মঞ্চের আসন ছেড়ে জুলাইযোদ্ধাকে কাছে ডেকে নিলেন তারেক রহমান

ডিএনবি নিউজ ডেস্ক :

রাজধানীর ফার্মগেটস্থ কৃষিবিদ ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে রোববার (১৮ জানুয়ারি) এক আবেগঘন পরিবেশের অবতারণা হয়। জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ পরিবার ও আহতদের সঙ্গে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্ধারিত মতবিনিময় সভায় মঞ্চের প্রটোকল ভেঙে জুলাইযোদ্ধাদের কাছে ডেকে নেন।

বেলা সকাল ১১টায় শুরু হওয়া এই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে যোগ দেন তারেক রহমান। অনুষ্ঠানের এক পর্যায়ে দেখা যায় এক অনন্য মানবিক দৃশ্য।

মঞ্চে নিজের নির্ধারিত আসন ছেড়ে মঞ্চের কোনায় আসেন বিএনপির এই শীর্ষ নেতা। সে সময় তিনি জুলাই বিপ্লবে এক আহতকে কাছে ডেকে নেন। 

মতবিনিময় সভায় সভাপতিত্ব করছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান। উপস্থিত আছেন বিএনপির চেয়ারম্যানের স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমান এবং দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবীর রিজভী।

এর আগে শনিবার (১৭ জানুয়ারি) বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে গুম, খুন ও নির্যাতনের শিকার ব্যক্তিদের পরিবারের সঙ্গে মতবিনিময় করেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। রাজধানীর একটি সম্মেলন কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত ওই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে ‘মায়ের ডাক’ ও ‘আমরা বিএনপি পরিবার’।

পরপর এই দুটি মতবিনিময় সভার মাধ্যমে রাজনৈতিক সহিংসতায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর অভিজ্ঞতা শোনা এবং তাদের দাবি-দাওয়া তুলে ধরার উদ্যোগ নিয়েছে বিএনপি।




প্রকাশ্যে যুবককে পিটিয়ে হত্যার পর মিষ্টি বিতরণ নোয়াখালীর কবিরহাট উপজেলায়

ডিএনবি নিউজ ডেস্ক :

নোয়াখালীর কবিরহাট উপজেলায় ছয় মামলার আসামি মিজানুর রহমান ওরফে রনি (৩৫) কে প্রকাশ্যে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। ঘটনার পর নিহতকে ডাকাত আখ্যা দিয়ে একদল যুবক বাজারে মিষ্টি বিতরণ করেছে, যা এলাকায় ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করেছে।

শনিবার (১৭ জানুয়ারি) রাত ১০টার দিকে উপজেলার নরোত্তমপুর ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের কালিরহাট বাজারসংলগ্ন কাজী বাড়ির সামনের সড়কে এ ঘটনা ঘটে।

নিহত মিজানুর রহমান কবিরহাট পৌরসভার জৈনদপুর এলাকার মো. শহীদের ছেলে। তিনি দুই সন্তানের জনক ছিলেন।  পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মিজানুর রহমানের বিরুদ্ধে একটি ডাকাতি, দুটি চুরি, একটি অস্ত্র মামলা ও সরকারি কর্মচারীর ওপর হামলাসহ অন্তত ছয়টি মামলা রয়েছে। শনিবার রাত ৮টার দিকে কালিরহাট বাজারে ২ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির একটি নির্বাচনী বৈঠক চলছিল। এ সময় মিজান সেখানে উপস্থিত হয়ে নিজেকে দলের ত্যাগী কর্মি দাবি করেন এবং বৈঠকে উপস্থিত নেতাকর্মিদের সঙ্গে গালাগাল ও বাকবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হলে তাকে ধাওয়া দিলে তিনি সেখান থেকে চলে যান।
পরে কালিবাজারের উত্তরে কাজী বাড়ির সামনে তাকে আটক করে কয়েকজন ব্যক্তি লাঠি ও লোহার পাইপ দিয়ে মুখ ও মাথায় এলোপাতাড়ি পিটিয়ে গুরুত্বর জখম করে। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। পরে মরদেহ সড়কে ফেলে রাখা হয়।

