আগ্রাসন বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত ইসরাইলে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা অব্যাহত থাকবে: হিজবুল্লাহ

ডিএনবি নিউজ আন্ত: ডেস্ক-

তাসনিম সংবাদ সংস্থার আন্তর্জাতিক বিভাগের প্রতিবেদন অনুযায়ী, হিজবুল্লাহ এক বিবৃতিতে জানায়: আজ ভোরে তারা যে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে, তা লেবানন ও তার জনগণের প্রতিরক্ষার জন্য এবং শত্রুপক্ষের যুদ্ধবিরতি চুক্তি লঙ্ঘনের জবাবে করা হয়েছে। বিবৃতিতে বলা হয়, প্রতিরোধ বাহিনী যুদ্ধবিরতি মেনে চললেও শত্রুপক্ষ তা মানেনি। তাই ইসলামি প্রতিরোধ যোদ্ধারা “আল-মানারা” বসতিকে একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে লক্ষ্যবস্তু বানায়।

হিজবুল্লাহ আরও জোর দিয়ে বলেছে: আমাদের দেশ ও জনগণের বিরুদ্ধে ইসরায়েল-আমেরিকার আগ্রাসন বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত এই প্রতিক্রিয়া চলতে থাকবে।

ইসরায়েলি গণমাধ্যম বৃহস্পতিবার ভোরে জানায়, লেবানন থেকে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের পর দখলকৃত উত্তর ফিলিস্তিনের বিভিন্ন বসতিতে সতর্কতা সাইরেন বেজে ওঠে।

তাদের তথ্য অনুযায়ী, “কিরিয়াত শিমোনা”, “আল-মানারা” এবং “মারগালিওত” বসতিতে সাইরেন শোনা গেছে। এছাড়া হিব্রু সূত্রের দাবি, অন্তত একটি হিজবুল্লাহ ক্ষেপণাস্ত্র আল-মানারা বসতিতে আঘাত হেনেছে।

ইসরায়েলের চ্যানেল ১৫ আরও জানায়: “৯ ঘণ্টা শান্ত থাকার পর আবারও হিজবুল্লাহর রকেট হামলা শুরু হয়েছে, উত্তরে পরিস্থিতি শান্ত হচ্ছে না।”#

সূত্র: পার্সটুডে




আবু সাঈদ হত্যা মামলায় ২ জনের মৃত্যুদণ্ড, ৩ জনের যাবজ্জীবন

ডিএনবি নিউজ ডেস্ক :

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় প্রথম শহিদ রংপুর বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র আবু সাঈদ হত্যার মামলায় দুই আসামির মৃত্যুদণ্ড এবং ৩ আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। এছাড়া ২৫ আসামিকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত দুজন আসামি হলেন, পুলিশের সাবেক সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) আমির হোসেন এবং সাবেক কনস্টেবল সুজন চন্দ্র রায়। তারা দুজনেই গ্রেপ্তার আছেন।

যাবজ্জীবন দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন—পুলিশের সাবেক সহকারী কমিশনার মো. আরিফুজ্জামান, সাবেক পরিদর্শক (নিরস্ত্র) রবিউল ইসলাম ও সাবেক উপপরিদর্শক (নিরস্ত্র) বিভূতিভূষণ রায়। তারা পলাতক রয়েছেন।

বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) দুপুর সোয়া ১২টার দিকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেলে এ-রায় পড়া শুরু হয়। প্যানেলের অপর দুই সদস্য বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদ ও বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।

বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য মো. হাসিবুর রশীদসহ এ মামলার আসামি মোট ৩০ জন। এর মধ্যে ছয়জন গ্রেপ্তার আছেন। তারা হলেন, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক প্রক্টর শরিফুল ইসলাম, সাবেক সহকারী রেজিস্ট্রার রাফিউল হাসান রাসেল, রেজিস্ট্রার কার্যালয়ের সাবেক চুক্তিভিত্তিক কর্মচারী মো.আনোয়ার পারভেজ, পুলিশের সাবেক সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) আমির হোসেন, সাবেক কনস্টেবল সুজন চন্দ্র রায় এবং নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের নেতা ইমরান চৌধুরী ওরফে আকাশ। তাদের আজ ট্রাইব্যুনালে আনা হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয়টির সাবেক উপাচার্য মো. হাসিবুর রশীদসহ এ মামলার ২৪ আসামি পলাতক আছেন। পলাতক আসামির মধ্যে রয়েছেন রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের গণিত বিভাগের সাবেক সহযোগী অধ্যাপক মো. মশিউর রহমান, লোকপ্রশাসন বিভাগের সাবেক সহযোগী অধ্যাপক আসাদুজ্জামান মন্ডল, সাবেক সহকারী রেজিস্ট্রার মো. হাফিজুর রহমান, সাবেক সেকশন অফিসার মো. মনিরুজ্জামান পলাশ, বিশ্ববিদ্যালয়টির সাবেক এমএলএসএস মোহাম্মদ নুরুন্নবী মন্ডল, সাবেক এমএলএসএস এ কে এম আমির হোসেন, সাবেক নিরাপত্তা প্রহরী নুর আলম মিয়া এবং সাবেক অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর মো. মাহাবুবার রহমান।

