আমার প্রতি আস্থা রেখে ভোট দিন, প্রতিটি ওয়াদাই পালন করবো দুর্গাপুরে ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।

ডিএনবি নিউজ ডেস্ক:

বিএনপি রাস্ট্র ক্ষমতায় গেলে, আলেম উলামাদের জীবন মান উন্নয়নে কাজ করবে। স্থানীয়ভাবে মাদরাসার শিক্ষকদের কাজে লাগানো হবে। সেইসাথে মাদক, কিশোরগ্যাং ও ইভটিজিংএর মুলোৎপাটন করা হবে, আমি দুর্নীতি করবো না, কাউকে দুর্নীতি করতেও দেবো না। একমাত্র বিএনপি‘র কাছেই আলেম উলামাগণ সম্পুর্ন নিরাপদ। আগামী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে, উলামা মাশায়েখ সম্মেলনে এই কথা বলেছেন, নেত্রকোনা-১ আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী, কেন্দ্রীয় বিএনপি‘র আইন বিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।

রবিবার (০১ ফেব্রুয়ারী) বিকেলে স্থানীয় শহীদ মিনার চত্বরে, উপজেলা বিএনপি ও উপজেলা জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম এর আয়োজনে এ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। এতে বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা শত শত আলেম উলামা ও সাধারণ ভোটারগণ তাঁদের দৈনন্দিন জীবনের নানা সমস্যা, প্রত্যাশা, ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সহ ব্যারিস্টার কায়সার কামাল এমপি নির্বাচিত হলে কি কি কাজ করবেন সেই প্রশ্ন তুলে ধরেন।

উলামা-মাশায়েখ সম্মেলনে জমিয়তের জেলা শাখার সভাপতি  মাওলানা মুফতি তাহের কাসেমী সাহেব এর সভাপতিত্বে এনায়েত উল্লাহ্ খানের সঞ্চালনায় অন্যদের মাঝে বক্তব্য রাখেন, উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি আলহাজ ইমাম হাসান আবুচান, পৌর বিএনপি সভাপতি আতাউর রহমান ফরিদ, সাধারণ সম্পাদক হারেজ গণি, মুফতি আবুল কাশেম সাদী, হযরত মাওলানা মফিজুর রহমান, হাফেজ আবুল কাশেম,  মাওলানা রুহুল আমীন নগরী, মাওলানা এ কে এম জহিরুল হক, মাওলানা আব্দুস সালাম প্রমুখ। এছাড়া উপজেলা ও পৌর বিএনপির নেতাকর্মী ও জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম উপজেলা ও পৌর শাখার নেতাকর্মীগণ উপস্থিত ছিলেন।

আলোচনা সভায় ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বলেন, সবার আগে বাংলাদেশ। আমরা সবাই বাংলাদেশী। আলেম উলামাগন আমাদের জনগোষ্ঠীর একটা পার্ট। বিএনপি রাস্ট্র ক্ষমতায় গেলে, দেশের প্রতিটি অঞ্চলে আলেম উলামাদের নিয়ে জনকল্যানমুলক কাজ করবে। এলাকা থেকে মাদক, কিশোরগ্যাং ও ইভটিজিং চিরতরে নির্মুল করার পদক্ষেপ নিবে। ইউনিয়ন ভিত্তিক মসজিদ-মাদরাসা গুলোতে দ্বীনি শিক্ষায় নিয়োজিত করে আলেম উলামাদের জন্য কাজ করা হবে। বিজ্ঞান ভিত্তিক কৃষিকাজের প্রকল্প হাতে নিয়ে মাদরাসার শিক্ষার্থীদের কাজে লাগানো হবে।

তিনি আরো বলেন, মাদকের কারণে শুধু দুর্গাপুর নয়, কলমাকান্দা উপজেলারও অনেক পরিবার আজ ক্ষতিগ্রস্ত। আমি যেদিন মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছি, সেদিন আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা দিয়েছি, আপনারা যদি আমাকে এলাকায় কাজ করার সুযোগ দেন আর আমি যদি এমপি নির্বাচিত হই, তাহলে মাদক, ইভটিজিং ও কিশোর গ্যাংয়ের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স থাকবে। এছাড়া দুর্গাপুরে অনার্স কোর্স চালু, ও খেলাধুলার পরিবেশ তৈরী করার বিষয়ে সহায়তা করবেন বলে তিনি ওয়াদা করেন। আমার প্রতি আস্থা রেখে ভোট দিন, আমার দেয়া প্রতিটি ওয়াদাই পালন করবো ইনশাআল্লাহ্। আর যদি ওয়াদা গুলো পুরণ করতে না পারি তাহলে আর কোনদিন আসবো না ভোট চাইতে।