স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দার দাবি, নিহত মিজানের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে চাঁদাবাজি ও সাধারণ মানুষকে হয়রানির অভিযোগ ছিল। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে সুরতহাল প্রস্তুত করে। এ সময় ঘটনাস্থল থেকে রক্তমাখা একটি লাঠি ও একটি লোহার পাইপ উদ্ধার করা হয়। নিহতের পকেট থেকে একটি খেলনা পিস্তল ও টিপ চুরি উদ্ধার করা হয়েছে।
নরোত্তমপুর ইউনিয়নের ২নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাবেক সভাপতি হারুনুর রশীদ হারুন বলেন, আমরা আমাদের অফিসে বসে নির্বাচনী কথাবার্তা বলছিলাম। সেখানে মিজান এলে কথাকাটাকাটি হয়। পরে সেখান থেকে সে চলে যায়। পরে শুনি কে বা কাহারা তাকে হত্যা করে মরদেহ রাস্তার ফেলে যায়। মিষ্টি বিতরণের বিষয়টি আমার জানা নেই।

কবিরহাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো.নিজাম উদ্দিন ভূঁঞা বলেন, গণপিটুনিতে ডাকাত নিহত হওয়ার খবর পেয়ে আমি ঘটনাস্থলে যাই। ঘটনাস্থলে সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করা হয়েছে। নিহতের পকেট থেকে একটি খেলনা পিস্তল ও টিপ ছুরি উদ্ধার করা হয়েছে। নিহতের পরিবার এখনো কোনো সুনির্দিষ্ট অভিযোগ করেনি। তবে অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। রোববার সকালে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হবে।




বেগম খালেদা জিয়ার আত্মার শান্তি কামনায় দুর্গাপুরে দোয়া মাহফিল

ডিএনবি নিউজ ডেস্ক :

বাংলাদেশের সাবেক তিনবারের সফল প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে নেত্রকোনার দুর্গাপুরে উপজেলা ও পৌর বিএনপি‘র আয়োজনে আয়োজনে বেগম খালেদা জিয়ার রুহের মাগফিরাত কামনা করে দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) বাদযোহর স্থানীয় ঈদগাহ মাঠে এ মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়।

দোয়া মাহফিলে অন্যান্যদের মাঝে বক্তব্য রাখেন, উপজেলা বিএনপির সভাপতি জহিরুল আলম ভুইয়া, সাবেক সভাপতি ইমাম হাসান আবুচান, উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল আওয়াল, সাংগঠনিক সম্পাদক আলহাজ্ব জামাল উদ্দীন মাস্টার, পৌর বিএনপির সভাপতি আতাউর রহমান ফরিদ, সাধারণ সম্পাদক হারেজ গণি সহ বিএনপি ও তার সকল অংগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতা কর্মীগণ।

দোয়া মাহফিল পুর্ব আলোচনায় বক্তারা বলেন, দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া ছিলেন বাংলাদেশের গণতন্ত্র ও স্বাধীনতার প্রতীক। দেশের মানুষ তাঁর রাজনৈতিক জীবন, ত্যাগ ও অবদান জাতি চিরদিন শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করবে। তিনি ছিলেন আপোষহীন ও দৃঢ়চেতা একজন রাষ্ট্রনায়ক, যিনি দেশের সংকটময় সময়ে গণতন্ত্র রক্ষায় নিঃস্বার্থভাবে ভূমিকা রেখেছেন, কখনোই দেশ ছেড়ে যাননি। আজকের এই দোয়া মাহফিলে আমরা তাঁর আত্মার মাগফিরাত কামনা করছি।




এবার সব রেকর্ড ভাঙল তিনবারের প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার জানাজা

