পাকিস্তানের সেনাবাহিনী আফগানিস্তানে ‘অপারেশন গজব-লিল হক’ চালাচ্ছে, আখুন্দজাদা নিহতের দাবি

ডিএনবি নিউজ ডেস্ক :

পাকিস্তানের সেনাবাহিনী আফগানিস্তানে ‘অপারেশন গজব-লিল হক’ চালাচ্ছে। এই অভিযানে আফগানিস্তানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা হিবাতুল্লাহ আখুন্দজাদা নিহত হয়েছেন বলে দাবি করেছে আন্তর্জাতিক গোয়েন্দা থিঙ্কট্যাংক সংস্থা ওপেন সোর্স ইন্টেলিজেন্স (ওসিন্ট)- এর ইউরোপ শাখা।

শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) ভোরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় সংস্থাটি এ তথ্য জানায়।

ওসিন্ট ইউরোপের দাবি অনুযায়ী, পাকিস্তানের বিমানবাহিনীর হামলায় কাবুলে তালেবান সরকারের শীর্ষ এই নেতা কয়েকজন উচ্চপদস্থ কমান্ডারসহ নিহত হয়েছেন। তবে এ তথ্য স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা যায়নি।

২০২১ সালে মার্কিন ও ন্যাটো বাহিনী আফগানিস্তান ত্যাগের পর ক্ষমতা দখল করে সরকার গঠন করে তালেবান। আখুন্দজাদা সেই সরকারের সর্বোচ্চ ধর্মীয় ও নীতিনির্ধারণী নেতা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।

এর আগে ২১ ফেব্রুয়ারি পাকিস্তানের বিমান বাহিনী আফগানিস্তানের নানগারহার ও পাকতিয়া প্রদেশে অভিযান চালায় বলে অভিযোগ ওঠে। ওই হামলায় ৮০ জনের বেশি নিহত হন বলে দাবি করে আফগান পক্ষ। এ ঘটনার পর পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় আফগান সেনারা ডুরান্ড লাইনে হামলা চালায়।

এদিকে আফগানিস্তানের কাবুল, কান্দাহার ও পাকতিকায় শুক্রবার ভোরে হামলা চালিয়েছে পাকিস্তান। এরপর পাকিস্তানকে নিশানা করে পাল্টা হামলা চালায় আফগানিস্তানের তালেবান।

বিবিসিকে তালেবানের মুখপাত্র জানিয়েছেন, কান্দাহার প্রদেশের দামান জেলায় একটি লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হেনেছে পাকিস্তানি বিমান। তবে তিনি জানিয়েছেন এই ঘটনায় কেউ হতাহত হননি। দামান জেলায় তালেবান সীমান্তরক্ষীদের একটি ঘাঁটি রয়েছে।

আফগানিস্তানের তালেবান কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তারা দেশের পূর্ব ও দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে পাকিস্তানের সীমান্ত চৌকিগুলোতে পাল্টা হামলা চালিয়েছে।

তালেবান সরকারের মুখপাত্র জাবিউল্লাহ মুজাহিদ বিবিসিকে বলেছেন, আফগান বাহিনী পাকিস্তানের ১৯টি সীমান্ত চৌকি ধ্বংস করেছে এবং বেশ কিছু পাকিস্তানি সৈন্যকে আটক করেছে।

তিনি আরো দাবি করেন, এ হামলায় ৫০ জনের বেশি পাকিস্তানি সেনা নিহত হয়েছে। তবে এই সংখ্যার বিষয়টি কেউ স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করেনি।

এদিকে পাকিস্তান দাবি করেছে, তারা আফগান তালেবানের ২৭টি সীমান্ত চৌকি ধ্বংস করেছে এবং তালেবান বাহিনীর ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।




নতুন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে অভিনন্দন জানালেন সৌদির ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমান

ডিএনবি নিউজ ডেস্ক :

বাংলাদেশের নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ায় তারেক রহমানকে অভিনন্দন জানিয়েছেন সৌদি আরবের ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমান।

বুধবার (১৮ ফেব্রয়ারি) ভোরে প্রকাশিত এক বার্তায় নতুন সরকারের গঠন নিয়েও শুভেচ্ছা জানান তিনি বলে জানিয়েছে সৌদি প্রেস এজেন্সি।

