প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে ‘জ্বালানি পরিস্থিতি’ নিয়ে বিশেষ সভা

ডিএনবি নিউজ ডেস্ক:

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে ‘জ্বালানি পরিস্থিতি মোকাবিলায় করণীয়’ নিয়ে বিশেষ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বুধবার (২৫ মার্চ) সকালে সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের নিজ দপ্তরে এই সভা অনুষ্ঠিত হয় বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর ডেপুটি প্রেস সচিব জাহিদুল ইসলাম রনি।

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সকাল ৯টা ২ মিনিটে সচিবালয়ে আসেন এবং তার কিছু দাপ্তরিক কাজ সারেন।

এরপর স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষ্যে স্মারক ডাক টিকিট উন্মোচন করেন প্রধানমন্ত্রী। পরে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের নিজ দপ্তরে তিনি ‘জ্বালানি পরিস্থিতি মোকাবিলায় করণীয়’ নিয়ে সভায় সভাপতিত্ব করেন।




দুর্দশাগ্রস্ত শরিয়াহ ভিত্তিক ৫ ব্যাংকের বোর্ড ভেঙে দিলো বাংলাদেশ ব্যাংক

দুর্দশাগ্রস্ত ৫ শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংক একীভূত করে একটি বৃহৎ ইসলামি ব্যাংক গঠনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এ লক্ষে ব্যাংকগুলোর বোর্ড ভেঙে দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। বুধবার ব্যাংকগুলোর ব্যবস্থাপনা পরিচালকদের চিঠি দিয়ে এ সিদ্ধান্ত জানিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

বোর্ড ভেঙে দেওয়া ব্যাংকগুলো হলো- এক্সিম, সোশ্যাল ইসলামী, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী, ইউনিয়ন ও গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক।

পতিত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে এ ৫ ব্যাংকের মধ্যে ৪টি মালিকানায় ছিল এস আলম। একটির মালিকানায় ছিল নজরুল ইসলাম মজুমদার।

ওই সময়ে ব্যাংকগুলো থেকে নামে-বেনামে হাজার হাজার কোটি টাকা সরিয়ে নেওয়া হয়। ফলে ব্যাংকগুলোর আর্থিক অবস্থা দুর্বল হয়ে পড়ে।

এতে গ্রাহকের জমানো অর্থ ফেরত দিতে পারছে না। এমন পরিস্থিতিতে এসব ব্যাংকে একীভূত করার উদ্যোগ নেয় বাংলাদেশ ব্যাংক। এতে সরকারও সম্মতি দিয়েছে।




অধিক লাভের আশায় সমিতিতে টাকা জমা দিয়ে ফেরত না পেয়ে ঘুরছেন দ্বারে দ্বারে

এইচ.এম সাইদুল ইসলাম :

বেশি মুনাফার আশায়, জীবনের সঞ্চয়কৃত সব টাকা তুলে দিয়েছিলেন সমিতিতে। কেউবা গার্মেন্টসে কাজ করে ঘাম ঝরানো আয়, কেউবা ব্যবসার আবার কারো পেনশনের টাকা তুলে জমা দিয়েছেন সমিতিতে। কিন্তু মুনাফা তো দুরের কথা আসল টাকার জন্যই হন্যে হয়ে ঘুরছেন অনেকেই। টাকার শোকে কেউবা প্রাণ হারিয়েছেন আবার কেউবা ঘুরছেন দ্বারে দ্বারে। আবার কেউ বা আশ্রয় নিয়েছেন আদালতের।

নেত্রকোণার দুর্গাপুর উপজেলার ৭ং গাঁওকান্দিয়া ইউনিয়নের জাগিরপাড়া এলাকায় এক সময়ের আলোচিত ‘‘প্যাসিফিক ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী সমবায় সমিতি লিমিটেড’’ কে ঘিরেই ঘটেছে এই চাঞ্চল্যকর প্রতারণার কাহিনী। ২০১৯ সালে প্রতিষ্ঠিত এই সমিতি নানা কৌশলে মানুষের আস্থা অর্জন করে। প্রতি লাখ টাকায় মাসে চার হাজার টাকা লাভ দেয়ার প্রতিশ্রুতিতে গ্রাম-গঞ্জের বহু মানুষের সঞ্চিত অর্থ সমিতির কথা বলে জমা নিয়েছেন তারা। টাকা জমা নেয়ার পর তিন চার মাস লাভ দিলেও পরবর্তিতে নানা অজুহাতে বন্ধ করে দেন গ্রাহকদের মুনাফার অর্থ।