দুটি প্রথাগত রাজপরিবারের হাতে দেশের মানুষ তাদের ভাগ্য বন্ধক দিতে রাজি নয়: মামুনুল হক

কোনো মুনাফিক গোষ্ঠী বাংলাদেশ শাসন করতে পারবে না বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মামুনুল হক।

শনিবার (৩১ জানুয়ারি) কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে নির্বাচনি সমাবেশে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন। ১১ দলীয় নির্বাচনি ঐক্য স্থানীয় এইচজে সরকারি পাইলট উচ্চবিদ্যালয় মাঠে এ সমাবেশের আয়োজন করে।

মামুনুল হক বলেন, বাংলাদেশের দুটি প্রথাগত রাজপরিবারের হাতে দেশের মানুষ আর তাদের ভাগ্য বন্ধক দিতে রাজি নয়।

একটি দল গণভোটে প্রকাশ্যে ‘হ্যাঁ’ ভোটের কথা বললেও গোপনে ‘না’-এর জন্য প্রচারণা চালায় দাবি করে মামুনুল হক বলেন, ‘কেউ প্রকাশ্যে এক কথা আর গোপনে আরেক কথা বললে তাকে কী বলা যায়? আর কোনো মুনাফিক গোষ্ঠী বাংলাদেশ শাসন করতে পারবে না। বাংলার মানুষ আর তাদের মেনে নেবে না।’

‘তারা নিজেদের ঘৃণ্য পরাজয় দেখতে পেয়ে, ভীরু-কাপুরুষের মতো নারীদের গায়ে হাত তোলার মতো ঘৃণ্য কাজ করে যাচ্ছে। কেউ যদি আমার মায়ের দিকে, বোনের দিকে ভিন্ন দৃষ্টিতে তাকায়, কেউ যদি মেয়েদের হিজাব নিয়ে টানাটানি করে, আপনারা তার হাত ভেঙে দেবেন, চোখ উপড়ে দেবেন,’ যোগ করেন তিনি।

খেলাফত মজলিসের আমির সতর্ক করে দেন- যদি আর নারী সমাজের গায়ে হাত তোলা হয়, তাহলে যে আগুন জ্বলবে, সে আগুন নেভানোর কেউ থাকবে না।

ভোটারদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘আপনারা ভোট দেবেন, পাহারাদারি করবেন। কোনো ভোটচোর চুরি করতে আসলে তাদের প্রতিহত করতে হবে।’




দুর্গাপুরে ধানের শীষের পক্ষে, আইনজীবীদের ব্যাপক প্রচারণা

ডিএনবি ‍নিউজ ডেস্ক:

নেত্রকোনা ১ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী, কেন্দ্রীয় বিএনপির আইন বিষয়ক সম্পাদক ও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের মহাসচিব ব্যারিস্টার কায়সার কামালের পক্ষে প্রচারণায় নেমেছেন দুর্গাপুর আইনজীবী সমিতির আইনজীবীগণ। সোমবার (২৬ জানুয়ারী) বিকেলে পৌরশহরের বিভিন্ন এলাকায় ধানের শীষ প্রতিকে ভোট দেয়ার জন্য এ প্রচারণা চালান তারা।

এডভোকেট এম এ জিন্নাহ বলেন, এমপি নির্বাচিত না হয়েও অত্র এলাকার জন্য ব্যাক্তিগত উদ্দ্যেগে যে সকল কাজ করে যাচ্ছেন তার তুলনা নাই। এই আসনে যিনি মনোনয়ন পেয়েছেন, তিনি নির্বাচিত হলে আমাদের এলাকার উন্নয়ন হবে। আগামী জাতীয় নির্বাচনে, এলাকার উন্নয়নের স্বার্থেই ধানের শীষ প্রতিকে ভোট দেয়ার জন্য, শিবগঞ্জ বাজার এলাকার সকল ব্যাবসায়িদের আহবান জানান।

এ সময়, দুর্গাপুর আইনজীবী সমিতির এডভোকেট শাহনেওয়াজ আকঞ্জি, শহীদুল ইসলাম রেনু, অরবিন্দ শেখর রায়, সুরঞ্জন দাস, হায়াতুল ইসলাম জুয়েল, হোসনেআরা শিউলি, রোজিনা আক্তার মিম, শিক্ষা নবিশ আইনজীবী মোঃ আব্দুল আহাদ উপস্থিত ছিলেন।