অভিনন্দন বার্তায় ক্রাউন প্রিন্স বাংলাদেশের জনগণের অব্যাহত অগ্রগতি ও সমৃদ্ধি কামনা করেন এবং তারেক রহমানের নেতৃত্বে নতুন সরকারের সফলতা প্রত্যাশা করেন।

সংসদ নির্বাচনে নিরংকুশ জয় পাওয়ার পর মঙ্গলবার জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন তারেক রহমান। তিনি সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার ছেলে এবং নিহত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সন্তান।




যুক্তরাষ্ট্র আক্রমণ করলে আফগানিস্তান ইরানের পাশে থাকবে: জবিউল্লাহ মুজাহিদ

ডিএনবি নিউজ আন্তঃ ডেস্কঃ

আফগানিস্তানের তালেবান সরকারের মুখপাত্র জবিউল্লাহ মুজাহিদ বলেছেন, ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরান আফগানিস্তানের ভ্রাতৃপ্রতিম দেশ; দুই জাতির ভাষা, সংস্কৃতি ও বহু মূল্যবোধ অভিন্ন।

এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জবিউল্লাহ মুজাহিদ রোববার ইরানের সাহাব নেটওয়ার্কের পশতু রেডিওকে দেওয়া বিশেষ সাক্ষাৎকারে সম্ভাব্য মার্কিন হামলা প্রসঙ্গে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ওপর আক্রমণ করলে আফগানিস্তান ইসলামী প্রজাতন্ত্রকে সমর্থন করবে।

মুজাহিদ আরও বলেন- এর আগের মার্কিন হামলার সময়ও শেষ পর্যন্ত ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরান বিজয়ী হয়েছিল; দেশটি আবারও যুক্তরাষ্ট্রকে পরাজিত করতে সক্ষম হবে। সম্ভাব্য বিজয়ের কারণ হিসেবে তিনি ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের সক্ষমতার কথা উল্লেখ করে বলেন, ইরানের আত্মরক্ষার অধিকার রয়েছে।

আফগানিস্তান-ইরান সম্পর্ক প্রসঙ্গে তিনি বলেন, কাবুল ও তেহরানের সম্পর্ক বর্তমানে সর্বোত্তম অবস্থায় রয়েছে এবং পারস্পরিক সম্মানের পরিবেশে দুই পক্ষ যোগাযোগ বজায় রাখছে।

মুজাহিদ বলেন- বাণিজ্যিক, অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক ক্ষেত্রে আফগানিস্তান ও ইরান একে অপরের গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার; আস্থা ও সহযোগিতার ভিত্তিতে এ সম্পর্ক আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় আরও জোরদার হয়েছে। তিনি বলেন, এই পরিবেশ আরও বিস্তৃত হবে এবং পারস্পরিক আস্থা অধিকতর সুদৃঢ় হবে।#

সূত্র: পার্সটুডে




ইরান যুদ্ধ চায় না / দয়া, সততা এবং ন্যায়বিচার হল ঐশী ধর্মের মূল শিক্ষা: পেজেশকিয়ান

ডিএনবি নিউজ ডেস্ক :

 ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের নীতি হল যুদ্ধ এড়ানো এবং ঐক্য ও জনগণের সেবা করার উপর মনোনিবেশ করা- এ কথা উল্লেখ করে ইরানের প্রেসিডেন্ট বলেছেন, ধর্মীয় শিক্ষার সারমর্ম হল দয়া, সততা ও মানবাধিকারকে সম্মান করা এবং উন্নতির পথে বাধা সৃষ্টির জন্যই অর্থনৈতিক চাপ প্রয়োগ করা হয়।

ইসলামী বিপ্লবের বিজয়ের ৪৭তম বার্ষিকী উপলক্ষে সোমবার রাতে বিভিন্ন ধর্মের নেতা এবং অনুসারীদের এক সভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান ঐশী ধর্মের অভিন্ন ভিত্তির কথা উল্লেখ করেছেন এবং সমাজে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা, দয়া ছড়িয়ে দেওয়া এবং মানবাধিকার রক্ষায় নবীদের ভূমিকার কথা উল্লেখ করেছেন। পেজেশকিয়ান বলেছেন যে, ঐশী শিক্ষার উপর ভিত্তি করে, সকল নবীকে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা এবং সত্যের উপর ভিত্তি করে বিচার করার জন্য পাঠানো হয়েছিল। তিনি আরও বলেন: ঐশী ধর্মের যুক্তিতে, মানুষ একটি “একক জাতি” এবং নবীদের প্রধান আহ্বান ছিল আল্লাহর উপাসনা করা, পরকালে বিশ্বাস করা এবং একে অপরের অধিকারকে সম্মান করা।