এমনই এক গার্মেন্টস কর্মী কান্নাজড়িত কন্ঠে সাংবাদিকদের জানান, ১৫ বছর গার্মেন্টসে কাজ করে উপার্জিত প্রায় পাঁচ লক্ষ টাকা এই সমিতিতে জমা রেখেছি। প্রতি লাখ টাকায় মাসে ৪ হাজার টাকা দিবে বলে চুক্তি হয়। পরবর্তিতে দু’মাস লাভের টাকা পেলেও এরপর বন্ধ করে দেয় টাকা দেয়া। এখন আমি গুরুতর অসুস্থ্য, টাকা উদ্ধার করতে প্রায় চার বছর ধরে মানুষের দ্বারে দ্বারে ঘুরে কোন সুরাহা পাচ্ছিনা।

স্থানীয় গাঁওকান্দিয়া বাজারের এক ব্যবসায়ী তাইজুল ইসলামও পড়েছেন একই ফাঁদে। তিনি জমা দিয়েছিলেন ২০ লাখ টাকা। এখন টাকা ফেরত না পেয়ে দিশেহারা হয়ে আইনের আশ্রয় নিয়েছেন । ঋণ করে সমিতিতে টাকা জমা দিয়েছিলাম। এখন সেই ঋণ মেটাতে ধানের জমি বিক্রি করে এখন দিশেহারা। টাকা উদ্ধারে আদালতে মামলা করে মহান আল্লাহ’র উপর ভরসা করে বসে আছেন তিনি।

এই প্রতারণা কেবল আর্থিক ক্ষতিই আনেনি, কেড়ে নিয়েছে মানুষের জীবনও। গাঁওকান্দিয়া গ্রামের অধিবেষ সরকার নামে এক ব্যক্তি এই সমিতিতে জমা রেখেছিলেন ১৯ লাখ টাকা। প্রতারণার শিকারে মানসিক কষ্টে অসুস্থ হয়ে পড়েন। চিকিৎসার অভাবে আগে মারা যান তার স্ত্রী। পরে চলতি মাসের ৬ তারিখে মারা যান তিনিও।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্যাসিফিক ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী সমবায় সমিতিটি জাগিরপাড়ায় একটি ঘরে ২০১৯ সালে চালু করে। কিন্তু এখন সেখানে সেই অফিস নেই, নেই কোনো কার্যক্রম। আছে কেবল প্রতারণার শিকার মানুষের হাহাকার। এই সমিতি পরিচালনায় ছিলেন ওই এলাকার আব্দুল জলিল (সভাপতি), আব্দুল জলিল আকাশ (সহ-সভাপতি), আব্দুর রশিদ (সাধারণ সম্পাদক), আবুল কাশেম (যুগ্ম সম্পাদক), ইদ্রিস আলী (কোষাধ্যক্ষ), মাহফুজুল ইসলাম (বোর্ড সদস্য)।

বিষয়টি নিয়ে কথা বলার চেষ্টা করা হলেও খোঁজ পাওয়া যায়নি ওই সমিতির সভাপতি আব্দুল জলিলের সাথে। তার ব্যবহৃত দুইটি মোবাইল ফোনেও একাধিকবার কল দিলেও তা বন্ধ পাওয়া যায়।

উপজেলা সমবায় কর্মকর্তা বিজন কান্তি ধর বলেন, সমিতিটি আমাদের কার্যালয় থেকে রেজিস্ট্রেশন নিয়েছে ঠিকই, তবে পরবর্তীতে আমাদের সাথে কোনো কার্যক্রম পরিচালনা করেনি। সাধারণ মানুষের কাছ থেকে অর্থ সংগ্রহের বিষয়ে এখনো পর্যন্ত কোনো লিখিত অভিযোগ আমরা পাইনি। অভিযোগ পেলে অবশ্যই তদন্ত করে দেখবো।”

এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মো. নাভিদ রেজওয়ানুল কবীর বলেন, ঘটনাটি জানা ছিলো না আজকেই শুনলাম। বিষয়টি খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করবো।

লোভে পড়ে মানুষ জীবনের সঞ্চয় তুলে দিয়েছিল একটি ‘‘প্যাসিফিক ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী সমবায় সমিতি লিমিটেড’ এ। আজ সেই লোভই তাদের সর্বনাশ ডেকে এনেছে। এখন প্রয়োজন দ্রুত প্রশাসনিক পদক্ষেপ ও আইনি সহায়তা । যাতে প্রতারিত মানুষরা অন্তত কিছুটা স্বস্তি ফিরে পান, আর ভবিষ্যতে কেউ যেন এমন ফাঁদে পা না দেন।




দুর্গাপুরে গাছ পড়ে ব্যপক ক্ষতি, প্রাণে বাঁচলো পরিবার

দুর্গাপুর (নেত্রকোনা) প্রতিনিধি :

