দুর্গাপুরের বিজয়পুর স্থলবন্দর চালু এখন সময়ের দাবী

ডিএনবি নিউজ ডেস্ক :

পর্যাপ্ত অবকাঠামো থাকার পরও দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ রয়েছে নেত্রকোনার দুর্গাপুর উপজেলায় অবস্থিত বিজয়পুর স্থলবন্দর। এক সময় এই বন্দর দিয়ে ভারত থেকে কয়লা আমদানী করা হলেও ২০১৬ সনে ভারতের পরিবেশবাদী সংগঠনের করা মামলায় তা বন্ধ হয়ে যায়। স্থলবন্দর বন্দ থাকায় অত্র এলাকার ব্যবসায়ীদের কোটি কোটি টাকা ভারতের ব্যবসায়ীদের কাছে পড়ে থাকায় দিশেহারা হয়ে পড়ছেন স্থানীয় ব্যবসায়ীরা। এনিয়ে মঙ্গলবার সরেজমিনে গেলে কয়লা ব্যবসায়িরা যুগান্তর কে এমনটাই জানিয়েছেন।

স্থলবন্দর পরিদর্শন করে দেখাগেছে, প্রায় ৫বছর ধরে স্থলবন্দরটি বন্ধ থাকায় নষ্ট হচ্ছে আমদানী কারকদের অফিসের আসবাবপত্র। ওই বন্দরে কর্মরত অনেক কয়লা শ্রমিকগন বেকার হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। তাদের দাবী আমরা সীমান্ত এলাকার থেটে খাওয়া মানুষ, আইনী জটিলতার কারনে আমরা অতি কষ্টে জীবন-যাপন করছি। এক সময় এই বন্দর দিয়ে কয়লা ও পাথরসহ বিভিন্ন পণ্য আমাদানি হতো। কিন্তু ভারতীয় অংশে উন্মুক্ত কয়লা তোলার বিরুদ্ধে পরিবেশবাদীরা মামলা করায় তা বন্ধ হয়ে যায়। বন্দরটি পুনরায় চালু হলে দু‘দেশই অর্থনৈতিক সুবিধা ভোগ করবে।

ইতোমধ্যে স্থানীয় সংসদ সদস্য মানু মজুমদার এর প্রচেষ্টায় দুর্গাপুর এলাকার কয়লা ব্যবসায়ীন এবং ওই এলাকার আদিবাসী সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান সুব্রত সাংমা সহ ভারতের রপ্তানী কারকদের সাথে দফায় দফায় বৈঠক করে যাচ্ছেন। এতে নতুন করে বন্দরটি চালুর সম্ভাবনাও রয়েছে। বন্দরটি পুনরায় চালু হলে স্থানীয়ভাবে অর্থনীতির উন্নয়নের পাশাপাশি সরকারি রাজস্ব বৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সৃষ্টিসহ মানুষের জীবিকায় নতুন সম্ভাবনা যুক্ত হবে। সেই সঙ্গে অল্প সময়ে সারাদেশে কয়লা, পাথরসহ কমপক্ষে ১৮টি পণ্য আমদানি করা সম্ভব হবে।

বিজয়পুর বিজিবি ক্যাম্প ইনচার্জ বলেন, ভারতের করা মামলায় আটকে গেছে কয়লা আমদানী। আমাদের দেশের কম করে হলেও ২৫টি অফিস ও তার আসবাবপত্র নষ্ট হচ্ছে। আমাদের ব্যবসায়ীদের বহু টাকা ভারতে আটকা পড়ে আছে। এ নিয়ে দফায় দফায় বৈঠক হচ্ছে। আমাদের বর্ডার দিয়ে কোন সমস্যা নাই, আশা করছি এবার চালু হতে পারে।

এ নিয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ রাজীব-উল-আহসান যুগান্তর কে বলেন, বাংলাদেশের মধ্য দিয়ে কয়লা আমদানী করতে কোন সমস্যা নাই। ভারতের আইনী জটিলতার কারনে তা বন্ধ রয়েছে। বিগত সময়ে নেত্রকোনা জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ওই দেশের প্রশাসনের কাছে পত্র প্রেরণও করা হয়েছে, ইতোমধ্যে বন্দর চালুর বিষয়ে নানা বৈঠকও অব্যহত রয়েছে, আশা করছি এবছরই বন্দর চালু হতে পারে।

স্থানীয় সংসদ সদস্য মানু মজুমদার বলেন, ভারতের পরিবেশবাদীদের করা মামলার বিষয় সহ অন্যান্য নানা বিষয়ে বিগত সময়ে ভারতের শিলং এ দু‘দেশের জেলা প্রশাসনের কর্মকর্তাগন সভা করেছেন। বিজয়পুর সীমান্তের বন্দরটির গুরুত্ব তুলে ধরে ইতোমধ্যে দু‘দেশের ব্যবসায়ীদের নিয়ে বৈঠক করেছি। তারা বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখবেন বলে আমাদের আশ্বাসও দিয়েছেন। অচিরেই মামলা জটিলতা নিরসন করে পুনরায় বন্দরটি চালু হবে বলে আমি আশাবাদী।




আমরা জনগণের ভোটের অধিকারে বিশ্বাসী: প্রধানমন্ত্রী

ডিএনবি নিউজ ডেস্ক: ‘

বিএনপি-জামায়াত বা অন্যান্য দল যারা নির্বাচন নিয়ে সমালোচনা করে থাকে তাদের প্রতিষ্ঠা কার হাত দিয়ে? অবৈধভাবে ক্ষমতা দখলকারীর হাত দিয়ে। জনগণের কাছে ভোট চেয়ে নেওয়ার অভ্যেসই তাদের ছিল না। বরং কেড়ে নেওয়া, চুরি করাই তাদের অভ্যাস ছিল। তারা গণতন্ত্রের অর্থ বোঝে না, জনগণের অধিকারের অর্থও তারা বোঝে না। সেই শিক্ষাই তাদের নাই। তারা বোঝে সন্ত্রাস, তারা বোঝে দুর্নীতি, তারা বোঝে জঙ্গিবাদ, তারা বাংলাভাই সৃষ্টি করতে পারে, তারা মানুষ হত্যা করতে পারে।’

বুধবার সকালে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভীর শপথ পাঠ করানোর পর নবনির্বাচিত মেয়র ও কাউন্সিলরদের উদ্দেশে আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এসব কথা বলেন। গণভবন থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে মেয়র আইভীকে শপথ পাঠ করান প্রধানমন্ত্রী। এরপর কাউন্সিলরদের শপথ পাঠ করান স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম।

তিনি বলেন, একটা সাজাপ্রাপ্ত আসামিকে যে দল চেয়ারপার্সন করে বা চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করে; সাজাপ্রাপ্ত আসামি যে দলে, সেই দলকে জনগণ কেন ভোট দেবে? তারা ভোটের আশা করে কীভাবে?’