এই নীতিগুলি থেকে নিজেকে দূরে রাখার ফলে অনেক মতপার্থক্যের সৃষ্টি হয়েছে এ কথা উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন: যদি মানুষ ভ্রাতৃত্ব, দয়া এবং ক্ষমার মনোভাব নিয়ে আচরণ করে, তাহলে অনেক দ্বন্দ্বের অবসান ঘটবে, কারণ অতিরিক্ত লোভের কারণে এবং সত্যের পথ থেকে নিজেদের দূরে সরিয়ে রাখায় মতপার্থক্য তৈরি হয়েছে।

ইসলামী বিপ্লবের শুরু থেকেই দেশের সামনে বিরাজমান চ্যালেঞ্জের পর্যালোচনা করে ইরানের প্রেসিডেন্ট বলেন: “ইরানী জাতির স্বাধীনতা অর্জনের প্রথম দিন থেকেই দেশের মানুষকে নানা ষড়যন্ত্র, সংঘাত এবং চাপিয়ে দেওয়া যুদ্ধ মোকাবেলা করতে হয়েছে এবং এই ভূমির শ্রেষ্ঠ সন্তানরা ন্যায়বিচার ও ভৌগোলিক অখণ্ডতা রক্ষার জন্য তাদের জীবন উৎসর্গ করেছেন।”

মক্কা বিজয়ে নবী মুহাম্মদ (সা.)-এর বাণীর কথা উল্লেখ করে পেজশকিয়ান বলেছেন, প্রকৃত ধর্মীকতা কেবল ব্যক্তিগত ইবাদতের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয় বরং দায়িত্ব, সততা এবং জনগণের অধিকারের প্রতি শ্রদ্ধা হল ধার্মিকতার প্রধান মানদণ্ড।

ইরানের মৌলিক নীতি হলো ঐক্য, সংহতি এবং জনগণের সেবা করা, এই কথা উল্লেখ করে ইরানের প্রেসিডেন্ট বলেন: “ইরানি জাতি একটি সমৃদ্ধ ও গর্বিত দেশ গড়ে তোলার জন্য হাতে হাত মিলিয়ে কাজ করবে।”#

সূত্র: পার্সটুডে




পাকিস্তানের ১২ শহরে একযোগে হামলা, ৮০ সেনা নিহত

ডিএনবি নিউজ আন্ত: ডেস্ক –

পাকিস্তানের কোয়েটাসহ বেলুচিস্তানের ১২টি শহরে একযোগে হামলা চালিয়েছে বেলুচ লিবারেশন আর্মি (বিএলএ)। এতে পাকিস্তানের নিরাপত্তা বাহিনীর অন্তত ৮০ জন সদস্য নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে দেশটির গোয়েন্দা সংস্থা এবং সন্ত্রাস-বিরোধী দলের সদস্যও রয়েছেন।

শনিবার (৩১ জানুয়ারি) বিএলএ এই দাবি করেছে, খবর জানিয়েছে এনডিটিভি।

বিএলএ এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, তাদের যোদ্ধারা বেলুচিস্তানের বিভিন্ন শহরে একাধিক হামলা চালিয়েছে। তারা এই অভিযানকে ‘অপারেশন হিরোফ ফেজ টু’ হিসেবে উল্লেখ করেছে।

পাকিস্তানের এই সংগঠন দাবি করেছে, তারা ১২ ঘণ্টার মধ্যে ইসলামাবাদে নিরাপত্তা বাহিনী ও প্রশাসনিক স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে বিএলএ-র দাবির সত্যতা যাচাই করার মতো প্রমাণ পাওয়া গেছে।

বিএলএ’র মুখপাত্র জিয়ান্দ বেলুচ বলেছেন, কোয়েটা, নশকি, মাসতুং, দালবানদিন, কালাত, খারান, পাঞ্চগুর, গোয়াদার, পানসি, তুরবাত, তুম্ব, বুলেদা, ম্যাঙ্গোচর, লাসবেলা, কেচ এবং আওরানে হামলা চালানো হয়েছে।

সংগঠনটির দাবি, শত্রুপক্ষ পাক সেনাবাহিনী, প্রশাসন, ও নিরাপত্তা বাহিনীর ভবনে যোদ্ধারা অনবরত হামলা চালিয়েছে। বিএলএ’র দাবি, বেশ কয়েকটি অঞ্চলে সাময়িকভাবে পাক বাহিনীর চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়।