নেত্রকোনার দুর্গাপুর পৌরশহরে ঝড়ে গাছ পড়ে বসত ঘর ভেঙ্গে ব্যপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বেশ কয়েকটি পরিবারের। এর মধ্যে পৌরবিএনপির মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক সম্পাদক বিদ্যুৎ সরকারের বাড়ি-ঘর দুমরে মুচরে যায়। এ ঘটনা ঘটেছে নেত্রকোনার দুর্গাপুর পৌরশহরের ৫নং ওয়ার্ডের দক্ষিনপাড়া ও আশপাশের এলাকায়।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, রোববার (২৭ এপ্রিল) রাতে হঠাৎ শুরু হয় ঝড় ও শিলাবৃষ্টি। ওই ঝড়ে বাড়ির পাশে থাকা বিশাল আম গাছ পড়ে যায় বিদ্যুৎ সরকারের বসত ঘরের ওপর। এতে ঘরের আসবাবপত্র বিনষ্ট সহ ঘরের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। এছাড়া শিলাবৃষ্টিতে ক্ষতি হয়েছে বাড়ির আশ-পাশের বোরো ফসলের। ঘরটি দুমরে মুচরে গেলেও ছেলে-মেয়ে সহ প্রাণে বেঁচে যায় বিদ্যুৎ সরকারের পরিবার। এছাড়া ওই এলাকার বেশ কিছু ঘর-বাড়ি ভেঙ্গে যায়।

বিদ্যুৎ সরকার বলেন, রবিবার রাতে হঠাৎ ঝড় শুরু হয়। পরে বসত ঘরের পাশে থাকা গাছ পড়ে যায় আমার বসত ঘরের ওপর। এতে দুমরে মুচরে যায় পুরো ঘর ও আসবাবপত্র। শিলাবৃষ্টিতে নষ্ট হয়ে যায় খেতের ফসল। ঘর-বাড়ি ভেঙ্গে গেলেও প্রানে বেঁচে গেছে আমার পুরো পরিবার।




দুর্গাপুরে অসহায় পরিবারের পাশে দাঁড়ালো যুবদল নেতা মেহেদী হাসান সাহস

ডিএনবি নিউজ ডেস্ক :

নেত্রকোনার দুর্গাপুর উপজেলার চন্ডিগড় ইউনিয়নের মউ গ্রামের অসহায় সুলেমা খাতুনের পাশে দাঁড়ালো উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মেহেদী হাসান সাহস।   শুক্রবার বিকেলে সুলেমা খাতুনের বাড়িতে গিয়ে পরিবারটিকে খাদ্যসামগ্রী ও আর্থিক সহায়তা তুলে দেন  মেহেদী হাসান সাহস৷

এ সময় জনপ্রতিনিধি, দলীয় নেতৃবৃন্দ সহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। খাদ্য সহায়তার মাঝে ছিলো চাল, ডাল, মুরগী, মাছ,  তেল, আলু,  পেয়াজ,  বিস্কুট সহ আরো অনেক কিছু।

উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মেহেদী হাসান সাহস বলেন, আমার নেতা ব্যারিস্টার কায়সার কামাল দলীয় নেতাকর্মীদের  নির্দেশ দিয়েছে সমাজের অসহায় মানুষদের পাশে দাঁড়াতে । এরই ধারাবাহিকতায় আমি যখন জানতে পারলাম সুলেমা খাতুন সাত সন্তান এবং অসুস্থ শাশুড়িকে নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছে।  এজন্য আজ আমি নিজে  সুলেমা খাতুনের বাড়িতে  এসে  খাদ্যসামগ্রী ও আর্থিক সহায়তা দিলাম । এছাড়াও সুলেমা খাতুনের যেকেনো সমস্যায় আমি আমার সাধ্যমতো উনার পাশে থাকবো। আমার এ মানবিক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।




দুর্গাপুরে অগ্নিকান্ডে বসত ঘর পুড়ে ছাই

ডিএনবি নিউজ ডেস্ক:

নেত্রকোনার দুর্গাপুরে অগ্নিকান্ডে একটি বসত ঘরের আসবাবপত্র সহ সবকিছু পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। মঙ্গলবার রাতে উপজেলার বিরিশিরি ইউনিয়নের ভূলিগাঁও গ্রামের হায়দার আলীর ছেলে সোহাগ হাসান বাপ্পির বাড়িতে এ অগ্নিকান্ডের ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার রাতে সোহাগ হাসান ঘরের ভিতর মোমবাতি জ্বালিয়ে পাশের বাসায় খাবার খাওয়ার জন্য গিয়েছিলেন। কিছুক্ষণ পর দেখতে পান তাঁর ঘরে আগুন দাউ দাউ করে জ্বলছে। মুহুর্তের মধ্যে আগুন ঘরের চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে। আগুন দেখে আশপাশের লোকজন এগিয়ে আসলেও আগুন নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ায় নেভানো সম্ভব হয়নি। অগ্নিকান্ডের খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস সদস্যরা ঘটনাস্থলে যায় এবং আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। এ অগ্নিকান্ডে হতাহতের কেনে ঘটনা ঘটেনি।

