেছে। তারা ইসলামী রাজনীতির নামে নিজেদের স্বার্থ রক্ষা করে।

হেফাজত আমিরের এ মন্তব্যের নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। দলটির সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এহসানুল মাহবুব জুবায়ের এক বিবৃতিতে বলেন, “মুহিবুল্লাহ বাবুনগরীর বক্তব্য সম্পূর্ণ মনগড়া ও ভিত্তিহীন।

জামায়াতে ইসলামী প্রতিষ্ঠার পর থেকেই দেশে অসংখ্য মসজিদ, মাদ্রাসা ও এতিমখানা প্রতিষ্ঠা করেছে। ২০০১ থেকে ২০০৬ সালে জামায়াতের দুইজন মন্ত্রী ক্ষমতায় থাকাকালীন কওমি মাদ্রাসাকে বরং মুক্তহস্তে সহায়তা দিয়েছেন।”




১০ দিনের কর্মসূচি ঘোষণা বিএনপির

ডিএনবি নিউজ ডেস্ক :

আগামী ৭ নভেম্বর জাতীয় সংহতি ও বিপ্লব দিবস উপলক্ষে ১০ দিনব্যাপী কর্মসূচি ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল- বিএনপি।

রোববার (২ নভেম্বর) দুপুরে রাজধানীর নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক যৌথ সভার পর দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এক সংবাদ সম্মেলনে এ ঘোষণা দেন।

সংবাদ সম্মেলনে মির্জা ফখরুল বলেন, দেশ এখন একরকম অনিশ্চিত সময় পার করছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রতিনিয়ত অপতথ্য ছড়িয়ে দেশকে অস্থিতিশীল তৈরি করার চেষ্টা চলছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

এদিকে সকালে ভিন্ন কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে জুলাই সনদ ইস্যুতে চলমান বিতর্কের বিষয়ে সরকারের নীরবতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়। তিনি জানান, প্রতিবাদের ভাষা হিসেবে মাঠে নেমে সরকারকে হুমকিতে ফেলতে চায় না তার দল।

গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, ‘জুলাই সনদ ইস্যুতে বিএনপি প্রতিবাদের পথ বেছে নিলে বর্তমান সরকার টিকতে পারবে না। পরিস্থিতি মোকাবেলায় ধৈর্য ধারণ করে এই সরকারের অধীনেই অবাধ ও সুষ্ঠু নিবর্বাচনের প্রত্যাশা করি।’




আজ থেকে বন্ধ অতিরিক্ত সিম – ইউএনবি।

 

ডিএনবি নিউজ ডেস্ক:

বহুল আলোচিত এবং প্রতীক্ষিত বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশনের (বিটিআরসি) নতুন নির্দেশনাটি আজ, শনিবার থেকে কার্যকর হয়েছে। এই নির্দেশনার ফলে এখন থেকে একজন নাগরিক তাঁর জাতীয় পরিচয়পত্রের (এনআইডি) বিপরীতে সর্বোচ্চ ১০টি সিম ব্যবহার করতে পারবেন। অতিরিক্ত সক্রিয় সিমগুলো আজ থেকেই দেশের মোবাইল ফোন অপারেটরগুলো স্বয়ংক্রিয়ভাবে বন্ধ করে দেওয়া শুরু করেছে। এই পদক্ষেপটি সিম ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা ফেরানো এবং মোবাইলভিত্তিক প্রতারণা রোধ করার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

সিম ব্যবহারের সীমা ১৫ থেকে ১০-এ নামল

দীর্ঘদিন ধরে একজন গ্রাহক তার জাতীয় পরিচয়পত্রের বিপরীতে সর্বোচ্চ ১৫টি সিমকার্ড ব্যবহার করার সুযোগ পেতেন। কিন্তু গত ৩০ জুলাই, ২০২৫ তারিখে বিটিআরসি একটি গুরুত্বপূর্ণ নীতিগত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। সংস্থাটি ঘোষণা করে যে, এই সংখ্যা কমিয়ে ১০টিতে আনা হবে এবং নভেম্বর মাস থেকে অতিরিক্ত সিম নিষ্ক্রিয় করার কাজ শুরু হবে। সেই ঘোষণা অনুযায়ী, আজ ১ নভেম্বর, ২০২৫ থেকে এই নিয়ম পুরোপুরি কার্যকর হলো।