এই অভিযানে নিজেদের সাতজন যোদ্ধা নিহত হয়েছে বলে জানায় সংগঠনটি।

তবে পাকিস্তান সেনাবাহিনীর মিডিয়া উইং দাবি করেছে, বেলুচিস্তানে ভারত সমর্থিত ৯২ জন সন্ত্রাসীকে হত্যা করা হয়েছে। সেইসঙ্গে ১৮ জন বেসামরিক নাগরিক ও ১৫ জন সেনা নিহত হয়েছে বলে জানায় পাকিস্তানের আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর)।




যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের হুমকির বিরুদ্ধে জাতিসংঘ মহাসচিব ও নিরাপত্তা পরিষদে ইরানের চিঠি

ডিএনবি নিউজ আন্ত: ডেস্ক:

জাতিসংঘে ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের স্থায়ী প্রতিনিধি নিরাপত্তা পরিষদ ও জাতিসংঘের মহাসচিবের কাছে একটি চিঠি পাঠিয়ে ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টের সাম্প্রতিক হুমকিগুলোকে জাতিসংঘ সনদের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন হিসেবে উল্লেখ করেছেন এবং এর স্পষ্ট নিন্দা জানানোর আহ্বান জানিয়েছেন।

পার্সটুডে’র প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জাতিসংঘে ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের রাষ্ট্রদূত ও স্থায়ী প্রতিনিধি আমির সাঈদ ইরাভানি মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ইরানবিরোধী নতুন হুমকির পর নিরাপত্তা পরিষদ ও জাতিসংঘের মহাসচিবকে লেখা এক চিঠিতে এসব বেপরোয়া হুমকির নিন্দা জানান। তিনি বলেন, শক্তি প্রয়োগের প্রকাশ্য হুমকি জাতিসংঘ সনদের উদ্দেশ্য ও নীতিমালার সুস্পষ্ট ও গুরুতর লঙ্ঘন। এ বিষয়ে দৃঢ় ও স্পষ্ট নিন্দা জানাতে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের প্রতি আহ্বান জানান ইরাভানি।

ইরাভানি চিঠিতে আরও বলেন, ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরান এসব বেপরোয়া হুমকির কঠোর নিন্দা জানাচ্ছে এবং জাতিসংঘ সনদের ৫১ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী যেকোনো সশস্ত্র হামলা বা আগ্রাসী কার্যকলাপের বিরুদ্ধে বৈধ আত্মরক্ষার স্বাভাবিক ও অখণ্ড অধিকার পুনরায় জোর দিয়ে উল্লেখ করছে। ইরানের সার্বভৌমত্ব, অখণ্ডতা, জনগণ বা গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় স্বার্থ যদি আরও কোনো আগ্রাসী কর্মকাণ্ডের মুখে পড়ে, তবে ইরান এই অধিকার দৃঢ় ও আনুপাতিকভাবে প্রয়োগ করবে।

তিনি আরও বলেন, ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরান নিরাপত্তা পরিষদ বিশেষকরে এর দায়িত্বশীল সদস্যদের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের বিরুদ্ধে শক্তি প্রয়োগের প্রকাশ্য হুমকিকে জাতিসংঘ সনদের উদ্দেশ্য ও নীতির সুস্পষ্ট ও গুরুতর লঙ্ঘন হিসেবে স্পষ্ট ও দৃঢ়ভাবে নিন্দা জানানো হোক; যুক্তরাষ্ট্রকে অবিলম্বে সনদ ও আন্তর্জাতিক আইনের অধীনে তার দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানানো হোক; সব ধরনের হুমকি ও শক্তি প্রয়োগ বন্ধ করতে বলা হোক এবং নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী সদস্য হিসেবে তার দায়িত্ব এমনভাবে পালন করতে বলা হোক, যা জাতিসংঘের উদ্দেশ্য ও নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। পাশাপাশি দ্বিমুখী নীতি পরিহার করে দৃঢ় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হোক, যাতে নিরাপত্তা পরিষদের এক স্থায়ী সদস্য এবং তার আঞ্চলিক মিত্র ইহুদিবাদী ইসরায়েলের দায়মুক্তি ও আন্তর্জাতিক আইনের প্রতি প্রকাশ্য অবহেলার ফলে সৃষ্ট পরিস্থিতির আরও অবনতি রোধ করা যায়।