সোহাগ হাসান বাপ্পি বলেন, ঘরের ভিতর মোমবাতি জ্বালিয়ে রাতের খাবার খাওয়ার জন্য পাশের বাড়িতে গিয়েছিলাম। হঠাৎ করে একজন বলতে থাকে আমার ঘরে আগুন লেগেছে। সাথে সাথে ডাকচিৎকার দিলে সবাই এগিয়ে এসে আগুন নিভানোর জন্য প্রাণপণে চেষ্টা করেও শেষ রক্ষা করতে পারেনি। ঘরের ভিতরে থাকা আসবাবপত্র সহ কেনো কিছুই রক্ষা করা সম্ভব হয়নি। আমার সবকিছুই পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। প্রায় ৩ লক্ষ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে জানান বাপ্পি।

দুর্গাপুর ফায়ার স্টেশন লিডার মঞ্জুল ফরাজী জানান, আমরা খবর পাওয়ার পরপরই ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখি ঘরের ভিতর আগুন জ্বলছে। সে অবস্থায় আমরা কাজ শুরু করি। গাড়িতে থাকা পানি শেষ হলে পুনরায় অন্য জায়গায় থেকে পানি এনে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনি। মোমবাতির আগুন থেকে এই অগ্নিকান্ডের সূত্রপাত হতে পারে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।




চীন ছাড়া বিভিন্ন দেশের জন্য আরোপিত শুল্ক তিন মাসের জন্য স্থগিত করেছেন ট্রাম্প

ডিএনবি নিউজ ডেস্ক:

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বিভিন্ন দেশের ওপর যে পাল্টা শুল্ক আরোপ করেছিলেন, তা তিন মাসের জন্য স্থগিত করছেন। তবে চীনের উপর আরোপিত শুল্ক বহাল রাখা হয়েছে। চীনের পণ্যে শুল্ক বাড়িয়ে ১২৫ শতাংশ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।

বুধবার নিজের মালিকানাধীন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে এক পোস্টে এ ঘোষণা দেন ট্রাম্প। তিনি লিখেছেন, ‘চীন বিশ্বের বাজারগুলোর প্রতি শ্রদ্ধার যে ঘাটতি দেখিয়েছে, তার ভিত্তিতে আমি যুক্তরাষ্ট্রে চীনের পণ্যে শুল্ক বাড়িয়ে ১২৫ শতাংশ ধার্য করছি। এটা তাৎক্ষণিক কার্যকর হবে।’

ট্রাম্প লিখেছেন, ‘৭৫টির বেশি দেশ যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে। এসব প্রতিনিধির মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য বিভাগ, অর্থ বিভাগ ও ইউএসটিআর (যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য প্রতিনিধি) রয়েছে। দেশগুলো বাণিজ্য, বাণিজ্য বাধা, শুল্ক, মুদ্রার মানে কারসাজি ও অশুল্ক বাধাসংক্রান্ত বিষয় নিয়ে সমঝোতায় পৌঁছাতে আলোচনার অনুরোধ জানিয়েছে।’

এ পরিপ্রেক্ষিতে চীন বাদে অন্য সব দেশের ওপর আরোপিত পাল্টা শুল্ক তিন মাসের জন্য স্থগিতের ঘোষণা দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট লিখেছেন, ‘আমি ৯০ দিনের জন্য পাল্টা শুল্ক স্থগিত অনুমোদন করেছি। একই সঙ্গে এ সময়ের জন্য পাল্টা শুল্ক ১০ শতাংশে নামিয়ে এনেছি। এটাও তাৎক্ষণিক কার্যকর হবে।’

ট্রাম্পের ঘোষণার পর হোয়াইট হাউসের বাইরে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন যুক্তরাষ্ট্রের অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট। তিনি বলেন, যেসব দেশ পাল্টা শুল্ক আরোপ করেনি, সেসব দেশ পুরস্কৃত হবে। ১০ শতাংশ পাল্টা শুল্কের আওতায় থাকবে মেক্সিকো ও কানাডাও।

যুক্তরাষ্ট্রের অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘আমি এটাকে বাণিজ্যযুদ্ধ বলব না। অবশ্য চীন এটা উসকে দিয়েছে।’ তিনি বলেন, ‘এই স্থগিতাদেশ আলোচনার জন্য আমাদের সময় দেবে। আরও দেশ যোগাযোগ করবে বলে আশা করছি।’