নবনির্বাচিত নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের মেয়র ও কাউন্সিলরদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘মানুষ কিন্তু এখন সচেতন; এটা মনে রাখতে হবে। কাজেই সেটা মাথায় রেখেই আপনার আপনাদের উপর অর্পিত দায়িত্ব পালন করবেন।’

নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের নির্বাচনের জন্য নির্বাচন কমিশন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে ধন্যবাদ জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘একটা অবাধ, সুষ্ঠু নিরপেক্ষ নির্বাচন করতে আপনারা বলিষ্ঠ ভূমিকা রেখেছেন। জনগণ তাদের পছন্দের প্রার্থীকে নির্বাচিত করেছে। জনগণ তাদের মনমত প্রার্থী নির্বাচিত করতে পেরেছে। এই জায়গা একটা সুযোগ, বাংলাদেশের মানুষ দেখুক। নারায়ণগঞ্জে একটা বিরাট দৃষ্টান্ত স্থাপন হলো যদিও আমাদের বিরোধী দল অনেক অপপ্রচার চালায় কিন্তু তারা কখনও আয়নায় নিজের চেহারা দেখে না।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বিএনপির নেতৃত্ব কোথায়? তাদের তো নেতৃত্ব বলে কিছু নেই। একজন এতিমের অর্থ আত্মসাৎ করে সাজাপ্রাপ্ত বন্দী। আমরা তাকে ঘরে থাকার একটা সুযোগ করে দিয়েছি। আর একজন ১০ ট্রাক অস্ত্র চোরাকারবারি, ২১ শের আগস্টের গ্রেনেড হামলা এবং দুর্নীতি মামলায় সাজাপ্রাপ্ত। সেই দুর্নীতির তথ্য শুধু আমরা না আমেরিকার এফবিআই খুঁজে বের করেছে। সেই সব মামলা সাজাপ্রাপ্ত আসামি ২০০৭ সালে বা ২০০৮ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের কাছে মুচলেকা দিয়ে গেছে যে আর কোনো দিন রাজনীতি করব না। এই মুচলেকা দিয়েই দেশ থেকে চলে গিয়েছিল খালেদার ছেলে তারেক রহমান। এখন বিদেশেই সে থাকে। সাজাপ্রাপ্ত আসামি যে দলে সেই দলকে জনগণ কেন ভোট দেবে? সেই ভোটের আশা তারা করে কীভাবে? তারা আসলে নির্বাচন চায় না। তারা নির্বাচনের অর্থ বোঝে না। ভোট চুরি করতে জানে, কিন্তু জনগণের ভোট নিতে জানে না। জনগণ যে ভোট দিয়ে বিজয়ী করবে, জনগণের যে ভোট দেবার অধিকার, সেই অধিকারে তারা বিশ্বাস করে না। এটা হলো বাস্তবতা।’

তিনি বলেন, ‘আমরা বিশ্বাস করি গণতন্ত্রে, আমরা বিশ্বাস করি জনগণের ভোটের অধিকারে, আমরা বিশ্বাস করি জনগণ তার ভোট দিয়ে মনমত প্রার্থী নির্বাচিত করবে, যে তাদের জন্য কাজ করবে। জনগণ কখনও ভুল করে না এটা হলো বাস্তবতা। নারায়ণগঞ্জ নির্বাচনটা খুব ভাল হয়েছে। ভোটে এটাই প্রমাণিত হয়েছে কে জনগণের জন্য কাজ করবে, সেটা তারা নিজেরা বেছে নিতে পারে। সেই বিবেচনা জনগণের আছে এবং জনগণের উপর আস্থা রেখেই আমরা আমাদের সব কাজ করি। আমাদের উন্নয়নের কাজগুলো যেন অব্যাহত থাকে সেটাই চাই।’




আমরা জনগণের ভোটের অধিকারে বিশ্বাসী: প্রধানমন্ত্রী

আওয়ার ইসলাম ডেস্ক: ‘বিএনপি-জামায়াত বা অন্যান্য দল যারা নির্বাচন নিয়ে সমালোচনা করে থাকে তাদের প্রতিষ্ঠা কার হাত দিয়ে? অবৈধভাবে ক্ষমতা দখলকারীর হাত দিয়ে। জনগণের কাছে ভোট চেয়ে নেওয়ার অভ্যেসই তাদের ছিল না। বরং কেড়ে নেওয়া, চুরি করাই তাদের অভ্যাস ছিল। তারা গণতন্ত্রের অর্থ বোঝে না, জনগণের অধিকারের অর্থও তারা বোঝে না। সেই শিক্ষাই তাদের নাই। তারা বোঝে সন্ত্রাস, তারা বোঝে দুর্নীতি, তারা বোঝে জঙ্গিবাদ, তারা বাংলাভাই সৃষ্টি করতে পারে, তারা মানুষ হত্যা করতে পারে।’

বুধবার সকালে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভীর শপথ পাঠ করানোর পর নবনির্বাচিত মেয়র ও কাউন্সিলরদের উদ্দেশে আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এসব কথা বলেন। গণভবন থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে মেয়র আইভীকে শপথ পাঠ করান প্রধানমন্ত্রী। এরপর কাউন্সিলরদের শপথ পাঠ করান স্থানীয় সরকার মন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম।

তিনি বলেন, একটা সাজাপ্রাপ্ত আসামিকে যে দল চেয়ারপার্সন করে বা চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করে; সাজাপ্রাপ্ত আসামি যে দলে, সেই দলকে জনগণ কেন ভোট দেবে? তারা ভোটের আশা করে কীভাবে?’