জাতিসংঘে ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের স্থায়ী প্রতিনিধি জোর দিয়ে বলেন, এ বিষয়ে কোনো পদক্ষেপ না নিলে তা কেবল আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তাকে আরও দুর্বল করবে না, বরং যে নিরাপত্তা পরিষদের ওপর আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তা রক্ষার প্রাথমিক দায়িত্ব ন্যস্ত করা হয়েছে, সেই পরিষদের বিশ্বাসযোগ্যতা, কর্তৃত্ব ও বৈধতাকেও মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ন করবে। শক্তি প্রয়োগ বা এর হুমকি নিষিদ্ধ করা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি একটি সার্বজনীন বাধ্যবাধকতা এবং এর লঙ্ঘন উপেক্ষা করা বা ন্যায্যতা দেওয়া যায় না। এ ধরণের লঙ্ঘন অনিবার্যভাবে সেই আন্তর্জাতিক আইনি ব্যবস্থার ওপর গুরুতর ও স্থায়ী আঘাতের সমতুল্য।#

সূত্র: পার্সটুডে




ইরান কোনোভাবেই হুমকি ও চাপের কাছে নতি স্বীকার করবে না: ইরাভানি

ডিএনবি নিউজ আন্ত: ডেস্ক- 

জাতিসংঘে ইরানের স্থায়ী প্রতিনিধি ও রাষ্ট্রদূত আমির সাঈদ ইরাভানি জোর দিয়ে বলেছেন, ইরান আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে অটল থাকবে এবং হুমকি ও চাপের কাছে নতি স্বীকার করবে না। তিনি জানান, ইরান ন্যায়ভিত্তিক কূটনীতিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং বর্তমানে আস্থা পুনরুদ্ধারের দায়িত্ব ফ্রান্স, ব্রিটেন ও আমেরিকার উপর বর্তায়।

গতকাল (মঙ্গলবার) নিরাপত্তা পরিষদের ২২৩১ নম্বর প্রস্তাব সংক্রান্ত বৈঠকে তিনি বলেন, “নিরাপত্তা পরিষদের ২২৩১ নম্বর প্রস্তাবে একটি সুস্পষ্ট, সচেতন ও স্বয়ংক্রিয়ভাবে কার্যকর সমাপ্তি ধারা রয়েছে। এই প্রস্তাব ১৮ অক্টোবর ২০২৫ তারিখে মেয়াদ শেষ করেছে এবং ওই তারিখের পর থেকে এর কোনো আইনি কার্যকারিতা বা বাস্তবায়নমূলক দায়িত্ব নেই। সুতরাং, ২২৩১ নম্বর প্রস্তাবের আওতায় নিরাপত্তা পরিষদের ভূমিকা চূড়ান্তভাবে শেষ হয়েছে।”

পার্সটুডের প্রতিবেদনে বলা হয়, তিনি আরও জানান— ইরান কূটনৈতিক সব প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিয়েছিল, কিন্তু প্রতিপক্ষ প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করেছে।

তিনি জোর দিয়ে বলেন, “ইরান কোনোভাবেই জবরদস্তি ও হুমকির কাছে মাথা নত করবে না এবং ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ অব্যাহত রাখবে।”

ভেনিজুয়েলার সংসদ অর্থনৈতিক অবরোধ মোকাবিলায় আইন পাস

ওয়াশিংটনের হুমকির প্রেক্ষাপটে ভেনিজুয়েলার সংসদ সর্বসম্মতিক্রমে নৌযান চলাচল ও বাণিজ্যের স্বাধীনতা রক্ষার আইন পাস করেছে। এই আইন অর্থনৈতিক অবরোধ ও অবৈধ আন্তর্জাতিক পদক্ষেপ মোকাবিলার উদ্দেশ্যে প্রণয়ন করা হয়েছে।

আইনটিতে নৌপথ, বাণিজ্যিক নৌবহর এবং ভেনিজুয়েলার বৈদেশিক বাণিজ্য সুরক্ষার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে সরকারকে একতরফা নিষেধাজ্ঞা, সীমান্তপারের হুমকি ও দেশের অর্থনৈতিক স্বার্থবিরোধী শত্রুতামূলক পদক্ষেপের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনি ও কার্যকর ব্যবস্থা নিতে বাধ্য করা হয়েছে।