ট্রাম্পকে ধন্যবাদ প্রধান উপদেষ্টার

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রে পণ্য রপ্তানিতে পাল্টা শুল্ক ৯০ দিনের জন্য স্থগিত করায় প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস। বুধবার রাত ১২টার দিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে প্রধান উপদেষ্টার ভেরিফায়েড অ্যাকাউন্টে দেওয়া এক পোস্টে এ তথ্য জানানো হয়।

মার্কিন প্রেসিডেন্টের অফিশিয়াল এক্স অ্যাকাউন্ট মেনশন করে অধ্যাপক ইউনূস বলেন, ‘৯০ দিনের শুল্ক স্থগিত করতে আমরা যে অনুরোধ করেছিলাম, তাতে ইতিবাচক সাড়া দেওয়ায় প্রেসিডেন্ট আপনাকে ধন্যবাদ। আপনার বাণিজ্য এজেন্ডার সমর্থনে আপনার প্রশাসনের সঙ্গে কাজ করা অব্যাহত রাখব আমরা।’

যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশি পণ্যে ৩৭ শতাংশ পাল্টা শুল্ক আরোপ তিন মাসের জন্য স্থগিত করার অনুরোধ করে গত সোমবার ট্রাম্পকে একটি চিঠি দিয়েছিলেন প্রধান উপদেষ্টা। চিঠিতে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের পণ্য বাংলাদেশের বাজারে প্রবেশে শুল্ক-সুবিধা দেওয়ার কথাও বলেন। এ ছাড়া গ্যাস টারবাইন, সেমিকন্ডাক্টর, চিকিৎসাসামগ্রীর মতো বাংলাদেশে যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান রপ্তানি পণ্যের ওপর ৫০ শতাংশ শুল্ক কমানোর কথা জানান তিনি।

চীনের ওপর শুল্ক বেড়ে ১২৫%

অন্যান্য দেশের ওপর পাল্টা শুল্ক কমিয়ে ১০ শতাংশ করা হলেও চীনের পণ্যের ওপর আরও ২১ শতাংশ বাড়িয়ে ১২৫ শতাংশ করার ঘোষণা দিয়েছেন ট্রাম্প। এর আগে মঙ্গলবার দিবাগত রাতেই জানা যায়, চীনের পাল্টা শুল্কে খেপে ডোনাল্ড ট্রাম্প দেশটির পণ্যে অতিরিক্ত শুল্ক বাড়িয়ে ১০৪ শতাংশে উন্নীত করেছিলেন।

ট্রাম্পের সর্বশেষ শুল্ক আরোপের জবাবে চীন মার্কিন পণ্যে ৮৪ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছে, যা আগে ছিল ৩৪ শতাংশ। বৃহস্পতিবার থেকে চীনের ধার্য করা এ শুল্ক কার্যকর হবে বলে জানানো হয়। যুক্তরাষ্ট্রের ১০৪ শতাংশ শুল্ককে নিপীড়নমূলক আখ্যা দিয়ে তারা এ শুল্ক আরোপ করে।

চীনের এ সিদ্ধান্তে আরও চটেছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। বুধবার অন্যান্য দেশের পণ্যের ওপর পাল্টা শুল্ক ৯০ দিনের জন্য স্থগিত এবং এ সময়ে ন্যূনতম ১০ শতাংশ শুল্ক ঘোষণা করা হলেও চীনকে এ সুযোগ দেওয়া হয়নি।

হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র ক্যারোলাইন লেভিট এদিন সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ‘ট্রাম্প চীনের ওপর শুল্ক বাড়িয়েছেন। কারণ, আপনি যখন যুক্তরাষ্ট্রকে আঘাত করবেন, তখন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প পাল্টা আরও কঠিন আঘাত করতে যাবেন।’

পাল্টাপাল্টি শুল্কে অস্থির বিশ্ব

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ২ এপ্রিল বিভিন্ন দেশের পণ্যে পাল্টা শুল্ক আরোপ করেন। সেই শুল্কের একাংশ সেদিন থেকেই কার্যকর হয়ে গেছে। বাকি অংশ বুধবার কার্যকর হওয়ার কথা ছিল। বিশ্লেষকেরা বলছেন, এর মধ্য দিয়ে বাণিজ্যযুদ্ধ পুরোদমে শুরু হয়ে যায়।

ট্রাম্পের শুল্ক আরোপের জবাবে যুক্তরাষ্ট্রের পণ্যের ওপর পাল্টা শুল্ক আরোপের পক্ষে ভোট দেয় ইউরোপীয় ইউনিয়নও। অবশ্য ট্রাম্পের নতুন ঘোষণার ফলে এ সিদ্ধান্তে কোনো পরিবর্তন আসে কি না, তা এখন দেখার বিষয়।