বিটিআরসি সম্প্রতি জারি করা এক বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্ট করে জানিয়েছে যে, নভেম্বর মাস থেকে এই অতিরিক্ত সিমগুলো স্বয়ংক্রিয়ভাবে নিষ্ক্রিয় হয়ে যাবে। এটি একটি কঠোর পদক্ষেপ, যা গ্রাহকদের তাদের সক্রিয় সিমের সংখ্যা যাচাই করতে এবং অপ্রয়োজনীয় সিমগুলো বন্ধ করতে উৎসাহিত করছে।

গুরুত্বপূর্ণ সিম বন্ধ হওয়ার ঝুঁকি ও করণীয়

এই স্বয়ংক্রিয় নিষ্ক্রিয়করণ প্রক্রিয়ার সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো, যেসব ব্যবহারকারী নিজেরা অতিরিক্ত সিম বন্ধ করার উদ্যোগ নেবেন না, তাদের এনআইডিতে নিবন্ধিত গুরুত্বপূর্ণ সিমকার্ডও বন্ধ হয়ে যেতে পারে। কারণ, সিম বন্ধ করার ক্ষেত্রে কর্তৃপক্ষ ‘দৈবচয়ন’ (র‌্যান্ডম সিলেকশন) নীতি অনুসরণ করবে। অর্থাৎ, গ্রাহকের পছন্দ বা প্রয়োজনের তোয়াক্কা না করে যেকোনো অতিরিক্ত সিম বন্ধ করে দেওয়া হতে পারে। এটি গ্রাহকদের জন্য একটি জরুরি সতর্কবার্তা।

অতিরিক্ত সিম ডি-রেজিস্ট্রেশন বা বন্ধ করতে হলে গ্রাহকদের দ্রুত সংশ্লিষ্ট অপারেটরের কাস্টমার কেয়ার সেন্টারে যোগাযোগ করতে হবে। কাস্টমার কেয়ারে গিয়ে গ্রাহক তাঁর এনআইডির বিপরীতে নিবন্ধিত সিমগুলোর তালিকা দেখতে পারবেন এবং কোনটি রাখতে চান আর কোনটি বন্ধ করতে চান, সেই সিদ্ধান্ত জানাতে পারবেন। এই প্রক্রিয়াটি গ্রাহককে তার প্রয়োজনীয় সিমগুলো সক্রিয় রাখার নিশ্চয়তা দেবে।

বিটিআরসি’র দৃঢ়তা: ডিসেম্বরের মধ্যে লক্ষ্য অর্জন

বিটিআরসি চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) এমদাদ উল বারী গণমাধ্যমকে দেওয়া এক বক্তব্যে এই পদক্ষেপের বিষয়ে কমিশনের দৃঢ় অবস্থান ব্যক্ত করেছেন। তিনি বলেন, “আজ শনিবার (১ নভেম্বর) থেকেই অপারেটররা অতিরিক্ত সিম নিষ্ক্রিয় করা শুরু করেছে। আমরা দৃঢ়ভাবে আশাবাদী যে, ডিসেম্বর মাসের মধ্যে আমরা নিশ্চিত করব, কোনো এনআইডির নামে ১০টির বেশি সিম সক্রিয় থাকবে না।

বিটিআরসি চেয়ারম্যানের এই মন্তব্য সরকারের এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে কর্তৃপক্ষের জিরো টলারেন্স নীতিকেই তুলে ধরে। এই স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থা বাস্তবায়নে অপারেটরদের সফটওয়্যারে প্রয়োজনীয় পরিবর্তন আনা হয়েছে এবং বিটিআরসি মনিটরিং-এর মাধ্যমে এই প্রক্রিয়া পর্যবেক্ষণ করবে।

পরিসংখ্যান: কেন এই কঠোর সিদ্ধান্ত?

