ভারত সম্পর্ক চাইলে শেখ হাসিনাকে ফেরত দিতে হবে: সারজিস আলম

ডিএনবি নিউজ ডেস্ক :

বাংলাদেশের সঙ্গে ভালো সম্পর্ক চাইলে শেখ হাসিনাকে ফিরিয়ে দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন জুলাই শহীদ স্মৃতি ফাউন্ডেশনের সাধারণ সম্পাদক ও জাতীয় নাগরিক কমিটির মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম।

তিনি বলেন, ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক কী হবে সেটি তাদের কাজের মাধ্যমে নির্ধারিত হবে। সম্পর্ক ভালো রাখতে চাইলে ভারতকে খুনি শেখ হাসিনাকে আশ্রয় না দিয়ে বাংলাদেশে ফেরত দিতে হবে। এদেশের মানুষ তার বিচার করবে।

শনিবার (১৪ ডিসেম্বর) দুপুরে রাজশাহী জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে জুলাই শহীদ স্মৃতি ফাউন্ডেশন আয়োজিত অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

সারজিস আলম বলেন, গুলি চালানো পুলিশ সদস্যদের শাস্তির বদলে বদলি করে নতুন পোস্টিংয়ের তদবির চলছে। মামলা বাণিজ্যের সঙ্গে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা ও প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা জড়িত হচ্ছে। গণঅভ্যুত্থানের বিশ্বাসের সাথে বেঈমানি করলে কাউকেই ছাড়া দেওয়া হবে না। এমনকি গণঅভ্যুত্থানের বিশ্বাসের সঙ্গে বেইমানি করলে প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূসকেও ছাড় দেওয়া হবে না বলেও তিনি হুঁশিয়ারি দেন।

তিনি বলেন, শেখ মুজিবুর রহমান হত্যার বিচারের জন্য কবর থেকে লাশ উত্তোলনের প্রয়োজন না হলে জুলাই-আগস্টের শহীদদের লাশ কেন কবর থেকে তুলতে হবে? আর কোনো শহীদের লাশ কবর থেকে উত্তোলন করতে দেওয়া হবে না।

সারজিস আলম বলেন, শহীদদের হত্যা মামলাগুলোতে বিচারকার্য পর্যন্ত নিয়ে যেতে যারা অসহযোগিতা করবে তারাও হত্যাকারী হিসেবে বিবেচিত হবে।

পরে জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানে রাজশাহী বিভাগের শহীদ পরিবারের মাঝে আর্থিক সহায়তার চেক হস্তান্তর করেন। রাজশাহী বিভাগের ৬৩ শহীদ পরিবারের মধ্যে ৪৬ পরিবারকে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয় জুলাই শহীদ স্মৃতি ফাউন্ডেশন থেকে। প্রতিটি শহীদ পরিবারকে পাঁচ লাখ টাকা করে সহায়তা দেওয়া হয়।




প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে ইইউ’র ২৭ রাষ্ট্রদূতের বৈঠক আজ

ডিএনবি নিউজ ডেস্ক :

অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস আজ সোমবার ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) ২৭ দেশের রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে বৈঠকে বসবেন। প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে ইইউ রাষ্ট্রদূতদের এটাই হবে প্রথম সম্মিলিত সৌজন্য সাক্ষাৎ।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মোহাম্মদ রফিকুল আলম এ তথ্য জানিয়েছেন। রফিকুল আলম বলেন, সোমবার (০৯ ডিসেম্বর) ইউরোপীয় ইউনিয়নের ২৭ দেশ ছাড়াও আরও একটি দেশের রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। ইইউ’র সব সদস্যরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত একত্র হয়ে সরকারপ্রধানের সঙ্গে আলোচনার উদ্যোগটি এবারই প্রথম। এ উদ্যোগ বাংলাদেশ ও ইইউর সম্পর্কে আরও সুসংহত করবে বলে আশা করা যাচ্ছে।