ডিএনবি নিউজ ডেস্ক :

বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় জানাজা অনুষ্ঠিত হলো তিনবারের প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার। এতে কয়েক মিলিয়ন (দশ লাখে এক মিলিয়ন) মুসল্লি অংশ নেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। এত বড় জানাজার উদাহরণ দেশের ইতিহাসে আর দ্বিতীয়টি নেই বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) বেলা ৩টা ৫ মিনিটে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজায় ইমামতি করেন জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের খতিব মাওলানা আব্দুল মালেক।

জানাজার আগে খালেদা জিয়ার একমাত্র ছেলে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান পরিবারের পক্ষ থেকে বক্তব্য দেন এবং মায়ের জন্য দোয়া প্রার্থনা করেন। তার কাছে কেউ কোনো ঋণ পেলে যোগাযোগ করতে বলেন। এছাড়া খালেদা জিয়ার আচরণে কেউ কোনো কষ্ট পেয়ে থাকলে ক্ষমা করে দেওয়ার আবেদন জানান তারেক রহমান।

অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস, উপদেষ্টাবৃন্দ, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ, বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিসহ সর্বস্তরের লাখ লাখ মানুষ জানাজায় অংশ নেন।

রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ ও সংসদ ভবন এলাকা জানাজার জন্য নির্ধারিত হলেও লোক সমাগম ছড়িয়ে পড়ে আশপাশের এলাকায়। ফার্মগেট, বিজয় সরনি, আগারগাঁও, কারওয়ানবাজার, বাংলামোটর, তেজগাঁও পর্যন্ত লোকে লোকারণ্য ছিল। বানের স্রোতের মতো চার দিক থেকে সাধারণ মানুষ আসতে থাকে জানাজার দিকে। প্রচণ্ড শীত উপেক্ষা করে গতকাল থেকেই ঢাকামুখী মানুষের ঢল নামে।

জনশ্রুতি আছে দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় জানাজা হয়েছিল বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের। সম্প্রতি ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শহীদ ওসমান হাদির জানাজাও ছিল স্মরণকালের বৃহৎ। তবে সব রেকর্ড ছাপিয়ে খালেদা জিয়া স্থান করে নিয়েছেন ইতিহাসের পাতায়। এতো বিপুলসংখ্যক মানুষের উপস্থিতি ও ভালোবাসায় এর আগে কোনো নেতা বিদায় নিতে পারেননি।




‘স্বৈরশাসনের বিরুদ্ধে আপসহীন সংগ্রামের এক অবিচল অধ্যায় শেষ’

ডিএনবি নিউজ ডেস্ক :

সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার ইন্তেকালে গভীর শোক জানিয়েছে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস।

মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক ও মহাসচিব মাওলানা জালালুদ্দীন আহমদ এক যৌথ শোক বিবৃতিতে বলেন, তাঁর ইন্তেকালে আমরা গভীর শ্রদ্ধা ও শোক প্রকাশ করছি এবং জাতির ইতিহাসে এক মহীরুহ নেত্রীর সকল অবদান গভীরভাবে স্মরণ করছি।

বিবৃতিতে তাঁরা বলেন, বেগম খালেদা জিয়ার জীবন ছিল সংগ্রামের এক মহাকাব্য। তিনি গৃহবধূ থেকে রাজনীতির মঞ্চে এসে বাংলাদেশের আধুনিক রাজনৈতিক ইতিহাসের এক অবিচ্ছেদ্য অধ্যায়ের নাম হয়ে ওঠেন। তিনবার বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করে তিনি দেশ ও জাতির উন্নতি ও সমৃদ্ধিতে অনন্য ভূমিকা পালন করেন। তিনি কখনোই নিজের জীবনের স্বার্থকে দেশের স্বার্থের ঊর্ধ্বে স্থান দেননি; বরং ভোটাধিকার, গণতন্ত্র ও মানুষের মৌলিক অধিকার প্রতিষ্ঠায় অপরিমেয় ত্যাগ স্বীকার করেছেন।