বিটিআরসি’র পরিসংখ্যানে মোবাইল সিমের সংখ্যার একটি স্পষ্ট অসঙ্গতি দেখা যায়, যা এই সিদ্ধান্তের যৌক্তিকতা প্রমাণ করে। ২০২৫ সালের মার্চ মাস পর্যন্ত দেশে সক্রিয় মোবাইল সিমের সংখ্যা ছিল প্রায় ১৮ কোটি ৬২ লাখ। অথচ এই সময়ে দেশের প্রকৃত মোবাইল গ্রাহক সংখ্যা ছিল প্রায় ছয় কোটি ৭৫ লাখ। এই বিশাল ব্যবধানই প্রমাণ করে যে, একজন গ্রাহকের নামে একাধিক সিম নিবন্ধিত হচ্ছে, যা ব্যবস্থাপনায় বড় ধরনের বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে।

পরিসংখ্যান আরও দেখায় যে:

  • ৮০ শতাংশের বেশি ব্যবহারকারীর নামে পাঁচটির কম সিম সক্রিয় রয়েছে।
  • ৬ থেকে ১০টি সিম ব্যবহার করছেন প্রায় ১৬ শতাংশ গ্রাহক।
  • ১১টির বেশি সিম ব্যবহার করছেন মাত্র তিন শতাংশ গ্রাহক, যারা মূলত এই নতুন নিয়মের আওতায় আসছেন।

যদিও এই ব্যবহারকারীর সংখ্যা শতাংশের হিসাবে কম, তবুও এদের কারণেই সিমের অতিরিক্ত নিবন্ধন এবং তা থেকে সৃষ্ট জটিলতা তৈরি হচ্ছিল। এই অতিরিক্ত সিমগুলো অনেক সময়ই অব্যবহৃত বা প্রতারণার কাজে ব্যবহৃত হওয়ার ঝুঁকি তৈরি করত।

শৃঙ্খলা ফেরানো ও প্রতারণা রোধই মূল লক্ষ্য

বিটিআরসি কর্মকর্তারা এই সিদ্ধান্তের মূল কারণ ব্যাখ্যা করে জানিয়েছেন যে, সিম ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা ফেরানো এবং মোবাইলভিত্তিক প্রতারণা রোধ করাই এই নতুন নিয়মের প্রধান উদ্দেশ্য। অতিরিক্ত সিমকার্ডের ব্যবহার প্রায়শই অবৈধ ভিওআইপি (VoIP) কার্যক্রমে এবং বিভিন্ন আর্থিক প্রতারণা যেমন—ফিশিং বা চাঁদাবাজিতে ব্যবহৃত হয়। সিমের সংখ্যা সীমিত করার মাধ্যমে এই ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের বিস্তার অনেকাংশে কমিয়ে আনা সম্ভব হবে বলে কমিশন মনে করে।

এছাড়াও, একটি এনআইডির বিপরীতে মাত্রাতিরিক্ত সিম থাকার কারণে সিমের প্রকৃত ব্যবহারকারী চিহ্নিত করা কঠিন হয়, যা নিরাপত্তা সংস্থাগুলোর তদন্ত কাজকেও ব্যাহত করে। ১০টি সিমের সীমা নির্ধারণ করার ফলে প্রত্যেক গ্রাহকের দায়বদ্ধতা বাড়বে এবং সিমের অপব্যবহার রোধ করা যাবে।

আপনার এনআইডিতে কয়টি সিম? যাচাই করার উপায়

গ্রাহকদের মধ্যে যেন কোনো বিভ্রান্তি না থাকে, সেজন্য বিটিআরসি সহজ উপায়ে তাদের নিবন্ধিত সিমের সংখ্যা যাচাই করার সুযোগ দিয়েছে। গ্রাহকরা খুব সহজেই *অনলাইনে বা ১৬০০২# ডায়াল করে নিজেদের এনআইডিতে নিবন্ধিত সিমের সংখ্যা যাচাই করতে পারেন। এই যাচাই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে গ্রাহকরা জানতে পারবেন তাদের কোন কোন অপারেটরের কতগুলো সিম সক্রিয় আছে এবং সেই অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে পারবেন।

গ্রাহকদের প্রতি নির্দেশনা হলো, যত দ্রুত সম্ভব তারা যেন এই যাচাই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেন এবং অতিরিক্ত সিম থাকলে তা কাস্টমার কেয়ারে গিয়ে ডি-রেজিস্ট্রেশন করে নেন। এতে করে তাদের গুরুত্বপূর্ণ সিমগুলো দৈবচয়নের মাধ্যমে বন্ধ হয়ে যাওয়ার ঝুঁকি এড়ানো যাবে।