রয়টার্সের খবরে বলা হয়, চীনের পণ্যে যুক্তরাষ্ট্রের ১০৪ শতাংশ শুল্কের প্রতিক্রিয়ায় বুধবার এশিয়ার শেয়ারবাজারে লেনদেন শুরু হতে হতেই বড় ধরনের পতন হয়। এরপর ইউরোপের শেয়ারবাজারে লেনদেন শুরু হওয়ার পরপরই সূচকের পতন হয়। যুক্তরাজ্যের লন্ডনভিত্তিক আঞ্চলিক সূচক প্যান-ইউরোপীয় স্টকস ৬০০ কমেছে ৩ দশমিক ৪ শতাংশ। আঞ্চলিক এই সূচকের অন্তর্ভুক্ত সব খাতের শেয়ারের দামেই নেতিবাচক প্রবণতা চলছে।#

সূত্র: পার্সটুডে




দোয়ারাবাজারে প্রতারনা করে লাখ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ কথিত বিএনপি নেতা ফুলমিয়ার বিরুদ্ধে

ডিএনবি নিউজ ডেস্ক :
প্রভাব প্রতিপত্তি দেখিয়ে লাখ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে দোয়ারাবাজার উপজেলার ফুলমিয়া নামের এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে । এ নিয়ে একাধিক সালিশ করেও কোনা প্রতিকার পাচ্ছে না ভুক্তভোগীরা।

এ ছাড়া স্থানীয় ব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন এলাকার মানুষের মোটা অংকের টাকা আত্মসাতের বিষয়ে ইতিমধ্যে একাধিকবার গ্রাম্য সালিশে পঞ্চায়েত নামা করেও তার কাছ থেকে টাকা উদ্ধার করা যায়নি। ফুলমিয়া উপজেলার লক্ষ্মীপুর ইউনিয়নের এরুয়াখাই গ্রামের মৃত ছায়েদ মিয়ার পুত্র।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ফুলমিয়া গ্রামের সাধারণ মানুষের কাছ থেকে প্রতারণা করে লাখ লাখ টাকা আত্মসাত করে আসছে। তার এসব প্রতারণায় অতিষ্ঠ সাধারণ মানুষসহ এলাকার আলেম ওলামারাও।
একাধিক ভুক্তভোগীরা বলেছেন, ফুলমিয়া এক সময় দিন মজুর হিসেবে কাজ করতো। গত ৫ আগস্টের পর রাতারাতি যুবদল নেতা বনে যাওয়ার দাবি করে সে। শুরু হয় তার দৌড়ঝাঁপ।  স্থানীয় বিএনপি নেতাদের পোস্টার ব্যানার দিয়ে উপজেলার লক্ষ্মীপুর ইউনিয়নের চকবাজারে অস্থায়ী অফিসও গড়ে তুলে। এক সময় নিজেকে ইউনিয়ন যুবদলের সেক্রেটারি দাবিসহ কখনও ঠিকাদার ও কখনও ব্যবসায়ী পরিচয় দিয়ে এলাকার বিভ্ন্নি ব্যবসায়ী ও ইটভাটা থেকে লাখ লাখ টাকার ইট ও নির্মাণ সামগ্রী বাকীতে ক্রয় করে এবং পরবর্তীতে ওইসব টাকা পরিশোধ করতে অস্বীকৃতি জানায়।
ফুলমিয়ার এমন অভিনব প্রতারণার শিকার হয়েছেন উপজেলার একই ইউনিয়নের এরুয়াখাই গ্রামের মাওলানা মোস্তফা কামাল। সরকার পতনের পরপরই ২০২৪ সালের ৭ই আগস্ট মাওলানা মোস্তফা কামালের কাছ থেকে ৯০ হাজার ইট ক্রয় করেন যুবদল নেতা দাবি করা ফুলমিয়া। বাকীতে নেওয়া ৮ লাখ ৬৪ হাজার টাকার ইটের ম্যল্য থেকে এক টাকাও পরিশোধ করেনি। টাকা চাইতে গেলেই নানা প্রতারণার আশ্রয় নেয় এবং নানাভাবে প্রভাব প্রতিপত্তি দেখায়।
এ নিয়ে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও এলাকার গণ্যমাণ্য ব্যক্তিদের নিয়ে বেশ কয়েকবার সালিশ বৈঠকে বসলে টাকা পরিশোধে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হয় সে। পরবর্তীতে পাওনাদাররা টাকা চাইতে গেলে অস্বীকৃতি জানায়। এ ঘটনায় গত ০৭ জানুয়ারি এলাকার ২৮জন মুরুব্বি ও গণ্যমান্য ব্যাক্তি একটি একটি পঞ্চায়েতনামাও প্রদান করে তার বিরুদ্ধে।
শুধু তাই নয় একই ইউনিয়নের নোয়াগাও গ্রামের নুর বানু নামের সত্তরোর্ধ্ব এক বৃদ্ধার ১ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে ফুলমিয়ার বিরুদ্ধে। এছাড়া পার্শ্ববর্তী গ্রামের ইটভাটার মালিক মাহবুবুর রহমানের ৭ লাখ টাকা এবং এরুয়াখাই গ্রামের মফিজ মিয়ার ১ লাখ টাকাসহ উপজেলার অসংখ্য মানুষের কাছ থেকে ১০/২০ হাজার করে লাখ লাখ টাকা প্রতারণার মাধ্যমে লুপাট করারও অভিযোগ রয়েছে। জনমনে প্রশ্ন উঠছে, ফুলমিয়ার খুটির জোড় কোথায়।
উপজেলার বেঠাখাই সোনাপুর গ্রামে স্থাপিত ‘এফবিএম ব্রিকস ফিল্ডে’র ম্যানেজার শীতল কান্তি রায় জানান, ফুলমিয়ার কাছে ইটের ৭ লাখ ১৪ হাজার ৩ শ’ টাকা পাওনা আমাদের। সে দলের নাম ভাঙিয়ে এবং রাজনৈতিক প্রভাব দেখিয়ে দীর্ঘদিন ধরে পাওনা টাকা দিচ্ছে না। এরকম আরও অনেক মানুষের লাখ লাখ টাকা সে আত্মসাৎ করে আসছে।
স্থানীয় বিএনপি ও যুবদল নেতাদের সাথে যোগাযোগ করা হলে তারা জানান, ফুল মিয়া বিএনপি বা যুবদলের কোন পদধারী নেতা নয়। তার সাথে বিএনপির আদৌ কোন সম্পর্ক নেই। বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের নাম ভাঙিয়ে এসব প্রতারণা করছে।
জানতে চাইলে ফুল মিয়া লেনদেনের সত্যতা স্বীকার করে বলেন, মাওলানা মোস্তফা কামাল আমার কাছে ৮ লাখ ৬৪ হাজার টাকা পাওনা ছিল, আমি তা দিয়ে দিয়েছি। এখন আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে।