কুষ্টিয়া-৩ আসনের জামায়াতের প্রার্থী আমির হামজার বিরুদ্ধে মানহানির মামলা

কুষ্টিয়া-৩ আসনে জামায়াতের প্রার্থী আমির হামজার বিরুদ্ধে সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ঝিনাইদহ সদর আমলী আদালতে মানহানির মামলা দায়ের করা হয়েছে। জানা গেছে, সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া ও আরাফাত রহমান কোকোকে নিয়ে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করায় এ মামলা করা হয়েছে।

রোববার (২৫ জানুয়ারি) দুপুর দেড়টার দিকে আব্দুল আলীম নামের এক আইনজীবী মামলাটি দায়ের করেন। এ সময় আদালতের বিচারক মখলেসুর রহমান পিবিআইকে তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেন।

মামলার বাদী ও আইনজীবী আব্দুল আলিম বলেন, সম্প্রতি আমির হামজা বাংলাদেশের সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া ও তার সন্তান আরাফাত রহমান কোকোকে নিয়ে অশালীন ও কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করেছে। যা জিয়া পরিবারের সম্মান ক্ষুন্ন করেছে। বিএনপি সহ আমাদের সবার মানহানি হয়েছে। এ ঘটনার প্রতিবাদ ও সঠিক বিচার দাবিতে তার বিরুদ্ধে মামলাটি দায়ের করা হয়েছে। আমরা চাই আইনগতভাবেই আমির হামজার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করা হোক।




মাজার জিয়ারতের মধ্য দিয়েই নির্বাচনি কার্যক্রম শুরু করেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান

ডিএনবি নিউজ ডেস্ক :

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রচার শুরু করতে সিলেটে হজরত শাহজালাল (রহ.)-এর মাজার জিয়ারত করেছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। দলীয় রেওয়াজ অনুযায়ী তিনি মাজার জিয়ারতের মধ্য দিয়েই নির্বাচনি কার্যক্রম শুরু করেন।

বুধবার (২১ জানুয়ারি) রাত ৮টার পর ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে সড়কপথে মাজারের উদ্দেশে রওনা হয়ে রাত সোয়া ৯টার দিকে সেখানে পৌঁছান তারেক রহমান। শাহজালালের মাজার জিয়ারতের পর তিনি খাদিমনগরে হযরত শাহপরাণ (রহ.)-এর মাজার জিয়ারত করবেন।

দুই মাজার জিয়ারত শেষে তিনি দক্ষিণ সুরমা উপজেলার সিলাম ইউনিয়নের বিরাইমপুর গ্রামে তার শ্বশুর প্রয়াত মাহবুব আলী খানের বাড়িতে যান। সেখানে কিছু সময় অবস্থানের পর শহরের গ্র্যান্ড সিলেট হোটেল অ্যান্ড রিসোর্টে রাত্রিযাপন করেন।

২২ বছর আগে সিলেট জেলা বিএনপির কর্মী সম্মেলনে অংশ নিতে এসে তারেক রহমান তখন দলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব ছিলেন। সে সময় জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া শাহজালাল ও শাহপরাণের মাজার জিয়ারতের মাধ্যমে নির্বাচনী প্রচার শুরু করতেন। মায়ের অনুসৃত সেই পথ ধরেই দীর্ঘ ১৭ বছর যুক্তরাজ্যে নির্বাসিত জীবন কাটানোর পর এবার তারেক রহমান দেশে ফিরে একইভাবে নির্বাচনী প্রচার শুরু করলেন। গত বছরের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর তিনি ২৫ ডিসেম্বর দেশে ফেরেন।




মঞ্চের আসন ছেড়ে জুলাইযোদ্ধাকে কাছে ডেকে নিলেন তারেক রহমান

ডিএনবি নিউজ ডেস্ক :

রাজধানীর ফার্মগেটস্থ কৃষিবিদ ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে রোববার (১৮ জানুয়ারি) এক আবেগঘন পরিবেশের অবতারণা হয়। জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ পরিবার ও আহতদের সঙ্গে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্ধারিত মতবিনিময় সভায় মঞ্চের প্রটোকল ভেঙে জুলাইযোদ্ধাদের কাছে ডেকে নেন।