ডিজিটাল বাংলাদেশের পথে আরও একধাপ

বিটিআরসি’র এই উদ্যোগ কেবল সিম ব্যবস্থাপনার একটি প্রশাসনিক পরিবর্তন নয়, বরং এটি ডিজিটাল বাংলাদেশের পথে সুশৃঙ্খল এবং নিরাপদ যোগাযোগ নিশ্চিত করার একটি বড় পদক্ষেপ। সিমের সুব্যবস্থাপনা দেশের টেলিযোগাযোগ খাতে স্বচ্ছতা আনবে এবং গ্রাহকদের আস্থাও বাড়াবে। এই পদক্ষেপের সফল বাস্তবায়ন দেশের সাইবার নিরাপত্তা জোরদার করতে এবং মোবাইল আর্থিক সেবার (MFS) অপব্যবহার কমাতে সহায়ক ভূমিকা রাখবে।

অপারেটর এবং গ্রাহক—উভয় পক্ষই এই নতুন নিয়মের সঙ্গে দ্রুত মানিয়ে নিতে পারলে ডিসেম্বরের মধ্যে সিম ব্যবস্থাপনা নিয়ে সরকারের লক্ষ্য অর্জন করা সম্ভব হবে, যা দেশের সামগ্রিক ডিজিটাল ইকোসিস্টেমের জন্য ইতিবাচক বার্তা দেবে।




ভোলায় বিএনপি-বিজেপি সংঘর্ষ, আহত ৫০

ডিএনবি নিউজ ডেস্ক :

ভোলায় বিএনপি ও বাংলাদেশ জাতীয় পার্টির (বিজেপি) পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি ঘিরে দু’পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ ও ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন অন্তত ৫০ জন। শনিবার (১ নভেম্বর) দুপুরে শহরের নতুন বাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, সকাল থেকে জেলা বিএনপি ও বিজেপি’র অফিসের সামনে পাল্টা-পাল্টি কর্মসূচি চলছিল। পরে বিজেপির সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীরা নতুন বাজারে তাদের দলীয় কার্যালয়ের সামনে থেকে মিছিল বের করে। বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে একই স্থানে গিয়ে শেষ হয় মিছিলটি।

মিছিলের পর সমাবেশের আয়োজন করেন তারা। অন্যদিকে শহরের মহাজনপট্টিতে জেলা বিএনপির কার্যালয়ের সামনে সমাবেশ শেষে একটি মিছিল বের করেন দলের নেতাকর্মীরা। নতুন বাজারের পৌর ভবনের সামনে পৌঁছালে উভপক্ষের মধ্যে প্রথমে ইটপাটকেল নিক্ষেপ ও লাঠি ছোঁড়াছুঁড়ি এবং পরবর্তীতে ধাওয়া ও পাল্টা শুরু হয়। আহত হয় উভয় পক্ষের অর্ধশতাধিক নেতাকর্মী।

খবর পেয়ে, ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয় পুলিশ। আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।




একই দিনে নির্বাচন ও গণভোটের চিন্তা করছে সরকার

ডিএনবি নিউজ ডেস্ক :

রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে তীব্র অনৈক্যের কারণে জুলাই জাতীয় সনদ বা সংস্কার প্রস্তাব বাস্তবায়নকে ‘দুরূহ চ্যালেঞ্জ’ হিসেবে দেখছে অন্তর্বর্তী সরকার। তবে এই চ্যালেঞ্জ সত্ত্বেও সরকার গণভোটসহ সনদ বাস্তবায়নের বিষয়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেবে বলে জানা গেছে। সরকার গভীরভাবে চিন্তা করছে যে, জাতীয় নির্বাচনের দিন একই সঙ্গে গণভোটের আয়োজন করা হবে কিনা।

বৃহস্পতিবার উপদেষ্টা পরিষদের এক অনির্ধারিত বৈঠকে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন ও গণভোটের প্রসঙ্গ ওঠে। প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস এ ব্যাপারে উপদেষ্টাদের মতামত জানতে চান এবং বেশির ভাগ উপদেষ্টাই একই দিনে জাতীয় নির্বাচন ও গণভোটের পক্ষে মত দিয়েছেন।

জাতীয় ঐকমত্য কমিশন সুপারিশ জমা দেওয়ার পর রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে তীব্র মতপার্থক্য নতুন করে সামনে এসেছে।

বিএনপি: জুলাই সনদ বাস্তবায়নের আদেশ জারির এখতিয়ার অন্তর্বর্তী সরকারের নেই বলে মনে করে। দলটি জাতীয় নির্বাচনের আগে গণভোট আয়োজনকে ‘অপ্রয়োজনীয়, অযৌক্তিক ও অবিবেচনাপ্রসূত’ বলে আখ্যা দিয়েছে।