মুখপাত্র বলেন, আসন্ন বৈঠকে বাংলাদেশের সঙ্গে ইইউভুক্ত সদস্যরাষ্ট্রগুলো এবং ইইউর সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের সার্বিক পর্যালোচনা, সহযোগিতার নতুন ও সম্ভাবনাময় ক্ষেত্র, এলডিসি উত্তরণ–পরবর্তী জিএসপি প্লাস বাণিজ্য সুবিধাদি, জলবায়ু পরিবর্তন সৃষ্ট অস্তিত্ব সংকট মোকাবিলা, দ্রুত রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন বাস্তবায়ন এবং সর্বোপরি একটি টেকসই ভবিষ্যৎ বিনির্মাণে উভয়ের অঙ্গীকার ও করণীয় সম্পর্কে আলোচনা হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।




দুর্গাপুর মুক্ত দিবস পালিত

দুর্গাপুর(নেত্রকোণা)প্রতিনিধি :

৬ ডিসেম্বর দুর্গাপুর মুক্ত দিবস। ১৯৭১ সনের এই দিনে বাংলার দামাল ছেলেদের এক রক্তক্ষয়ী লড়াইয়ের মধ্য দিয়ে নেত্রকোণার সীমান্তবর্তী দুর্গাপুর উপজেলাকে মুক্ত করেছিলেন। এ উপলক্ষে উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে, সর্বস্তরের অংশগ্রহনে নানা কর্মসুচীর মাধ্যমে এ দিবস পালিত হয়।

এ উপলক্ষে সকাল ১১টায় উপজেলা চত্বরে সর্বস্তরের অংশগ্রহনে পায়রা উড়িয়ে এক বর্নাঢ্য র‌্যালি পৌরশহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. নাভিদ রেজওয়ানুল কবীর এর সভাপতিত্বে উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজার মুহাম্মদ নাসির উদ্দিন‘র সঞ্চালনায় অন্যদের মধ্যে, উপজেলা স্বাস্থ্য ও প:প: কর্মকর্তা মোছাম্মৎ জেবুনেচ্ছা, মুক্তিযোদ্ধা কমান্ড কাউন্সিলের সাবেক ডেপুটি কমান্ডার সোহরাব হোসেন তালুকদার, বীর মুক্তিযোদ্ধা ¯িœগ্নেন্দু বাউল, ওসি মো. বাচ্চু মিয়া, আয়কর উপদেষ্ট অজয় সাহা, উপজেলা বিএনপি‘র সদস্য সচিব আব্দুল আওয়াল, পৌর বিএনপি‘র সদস্য সচিব হারেজ গনি, প্রেসক্লাব সাধারণ সম্পাদক জামাল তালুকদার, বীর মুক্তিযোদ্ধার সন্তান বিকাশ সরকার সহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীগণ বক্তব্য রাখেন।

বক্তারা বলেন, পাকিস্তানি মেজর সুলতানের নেতৃত্বে বিরিশিরিতে একটি শক্তিশালী পাকসেনা ঘাঁটি গড়ে উঠেছিল। এখান থেকেই বাংলার কুখ্যাত দালাল, আলবদর, রাজাকারদের সহযোগিতায় নিয়ন্ত্রন করতো দুর্গাপুর ও কলমাকান্দার সীমান্ত এলাকা গুলো। সেইসাথে বুদ্ধিজীবি মানুষদের ধরে এনে রাতের আঁধারে বিরিশিরি‘র বধ্যভূমিতে নৃশংসভাবে হত্যা করা হতো। সর্বপ্রথম যাদের হত্যা করা হয়েছিল, তাদের মধ্যে নেত্রকোনা সরকারি কলেজের দর্শন বিভাগের অধ্যাপক শহীদ আরজ আলী, এমকেসিএম পাইলট সরকারী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবদুল আওয়াল, দুর্গাপুরের তদানিন্তন এমএনএ গৌরাঙ্গ চন্দ্র সাহা, কুল্লাগড়া ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মোঃ আলী হোসেন, শিক্ষক আশুতোষ সান্যাল, কাকৈরগড়া ইউনিয়নের শিক্ষক জালাল উদ্দিন তালুকদার, সমাজসেবক ধীরেন্দ্র নাথ পত্রনবীশ, সুসং ডিগ্রি কলেজের ছাত্র দিলদার হোসেন, বিল্লাল হোসেন, কৃষক ইমাম হোসেন ও ছোট্রনী সহ নাম অজানা অনেককেই। এছাড়া ৫ মে গাঁওকান্দিয়া গ্রামে ১৯ জন মুক্তিযোদ্ধাকে এক সাথে গুলি করে হত্যা করেছিলো পাকসেনারা। নতুন প্রজন্মের কাছে এসকল তথ্যগুলো জানাতে সকলকে অনুরোদ জানানো হয়।