বেলা সকাল ১১টায় শুরু হওয়া এই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে যোগ দেন তারেক রহমান। অনুষ্ঠানের এক পর্যায়ে দেখা যায় এক অনন্য মানবিক দৃশ্য।

মঞ্চে নিজের নির্ধারিত আসন ছেড়ে মঞ্চের কোনায় আসেন বিএনপির এই শীর্ষ নেতা। সে সময় তিনি জুলাই বিপ্লবে এক আহতকে কাছে ডেকে নেন। 

মতবিনিময় সভায় সভাপতিত্ব করছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান। উপস্থিত আছেন বিএনপির চেয়ারম্যানের স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমান এবং দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবীর রিজভী।

এর আগে শনিবার (১৭ জানুয়ারি) বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে গুম, খুন ও নির্যাতনের শিকার ব্যক্তিদের পরিবারের সঙ্গে মতবিনিময় করেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। রাজধানীর একটি সম্মেলন কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত ওই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে ‘মায়ের ডাক’ ও ‘আমরা বিএনপি পরিবার’।

পরপর এই দুটি মতবিনিময় সভার মাধ্যমে রাজনৈতিক সহিংসতায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর অভিজ্ঞতা শোনা এবং তাদের দাবি-দাওয়া তুলে ধরার উদ্যোগ নিয়েছে বিএনপি।




প্রকাশ্যে যুবককে পিটিয়ে হত্যার পর মিষ্টি বিতরণ নোয়াখালীর কবিরহাট উপজেলায়

ডিএনবি নিউজ ডেস্ক :

নোয়াখালীর কবিরহাট উপজেলায় ছয় মামলার আসামি মিজানুর রহমান ওরফে রনি (৩৫) কে প্রকাশ্যে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। ঘটনার পর নিহতকে ডাকাত আখ্যা দিয়ে একদল যুবক বাজারে মিষ্টি বিতরণ করেছে, যা এলাকায় ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করেছে।

শনিবার (১৭ জানুয়ারি) রাত ১০টার দিকে উপজেলার নরোত্তমপুর ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের কালিরহাট বাজারসংলগ্ন কাজী বাড়ির সামনের সড়কে এ ঘটনা ঘটে।

নিহত মিজানুর রহমান কবিরহাট পৌরসভার জৈনদপুর এলাকার মো. শহীদের ছেলে। তিনি দুই সন্তানের জনক ছিলেন।  পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মিজানুর রহমানের বিরুদ্ধে একটি ডাকাতি, দুটি চুরি, একটি অস্ত্র মামলা ও সরকারি কর্মচারীর ওপর হামলাসহ অন্তত ছয়টি মামলা রয়েছে। শনিবার রাত ৮টার দিকে কালিরহাট বাজারে ২ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির একটি নির্বাচনী বৈঠক চলছিল। এ সময় মিজান সেখানে উপস্থিত হয়ে নিজেকে দলের ত্যাগী কর্মি দাবি করেন এবং বৈঠকে উপস্থিত নেতাকর্মিদের সঙ্গে গালাগাল ও বাকবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হলে তাকে ধাওয়া দিলে তিনি সেখান থেকে চলে যান।
পরে কালিবাজারের উত্তরে কাজী বাড়ির সামনে তাকে আটক করে কয়েকজন ব্যক্তি লাঠি ও লোহার পাইপ দিয়ে মুখ ও মাথায় এলোপাতাড়ি পিটিয়ে গুরুত্বর জখম করে। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। পরে মরদেহ সড়কে ফেলে রাখা হয়।

স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দার দাবি, নিহত মিজানের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে চাঁদাবাজি ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির অভিযোগ ছিল। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে সুরতহাল প্রস্তুত করে। এ সময় ঘটনাস্থল থেকে রক্তমাখা একটি লাঠি ও একটি লোহার পাইপ উদ্ধার করা হয়। নিহতের পকেট থেকে একটি খেলনা পিস্তল ও টিপ চুরি উদ্ধার করা হয়েছে।
নরোত্তমপুর ইউনিয়নের ২নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাবেক সভাপতি হারুনুর রশীদ হারুন বলেন, আমরা আমাদের অফিসে বসে নির্বাচনী কথাবার্তা বলছিলাম। সেখানে মিজান এলে কথাকাটাকাটি হয়। পরে সেখান থেকে সে চলে যায়। পরে শুনি কে বা কাহারা তাকে হত্যা করে মরদেহ রাস্তার ফেলে যায়। মিষ্টি বিতরণের বিষয়টি আমার জানা নেই।

কবিরহাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো.নিজাম উদ্দিন ভূঁঞা বলেন, গণপিটুনিতে ডাকাত নিহত হওয়ার খবর পেয়ে আমি ঘটনাস্থলে যাই। ঘটনাস্থলে সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করা হয়েছে। নিহতের পকেট থেকে একটি খেলনা পিস্তল ও টিপ ছুরি উদ্ধার করা হয়েছে। নিহতের পরিবার এখনো কোনো সুনির্দিষ্ট অভিযোগ করেনি। তবে অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। রোববার সকালে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হবে।




বেগম খালেদা জিয়ার আত্মার শান্তি কামনায় দুর্গাপুরে দোয়া মাহফিল

ডিএনবি নিউজ ডেস্ক :

বাংলাদেশের সাবেক তিনবারের সফল প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে নেত্রকোনার দুর্গাপুরে উপজেলা ও পৌর বিএনপি‘র আয়োজনে আয়োজনে বেগম খালেদা জিয়ার রুহের মাগফিরাত কামনা করে দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) বাদযোহর স্থানীয় ঈদগাহ মাঠে এ মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়।

দোয়া মাহফিলে অন্যান্যদের মাঝে বক্তব্য রাখেন, উপজেলা বিএনপির সভাপতি জহিরুল আলম ভুইয়া, সাবেক সভাপতি ইমাম হাসান আবুচান, উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল আওয়াল, সাংগঠনিক সম্পাদক আলহাজ্ব জামাল উদ্দীন মাস্টার, পৌর বিএনপির সভাপতি আতাউর রহমান ফরিদ, সাধারণ সম্পাদক হারেজ গণি সহ বিএনপি ও তার সকল অংগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতা কর্মীগণ।

দোয়া মাহফিল পুর্ব আলোচনায় বক্তারা বলেন, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া ছিলেন বাংলাদেশের গণতন্ত্র ও স্বাধীনতার প্রতীক। দেশের মানুষ তাঁর রাজনৈতিক জীবন, ত্যাগ ও অবদান জাতি চিরদিন শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করবে। তিনি ছিলেন আপোষহীন ও দৃঢ়চেতা একজন রাষ্ট্রনায়ক, যিনি দেশের সংকটময় সময়ে গণতন্ত্র রক্ষায় নিঃস্বার্থভাবে ভূমিকা রেখেছেন, কখনোই দেশ ছেড়ে যাননি। আজকের এই দোয়া মাহফিলে আমরা তাঁর আত্মার মাগফিরাত কামনা করছি।




এবার সব রেকর্ড ভাঙল তিনবারের প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার জানাজা

ডিএনবি নিউজ ডেস্ক :

বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় জানাজা অনুষ্ঠিত হলো তিনবারের প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার। এতে কয়েক মিলিয়ন (দশ লাখে এক মিলিয়ন) মুসল্লি অংশ নেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। এত বড় জানাজার উদাহরণ দেশের ইতিহাসে আর দ্বিতীয়টি নেই বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) বেলা ৩টা ৫ মিনিটে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজায় ইমামতি করেন জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের খতিব মাওলানা আব্দুল মালেক।

জানাজার আগে খালেদা জিয়ার একমাত্র ছেলে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান পরিবারের পক্ষ থেকে বক্তব্য দেন এবং মায়ের জন্য দোয়া প্রার্থনা করেন। তার কাছে কেউ কোনো ঋণ পেলে যোগাযোগ করতে বলেন। এছাড়া খালেদা জিয়ার আচরণে কেউ কোনো কষ্ট পেয়ে থাকলে ক্ষমা করে দেওয়ার আবেদন জানান তারেক রহমান।

অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস, উপদেষ্টাবৃন্দ, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ, বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিসহ সর্বস্তরের লাখ লাখ মানুষ জানাজায় অংশ নেন।

রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ ও সংসদ ভবন এলাকা জানাজার জন্য নির্ধারিত হলেও লোক সমাগম ছড়িয়ে পড়ে আশপাশের এলাকায়। ফার্মগেট, বিজয় সরনি, আগারগাঁও, কারওয়ানবাজার, বাংলামোটর, তেজগাঁও পর্যন্ত লোকে লোকারণ্য ছিল। বানের স্রোতের মতো চার দিক থেকে সাধারণ মানুষ আসতে থাকে জানাজার দিকে। প্রচণ্ড শীত উপেক্ষা করে গতকাল থেকেই ঢাকামুখী মানুষের ঢল নামে।