আইন উপদেষ্টা অধ্যাপক আসিফ নজরুল এই পরিস্থিতি নিয়ে হতাশা প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, “২৭০ দিন যাবৎ আলাপ-আলোচনার পর আমরা প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর বক্তব্যের মধ্যে যে অনৈক্যের সুর দেখছি, এটা হতাশাব্যঞ্জক। এই তীব্র বিরোধের মধ্যে কীভাবে সমঝোতার দলিল পাস হয়, এটা দুরূহ একটা চ্যালেঞ্জ আমাদের সামনে এনে দিয়েছে।”

আসিফ নজরুল বলেন, এই ‘পরস্পরবিরোধী উত্তেজিত ভূমিকায়’ সরকার সিদ্ধান্তহীনতায় ভুগছে, তবে তিনি আশ্বাস দেন, “আমরা যে সিদ্ধান্ত নেব, আমরা খুব দৃঢ় থাকব। আর সিদ্ধান্ত খুব দ্রুত নেওয়া হবে।”

আইন উপদেষ্টা নিশ্চিত করেন, ফেব্রুয়ারির প্রথম দিকে জাতীয় সংসদ নির্বাচন আয়োজন করতে সরকার বদ্ধপরিকর। পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন এবং পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসানও জানিয়েছেন, সরকার প্রস্তাবগুলো বিশ্লেষণ করছে এবং দ্রুতই পরবর্তী করণীয় নির্ধারণ করা হবে।




নির্বাচন কমিশনে স্বারকলিপি প্রদান ইসলামী আন্দোলনের

ডিএনবি নিউজ ডেস্ক :

পিআর পদ্ধতিসহ ৫ দফা দাবীতে চলমান যুগপৎ আন্দোলনের ৫ম ধাপের কর্মসূচির অংশ হিসেবে আজ ৩০ অক্টোবর, বৃহস্পতিবার আগারগাঁও এ নির্বাচন কমিশন অফিসে প্রধান নির্বাচন কমিশনার বরাবর স্বারকলিপি প্রদান করেছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ।

স্বারকলিপিতে একটি সুষ্ঠু, অবাধ ও গ্রহণযোগ্য জাতীয় নির্বাচন এবং জাতীয় সংসদকে অধিকতর কার্যকর করার লক্ষ্যে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ও বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন বিরামহীনভাবে কাজ করে যাচ্ছে প্রশংসা করা হয়।নভেম্বরে গণভোট আয়োজনের যৌক্তিকতা তুলে ধরে বলা হয়, দেশবাসী মনে করে- গণভোট ব্যতীত জুলাই জাতীয় সনদ আইনগত টেকসই ভিত্তি পাবে না। জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পূর্বে আগামী নভেম্বর মাসের মধ্যেই গণভোট সম্পন্ন করতে হবে।

পিআরের পক্ষে অবস্থান তুলে ধরে বলা হয়, আমাদের অতীত অভিজ্ঞতা অনুযায়ী কালো টাকার ব্যবহার বন্ধ, ভোটকেন্দ্র দখল রোধ, পেশিশক্তি প্রদর্শন ও ভোটের বিভিন্ন অনিয়ম ও অপতৎপরতা বন্ধ, কোয়ালিটি-সম্পন্ন পার্লামেন্ট এবং দক্ষ আইনপ্রণেতা তৈরিসহ প্রতিটি ভোট মূল্যায়নের লক্ষ্যে পিআর পদ্ধতিতে নির্বাচনের জন্য জোর দাবি জানিয়ে আসছি।

সংশোধিত আরপিও-র পক্ষে অবস্থান জানিয়ে বলা হয়, উপদেষ্টা পরিষদ গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ সংশোধনী অনুমোদন করেছে। আমরা লক্ষ্য করছি সরকার কর্তৃক সংশোধিত গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশের কিছু বিষয় পরিবর্তনের জন্য একটি রাজনৈতিক দল দাবি জানিয়েছে। আমরা মনে করি এ দাবি কোনো অবস্থাতেই গ্রহণ করার সুযোগ নেই।