নবনির্বাচিত নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের মেয়র ও কাউন্সিলরদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘মানুষ কিন্তু এখন সচেতন; এটা মনে রাখতে হবে। কাজেই সেটা মাথায় রেখেই আপনার আপনাদের উপর অর্পিত দায়িত্ব পালন করবেন।’

নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের নির্বাচনের জন্য নির্বাচন কমিশন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে ধন্যবাদ জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘একটা অবাধ, সুষ্ঠু নিরপেক্ষ নির্বাচন করতে আপনারা বলিষ্ঠ ভূমিকা রেখেছেন। জনগণ তাদের পছন্দের প্রার্থীকে নির্বাচিত করেছে। জনগণ তাদের মনমত প্রার্থী নির্বাচিত করতে পেরেছে। এই জায়গা একটা সুযোগ, বাংলাদেশের মানুষ দেখুক। নারায়ণগঞ্জে একটা বিরাট দৃষ্টান্ত স্থাপন হলো যদিও আমাদের বিরোধী দল অনেক অপপ্রচার চালায় কিন্তু তারা কখনও আয়নায় নিজের চেহারা দেখে না।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বিএনপির নেতৃত্ব কোথায়? তাদের তো নেতৃত্ব বলে কিছু নেই। একজন এতিমের অর্থ আত্মসাৎ করে সাজাপ্রাপ্ত বন্দী। আমরা তাকে ঘরে থাকার একটা সুযোগ করে দিয়েছি। আর একজন ১০ ট্রাক অস্ত্র চোরাকারবারি, ২১ শের আগস্টের গ্রেনেড হামলা এবং দুর্নীতি মামলায় সাজাপ্রাপ্ত। সেই দুর্নীতির তথ্য শুধু আমরা না আমেরিকার এফবিআই খুঁজে বের করেছে। সেই সব মামলা সাজাপ্রাপ্ত আসামি ২০০৭ সালে বা ২০০৮ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের কাছে মুচলেকা দিয়ে গেছে যে আর কোনো দিন রাজনীতি করব না। এই মুচলেকা দিয়েই দেশ থেকে চলে গিয়েছিল খালেদার ছেলে তারেক রহমান। এখন বিদেশেই সে থাকে। সাজাপ্রাপ্ত আসামি যে দলে সেই দলকে জনগণ কেন ভোট দেবে? সেই ভোটের আশা তারা করে কীভাবে? তারা আসলে নির্বাচন চায় না। তারা নির্বাচনের অর্থ বোঝে না। ভোট চুরি করতে জানে, কিন্তু জনগণের ভোট নিতে জানে না। জনগণ যে ভোট দিয়ে বিজয়ী করবে, জনগণের যে ভোট দেবার অধিকার, সেই অধিকারে তারা বিশ্বাস করে না। এটা হলো বাস্তবতা।’

তিনি বলেন, ‘আমরা বিশ্বাস করি গণতন্ত্রে, আমরা বিশ্বাস করি জনগণের ভোটের অধিকারে, আমরা বিশ্বাস করি জনগণ তার ভোট দিয়ে মনমত প্রার্থী নির্বাচিত করবে, যে তাদের জন্য কাজ করবে। জনগণ কখনও ভুল করে না এটা হলো বাস্তবতা। নারায়ণগঞ্জ নির্বাচনটা খুব ভাল হয়েছে। ভোটে এটাই প্রমাণিত হয়েছে কে জনগণের জন্য কাজ করবে, সেটা তারা নিজেরা বেছে নিতে পারে। সেই বিবেচনা জনগণের আছে এবং জনগণের উপর আস্থা রেখেই আমরা আমাদের সব কাজ করি। আমাদের উন্নয়নের কাজগুলো যেন অব্যাহত থাকে সেটাই চাই।’




হিজাবের পক্ষে মুসলিম শিক্ষার্থীদের লড়াই: স্কুল-কলেজ বন্ধ করল কর্নাটক সরকার

ডিএনবি নিউজ ডেস্ক:

মুসলিম ছাত্রীদের হিজাব পরা নিয়ে তীব্র উত্তেজনার জেরে ভারতের দক্ষিণাঞ্চলীয় রাজ্য কর্ণাটকের সব স্কুল এবং কলেজ বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। মঙ্গলবার রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী বাসাভরাজ এস বোম্মাই আগামী তিনদিনের জন্য সব স্কুল-কলেজ বন্ধ রাখার ঘোষণা দিয়েছেন।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম টুইটারে দেয়া এক বার্তায় মুখ্যমন্ত্রী বাসাভরাজ এস বোম্মাই বলেছেন, তিনি `শান্তি ও সম্প্রীতি বজায় রাখতে’ সব উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছেন।

হিজাব পরা নিয়ে রাজ্যের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে মুসলিম ও হিন্দু ছাত্র-ছাত্রীরা মুখোমুখি অবস্থান নিয়েছে। এনডিটিভি বলছে, উত্তেজনাকর এই পরিস্থিতিতে আদালতের শুনানি আগামীকালও অনুষ্ঠিত হবে। রাজ্যের শিক্ষার্থী এবং জনগণকে শান্তি বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছেন কর্ণাটকের আদালত।

আদালতের বিচারক দীক্ষিত কৃষ্ণ শ্রীপদ বলেছেন, জনসাধারণের বুদ্ধিমত্তা এবং নৈতিকতার ওপর পূর্ণ আস্থা রয়েছে এই আদালতের। জনগণ সেসবের চর্চা করবে বলে আশা করছেন আদালত।