বাংলাদেশে ‘ইসকনের সকল কার্যক্রম নিষিদ্ধ করতে হবে’

ডিএনবি নিউজ ডেস্ক :

উগ্র সন্ত্রাসী ও জঙ্গী সংগঠন ইসকন কর্তৃক মসজিদ ও আদালতের স্থাপনা ভাঙচুর ও ভারতীয় আগ্রাসনের প্রতিবাদ এবং আদালতপ্রাঙ্গণে শহীদ এডভোকেট সাইফুল ইসলাম আলিফকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যার বিচার ও দেশবিরোধী উগ্র সংগঠন ইসকনকে নিষিদ্ধের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল ও জেলা প্রশাসক বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করেছে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ রংপুর জেলা শাখা।

রোববার (১ ডিসেম্বর) দুপুরে রংপুর নগরীর পাবলিক লাইব্রেরি মাঠ থেকে শুরু হয়ে পায়রাচত্বর, জাহাজ কোম্পানী মোড় ও প্রেসক্লাব ঘুরে কাচারি বাজারস্থ জেলা প্রশাসকের কার্যালয় পর্যন্ত মিছিল করে সংগঠনটি। সেখানে ‘উগ্রবাদী জঙ্গী সংগঠন ইসকন নিষিদ্ধের দাবি’ জানিয়ে জেলা প্রশাসক বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করে আবার একই জায়গায় এসে মিছিলটি শেষ হয়।

এ সময় সংক্ষিপ্ত সমাবেশে বক্তব্য রাখেন হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় নায়েবে আমির মাওলানা মুহাম্মাদ ইউনুছ ও রংপুর জেলা শাখার আহ্বায়ক হাফেজ ইদ্রীস আলীসহ জাতীয় ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।

সমাবেশে বক্তারা বলেন, দেশের পরাজিত স্বৈরাচার আওয়ামী লীগ ভারতের মাধ্যমে হিন্দুদের একটি অংশকে ব্যবহার করে এদেশে শান্তি বিনষ্টের ঘৃণ্য অপচেষ্টা করছে। ভারতের প্রত্যক্ষ মদদেই ইসকন বিভিন্ন অপপ্রচার চালিয়ে সমাজে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করছে।

তারা বলেন, বাংলাদেশে ইসকনের ইতিহাসের পুরোটাই মারামারি, হানাহানি এবং উগ্রতায় ভরপুর। বিভিন্নভাবে সন্ত্রাসী কায়দায় ভূমি দখল, মন্দির দখল ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্টের ঘটনা অহরহই ঘটিয়ে চলেছে তারা।

সমাবেশে বলা হয়, দেশের সকল শ্রেণীর মানুষের পাশাপাশি সরকার ও বিভিন্ন সংস্থাগুলো যখন জানাচ্ছে যে, বর্তমানে হিন্দুরা পূর্বের যেকোন সময়ের চেয়ে বেশি নিরাপত্তায় রয়েছে, তখন ভারতের ইশারায় ইসকন মিথ্যা তথ্য ও গুজব রটিয়ে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা বাধানোর ষড়যন্ত্র করছে।

বক্তারা বলেন, আমরা মনে করি, ভারতীয় প্রেসক্রিপশনে ইসকনের মাধ্যমে অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে চট্টগ্রামের আদালত পাড়ায় মুসলমানদের পবিত্রতম স্থান মসজিদ ভাঙচুর করে সংখ্যাগরিষ্ট নাগরিকদের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করা হয়েছে। পূর্বপরিকল্পিত ছক অনুযায়ীই আদালতপ্রাঙ্গণে আইনজীবী সাইফুল ইসলাম আলিফকে নির্মমভাবে কুপিয়ে ও জবাই করে শহীদ করেছে ইসকন সদস্যরা।