ভেনিজুয়েলার সংসদ সদস্যরা এই আইনকে জাতীয় সার্বভৌমত্ব জোরদার এবং আন্তর্জাতিক জলসীমায় দেশের বৈধ অধিকার রক্ষার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ বলে অভিহিত করেছেন।

যুদ্ধক্ষেত্র থেকে ১০ হাজার ইউক্রেনীয় সেনার পলায়ন

রাশিয়ার সাথে সংঘর্ষের এক প্রেক্ষাপটে ইউক্রেনের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় সুমি অঞ্চলে রুশ-সমর্থিত বাহিনীর দ্রুত অগ্রগতির খবর পাওয়া গেছে। এই পরিস্থিতিতে প্রায় ১০,০০০ ইউক্রেনীয় সেনা যুদ্ধক্ষেত্র থেকে সরে এসে নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থান নিয়েছেন বলে স্থানীয় সূত্রগুলো জানিয়েছে।

তুরস্কে লিবিয়ার বিমান দুর্ঘটনা

তুরস্কে একটি লিবীয় বিমান বিধ্বস্ত হয়েছে। এতে লিবিয়ার কয়েকজন শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তা নিহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে রয়েছেন দেশটির সেনাপ্রধান মোহাম্মদ আলী আল-হাদ্দাদ।

তুরস্কের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, বিমানটি আঙ্কারা থেকে ত্রিপোলির উদ্দেশ্যে যাত্রা করেছিল এবং আঙ্কারা অঞ্চলে জরুরি অবতরণের অনুরোধ জানায়। তবে এরপর বিমানের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।

জানা গেছে, লিবীয় প্রতিনিধি দলটি তুরস্কের সামরিক কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকের জন্য আঙ্কারা সফরে গিয়েছিল।

গাজায় শহীদের সংখ্যা বৃদ্ধি

গাজা থেকেও উদ্বেগজনক খবর পাওয়া গেছে। ফিলিস্তিনের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ৭ অক্টোবর ২০২৩ থেকে গাজা উপত্যকায় ইসরাইলি শাসকগোষ্ঠীর গণহত্যামূলক যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত ৭০ হাজার ৯৪২ জন ফিলিস্তিনি শহীদ এবং ১ লাখ ৭১ হাজার ১৯৫ জন আহত হয়েছেন।#

সূত্র: পার্সটুডে




ভেনেজুয়েলার উপকূলে আরেকটি তেল ট্যাংকার আটক করল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র

ডিএনবি নিউজ আন্ত: ডেস্ক-

ভেনেজুয়েলার উপকূলে মার্কিন বাহিনী আরেকটি তেল ট্যাংকার আটক করেছে, যা দুই সপ্তা’রও কম সময়ের মধ্যে দ্বিতীয়বারের মতো অভিযান। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোর সরকারের ওপর চাপ বাড়ানোর লক্ষ্যে এইসব কঠোর অভিযান চালিয়ে যাচ্ছেন।

মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, শনিবার ভোরবেলায় চালানো অভিযানে যুদ্ধ বিভাগের সহায়তায় মার্কিন কোস্টগার্ড ভেনেজুয়েলায় শেষবার নোঙর করা একটি তেল ট্যাঙ্কার আটক করে। মার্কিন স্বরাষ্ট্র নিরাপত্তা সচিব ক্রিস্টি নোম এই অভিযানের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন এবং একটি অশ্রেণীবদ্ধ ভিডিও ফুটেজ প্রকাশ করেছেন যেখানে দেখা যাচ্ছে যে একটি  মার্কিন হেলিকপ্টার সেঞ্চুরি নামে পরিচিত এক জাহাজে অবতরণ করছে।

তেল-ট্যাংকারটি পানামার পতাকা বহন করছিল, এটিকে সম্প্রতি ভেনেজুয়েলার উপকূলের কাছে দেখা গেছে বলে মার্কিন সূত্র জানিয়েছে। জাহাজটি মার্কিন নিষেধাজ্ঞার আওতাধীন ছিল কিনা তা উল্লেখ করেনি মার্কিন সূত্র।