হিজাব নিয়ে আদালতের শুনানি শেষ হওয়ার অল্প কিছুক্ষণ আগে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী এক টুইটে বলেন, ‘আমি সব শিক্ষার্থী, শিক্ষক এবং স্কুল ও কলেজ কর্তৃপক্ষের পাশাপাশি কর্ণাটকের জনগণকে শান্তি ও সম্প্রীতি বজায় রাখার আহ্বান জানাচ্ছি। আমি আগামী তিন দিনের জন্য রাজ্যের সব উচ্চ বিদ্যালয় এবং কলেজ বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছি। সংশ্লিষ্ট সকলকে সহযোগিতা করার জন্য অনুরোধ করছি।’

গত মাসে উদুপি জেলার সরকারি বালিকা পিইউ কলেজে ছয়জন মুসলিম ছাত্রীকে হিজাব পরার কারণে শ্রেণিকক্ষের বাইরে বসতে বাধ্য করা হয়। সেই সময় কলেজ প্রশাসন জানায়, ইউনিফর্মের অংশ নয় হিজাব এবং ওই ছাত্রীরা কলেজের নিয়ম লঙ্ঘন করেছে। ছাত্রীদের ক্লাসে হিজাব পরার বিষয়ে আপত্তি জানায় স্থানীয় ডানপন্থী বিভিন্ন গোষ্ঠী।

পরে এই রাজ্যের অন্যান্য এলাকাতেও হিজাব পরার বিরুদ্ধে গেরুয়া ওড়না পরে অনেক শিক্ষার্থী অবস্থান নিয়ে আন্দোলন শুরু করে। তারা কলেজে হিজাব নিষিদ্ধের দাবি তোলে এবং হিজাববিরোধী বিভিন্ন ধরনের স্লোগান দেয়।

কর্ণাটকের বিজয়াপুরা জেলার অন্য দুই কলেজ শান্তেশ্বরা পিইউ এবং জিআরবি কলেজে হিজাবের বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়া অনেক ছাত্র শুক্রবার ও শনিবার গেরুয়া ওড়না পরে হিজাবের প্রতিবাদ জানিয়ে বিক্ষোভ করেছে।

ছাত্র-ছাত্রীদের পাল্টাপাল্টি অবস্থানের কারণে কলেজ দুটি সোমবার বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। তবে বিক্ষোভ সহিংস আকার ধারণ করেছে মঙ্গলবার। উদুপির একটি কলেজে হিজাব পরার বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া গেরুয়া ওড়না পরা ছাত্র-ছাত্রীদের সঙ্গে মুসলিম ছাত্রীদের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া এবং একে অপরকে লক্ষ্য করে পাথর নিক্ষেপের ঘটনা ঘটেছে।