দাবি জানিয়ে তারা বলেন, অন্তবর্তীকালীন সরকারের কাছে হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের জোরালো দাবি, এমন ভয়াবহ অবস্থায় অনতিবিলম্বে ইসকনের সকল কার্যক্রম বাংলাদেশে নিষিদ্ধ করতে হবে, চট্টগ্রামে আইনজীবী হত্যার বিচার নিশ্চিত করতে হবে এবং মসজিদ ভাঙচুরের ঘটনায় দোষীদের শাস্তির আওতায় আনতে হবে।

সমাবেশে হেফাজত নেতারা বলেন, বাংলাদেশে ভারতীয় আগ্রাসনকে আশ্রয়-প্রশ্রয় দেওয়ার কোন সুযোগ নেই। সরকার যদি ইসকনকে নিষিদ্ধ করতে গরিমসি করে এবং ষড়যন্ত্রকারীদের ব্যাপারে পদক্ষেপ নিতে ব্যর্থ হয়, তাহলে আগামীতে ধারাবাহিক আন্দোলনেরও হুঁশিয়ারি দেন হেফাজত নেতৃবৃন্দ।




দুর্গাপুরে সিরাত মাহফিল অনুষ্ঠিত

ডিএনবি নিউজ ডেস্ক :

বিশ্বমানবতার মুক্তিরদূত মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) এর জীবনী থেকে শিক্ষা নিয়ে, মানব জীবনে তার বাস্তব প্রতিফলন করার লক্ষ্যে নেত্রকোনার দুর্গাপুরে সিরাত মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (২৩ নভেম্বর) ঐতিহ্যবাহী দুর্গাপুর দ্বীনি আলিম মাদরাসা ময়দানে এ মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়।

দুর্গাপুর সিরাত মাহফিল বাস্তবায়ন কমিটির আয়োজনে ইসলামী আরবী বিশ^বিদ্যালয়ের সাবেক পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক, প্রফেসর সিরাজ উদ্দিন আহমেদ এর সভাপতিত্বে, প্রভাষক সফিকুল ইসলাম এর সঞ্চালনায় প্রধান আলোচক হিসেবে আলোচনা করেন, বিশিষ্ট ইসলামী শিক্ষাবিদ ও গবেষক ড. নুরুল্লাহ (আল মাদানী)। বিশেষ আলোচক হিসেবে আলোচনা করেন, ইসলামী শিক্ষাবিদ মুফতি মো. তাহের কাসেমী, অন্যদের মধ্যে আলোচনা করেন, দুর্গাপুর দ্বীনি আলিম মাদরাসার অধ্যক্ষ মো. আব্দুর রহমান, কৈলাটি ফাজিল মাদরাসার অধ্যক্ষ শিহাব উদ্দীন, তেরী বাজার বড় মসজিদ দারুল উলুম মাদরাসার মুহ্তামিম মুফতি হুমায়ুন কবীর, চন্ডিগড় বাজার মাদরাসার মুহ্তামিম হাফেজ মাওলানা মো. ইব্রাহীম প্রমুখ।

এছাড়া অন্যদের মাঝে উপস্থিত ছিলেন এডভোকেট আব্দুস সালাম, বিএনপি নেতা এডভোকেট এম এ জিন্নাহ, এডভোকেট ড. আব্দুর রাশিদ, এম রফিকুল ইসলাম সহ উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে আগত অধ্যক্ষ, প্রভাষক, শিক্ষক-শিক্ষার্থী সহ স্থানীয় গন্যমান্য ব্যক্তিগণ ।

মাহফিলে বক্তারা বলেন, মহান¬ আল্লাহ রাব্বুল আলামীন বিশ্বনবী মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ (সাঃ) কে এই পৃথিবীতে রহমত স্বরুপ প্রেরণ করেছেন। শান্তি, ভালোবাসা ও সম্মানের ধর্ম ইসলাম নিয়ে তিনি এই পৃথিবীতে আর্বিভূত হয়েছিলেন। তার বরকতে আমরা পৃথিবীতে সুন্দরভাবে বেঁচে আছি। আল কোরআনের শাসন ব্যবস্থা ছাড়া মানুষের মুক্তির কোন বিকল্প পথ নেই। বিশ্ব মানবতার কল্যাণ চাইলে ইসলামী আদর্শ ও শাসন ব্যবস্থা ছাড়া কোন উপায় নেই। সকলকে বিশ^নবীর জীবন আদর্শের আলোকে জীবন গড়তে আহবান জানানো হয়।