চীনে ইরানি তেলের রপ্তানিতে রেকর্ড; এপ্রিল মাসের জন্য ইরানি তেলের মূল্য ঘোষণা

ডিএনবি নিউজ ডেস্ক:

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি চীনা বন্দরে ইরানি তেল পরিবহনকারী বেশ কয়েকটি ট্যাঙ্কারের উপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছেন, কিন্তু এই পদক্ষেপ এখনও কোনও ফল দেয়নি। পার্সটুডের তথ্য অনুযায়ী, এসএন্ডপি নামক একটি প্রতিষ্ঠান শনিবার জানিয়েছে মার্চ মাসে চীনে ইরানের তেল রপ্তানি প্রতিদিন ১.৯১ মিলিয়ন ব্যারেলে পৌঁছেছে।

এছাড়া, কেপলার এই তথ্য প্রকাশ করেছে যে, চীনা বন্দরগুলোতে নিষেধাজ্ঞাপ্রাপ্ত ট্যাঙ্কারগুলো থেকে তেল খালাস অব্যাহত রেখেছে এবং মার্চ মাসে আমদানি করা আট মিলিয়ন টন তেল ১০টি অনুমোদিত ট্যাঙ্কারের মাধ্যমে চীনে প্রবেশ করেছে। এসব তেল ট্যাঙ্কারের মধ্যে কয়েকটি আগে রাশিয়ার অপরিশোধিত তেল বহন করত।

এপ্রিল মাসে ইরানি তেলের আনুষ্ঠানিক বিক্রয়মূল্য ঘোষণা

২০২৫ সালের চতুর্থ মাসে ন্যাশনাল ইরানিয়ান অয়েল কোম্পানি ইরানি অপরিশোধিত তেলের বিভিন্ন ধরণের বিক্রয়মূল্য ঘোষণা করেছে। সেই অনুযায়ী এপ্রিল মাসে উত্তর-পশ্চিম ইউরোপ এবং দক্ষিণ আফ্রিকার বাজারে “ইরানি হালকা অপরিশোধিত তেল” নর্থ সি ব্রেন্ট তেলের চেয়ে পৌনে দুই ডলার বেশি দামে বিক্রি করা হচ্ছে। এছাড়া, এই মাসে এই বাজারগুলোতে “ইরানি ভারী অপরিশোধিত তেল” বিক্রি হচ্ছে পাঁচ সেন্ট কমে।