রংপুর মহানগর পুলিশের (আরপিএমপি) সাবেক কমিশনার মো.মনিরুজ্জামান, আরপিএমপির সাবেক উপকমিশনার মো. আবু মারুফ হোসেন, সাবেক অতিরিক্ত উপকমিশনার মো. শাহ নূর আলম পাটোয়ারী, সাবেক সহকারী কমিশনার মো. আরিফুজ্জামান, সাবেক পরিদর্শক (নিরস্ত্র) রবিউল ইসলাম ও সাবেক এসআই (নিরস্ত্র) বিভূতিভূষণ রায়ও পলাতক রয়েছেন।

আবু সাঈদ হত্যা মামলার আসামি চিকিৎসক মো. সরোয়ার হোসেনও (চন্দন) পলাতক। এ ছাড়া রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সভাপতি পোমেল বড়ুয়া, বিশ্ববিদ্যালয়টির সাধারণ সম্পাদক মো. মাহাফুজুর রহমান, সহসভাপতি মো. ফজলে রাব্বি, সহসভাপতি মো. আখতার হোসেন, সাংগঠনিক সম্পাদক সেজান আহম্মেদ, সাংগঠনিক সম্পাদক ধনঞ্জয় কুমার, দপ্তর সম্পাদক বাবুল হোসেন এবং যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. মাসুদুল হাসান এ মামলার পলাতক আসামি।

২০২৪ সালের ১৬ জুলাই রংপুরে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আবু সাঈদ গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন। মানবতাবিরোধী অপরাধের এ মামলায় গত বছরের ২৪ জুন ৩০ জনকে আসামি করে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করা হয়। পরে ৬ আগস্ট আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন করেন ট্রাইব্যুনাল। ২৭ আগস্ট সূচনা বক্তব্য উপস্থাপনের মাধ্যমে এই মামলার আনুষ্ঠানিক বিচার শুরু হয়। পরদিন আবু সাঈদের বাবা মকবুল হোসেন এ মামলার প্রথম সাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দেন। চলতি বছরের ১৪ জানুয়ারি এ মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়। যুক্তিতর্ক শেষ হয় গত ২৭ জানুয়ারি।




দুর্গাপুরে শিক্ষার্থীদের নিয়ে ওসির সচেতনতামূলক সভা

ডিএনবি নিউজ ডেস্ক:

নেত্রকোনার দুর্গাপুরে তরুণ প্রজন্মকে সামাজিক অবক্ষয় থেকে রক্ষা করতে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে এক সচেতনতামুলক ও উন্মুক্ত আলোচনা সভা করেছেন দুর্গাপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. কামরুল হাসান। বুধবার (০৮ এপ্রিল) সকাল থেকে পৌরশহরের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

আলোচনা সভায় শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে মাদক, বাল্যবিবাহ, ইভটিজিং এবং মোবাইল ফোনের অপব্যবহারের ভয়াবহতা তুলে ধরে (ওসি) কামরুল হাসান বলেন, মাননীয় ডেপুটি স্পীকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল সারের দিক নির্দেশনায় আমরা এ ধরনের উদ্দ্যেগ গ্রহন শুরু করেছি। বর্তমান সময়ে শিক্ষার্থীদের শুধু পাঠ্যপুস্তক ভিত্তিক জ্ঞান অর্জনই যথেষ্ট নয়, তাদের নৈতিকতা, সামাজিক মূল্যবোধ ও দায়িত্ববোধ সম্পর্কে সুস্পষ্ট ধারণা থাকতে হবে। নিজ পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সম্মিলিত প্রচেষ্টায় একটি সুস্থ ও সচেতন প্রজন্ম গড়ে তোলা সম্ভব।