প্রায় কোটি টাকার সহায়তা নিয়ে ফিলিস্তিনিদের পাশে (টিম এইচ সি এস বি)।

ডিএনবি নিউজ ডেস্ক :

প্রায় এক কোটি টাকার সহায়তা নিয়ে ফিলিস্তিনিদের পাশে দাঁড়িয়েছে জাতীয় সেবা সংস্থা হাফেজ্জী চ্যারিটেবল সোসাইটি অব বাংলাদেশ (টিম এইচ সি এস বি)। বাংলাদেশ থেকে এবারই প্রথম কোনো জাতীয় সংস্থা আনুষ্ঠানিকভাবে সহায়তা নিয়ে ফিলিস্তিনিদের পাশে দাঁড়ালো।

জানা যায়, গত মঙ্গলবার (১৯ নভেম্বর) মিশর পৌঁছেছে সংস্থাটির ৬ সদস্যের একটি টিম। এই টিমে আছেন সংস্থাটির পরিচালক নওমুসলিম মুহাম্মদ রাজ, নির্বাহী পরিচালক অধ্যাপক আমিরুল ইসলাম, সহ-সভাপতি ডক্টর মশিউর রহমান, সাধারণ সম্পাদক মাওলানা ইবরাহিম খলিল, মুফতি তাওহিদুল ইসলাম, এবং স্বাস্থ্য বিষয়ক সহ-পরিচালক মাওলানা ইমরান নাফিস।

৬ দিনের এই সফরে মিশরের শরণার্থী শিবিরে আশ্রয় নেয়া ফিলিস্তিনিদের সহায়তা দেয়ার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক সেবা সংস্থাগুলোর সাথে সমন্বয় করে গাজা ও খান ইউনিসেও সহায়তা পৌঁছে দিচ্ছেন তারা।

সংস্থাটির পরিচালক নওমুসলিম মুহাম্মদ রাজ বলেন, ফিলিস্তিনে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত বায়ান্ন হাজার মানুষ মিশরে আশ্রয় নিয়েছেন। আমরা এর আগেও সীমিত পরিসরে তাদের জরুরি সহায়তা দিয়েছি।

নির্বাহী পরিচালক অধ্যাপক আমিরুল ইসলাম বলেন, আমাদের এই সহায়তা নতুন নয়। ইতোমধ্যেই আমরা মিশরের ‘রেট ক্রিসেন্ট হাসপাতাল’ এবং ‘মাহাদ নাসির হাসপাতালে’ পঞ্চাশ জন রোগীকে চিকিৎসা সহায়তা দিয়েছি। এবার আরেকটু বিস্তৃত পরিসরে সহায়তা দিতে মিশর সফরে এসেছি। এই সফরে আমরা নগদ অর্থ বিতরণের পাশাপাশি ফিলিস্তিনের দুইশত পরিবারকে সাড়ে ঊনিশ লাখ টাকার সহায়তা প্রদান করছি। পাশাপাশি আহত ও রোগীদের পাঁচ লাখ টাকার চিকিৎসা সহায়তা, আল আজহারের ফিলিস্তিনি শিক্ষার্থীদের তিন লাখ টাকা, দারিদ্র বিমোচনে আড়াই লাখ টাকার সহায়তা দিচ্ছি। এছাড়াও খান ইউনিসে বিশ লাখ টাকার এবং মিশরের শরণার্থী শিবিরে পাঁচ লাখ টাকার খাবার ও পানি বিতরণ করছি এবং পাঁচ লাখ টাকা ব্যয়ে শীতবস্ত্র বিতরণ করছি আলহামদুলিল্লাহ।

উল্লেখ্য,হাফেজ্জী চ্যারিটেবল সোসাইটি অব বাংলাদেশ ( টিম এইচ সি এস বি ) সরকারি নিবন্ধনভূক্ত একটি অলাভজনক এবং অরাজনৈতিক সেবা সংস্থা। দেশের শীর্ষ আলেমগণের তত্ত্বাবধানে এটি পরিচালিত হয়।