নেতৃদ্বয় আরও বলেন, আমরা জানি—তিনি দীর্ঘদিন ধরে গুরুতর অসুস্থতায় ভুগছিলেন। রাজনৈতিক নিপীড়ন, অন্যায় কারাবাস ও দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসা-বঞ্চনার ফলে তাঁর শারীরিক অবস্থার ক্রমাবনতি ঘটে। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে তিনি কঠোর নিপীড়ন, অন্যায় কারাবাস ও অব্যাহত নির্যাতনের শিকার হলেও কখনোই দেশ ও উম্মাহর কল্যাণের আকাঙ্ক্ষা কিংবা গণতান্ত্রিক সংগ্রাম থেকে পিছপা হননি। শেষ পর্যন্ত তিনি ছিলেন সেই নেত্রী, যিনি ধর্ম, দেশ ও মানুষের অধিকারকে সমান গুরুত্ব দিয়ে সম্মান করেছেন।

বিবৃতিতে বিশেষভাবে বলা হয়, এই শোকঘন মুহূর্তে আমরা বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের সাবেক আমীর শায়খুল হাদীস আল্লামা আজিজুল হক (রহ.)-এর সঙ্গে বেগম খালেদা জিয়ার গভীর সম্পর্ক এবং পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সৌহার্দ্যের কথা স্মরণ করছি। আলেমসমাজের প্রতি তাঁর সম্মান, ভালোবাসা এবং ইসলামী প্রতিষ্ঠান গঠনে রাষ্ট্রীয় সহায়তার মনোভাব ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে থাকবে।

নেতৃদ্বয় বলেন, আমরা এই মহীয়সী নারীর আত্মার মাগফিরাত ও জান্নাতের জন্য দোয়া করি। তাঁর জীবনসংগ্রাম, সহিষ্ণুতা ও বিচক্ষণ নেতৃত্বের শিক্ষা জাতি কখনো বিস্মৃত হবে না।

মহান আল্লাহ তায়ালা শোকসন্তপ্ত পরিবার-পরিজন, দলীয় নেতাকর্মী ও দেশবাসীকে এই শোক বহনের তাওফিক দান করুন।




রাজধানীর এভারকেয়ারে তারেক রহমান

ডিএনবি নিউজ ডেস্ক:

রাজধানীর ৩০০ ফিটে সংবর্ধনা শেষে অসুস্থ মা ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে দেখতে এভারকেয়ার হাসপাতালে পৌঁছেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। আজ বৃহস্পতিবার (২৫ ডিসেম্বর) বিকেলে অনুষ্ঠান শেষে মাকে দেখতে যান তিনি।

তারেক রহমানকে সংবর্ধনা দিতে ৩০০ ফিট ও এর আশপাশের এলাকা জনসমুদ্রে পরিণত হয়।

এর আগে দীর্ঘ ১৭ বছর পর দেশের মাটি স্পর্শ করেন তারেক রহমান। তাকে বহনকারী বিমানটি বৃহস্পতিবার (২৫ ডিসেম্বর) বেলা ১১টা ৪০ মিনিটে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে। এ সময় স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমান এবং মেয়ে ব্যারিস্টার জাইমা রহমান তার সঙ্গে ছিলেন।

বাংলাদেশের আকাশে প্রবেশের পর বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৯টা ৩৪ মিনিটে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে একটি আবেগঘন পোস্ট দেন তারেক রহমান। তিনি লেখেন, ‘দীর্ঘ ৬ হাজার ৩১৪ দিন পর বাংলাদেশের আকাশে!