ওপেক প্লাসের তেল উৎপাদনের মাত্রা মেনে চলার প্রয়োজনীয়তা

শনিবার ওপেক প্লাসের জয়েন্ট মনিটরিং কমিটির ৫৯তম ভিডিও কনফারেন্সে ইরানের তেলমন্ত্রী মোহসেন পাকনেজাদ বলেছেন, “বর্তমানে বিশ্ব অসংখ্য অনিশ্চয়তার মুখোমুখি, যার মধ্যে রয়েছে বিশ্ব অর্থনীতিতে বাণিজ্য শুল্কের প্রভাব, সরবরাহ চেইনে পরিবর্তন এবং ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা।” তিন জোর দিয়ে বলেন, বিশ্ব অর্থনীতির জন্য এই সংকটময় পরিস্থিতিতে ওপেক প্লাসের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে কার্যকর পর্যবেক্ষণ এবং সর্বসম্মত উৎপাদন স্তর মেনে চলা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।#

সূত্র: পার্সটুডে




১২ ঘণ্টায় ২ কোটি টাকা টোল আদায় পদ্মা সেতুতে

ডিএনবি নিউজ ডেস্ক :

আসছে ঈদে নাড়ির টানে ঘরমুখী হচ্ছে মানুষ। এবারের ঈদযাত্রায় পদ্মা সেতুতে গত ১২ ঘণ্টায় ১ কোটি ৯৯ লাখ ৬৩ হাজার ৯০০ টাকা টোল আদায় হয়েছে।

শনিবার (২৯ মার্চ) দুপুরে পদ্মা সেতুর সাইড অফিসের নির্বাহী প্রকৌশলী আবু সাঈদ গণমাধ্যমকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, শুক্রবার (২৮ মার্চ) রাত ১২টা থেকে শনিবার (২৯ মার্চ) দুপুর ১২টা পর্যন্ত এ টোল আদায় হয়। এ সময় ওই সেতু দিয়ে ১৮ হাজার ১২৭টি যানবাহন পারাপার হয়। এর মধ্যে মাওয়া প্রান্ত দিয়ে ১২ হাজার ৯৫৩টি ও জাজিরা প্রান্ত দিয়ে ৫ হাজার ১৭৪টি যানবাহন পারাপার হয়েছে। একই সময়ে ৩ হাজার ৮৬৬টি মোটরসাইকেল পারাপার হয়েছে।

এর আগে গত বৃহস্পতিবার রাত ১২টা থেকে গতকাল শুক্রবার রাত ১২টা পর্যন্ত পদ্মা সেতুতে গত বছর ঈদের পর সর্বোচ্চ টোল আয়ের রেকর্ড হয়েছে। ২৪ ঘণ্টায় ৪ কোটি ২৫ লাখ ৪১ হাজার ৩০০ টাকা টোল আদায় হয় এবং সেতু দিয়ে ৩৯ হাজার ৬৩৭টি যানবাহন পারাপার হয়েছে।

আবু সাঈদ বলেন, শুক্রবার ভোর থেকে ঈদে ঘরমুখী মানুষের যানবাহনের অতিরিক্ত চাপ ছিল। এতে পদ্মা সেতুতে টোল আদায় পঞ্চম সর্বোচ্চ রেকর্ড হয়েছে। তবে গতকালের তুলনায় আজ শনিবার যাত্রী ও যানবাহনের চাপ কম।

তিনি আরও বলেন, টানা ৯ দিনের সরকারি ছুটি শুরু হওয়ায় শুক্রবার ভোর থেকে দক্ষিণবঙ্গের প্রবেশপথ হিসেবে খ্যাত ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়েতে দূর পাল্লার যানবাহনের চাপ বাড়ে। তবে শনিবার ভোর থেকে ওই মহাসড়কে অতিরিক্ত যানবাহনের চাপ কমে এসেছে। স্বজনদের সঙ্গে ঈদ আনন্দ উপভোগ করতে ওই মহাসড়কে যাত্রীবাহী বাসের পাশাপাশি ব্যক্তিগত গাড়ি ও মোটরসাইকেল নিয়েও ছুটছে অনেকে।

উল্লেখ্য, গত বছরের ৯ এপ্রিল এক দিনে টোল আদায় করা হয়েছিল ৪ কোটি ৮৯ লাখ ৯৪ হাজার ৭০০ টাকা। সে বছর ১৪ জুন আদায় হয়েছিল ৪ কোটি ৮০ লাখ ৩০ হাজার ১০০ টাকা। ২০২৩ সালে সর্বোচ্চ টোল আদায় করা হয়েছিল ৪ কোটি ৬০ লাখ ৫৩ হাজার ৩০০ টাকা।