মোবাইল ফোনের অতিরিক্ত ব্যবহারের নেতিবাচক দিক এবং ইভটিজিংয়ের ফলে মেয়েদের জীবনে নেমে আসা করুণ বাস্তবতার চিত্র তুলে ধরে কামরুল হাসান বলেন, মাদক এখন আমাদের সমাজের সবচেয়ে বড় হুমকি। তোমাদের মাধ্যমেই আগামীর সুন্দর ও নিরাপদ বাংলাদেশ গড়ে উঠবে। তাই নিজেদের ভবিষ্যৎ গড়তে সঠিক পথে থাকতে হবে এবং সকল প্রকার অপরাধমূলক কর্মকান্ড পরিহার করতে হবে। উন্মুক্ত আলোচনা সভায় স্কুল-কলেজের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও দুর্গাপুর থানার অন্যান্য কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন।

শিক্ষার্থীরা স্বতঃস্ফুর্তভাবে আলোচনায় অংশগ্রহণ করে বিভিন্ন বিষয়ে তাদের মতামত ও সমস্যার কথা তুলে ধরেন এবং প্রতিটি পরীক্ষায় অংশগ্রহন সহ নিয়মিত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে উপস্থিত থাকার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। তরুণ প্রজন্মকে ইতিবাচক পথে পরিচালিত করতে এবং অপরাধমুক্ত সমাজ গড়তে এ ধরনের সচেতনতামূলক কার্যক্রম ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে। ওসির এই ব্যতিক্রমী উদ্যোগ শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মাঝে প্রশংসিত হয়েছে।




ভারতের পশ্চিমবঙ্গে তালিকা থেকে বাদ ৯০ লাখ ৮৩ হাজার ৩৪৫জন ভোটার, সিংহভাগই মুসলিম

ডিএনবি নিউজ আন্ত: ডেস্ক-

ভারতের পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচন দুয়ারে হাজির। এর আগে ভোটার তালিকা সংশোধন (এসআইআর) ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে উত্তেজনা তুঙ্গে উঠেছে। গত সোমবার (৬ এপ্রিল) গভীর রাতে ভারতের নির্বাচন কমিশন প্রকাশিত জেলা-ভিত্তিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, পশ্চিমবঙ্গে মোট ৯০ লাখ ৮৩ হাজার ৩৪৫ জনের নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়েছে। তাদের সিংহভাগই মুসলিম বলে উঠে এসেছে একটি সমাজ-গবেষণা প্রতিষ্ঠানের বিশ্লেষণে।

কমিশন সূত্রে জানা গিয়েছে, বিশেষ সংশোধন প্রক্রিয়ার আওতায় মোট ৬০ লাখ ৬ হাজার ৬৭৫ জন ভোটারকে ‘বিবেচনাধীন’ তালিকায় রাখা হয়েছিল। তাদের মধ্যে যাচাই-বাছাইয়ের পর ৩২ লাখ ৬৮ হাজার ১১৯ জনের নাম পুনরায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, অন্যদিকে ২৭ লাখ ১৬ হাজার ৩৯৩ জনের নাম চূড়ান্তভাবে বাদ দেওয়া হয়েছে।

এর আগে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি প্রকাশিত প্রথম চূড়ান্ত তালিকাতেই ৬৩ লাখ ৬৬ হাজার ৯৫২ জনের নাম বাদ পড়েছিল। ফলে সব মিলিয়ে বাদ পড়া নামের সংখ্যা ৯০ লাখের গণ্ডি পেরিয়ে গেল। যদিও তৃণমূল সভানেত্রী ও মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেছিলেন প্রায় ১ কোটি ২০ লক্ষ ভোটারের নাম বাদ যাবে।

জেলা অনুযায়ী পরিসংখ্যানে দেখা যাচ্ছে, মুর্শিদাবাদেই সবচেয়ে বেশি ৪ লাখ ৫৫ হাজার ১৩৭ জনের নাম বাদ পড়েছে। তার পরেই রয়েছে উত্তর ২৪ পরগনা (৩ লাখ ২৫ হাজার ৬৬৬) এবং মালদহ (২ লাখ ৩৯ হাজার ৩৭৫)। এই তিন জেলাতেই ছাঁটাইয়ের মাত্রা তুলনামূলক বেশি।