বিএনপি ক্ষমতায় আসলে ইমাম ও মুয়াজ্জিনদের বিশেষ ভাতা দেওয়া হবে-সালাহউদ্দিন আহমদ

ডিএনবি নিউজ ডেস্ক :

বিএনপি ক্ষমতায় আসলে ইমাম ও মুয়াজ্জিনদের বিশেষ ভাতা দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ।

মঙ্গলবার (২৩ ডিসেম্বর) বিএনপির গুলশান কার্যালয়ে জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের সঙ্গে নির্বাচনি সমঝোতা উপলক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই তথ্য জানান।

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, বিএনপি ক্ষমতায় আসলে কোরআন সুন্নাহ বিরোধী কোন আইন পাস করবে না। কওমি মাদ্রাসা থেকে পাস করা শিক্ষার্থীদের ধর্মীয় শিক্ষক হিসেবে নিয়োগে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।

সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর জানান, জমিয়তের সঙ্গে নির্বাচনি সমঝোতার ভিত্তিতে ৪টি আসনে বিএনপি প্রার্থী দেবে না।

বিএনপির মহাসচিব বলেন, বিএনপির কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এসব আসনে বিএনপি কোনো প্রার্থী দেবে না। এখানে কেউ স্বতন্ত্র প্রার্থী হলে দল ব্যবস্থা নেবে।

জমিয়তের জন্য ছেড়ে দেওয়া আসনগুলো হলো: নীলফামারী-১ থেকে মনজুরুল ইসলাম আফেন্দী, নারায়ণগঞ্জ-৪ থেকে মনির হোসাইন কাসেমী, সিলেট-৫ থেকে আমির উবায়দুল্লাহ ফারুক এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ থেকে জুনায়েদ আল হাবিব।

জানা গেছে, জমিয়ত প্রাথমিকভাবে ৫টি আসনের দাবি জানালেও বিএনপি ৩টি আসনে সম্মত হয়। পরে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সুপারিশে আরও ১টি আসন বাড়িয়ে মোট ৪টি করা হয়।




দুর্গাপুরে ওসমান হাদীর খুনীদের গ্রেফতারের দাবীতে বিক্ষোভ মিছিল

ডিএনবি নিউজ ডেস্ক :

ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ওসমান হাদীর হত্যাকারীদের দ্রুত গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে নেত্রকোনার দুর্গাপুরে ইসলামী সমমনা ৮দলীয় জোটের উদ্যোগে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শুক্রবার (১৯ ডিসেম্বর) বাদ জুমা এ মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

বিক্ষোভ মিছিল পুর্ব আলোচনা সভায় পৌরশহরের কাচারী মাদরাসার সামনে অনুষ্ঠিত প্রতিবাদ সমাবেশে বক্তব্য রাখেন, মাওলানা হাবিবুর রহমান, হাফেজ রুহুল আমীন সিরাজী, মনজুরুল হক, আব্দুল হক, মুফতি হুমায়ুন কবির সহ আট দলীয় উপজেলা ও পৌরশাখার নেতাকর্মীবৃন্দ।

বক্তরা বলেন, শহীদ ওসমান হাদির হত্যাকান্ড জাতির বিবেককে নাড়িয়ে দিয়েছে। অথচ আজও বিচার প্রক্রিয়ায় গড়িমসি ও দায়ীদের রক্ষার অপচেষ্টা চলছে, যা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। অবিলম্বে দোষীদের গ্রেফতার করে সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত না করা হলে কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দেন তারা। বক্তরা আরও বলেন, বিচারহীনতার সংস্কৃতি অব্যাহত থাকলে নারী ও সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা চরম হুমকির মুখে পড়বে।

আজকের কর্মসুচী থেকে আমরা স্পষ্ট ভাষায় জানাতে চাই, শহীদ ওসমান হাদির হত্যার বিচার নিয়ে কোনো টালবাহানা চলবে না। ফাঁসি ছাড়া জনগণ এ রায় মেনে নেবে না। জুলাই বিপ্লবে এতো-এতো আত্মদানের পরও আমরা আমাদের বাংলাদেশকে মুক্ত করতে পারিনি। আমরা আর কোন হত্যা চাইনা।