নোম বলছেন, ‘নিষেধাজ্ঞার আওতাধীন তেল’ আটক করার অংশ হিসেবে এই পদক্ষেপ নিয়েছে ওয়াশিংটন, এইসব তেল মাদক-সন্ত্রাসে ব্যবহার করা হয় বলে মার্কিন সরকার অজুহাত দেখিয়ে আসছে। একজন মার্কিন কর্মকর্তা এই পদক্ষেপকে ‘সম্মতিমূলক অবতরণ’ বলে উল্লেখ করেছেন।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এ মাসের প্রথম দিকে বলেছিলেন ভেনেজুয়েলায় যাতায়াত করে এমন তেল-ট্যাংকারগুলোয় নিষেধাজ্ঞার আওতায় আটকানো হবে। মার্কিন সেনারা গত ১০ ডিসেম্বর ভেনেজুয়েলার ‘দ্য স্কিপার’ নামের একটি বিশাল তেল-ট্যাংকার আটক করেছিল।

ক্যারিবীয় এবং পূর্ব প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন সামরিক অভিযানের পাশাপাশি ট্যাঙ্কার নিষেধাজ্ঞাগুলোও ঘটছে, যেখানে ট্রাম্প তার প্রশাসনের দাবি অনুসারে ফেন্টানাইল এবং অন্যান্য অবৈধ মাদক পাচারকারী জাহাজগুলোতে হামলার নির্দেশ দিয়েছেন।

সেপ্টেম্বরের শুরু থেকে, ২৮টি হামলায় কমপক্ষে ১০৪ জন নিহত হয়েছেন। মানবাধিকার গোষ্ঠীগুলো এমনকি কংগ্রেসের সদস্যরাও এই অভিযানগুলোকে তদন্তের মুখোমুখি করেছেন, তারা বলেছেন যে মার্কিন প্রশাসন এ ব্যাপারে সীমিত প্রমাণ সরবরাহ করেছে যে টার্গেটকৃত জাহাজগুলো মাদক পাচারে জড়িত ছিল এবং তারা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন যে এই হামলাগুলো বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের শামিল।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সাম্প্রতিক মাসগুলোতে এই অঞ্চলে প্রচুর যুদ্ধজাহাজ মোতায়েন করেছে, যা কয়েক প্রজন্মের সময়ের মধ্যে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য যুদ্ধ-প্রস্তুতিমূলক সামরিক আয়োজন। ট্রাম্প বারবার সতর্ক করেছেন যে স্থল-ভিত্তিক অভিযান চালানো হতে পারে। মাদুরো মার্কিন সরকারের তোলা অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে আসছেন। তিনি জোর দিয়ে বলছেন যে ওয়াশিংটনের আসল লক্ষ্য হল তাকে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে দেয়া এবং ভেনেজুয়েলার তেল-সম্পদ দখল করা।

ভেনেজুয়েলার তেল-খাতে এক সময় মার্কিন তেল-কোম্পানিগুলো সক্রিয় ছিল। কিন্তু দেশটির তেল-সম্পদ জাতীয়করণের ফল এইসব কোম্পানি ভেনেজুয়েলা ছেড়ে যেতে বাধ্য হয়। এখন ট্রাম্প সেইসব ক্ষতি পুষিয়ে নেয়ার কথাও উল্লেখ করছেন। #

সূত্র: পার্স টুডে




ইরানে চিকিৎসাবিজ্ঞানের নতুন দিগন্ত: বিশ্বমানের বন্ধ্যাত্ব চিকিৎসা

ডিএনবি নিউজ আন্ত: ডেস্ক –

সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ইরানে বন্ধ্যাত্ব চিকিৎসায় উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জিত হয়েছে এবং বর্তমানে রোগ নির্ণয় ও চিকিৎসা পদ্ধতির দিক থেকে দেশটি বিশ্বের উন্নত দেশগুলোর সমপর্যায়ে পৌঁছেছে।

এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরান ফার্টিলিটি অ্যান্ড ইনফার্টিলিটি অ্যাসোসিয়েশনের সদস্য আশরাফ মুঈনি জানান, দেশের এই চিকিৎসা শাখাটি ধারাবাহিকভাবে উন্নত হচ্ছে এবং বন্ধ্যাত্ব চিকিৎসা কেন্দ্রগুলোতে ব্যবহৃত অবকাঠামো, বিশেষজ্ঞ জ্ঞান ও আধুনিক প্রযুক্তি উন্নত দেশগুলোর তুলনায় কোনো দিক থেকেই পিছিয়ে নেই।