জনশ্রুতি আছে দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় জানাজা হয়েছিল বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের। সম্প্রতি ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শহীদ ওসমান হাদির জানাজাও ছিল স্মরণকালের বৃহৎ। তবে সব রেকর্ড ছাপিয়ে খালেদা জিয়া স্থান করে নিয়েছেন ইতিহাসের পাতায়। এতো বিপুলসংখ্যক মানুষের উপস্থিতি ও ভালোবাসায় এর আগে কোনো নেতা বিদায় নিতে পারেননি।




‘স্বৈরশাসনের বিরুদ্ধে আপসহীন সংগ্রামের এক অবিচল অধ্যায় শেষ’

ডিএনবি নিউজ ডেস্ক :

সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার ইন্তেকালে গভীর শোক জানিয়েছে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস।

মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক ও মহাসচিব মাওলানা জালালুদ্দীন আহমদ এক যৌথ শোক বিবৃতিতে বলেন, তাঁর ইন্তেকালে আমরা গভীর শ্রদ্ধা ও শোক প্রকাশ করছি এবং জাতির ইতিহাসে এক মহীরুহ নেত্রীর সকল অবদান গভীরভাবে স্মরণ করছি।

বিবৃতিতে তাঁরা বলেন, বেগম খালেদা জিয়ার জীবন ছিল সংগ্রামের এক মহাকাব্য। তিনি গৃহবধূ থেকে রাজনীতির মঞ্চে এসে বাংলাদেশের আধুনিক রাজনৈতিক ইতিহাসের এক অবিচ্ছেদ্য অধ্যায়ের নাম হয়ে ওঠেন। তিনবার বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করে তিনি দেশ ও জাতির উন্নতি ও সমৃদ্ধিতে অনন্য ভূমিকা পালন করেন। তিনি কখনোই নিজের জীবনের স্বার্থকে দেশের স্বার্থের ঊর্ধ্বে স্থান দেননি; বরং ভোটাধিকার, গণতন্ত্র ও মানুষের মৌলিক অধিকার প্রতিষ্ঠায় অপরিমেয় ত্যাগ স্বীকার করেছেন।

নেতৃদ্বয় আরও বলেন, আমরা জানি—তিনি দীর্ঘদিন ধরে গুরুতর অসুস্থতায় ভুগছিলেন। রাজনৈতিক নিপীড়ন, অন্যায় কারাবাস ও দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসা-বঞ্চনার ফলে তাঁর শারীরিক অবস্থার ক্রমাবনতি ঘটে। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে তিনি কঠোর নিপীড়ন, অন্যায় কারাবাস ও অব্যাহত নির্যাতনের শিকার হলেও কখনোই দেশ ও উম্মাহর কল্যাণের আকাঙ্ক্ষা কিংবা গণতান্ত্রিক সংগ্রাম থেকে পিছপা হননি। শেষ পর্যন্ত তিনি ছিলেন সেই নেত্রী, যিনি ধর্ম, দেশ ও মানুষের অধিকারকে সমান গুরুত্ব দিয়ে সম্মান করেছেন।

বিবৃতিতে বিশেষভাবে বলা হয়, এই শোকঘন মুহূর্তে আমরা বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের সাবেক আমীর শায়খুল হাদীস আল্লামা আজিজুল হক (রহ.)-এর সঙ্গে বেগম খালেদা জিয়ার গভীর সম্পর্ক এবং পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সৌহার্দ্যের কথা স্মরণ করছি। আলেমসমাজের প্রতি তাঁর সম্মান, ভালোবাসা এবং ইসলামী প্রতিষ্ঠান গঠনে রাষ্ট্রীয় সহায়তার মনোভাব ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে থাকবে।

নেতৃদ্বয় বলেন, আমরা এই মহীয়সী নারীর আত্মার মাগফিরাত ও জান্নাতের জন্য দোয়া করি। তাঁর জীবনসংগ্রাম, সহিষ্ণুতা ও বিচক্ষণ নেতৃত্বের শিক্ষা জাতি কখনো বিস্মৃত হবে না।

মহান আল্লাহ তায়ালা শোকসন্তপ্ত পরিবার-পরিজন, দলীয় নেতাকর্মী ও দেশবাসীকে এই শোক বহনের তাওফিক দান করুন।