তিন দিন ধরে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে চলছে শ্রমিক অবরোধ

ডিএনবি নিউজ ডেস্ক :

তিন ধরে চলছে ঢাকা–ময়মনসিংহ মহাসড়কে পোশাকশ্রমিক বিক্ষোভ ও অবরোধ। বকেয়া বেতনের দাবিতে এ কর্মসূচি পালন করছেন গাজীপুরের টিএনজেড অ্যাপারেলস কারখানার শ্রমিকরা। কর্তৃপক্ষের আশ্বাসের পরও বেতন না পাওয়ায় মহাসড়কটি অবরোধ করে রেখেছেন তারা। সোমবার সকাল আটটার দিকে নগরের মালেকের বাড়ি এলাকায় শ্রমিকদের এ কর্মসূচি পালন করতে দেখা গেছে। গত শনিবার সকাল ৮টা থেকে তারা বিরতিহীনভাবে এ অবরোধ পালন শুরু করেন।

শিল্প পুলিশ ও শ্রমিক সূত্রে জানা গেছে, গাজীপুরের মোগরখাল এলাকায় টিএনজেড অ্যাপারেলসের ছয়টি কারখানার প্রায় তিন হাজার শ্রমিক গত তিন মাস বেতন পাচ্ছেন না। কয়েক দফা আন্দোলনের সময় শিল্প পুলিশসহ বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা তাদের বেতন পরিশোধের আশ্বাস দিয়েছিলেন। শ্রমিকরা তা মেনে নিয়ে আবার কাজে ফিরে যান। কিন্তু কয়েক দফায় বেতন পরিশোধের দিন নির্ধারিত হলেও কারখানা কর্তৃপক্ষ তা করেনি।

এতে শ্রমিকেরা ক্ষিপ্ত হয়ে গত শনিবার সকাল আটটা থেকে কারখানার সামনে জড়ো হতে শুরু করেন। ওই দিন সকাল পৌনে নয়টা থেকে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ শুরু করেন তারা। এরপর থেকেই মহাসড়কটিতে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। যানবাহন চলাচল করতে না পারায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন যাত্রী ও চালকরা। অনেকে ট্রেনে বা বিভিন্ন আঞ্চলিক সড়ক দিয়ে গন্তব্যে যাতায়াতের চেষ্টা করছেন।

সোমবার শ্রমিকদের কেউ রাস্তায় বসে আছেন, কেউ কেউ স্লোগান দিচ্ছেন। তাদের অনেকের হাতেই লাঠিসোঁটা। কোনো যানবাহন যাওয়ার চেষ্টা করলেই সেগুলো আটকানোর চেষ্টা করছেন। রাতে যেসব শ্রমিক সড়কে অবস্থান করেছেন, তাদের অনেকেই ফিরে যাচ্ছেন, আবার নতুন করে মহাসড়কে এসে অবস্থান নিচ্ছেন শ্রমিকদের আরেকটি অংশ। এতে মহাসড়কটির উভয় পাশে সোমবারও দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়েছে।

হাবিবুর রহমান নামে এক শ্রমিক গণমাধ্যমকে বলেন, দুই মাস ধরে তারা ঘরভাড়া দিতে পারছে না। দোকানের বাকিও শোধ করতে পারছে না। অথচ বেতন দেওয়া হচ্ছে না। তাই বাধ্য হয়েই রাস্তায় নামতে হয়েছে।

গাজীপুর শিল্পাঞ্চলের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ সারোয়ার আলম বলেন, মালিকপক্ষকে একাধিকবার সময় দেওয়া হয়েছিল, তারা বারবার বেতন পরিশোধে ব্যর্থ হয়েছেন। এ কারণে শ্রমিকরা এখন আর আমাদের কথা বিশ্বাস করছে না। আমরা তাদের একাধিকবার বোঝানোর চেষ্টা করেছি। কিন্তু ওরা নাছোড়বান্দা, মহাসড়ক ছাড়বে না।




জানুয়ারি থেকে স্মার্ট কার্ডেই মিলবে টিসিবির পণ্য

ডিএনবি নিউজ ডেস্ক :