দলের রাজনৈতিক অবস্থান উল্লেখ করে বলা হয়, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশসহ অনেক রাজনৈতিক দল জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন, আগামী নভেম্বরে গণভোট অনুষ্ঠান ও ফেব্রুয়ারি ২০২৬ এ সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানের লক্ষ্যে ৫ দফা দাবীতে আন্দোলন করে আসছে। আমাদের উত্থাপিত দাবিগুলোর প্রতি দেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, বুদ্ধিজীবী, সাংবাদিক, গবেষক ও শিক্ষাবিদসহ সচেতন নাগরিকসমাজ আন্তরিক সমর্থন জানিয়েছে। দেশের সাধরণ জনগণও এসব দাবির প্রতি ব্যাপক সমর্থন দিয়ে রাজপথে আন্দোলনে শামিল হয়েছে ।

এমতাবস্থায় দেশে অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠানের লক্ষ্যে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ -এর এসব যৌক্তিক ও বাস্তবসম্মত গণদাবি নির্বাচন কমিশন মেনে নিবেন এবং গণ-মানুষের অধিকার পুনরুদ্ধারের অভিযাত্রায় গতিপথ নির্বারণ করবেন।

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ আয়োজিত স্বারকলিপিপূর্ব জমায়েতে সভাপতিত্ব করেন, যুগ্মমহাসচিব ও ঢাকা দক্ষিণের সভাপতি মাওলানা ইমতেয়াজ আলম, প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আরেক যুগ্মমহাসচিব ও ঢাকা উত্তরের সভাপতি মাওলানা শেখ ফজলে বারী মাসউদ। অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, দলের মহাসচিব অধ্যক্ষ হাফেজ মাওলানা ইউনুস আহমদ, প্রেসিডিয়াম সদস্য অধ্যাপক আশরাফ আলী আকন প্রমূখ।




নির্বাচন সময়মতো না-ও হতে পারে; তবে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন জরুরি: তাহের

ডিএনবি নিউজ ডেস্ক :

জাতীয় সংসদ নির্বাচন সময়মতো না-ও হতে পারে, তবে জুলাই সনদ বাস্তবায়নই এখন সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ—এমন মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির ডা. সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের।

বুধবার (২৯ অক্টোবর) সকালে মগবাজারের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে কমনওয়েলথের ‘ইলেকটোরাল সাপোর্ট’ শাখার উপদেষ্টা ও ‘প্রি-ইলেকশন অ্যাসেসমেন্ট’ প্রধান লিনফোর্ড অ্যান্ড্রুজের নেতৃত্বে বাংলাদেশ সফররত প্রতিনিধি দলের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন।

তাহের বলেন, ‘বাংলাদেশের বর্তমান নির্বাচনি পরিবেশ নিয়ে নানা প্রশ্ন রয়েছে। তবে সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের জন্য যা যা প্রস্তুতি দরকার, জামায়াত তার সবকিছুই সম্পন্ন করেছে। এবারের নির্বাচন সাধারণ কোনো নির্বাচন নয়—এটি হতে হবে উৎসবমুখর ও বিশ্বাসযোগ্য পরিবেশে।’

তিনি আরও বলেন, ‘জুলাই সনদ বাস্তবায়নের বিষয়ে জামায়াত, এনসিপিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দল প্রস্তাব দিয়েছে—গণভোটের মাধ্যমে বিষয়টি বাস্তবায়ন করা উচিত। এনসিসির প্রস্তাব দ্রুত কার্যকর করে একটি আদেশের ভিত্তিতে গণভোট আয়োজন করতে হবে।’

জামায়াত নেতা মনে করেন, জাতীয় নির্বাচনের আগে গণভোটই যথার্থ পদক্ষেপ। নভেম্বরের মধ্যেই গণভোট অনুষ্ঠিত হতে পারে বলেও তিনি আশা প্রকাশ করেন। তাহেরের ভাষায়, ‘জুলাই সনদ এত গুরুত্বপূর্ণ যে কিছু অর্থ ব্যয় করেও এটি গণভোটের মাধ্যমে বাস্তবায়ন করতে হবে। তা না হলে ভবিষ্যতের নির্বাচনগুলোতেও এ চাপ বজায় থাকবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তা নিশ্চিতে প্রতিটি কেন্দ্রে সেনাবাহিনী, বিজিবি, র‌্যাবসহ সব বাহিনীর স্থায়ী অবস্থান নিশ্চিত করা প্রয়োজন। অতীতে এসব বাহিনী স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে কাজ করেছে, এবার তাদের স্থায়ীভাবে মাঠে থাকতে হবে।’