‘হাদি হত্যার বিচার নিশ্চিত না হলে আরেকটি গণঅভ্যুত্থান’

ডিএনবি নিউজ ডেস্ক :

ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরীফ ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ডের বিচার না হওয়া পর্যন্ত দেশে কোনো নির্বাচন হতে দেওয়া হবে না বলে মন্তব্য করেছেন খেলাফত আন্দোলনের নেত্রকোনা-২ আসনে মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী গাজী আব্দুর রহীম রুহি।

শুক্রবার (১৯ ডিসেম্বর) সকালে নেত্রকোনায় বিক্ষোভ মিছিল শেষে জেলা প্রেসক্লাবের সামনে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

গাজী আব্দুর রহীম বলেন, ‘ভারতীয় প্রেসক্রিপশনে পরিকল্পিতভাবে প্রকাশ্য দিবালোকে আমার ভাই হাদিকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। নির্বাচন পরে হবে। আগে আমার ভাইয়ের হত্যার বিচার নিশ্চিত করতে হবে। হত্যার বিচার না করে অন্য কোনো বিষয়ে আলোচনা হতে পারে না।’

তিনি আরও বলেন, ‘এই হত্যাকাণ্ডের বিচার নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হলে দেশে আরেকটি গণঅভ্যুত্থান গড়ে উঠবে। জনগণ আর কোনো অন্যায় ও অবিচার মেনে নেবে না।’

গত ১২ ডিসেম্বর ঢাকা-৮ আসনে নির্বাচনী গণসংযোগ শেষে ফেরার পথে প্রকাশ্য দিবালোকে গুলিবিদ্ধ হন ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ও ঢাকা-৮ আসনের স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য প্রার্থী শরীফ ওসমান হাদি। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গতকাল বৃহস্পতিবার (১৮ ডিসেম্বর) রাত সাড়ে ৯টায় তিনি মারা যান। এই হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে ১৮ ও ১৯ ডিসেম্বর নেত্রকোনা জেলার বিভিন্ন স্থানে ছাত্রজনতা ও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরা বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করেন।




ছদ্মবেশে থাকা আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা জরুরি: নাহিদ ইসলাম

ডিএনবি নিউজ ডেস্ক :

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেছেন, ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ও ঢাকা-৮ আসনের সম্ভাব্য স্বতন্ত্র প্রার্থী শরিফ ওসমান হাদির ওপর হামলা বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, আওয়ামী লীগের নির্বাচনবিরোধী ছকের অংশ।

তিনি বলেন, গতকালের ঘটনা কোনো একক ব্যক্তি বা প্রার্থীর ওপর হামলা নয় এবং এটি বিচ্ছিন্ন ঘটনাও নয়। নির্বাচনকে ঘিরে একটি সুপরিকল্পিত ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবেই এ ঘটনার সূচনা হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে এ চ্যালেঞ্জ কীভাবে সম্মিলিতভাবে মোকাবিলা করা যায় এবং ফ্যাসিবাদবিরোধী জাতীয় ঐক্য যেন অটুট থাকে— সেটিই এখন সবচেয়ে জরুরি।

শনিবার (১৩ ডিসেম্বর) দুপুরে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে বৈঠক শেষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন তিনি।

নাহিদ ইসলাম বলেন, দিল্লিতে বসে এসব পরিকল্পনা করছে আওয়ামী লীগ। ভারত সরকারের প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ মদদ ছাড়া আওয়ামী লীগ এ ধরনের তৎপরতা সম্ভব নয়। তিনি অভিযোগ করেন, এসব কার্যক্রম জঙ্গি তৎপরতার শামিল। তাই বাংলাদেশে অবস্থানরত ভারতীয় দূতাবাসকে এ বিষয়ে জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে এবং সরকারের পক্ষ থেকে তাদের ডেকে বিষয়টি স্পষ্ট করতে হবে।