২০২৫ সালের ১লা জানুয়ারি থেকে স্মার্ট কার্ডের মাধ্যমে পণ্য বিক্রি করবে ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি)।

শনিবার (৯ নভেম্বর) সকালে রাজধানীর তেজগাঁওয়ে আঞ্চলিক কার্যালয়ে রমজান উপলক্ষে আগাম প্রস্তুতিবিষয়ক এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা জানানো হয়।
টিসিবির মুখপাত্র হুমায়ুন কবীর বলেন, রমজান উপলক্ষে সব প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। যেসব পণ্য আমদানি করা হয়, সেসবেরও প্রস্তুতি নেওয়া শেষ। রমজানে পণ্যের কোনো সংকট হবে না।

তিনি বলেন, তেল, ডাল, চিনির পাশাপাশি খেজুর ও ছোলা ঢাকা ও অন্য সিটি করপোরেশন এলাকায় দেওয়া হবে। ছোলা ও খেজুরের জন্য এরইমধ্যে চুক্তি হয়ে গেছে। জানুয়ারির ভেতর পণ্য টিসিবির গুদামে চলে আসবে।

হুমায়ুন কবীর বলেন, পণ্য স্থানীয় পর্যায়ে পৌঁছাতে বিঘ্ন হচ্ছে না। তবে মনিটরিংটা ঠিকমতো হচ্ছে না। ভোক্তার কাছে সঠিকভাবে যেতে যে সহযোগিতা দরকার, সেটাতে কমতি রয়েছে। এ অবস্থা থেকে উত্তরণে সভার ব্যবস্থা করা হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, একটি পরিবার থেকে যেন এক ব্যক্তির বেশি না পায়। এজন্য স্মার্ট ফ্যামিলি কার্ড করা হচ্ছে। ডিলারদের বিরুদ্ধে অভিযোগের ভিত্তিতে জেলা প্রশাসনকে চিঠি দেওয়া হয়েছে। এখন ডিলার নিয়োগ বন্ধ রয়েছে। ভবিষ্যতে ডিলারের প্রয়োজন হলে বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হবে।




সংবিধান সংস্কার মতামতে ডাক পেলেন আলেমও

ডিএনবি নিউজ ডেস্ক :

সংবিধান সংস্কার বিষয়ে সব শ্রেণিপেশার মতামত নিতে বৈঠকের আয়োজন করেছে কমিশন। এরকম গুরুত্বপূর্ণ কোনো বৈঠকে এই প্রথম ডাক পড়েছে আলেমদের। এ বৈঠকে অংশ নিতে ডাক পেয়েছেন কবি, দার্শনিক ও আলেম মুসা আল হাফিজ। ১২ নভেম্বর (মঙ্গলবার) দুপুর ১২টায় জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ-পশ্চিম ব্লকের দ্বিতীয় লেভেলের কেবিনেট কক্ষে এ বৈঠক হবে।

সংবিধান সংস্কার কমিশনের প্রধান অধ্যাপক আলী রীয়াজ স্বাক্ষরিত ৬ নভেম্বরের ওই আমন্ত্রণপত্রটি মুসা আল হাফিজ তার ফেসবুকে শেয়ার করেছেন।

মুসা আল হাফিজকে পাঠানো ওই আমন্ত্রণপত্রে বলা হয়, কমিশন সুপারিশ তৈরির লক্ষ্যে অংশীজনদের মতামত গ্রহণের প্রক্রিয়া হিসেবে সংবিধান সংস্কার বিষয়ে সমাজের সব স্তরের মানুষের মতামত সংগ্রহ করবে। এই উদ্দেশ্যে কমিশন সংবিধান সংস্কার বিষয়ে অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

একটি সূত্রে জানা গেছে, মুসা আল হাফিজসহ ওই বৈঠকে তিনজন আলেম অংশগ্রহণে আমন্ত্রণ পেয়েছেন। তাৎক্ষণিক অপর দুই আলেমের পরিচয় জানা যায়নি।