এম আর




‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’র গুরুত্ব ও মর্যাদা

‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা। মানুষের জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রেই এর প্রভাব, গুরুত্ব, মর্যাদা এবং ফজিলত অনেক বেশি। মুসলিম উম্মাহ তাদের আজান, ইকামাত, বক্তৃতা-বিবৃতি এবং আলোচনা-সভা-সমাবেশে বলিষ্ঠ কণ্ঠে এ সত্য ঘোষণা দেন- ‘আল্লাহ ছাড়া কোনো ইলাহ নেই’।
তাওহিদের ঘোষণটি শুধু এ যুগের মানুষের জন্যই নয় বরং আসমান-জমিনসহ সমগ্র মাখলুকত সৃষ্টি হয়েছে এ কালেমার জন্য। এর প্রচার-প্রসারে যুগে যুগে অসংখ্য নবি-রাসুল আগমন করেছেন। মানুষের জীবনে এ কালেমার রয়েছে অসংখ্য প্রভাব। কে লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ-এর অনুসারি আর কে এর বিরোধিতাকারী এসব নির্ধারণে আল্লাহ তাআলা নাজিল করেছেন আসমানি কিতাব, দিয়েছেন অসংখ্য বিধান।
এ ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’র জন্যই পরকালের মিজান, হাশর, পুলসিরাত ও কেয়ামতের দিনের পুঙ্খানুপুঙ্খ হিসাব অনুষ্ঠিত হবে। তাওহিদের কালেমা ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লা’য় হবে জান্নাত এবং জাহান্নামের চূড়ান্ত ফয়সালা।
‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ সেই কালেমা; যার স্বীকার আর অস্বীকারের মাধ্যমে ঈমানদার আর কুফরে পাথর্ক্য হবে মানুষ। সৃষ্টি জগতের প্রতিটি মানুষের জীবনে এ কালেমা ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’র একচ্ছত্র প্রভাবই বেশি। এর উপরই নির্ভর করে সব পুরস্কার ও তিরস্কার।
এ কালেমার ভিত্তিতেই মানুষ পাবে সওয়াব ও শাস্তি। এ ঘোষণা প্রতিষ্ঠার উপর ভিত্তি করেই নির্ধারিত হয় মুসলমানদের কেবলা। এ কালেমার আহ্বানেই মুসলমানের হাতে শোভা পায় খাপ থেকে বের হয়ে আসা খোলা তরবারি। এ কালেমাই হবে মানুষের সব প্রাপ্তি ও বিসর্জনের কারণ। এ কালেমার ব্যাপারে শুরু থেকে শেষ সব নবি-রাসুল ও অনুসারীরা আল্লাহর কাছে জিজ্ঞাসিত হবে। যারা এর সঠিক জিম্মাদারি পালন করতে পেরেছেন এবং পারবেন তারাই হবে সফল। আর যারা এর জিম্মাদারিতে দূরে তারা হবেন চরম লাঞ্ছিত ও অপমানিত।
‘লা ইলাহা ইল্লাল্লা’র স্বীকৃতির জিজ্ঞাসাবাদ
চিন্তার বিষয়, আল্লাহ কেয়ামতের দিন প্রত্যেক ব্যক্তিকেই জিজ্ঞাসা করবেন- তুমি কার ইবাদত করেছ? নবি-রাসুলদের আহ্বানে কতটুকু সাড়া দিয়েছ? এ প্রশ্নের উত্তর সব ব্যক্তিকে বাধ্যতামূলক দিতেই হবে।
প্রথম প্রশ্নের সঠিক উত্তর হলো- ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’কে (لاَ إِلهَ إِلاَّ اللهُ) ভালোভাবে জেনে এর স্বীকৃতি দেওয়া এবং কালেমা দাবি অনুযায়ী কাজ করা।
দ্বিতীয় প্রশ্নের উত্তর হলো- মুহাম্মাদুর রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে রাসুল হিসাবে মেনে তাঁর নির্দেশের আনুগত্য করা।
হজরত ইবরাহিম আলাইহিস সালামের নসিহত
যুগে যুগে এ কালেমার স্বীকৃতি ও বাস্তবায়নের লক্ষ্যে কাজ করে গেছেন অসংখ্য নবি-রাসুলগণ। এ কালেমাই রেখে গেলেন গেছেন হজরত ইবরাহিম আলাইহিস সালাম। কোরআনে এসেছে-
وَ جَعَلَهَا کَلِمَۃًۢ بَاقِیَۃً فِیۡ عَقِبِهٖ لَعَلَّهُمۡ یَرۡجِعُوۡنَ
‘এ ঘোষণাকে সে চিরন্তন বাণীরূপে তার পরবর্তীদের জন্য রেখে গেছে; যাতে ওরা (সৎপথে) প্রত্যাবর্তন করে।’(সুরা যুখরুফ : আয়াত ২৮)
আল্লাহ ও ফেরেশতা কর্তৃক কালেমার সাক্ষ্য
এই সেই কালেমা ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’; যার সাক্ষ্য দিয়েছেন স্বয়ং আল্লাহ তাআলা নিজে, ফেরেশতা এবং জ্ঞানীগণও দিয়েছেন-
شَهِدَ اللّٰهُ اَنَّهٗ لَاۤ اِلٰهَ اِلَّا هُوَ ۙ وَ الۡمَلٰٓئِکَۃُ وَ اُولُوا الۡعِلۡمِ قَآئِمًۢا بِالۡقِسۡطِ ؕ لَاۤ اِلٰهَ اِلَّا هُوَ الۡعَزِیۡزُ الۡحَکِیۡمُ
‘আল্লাহ সাক্ষ্য দেন যে, তিনি ছাড়া কোন (সত্য) ইলাহ নেই, আর ফেরেশতা ও জ্ঞানীগণও। তিনি ন্যায় দ্বারা প্রতিষ্ঠিত। তিনি ছাড়া কোনো (সত্য) ইলাহ নেই। তিনি পরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময়।’ (সুরা আল-ইমরান : আয়াত ১৮)
‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’র প্রচার
এই কালেমা প্রচারের জন্যই আল্লাহ তাআলা সব রাসুল এবং আসমানি কিতাবসমূহ পাঠিয়েছেন। নবিজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে উদ্দেশ্য করে কোরআনে এ কথাটি এভাবে বলেছেন-
وَ مَاۤ اَرۡسَلۡنَا مِنۡ قَبۡلِکَ مِنۡ رَّسُوۡلٍ اِلَّا نُوۡحِیۡۤ اِلَیۡهِ اَنَّهٗ لَاۤ اِلٰهَ اِلَّاۤ اَنَا فَاعۡبُدُوۡنِ
‘আর আপনার আগে এমন কোনো রাসুল আমি পাঠাইনি যার প্রতি আমি এই অহি নাজিল করিনি যে, ‘আমি ছাড়া কোনো (সত্য) ইলাহ নেই; সুতরাং তোমরা আমার ইবাদাত করো।’ (সুরা আম্বিয়া : আয়াত ২৫)
আল্লাহ তাআলা অন্যত আরো বলেন-
یُنَزِّلُ الۡمَلٰٓئِکَۃَ بِالرُّوۡحِ مِنۡ اَمۡرِهٖ عَلٰی مَنۡ یَّشَآءُ مِنۡ عِبَادِهٖۤ اَنۡ اَنۡذِرُوۡۤا اَنَّهٗ لَاۤ اِلٰهَ اِلَّاۤ اَنَا فَاتَّقُوۡنِ
‘তিনি তাঁর বান্দাদের মধ্যে যার প্রতি ইচ্ছে স্বীয় নির্দেশে অহিসহ (প্রত্যাদেশ) ফেরেশতা নাজিল করেন, এই মর্মে সতর্ক করার জন্য যে- ‘আমি ছাড়া কোনো (সত্য) উপাস্য নেই’; সুতরাং তোমরা আমাকে ভয় করো। (সুরা নাহল : আয়াত ২)
‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ মানুষের জন্য নেয়ামত
সব বান্দার উপর আল্লাহ তাআলার সবচেয়ে প্রধান এবং বড় নেয়ামত হলো তিনি সবার জন্য (لاَ إِلهَ إِلاَّ اللهُ) তাঁর এই একত্ববাদের সাথে পরিচয় করে দিয়েছেন। দুনিয়ার পিপাসা কাতর তৃষ্ণার্ত একজন মানুষের কাছে ঠা-া পানির যে মূল্য; আখেরাতে অনন্ত জীবনে জান্নাতবাসীদের জন্য এ কালেমাও ততবেশি মূল্য।
‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’র স্বীকৃতিতে মর্যাদা
যারা এ কালেমা ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’র স্বীকৃতি দান করলো সে তার সম্পদ এবং জীবনের নিরাপত্তা গ্রহণ করলো। আর যারা তা অস্বীকার করলো সে তার জীবন ও সম্পদ নিরাপত্তাহীনতায় ফেললো। হাদিসের একাধিক বর্ণনা থেকে তা প্রমাণিত-
১. রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন-
مَنْ قَالَ لَا إِلَهَ إِلَّا اللهُ، وَكَفَرَ بِمَا يُعْبَدُ مَنْ دُونِ اللهِ، حَرُمَ مَالُهُ، وَدَمُهُ، وَحِسَابُهُ عَلَى اللهِ
‘যে ব্যক্তি ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ্’ এর স্বীকৃতি দান করলো এবং আল্লাহ ছাড়া অন্য সব উপাস্যকে অস্বীকার করলো, তার ধন-সম্পদ ও জীবন নিরাপদ হল এবং তার কৃতকর্মের হিসাব আল্লাহর উপর বর্তালো।’ (মুসলিম)
২. ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’র দাওয়াতে সাহাবা প্রেরণ
একজন অবিশ্বাসীকে ইসলামের প্রতি আহ্বানের জন্য প্রথমেই চাওয়া হয় এই কালেমা ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’র স্বীকৃতি। তাইতো নবিজী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হজরত মুয়াজ রাদিয়াল্লাহু আনহুকে যখন ইয়ামানে ইসলামের দাওয়াতের জন্য পাঠান তখন তাঁকে নসিহত করেন-
إِنَّكَ تَأْتِي قَوْمًا مِنْ أَهْلِ الْكِتَابِ، فَادْعُهُمْ إِلَى شَهَادَةِ أَنَّ لَا إِلَهَ إِلَّا اللهُ
‘তুমি আহলে কিতাবের কাছে যাচ্ছ, অতএব সর্বপ্রথম তাদেরকে ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’র সাক্ষ্য দেওয়ার জন্য আহ্বান করবে।’ (বুখারি, মুসলিম)
মানুষের জীবনের এ কালেমার প্রভাব অত্যধিক। কোরআন-সুন্নাহর অসংখ্য বর্ণনায় তা প্রমাণিত। সুতরাং মুমিন মুসলমানের উচিত, ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’র এ স্বীকৃতিকে নিজের  জীবনের একমাত্র স্লোগান হিসেবে মেনে নেওয়া, ঘরে-বাইরে, মাঠে-ময়দানে এক কথা সবখানে এর দাওয়াতি কাজে নিজেদের আত্মনিয়োগ করা। কারণ ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’র স্বীকৃতিই হলো মানুষের সব কর্মের মূলভিত্তি।
আল্লাহ তাআলা মুসলিম উম্মাহকে তাদের নিজেদের জীবন থেকে শুরু করে সর্বক্ষেত্রে তাওহিদের কালেমা ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’র উপর যথাযথ আমল ও ঘোষিত কর্ম পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করার তাওফিক দান করুন। এর প্রভাব, মর্যাদা, গুরুত্ব ও ফজিলত উপলব্ধি করার তাওফিক দান করুন। আমিন।