তিনি আরও বলেন, একজন মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত গণহত্যাকারীকে আশ্রয় দিয়ে ভারত সরকার এরই মধ্যে নৈতিক অপরাধ করেছে এবং এখন বাংলাদেশকে অস্থিতিশীল করতে আওয়ামী লীগকে সহায়তা করছে।

নাহিদ ইসলাম বলেন, শুধু নেতা-নেত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করলেই চলবে না; এতে আন্দোলন টিকবে না। সমাজ ও রাজনীতি থেকে যদি আওয়ামী লীগ ও ফ্যাসিবাদীদের প্রশ্নের সুরাহা করা না যায় এবং গণপ্রতিরোধ বজায় রাখা না যায়, তবে কারো প্রকৃত নিরাপত্তা থাকবে না। জনগণই আমাদের আসল নিরাপত্তা, জনগণের কাছ থেকেই সেই নিরাপত্তা নিতে হবে এবং রাজনৈতিক দায়িত্ব পালন করতে হবে। তিনি বলেন, সরকার প্রশাসনিক দায়িত্ব পালন করবে, তবে প্রশাসন, পুলিশ ও বিভিন্ন ছদ্মবেশে থাকা আওয়ামী লীগের লোকজনের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে।

এনসিপির আহ্বায়ক বলেন, গণঅভ্যুত্থানকে পরিকল্পিতভাবে ভেরিফাই ও নরমালাইজ করার মাধ্যমে আওয়ামী লীগকে রাজনীতির মাঠে ফেরানোর চেষ্টা চলছে। মিডিয়া ও টকশোর মাধ্যমে তাদের উপস্থিতি বাড়ানো হচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয়ে আওয়ামীপন্থি শিক্ষকদের গোপন বৈঠক, কোর্টপাড়ায় ‘জয়বাংলা’ স্লোগান, টকশোতে আওয়ামীপন্থি বুদ্ধিজীবীদের উপস্থিতি এবং ভোটের মাঠে জাতীয় পার্টিকে প্রস্তুত করার চিত্র— সব মিলিয়ে এটি আওয়ামী লীগকে পুনর্বাসনের একটি সুপরিকল্পিত আয়োজন।

তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের বুদ্ধিজীবী, সাংবাদিক ও সাংস্কৃতিক কর্মীরা বিভিন্ন পরিচয়ে সমাজে সক্রিয় হওয়ার চেষ্টা করছে। এ কারণে সরকারকে আরও কঠোর হতে হবে— এ কথা প্রধান উপদেষ্টাকে জানানো হয়েছে। তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশনের ওপর আস্থা থাকতে হবে, যাতে তারা সবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারে। ওসমান হাদিকে হত্যাচেষ্টায় জড়িতদের আজকের মধ্যেই গ্রেপ্তার এবং শুধু হামলাকারী নয়, পুরো পরিকল্পনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধেও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তিনি।

আমরা জানি নির্বাচনের রাজনীতিতে আমরা প্রতিযোগিতা করব, প্রতিদ্বন্দীতা করব। একে অন্যের বিরুদ্ধে হয়তো বলব কিন্তু সেটা যাতে কখনোই একটা সীমাকে অতিক্রম না করে। আওয়ামী লীগকে যাতে কোনো সুযোগ সুবিধা করে না দেয়, এই ব্যাপারে আমরা সবাই ঐক্যমত পোষণ করেছি।

নির্বাচনী রাজনীতিতে প্রতিযোগিতা ও প্রতিদ্বন্দ্বিতা থাকবে, পরস্পরের বিরুদ্ধে কথাও বলা হবে। তবে তা যেন কখনো সীমা অতিক্রম না করে। একই সঙ্গে আওয়ামী লীগকে কোনো সুযোগ বা সুবিধা না দেওয়ার বিষয়ে সবাই ঐকমত্যে পৌঁছেছেন।