এর আগে ৩ নভেম্বর জাতীয় সংসদের একটি মিলনায়তনে এক সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে সংবিধান সংস্কার কমিশন। ওই সম্মেলনে জানানো হয়- সংবিধান সংস্কারের সুপারিশ তৈরির জন্য অংশীজনদের মতামত ও প্রস্তাব নেবে সংবিধান সংস্কার কমিশন। আগামী সপ্তাহ থেকে রাজনৈতিক দল বাদে অন্য অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনা শুরু করবে তারা। তবে যেসব ব্যক্তি, সংগঠন, সংস্থা, প্রতিষ্ঠান বা রাজনৈতিক দল জুলাই-আগস্টের অভ্যুত্থানের সময় সক্রিয়ভাবে হত্যাকাণ্ডে যুক্ত থেকেছে, প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে হত্যাকাণ্ড ও নিপীড়নকে সমর্থন করেছে, ফ্যাসিবাদী কার্যক্রমকে বৈধতা দিতে সাহায্য করেছে, তাদের সংস্কার প্রস্তাবের সুপারিশ তৈরিতে যুক্ত না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে এ কমিশন।

এ সময় সংবিধান সংস্কার কমিশনের প্রধান অধ্যাপক আলী রীয়াজ সাংবিধানিক সংস্কারের সাতটি উদ্দেশ্যের কথা তুলে ধরেন। এতে সংবিধান সংস্কার কমিশনের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।




রমজানের নিত্যপণ্য আমদানিতে পর্যাপ্ত অর্থ বরাদ্দ দেয়া হয়েছে : উপদেষ্টা

ডিএনবি নিউজ ডেস্ক :

অর্থ ও বাণিজ্য উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেছেন, চাল-চিনি-গমসহ রমজান মাসে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য ও সার আমদানির অনুমোদন দেয়া হয়েছে, যেন শিগগির এগুলো আনা হয়। এসব পণ্য আমদানিতে পর্যাপ্ত অর্থের বরাদ্দ দেয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘আমারা নিশ্চিত করেছি চাল গমসহ অন্যান্য নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য, যেমন রোজার জন্য ডাল ও খেজুরের জন্য বরাদ্দের সমস্যা হবে না। কোনো ব্যাপারেই যেন ভোগ্যপণ্য বা ভোক্তাদের কোনো সমস্যা না হয়।’

আজ বুধবার সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ সম্মেলন কক্ষে খাদ্য পরিকল্পনা ও পরিধারণ কমিটির (এফপিএমসি) সভা শেষে সাংবাদিকদের তিনি এসব বলেন।

অর্থ উপদেষ্টা বলেন, ‘এখন খাদ্যদ্রব্য মনিটরিং একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। আমরা বলেছি, কোন কোন পণ্যের মজুত কী অবস্থায় আছে, কী কী আমদানি করতে হবে, সেগুলো নিয়ে কাজ করতে। সরকারের পাশাপাশি বেসরকারি পর্যায়ে আমদানি বাড়াতে বলে দিয়েছি। তারা দ্রুত পণ্য আনতে পারে।’

তিনি বলেন, ‘চাল-গমের বিষয়ে যতটুকু মজুত আছে, যতটুকু আমদানি দরকার, তার চেয়ে কিছুটা বেশি আমদানি ও সংগ্রহ করতে নির্দেশনা দিয়েছি। প্রয়োজন যদি এক্স হয়, তবে টার্গেট এক্স প্লাস ওয়ান করতে বলেছি।’

ড. সালেহউদ্দিন বলেন, ‘আমরা ধান ও চাল সংগ্রহের দাম ঠিক করে দিয়েছি। সেটা যেন ভোক্তা ও কৃষকদের জন্য যুক্তিপূর্ণ হয়। আমরা একটা দাম ঠিক করব আর বাজারে এর থেকে বেশি ব্যবধানে বিক্রি হবে, এমন যেন না হয়। তাহলে বাজারে মধ্যস্বত্বভোগীরা সুবিধা নেবে।’

তিনি আরো বলেন, ‘আসন্ন রমজানে যেন পণ্যের দাম না বাড়ে- সে লক্ষ্যে দ্রুতই আমরা সিদ্ধান্ত নিলাম। ছোলা, ডাল, চিনি, তেল এবং খেজুর যেন দেশে ঠিক সময় আমদানি হয়।’