আশরাফ মুঈনি ব্যাখ্যা করেন, আধুনিক বন্ধ্যাত্ব চিকিৎসা পদ্ধতির বিস্তার এবং স্ত্রীরোগ ও প্রসূতিবিদ্যা, ইউরোলজি ও ভ্রূণতত্ত্বের মতো ক্ষেত্রে উচ্চতর বিশেষায়িত (ফেলোশিপ) প্রশিক্ষণ চালুর ফলে ইরানে এমন বৈজ্ঞানিক ও ব্যবহারিক সক্ষমতা গড়ে উঠেছে, যা বিশ্বের বিভিন্ন দেশের বন্ধ্যা দম্পতিদের চিকিৎসায় সাফল্যের সম্ভাবনা বাড়িয়ে তুলছে। তিনি বলেন, চিকিৎসার ফলাফল আন্তর্জাতিক মানের সঙ্গে তুলনীয়।

তিনি আরও বলেন, এই খাতে ইরানের সাফল্য বিভিন্ন দেশের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। বর্তমানে ইরানের বন্ধ্যাত্ব চিকিৎসা কেন্দ্রগুলো প্রতিবেশী দেশগুলোর পাশাপাশি ইউরোপের কিছু দেশ থেকেও রোগীদের সেবা দিচ্ছে। এটি স্বাস্থ্য পর্যটনে, বিশেষ করে বন্ধ্যাত্ব চিকিৎসার ক্ষেত্রে, ইরানের ক্রমবর্ধমান অবস্থানকে স্পষ্টভাবে তুলে ধরে।#

সূত্র: পার্সটুডে




মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের একটি হাসপাতালে জান্তার বিমান হামলায় নিহত কমপক্ষে ৩১

ডিএনবি নিউজ ডেস্ক :

বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের একটি হাসপাতালে বোমা ফেলেছে ক্ষমতাসীন সামরিক সরকারের বিমান বাহিনী। এতে নিহত হয়েছেন কমপক্ষে ৩১ জন এবং আহত হয়েছেন আরও ৬৮ জন।

গতকাল বুধবার সন্ধ্যায় রাখাইনের পশ্চিমাঞ্চলীয় জেলা এমরাউক-উ’র একটি হাসপাতালে বোমা ফেলেছে জান্তার বিমান বাহিনী। ওই হাসপাতালের একজন স্বাস্থ্যকর্মী এবং ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শীর বরাত দিয়ে এক এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে এএফপি।

ওয়াই হুন অং নামের সেই স্বাস্থ্যকর্মী এএফপিকে বলেন, “এখানকার অবস্থা খুব ভয়াবহ। এখন পর্যন্ত আমরা ৩১ জনের মরদেহ এবং ৬৮ জন আহত রোগীকে উদ্ধার করতে পেরেছি, কিন্তু মনে হচ্ছে সামনে নিহত ও আহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।

তিনি আরও জানান, হামলার পর সারা রাত ধরে উদ্ধার তৎপরতা চালানো হয়েছে এবং এখনও চলছে। রাতে ২০ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছিল।

এ ব্যাপারে আরও তথ্য জানতে জান্তা মুখপাত্রদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিল এএফপি, কিন্তু কোনো মুখপাত্র মন্তব্য করতে রাজি হননি।

গত বেশ কয়েক মাস ধরে রাখাইন প্রদেশটি নিয়ন্ত্রণ করছে মিয়ানমারের অন্যতম শীর্ষ জান্তাবিরোধী সশস্ত্র রাজনৈতিক গোষ্ঠী আরাকান আর্মি (এএ)। বুধবার রাতে এক বিবৃতি দিয়ে হামলার তথ্য স্বীকার করেছে আরাকান আর্মিও।

উল্লেখ্য, এই মুহূর্তে জান্তার সবচেয়ে বড় মাথাব্যাথার কারণ হয়ে উঠেছে আরাকান আর্মি। ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে আরাকানে জান্তা বাহিনীর সঙ্গে সংঘাত শুরু হয় আরাকান আর্মির। সেই সংঘাতের মাত্র দেড় বছরের মাথায় আরাকান থেকে জান্তা বাহিনী এবং জান্তার প্রতি অনুগত সশস্ত্রগোষ্ঠীগুলোকে প্রায় পুরোপুরি বিতাড়িত করেছে এই গোষ্ঠীটি।

কয়েক মাস আগে নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেছে জান্তা। আগামী ২৮ ডিসেম্বর সেই নির্বাচনের ভোট গ্রহণ হবে। তবে আরাকান আর্মিসহ জান্তাবিরোধী অন্যান্য সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো নির্বাচন বয়কটের ডাক দিয়েছে।

সূত্র: এএফপি