মাদকবিরোধী অভিযানে রাজধানীতে আটক ৫১

ডিএনবি নিউজ ডেস্ক:

 

রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালনা করে ৫১ জনকে আটক করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) বিভিন্ন অপরাধ ও গোয়েন্দা বিভাগ। মাদক বিক্রি ও সেবনের অভিযোগে তাদের আটক করা হয়।

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের নিয়মিত মাদকবিরোধী অভিযানের অংশ হিসেবে সোমবার সকাল ৬টা থেকে আজ মঙ্গলবার সকাল ৬টা পর্যন্ত রাজধানীর বিভিন্ন থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদেরকে আটকসহ মাদকদ্রব্য উদ্ধার করা হয়। ডিএমপি নিউজের এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।আটকের সময় তাদের হেফাজত হতে ২৬৬৭ পিস ইয়াবা, ১২৭ গ্রাম ৫১ পুরিয়া হেরোইন, ৪১ কেজি ১৩৯ গ্রাম গাঁজা ও ৫. ২৫০ লিটার দেশিমদ উদ্ধারমূলে জব্দ করা হয়। তাদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে ৪৩ টি মামলা রুজু হয়েছে।




৫০ শতাংশের পরিবর্তে আগামীকাল থেকে শতভাগ যাত্রী নিয়ে চলবে ট্রেন

ডিএনবি নিউজ ডেস্ক:

কোভিডের বিধিনিষেধ শিথিল করে যাত্রীদের চাহিদা বিবেচনা এবং অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড সচল রাখার স্বার্থে ৫০ শতাংশের পরিবর্তে শতভাগ যাত্রী পরিবহনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে রেলওয়ে। এ কারণে দীর্ঘদিন পর আবারও শতভাগ টিকেট নিয়ে ট্রেন ভ্রমণ করতে পারবেন ট্রেনের সাধারণ যাত্রীরা।

আগামীকাল বুধবার (৯ ফেব্রুয়ারি) থেকে শতভাগ যাত্রী নিয়েই আন্তঃনগরসহ বিভিন্ন ট্রেন চলাচল করবে। এর আগে গত ১৫ জানুয়ারি থেকে আন্তঃনগর ট্রেনে অর্ধেক যাত্রী পরিবহন করে আসছিল।

সোমবার ট্রেন ভ্রমণকারী বা যাত্রীদের কঠোরভাবে স্বাস্থ্যবিধি মেনে শতভাগ ট্রেন ভ্রমণের ক্ষেত্রে কঠোর নজরদারি রাখা হবে বলে নিশ্চিত করেছেন রেলওয়ের মহাপরিচালক (অপারেশন) সরদার শাহাদাত আলী।

তিনি গণমাধ্যমকে বলেন, আগামী ৯ ফেব্রুয়ারি থেকেই শতভাগ যাত্রী নিয়ে চলবে ট্রেনে। করোনার মহামারির কারণে অর্ধেক যাত্রী নেওয়ার সিদ্ধান্ত বাতিল করে পুনরায় শতভাগ যাত্রী বহনের এই সিদ্ধান্ত দেয় রেলপথ মন্ত্রণালয়। ইতোমধ্যে অর্ধেক যাত্রী নিয়ে ট্রেন চলাচলের সিদ্ধান্ত স্থগিত করা হয়েছে। তবে এ জন্য আগামী বুধবার থেকে ৫০ শতাংশ টিকেট অনলাইনে ও ৫০ শতাংশ টিকেট কাউন্টারে পাওয়া যাবে বলে জানান তিনি।

রেলওয়ে সূত্রে জানা গেছে, গত রোববার রেলওয়ের উপ-পরিচালক (টিসি) নাহিদ হাসান খান স্বাক্ষরিত এক আদেশে দেশের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড সচল রাখার স্বার্থে ৫০ শতাংশের পরিবর্তে শতভাগ যাত্রী পরিবহনের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

রেলের নতুন এই নির্দেশনায় উল্লেখ করা হয়েছে, কাউন্টার টিকিট ইস্যু ও ট্রেনে ভ্রমণের ক্ষেত্রে যাত্রীর স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ ও মাস্ক পরিধান নিশ্চিত করা, আন্তঃনগর ট্রেনে শতভাগ যাত্রী পরিবহনে টিকিট ইস্যু, মোট আসনের ৫০ শতাংশ টিকিট অনলাইনে ও ৫০ শতাংশ টিকিট কাউন্টারে বিক্রি, আন্তঃনগর ট্রেনের স্ট্যান্ডিং টিকিট ও স্টেশনের ফ্লাটফর্ম টিকিট সম্পূর্ণরূপে বন্ধ রাখা, রেলপথ মন্ত্রণালয় কর্তৃক অনুমোদিত ইমার্জেন্সি কোটা ও আন্তঃনগর ম্যানুয়াল অনুযায়ী পাশ কোটা ব্যতিত সব ধরনের কোটা বাতিল এবং স্বাস্থ্যবিধি কঠোরভাবে প্রতিপালনপূর্বক আন্তঃনগর ট্রেনে ক্যাটারিং ও ট্রেনে রাত্রীকালীন বেডিং সরবরাহ করা হবে। এছাড়াও বিভিন্ন সময়ে জারি করা স্বাস্থ্যবিধি সংক্রান্ত নির্দেশনা জারি থাকবে।

রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ বলছে, সম্প্রতি করোনাভাইরাসের ওমিক্রন ভ্যারিয়েন্টের সংক্রমণ নিম্নমুখী হওয়ায় টিকা কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। সাধারণ মানুষ করোনাভাইরাস প্রতিরোধী বিভিন্ন টিকা নিয়ে বিভিন্ন স্থানে যাচ্ছে। ফলে ট্রেনে যাত্রী চাপ বেড়েছে। তাই দেশের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড সচল রাখার স্বার্থে যাত্রী চাহিদা পূরণ করার প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে। সেজন্য সার্বিক দিক বিবেচনায় রেলওয়ে যাত্রী পরিবহনের ক্ষেত্রে পূর্বের অবস্থানে ফিরে আসা যৌক্তিক বলে মনে করছে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ।

-এম আর




বিশ্বজুড়ে জনসনের বেবি পাউডার নিষিদ্ধের দাবি

ডিএনবি নিউজ ডেস্ক:

ক্যান্সার সংক্রমণের অভিযোগে টিকা, ওষুধ ও স্বাস্থ্যে পরিচর্যা সংক্রান্ত বিভিন্ন পণ্য প্রস্তুতকারী কোম্পানি জনসন অ্যান্ড জনসনের উৎপাদিত ট্যালক বেবি পাউডার উৎপাদন ও বিক্রি বন্ধে এবার একাট্টা হয়েছেন কোম্পানিটির অংশীদাররা (শেয়ারহোল্ডার)।

যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডায় বর্তমানে ট্যালক বেবি পাউডারের উৎপাদন ও বিপণন নিষিদ্ধ। জনসন অ্যান্ড জনসনের অংশীদাররা চান, বৈশ্বিকভাবেই যেন নিষিদ্ধ হয় এই পণ্যটি।

গতকাল সোমবার এক প্রতিবেদনে ব্রিটেনের জাতীয় দৈনিক দ্য গার্ডিয়ান জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের লন্ডনভিত্তিক সংস্থা টিউলিপশেয়ার সম্প্রতি একটি ভোটের আয়োজন করেছিল।

যে ইস্যুতে এই ভোটের আয়োজন হয়েছিল, তা হলো—জনসন অ্যান্ড জনসনের ট্যালক বেবি পাউডারের উৎপাদন ও বিপণন বৈশ্বিকভাবে নিষিদ্ধ হওয়া উচিত কিনা।

সেখানে অধিকাংশ অংশীদার পণ্যটি নিষিদ্ধের পক্ষে ভোট দিয়েছেন। পাশপাশি, বেবি ট্যালক পাউডারের উৎপাদন ও বিপণন বন্ধে উদ্যোগ না নিলে কোম্পানি থেকে শেয়ার প্রত্যাহার করে নেবেন বলে সতর্কবার্তাও দিয়েছেন তারা।

দ্য গার্ডিয়ানকে টিউলিপশেয়ার কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ভোটের ফলাফল যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক বাণিজ্যিক কোম্পানিগুলোর নিয়ন্ত্রক প্রতিষ্ঠান সিকিউরিটি অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিটিতে (এসইসি) পাঠানো হবে; পাশাপাশি সুপারিশ করা হবে— চলতি বছর এপ্রিলে জনসন অ্যান্ড জনসন কোম্পানির পরিচালনা কমিটির সঙ্গে এসইসির যে বৈঠক হওয়ার কথা, সেখানে যেন এ বিষয়টি তোলা হয়।

জনসন অ্যান্ড জনসনের ট্যালকম বেবি পাউডারের বিরুদ্ধে ক্যান্সার সংক্রমণের মতো গুরুতর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার অভিযোগ অবশ্য বহুদিনের। বিশ্বের বিভিন্ন আদালতে কোম্পানিটির বিরুদ্ধে বর্তমানে এই অভিযোগে ৩৪ হাজারেরও বেশি মামলা চলছে।

অধিকাংশ মামলা হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডায়। যুক্তরাষ্ট্রের মিসৌরি অঙ্গরাজ্যে করা এক মামলায় ২২ জন নারী জানিয়েছেন, এই পণ্যটির ব্যবহারের পর থেকে জরায়ুর ক্যান্সারের উপসর্গে ভুগছেন তারা। আদালত মামলার রায় বাদিপক্ষের অনুকূলে দেওয়ায় ওই ২২ নারীকে ২০০ কোটি ডলার ক্ষতিপূরণ দিতে হয়েছে জনসন অ্যান্ড জনসনকে।

২০২০ সালে যুক্তরাষ্ট্রের একটি গবেষণা সংস্থা জানিয়েছে, জনসন অ্যান্ড জনসনের বেবি পাওডারের ট্যালকে কারসিনোজেনিক ক্রিসোটাইল ফাইবার বা আঁশের অস্তিত্ব পাওয়া গেছে। এটি এক প্রকার ক্ষতিকর অ্যাসবেস্টস (সিলিকেট জাতীয় খনিজ) যা মানবদেহে ক্যান্সারের সম্ভবনা তৈরি করে।

ট্যালক এক প্রকার খনিজ পদার্থ। বিশ্বের প্রাপ্ত খনিজ পদার্থসমূহের এটি সবচেয়ে কোমল। বিশ্বজুড়ে প্রসাধন, কাগজ, প্লাস্টিক ও ওষুধ শিল্পে ব্যাপকভাবে ব্যবহার করা হয় এই খনিজটি। বিশুদ্ধ ট্যালক ক্ষতিকর না হলেও দুষণযুক্ত ট্যালক ভয়াবহ হুমকি সৃষ্টি করতে পারে মানবদেহের জন্য।

-এম আর




নিজের লাগানো গাছ কাটতে লাগবে সরকারের অনুমতি, আসছে নতুন আইন।

ডিএনবি নিউজ ডেস্ক:

ব্যক্তি মালিকানায় লাগানো গাছ কাটতে অনুমতির বিধান রেখে ‘বাংলাদেশ বনশিল্প উন্নয়ন করপোরেশন আইন ২০২২’-এর খসড়া অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রিসভা।

অর্থাৎ বাড়িতে লাগানো স্থায়ী গাছ, কিংবা বাগানে লাগানো গাছ কাটতে সরকারের অনুমতি নিতে হবে।

সোমবার (৭ ফেব্রুয়ারি) সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে মন্ত্রিসভা বৈঠকে খসড়া আইনটি অনুমোদন দেওয়া হয়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে এই ভার্চুয়াল মন্ত্রিসভা বৈঠকে এ প্রতিবেদন উপস্থাপন করা হয়।

গণভবন প্রান্ত থেকে প্রধানমন্ত্রী এবং সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রীরা ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে বৈঠকে যোগ দেন।

বৈঠক শেষে সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম প্রেস ব্রিফিংয়ে এ কথা জানান।

তিনি বলেন, এটার মাধ্যমে সব বনাঞ্চলকে প্রটেকশন দেওয়া হয়েছে। সামাজিক বনায়নের মাধ্যমে লাগানো যে গাছ রয়েছে সেগুলোও এর আওতায় আসবে। এখানে বুঝতে হবে, স্থায়ী গাছের কথা বলা হয়েছে। লাউ গাছ কাটতে কোনো সমস্যা নেই।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, ‘মানুষ যারা সাধারণ বাগান করবে বা স্থায়ী যে গাছ লাগাবে, সেগুলোও তারা তাদের ইচ্ছা মতো কাটতে পারবে না। পৃথিবীর প্রায় সব দেশেই এরকম নিয়ম আছে।’

খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, সৌদি আরবে ‘ইউ ক্যান নট ইমাজিন, আমার বাড়িতে একটি গাছ পড়ে গেছে এটা আমি সিটি করপোরেশন বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া কাটতে পারবো না। এটা ভারতেও আছে। এটাকে ভালোভাবে ইমপ্লিমেন্ট করতে বলা হয়েছে।

-এম আর




বাঘের সঙ্গে লড়াই করে জেলেকে জীবিত উদ্ধার

ডিএনবি নিউজ ডেস্ক:

পশ্চিম সুন্দরবনের সাতক্ষীরা রেঞ্জে কৈখালি ফরেস্ট স্টেশনের দাইগাং খালের পাড়ে বাঘের সঙ্গে ২০ মিনিট লড়াই শেষে পরাস্ত করে সহযোগীকে উদ্ধার করেছে রমজাননগর ইউনিয়নের দুই জেলে।

গতকাল রোববার সন্ধ্যার কিছু আগে এই ঘটনা ঘটে সুন্দরবনের শ্যামনগর উপজেলায়। টানা ২০ মিনিট ধরে নৌকার বৈঠা দিয়ে বাঘটিকে আঘাত করে কাবু করে তারা তাকে উদ্ধার করে নিয়ে আসেন। উদ্ধার হওয়া জেলে হায়াত আলী এখন শ্যামনগর হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন।

রোববার সন্ধ্যার কিছু আগে এই ঘটনা ঘটে সুন্দরবনের শ্যামনগর উপজেলার কৈখালি ফরেস্ট স্টেশনের কাছে বনের দাইগাং খালের পাড়ে। বনবিভাগ সূত্র জানিয়েছে, জেলেরা তাদের অনুমতি নিয়ে নদীতে মাছ ধরছিল। এসময় এই ঘটনা ঘটে।

উদ্ধারকারী সহযোগী দুই জেলে বাবলু সানা ও নূর ইসলাম গাজী জানান, তারা ভাত রান্না করার জন্যে জ্বালানি কাঠ সংগ্রহ করতে নদী থেকে বনে ওঠে সহযোগী জেলে হায়াত আলী। এ সময় একটি বাঘ তার ওপর হামলা করে।

বাবলু সানা বলেন, আমরা এ অবস্থা দেখে দ্রুত বৈঠা ও দা কুড়াল নিয়ে বাঘটির ওপর পাল্টা হামলা চালাই। অন্তত ২০ মিনিট ধরে টানাহেঁচড়া করার পর বাঘটি হায়াত আলীকে ছেড়ে গভীর জঙ্গলে পালিয়ে যায়।

বাবলু সানা জানান, হায়াত আলীকে নিয়ে এসে শ্যামনগর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এখন তিনি মোটামুটি সুস্থ আছেন। ডাক্তাররা জানিয়েছেন, তার মুখে বাঘের থাবার ক্ষতচিহ্ন রয়েছে।

কৈখালী ফরেস্ট স্টেশনের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. হারুন-অর-রশিদ ব্যাপারী এ ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে জানান, তারা পাস নিয়ে বনে গিয়েছিলেন। বাঘের হামলায় আহত হায়াত আলীকে উদ্ধার করে সহযোগী জেলেরা হাসপাতালে ভর্তি করে দিয়েছেন।

-এম আর