তবে এখনও প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হয়নি বলেই জানিয়েছে কমিশন। বিবেচনাধীন তালিকার ৫৯ লাখ ৮৪ হাজার ৫১২ জনের তথ্য প্রকাশিত হলেও, প্রায় ২২ হাজারের বেশি ক্ষেত্রে ই-স্বাক্ষর বাকি রয়েছে। সেই প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হলে চূড়ান্ত সংখ্যায় কিছু পরিবর্তন হতে পারে বলেও ইঙ্গিত মিলেছে।

এদিকে পশ্চিমবঙ্গের সমাজ গবেষণা সংস্থা ‘সবর ইনস্টিটিউট’এর বিশ্লেষণে দেখা যাচ্ছে, ভোটার তালিকা সংশোধনের ফলে যাদের নাম বাদ পড়েছে, তাদের সিংহভাগই মুসলমান। বিশেষ করে বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারীর আসন নন্দীগ্রামে যে ভোটারদের নাম বাদ পড়েছে, তাদের ৯৫.৫ শতাংশই মুসলিম।

২০২১ সালের বিধানসভা ভোটের তথ্য বলছে নন্দীগ্রামে আড়াই লক্ষের বেশি ভোটারের মধ্যে প্রায় ২৬ শতাংশ মুসলিম। প্রথমে ২৮ ফেব্রুয়ারিতে প্রকাশিত খসড়া তালিকায় নন্দীগ্রাম বিধানসভা কেন্দ্রের ১০ হাজারেরও বেশি ভোটারের নাম বিবেচনাধীন হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছিল। পরে অতিরিক্ত তালিকা মিলিয়ে নন্দীগ্রামের ভোটার তালিকা থেকে মোট ২,৮২৬ জনের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ২৭০০ জন মুসলিম এবং ১২৬জন অমুসলিম। অর্থাৎ বাদ যাওয়া নামের ৯৫.৫ শতাংশ মুসলমান, জানিয়েছে ‘সবর ইনস্টিটিউট’।

গবেষণা সংস্থাটি জানিয়েছে, ‘এর ফলে এসআইআর প্রক্রিয়া এবং তার প্রভাব সম্পর্কে গুরুতর উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। বাদ পড়া ব্যক্তিদের মধ্যে ৪৮.৯ শতাংশ নারী এবং ৫১.১ শতাংশ পুরুষ, যা থেকে বোঝা যায় যে এই সমস্যা লিঙ্গ নির্বিশেষে একটা নির্দিষ্ট সম্প্রদায়কে অসামঞ্জস্যপূর্ণভাবে প্রভাবিত করে।’

এছাড়াও মুসলমান অধ্যুষিত অন্যান্য জেলাতেও বহু সংখ্যক মুসলমান ভোটারের নাম বাদ গেছে তালিকা থেকে। বাদ পড়া ভোটারদের মধ্যে আছেন বাংলার নবাব মীর জাফরের পরিবারের উত্তরসূরীদের অন্তত দেড়শো জন। আবার মালদা জেলার মুসলমান অধ্যুষিত সুজাপুর আর মোথাবাড়িতে গত সপ্তাহে যে ব্যাপক বিক্ষোভ হয়েছিল, সেই দুটি অঞ্চলের প্রায় দুই লাখ ভোটারের নাম বাদ পড়েছে তালিকা থেকে।

এদিকে এসআইআর-এ ৯০ লাখ নাম বাদ দেওয়া নিয়ে নির্বাচন কমিশন ও মোদি সরকারের প্রতি তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন তৃণমূল সভানেত্রী ও মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তার অভিযোগ, টার্গেট করে বেছে বেছে নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। তার বক্তব্য, দেখে দেখে মতুয়া, রাজবংশী, সংখ্যালঘু- একটা সম্প্রদায়ের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে।

সূত্র: বিবিসি বাংলা, কলকাতা২৪




‘যেকোনো মূল্যে গণভোটের রায়কে আদায় করেই ছাড়ব’ মন্তব্য-ডা. শফিকুর রহমান

ডিএনবি নিউজ ডেস্ক:

যেকোনো মূল্যে গণভোটের রায় বাস্তবায়ন করা হবে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও সংসদের বিরোধী দলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান।

সোমবার (০৬ এপ্রিল) জাতীয় প্রেসক্লাবে জাগপার ৪৬তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন তিনি।

সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠের অহমিকায় বিএনপি ফ্যাসিবাদী আচরণ করছে, বলে মন্তব্য করে, আমির অভিযোগ করেন, ‘শুধু ব্যক্তি পরিবর্তনের জন্য অভ্যুত্থান সংগঠিত হয়নি। অভ্যুত্থান পুরো ফ্যাসিবাদী কাঠামোর বিরুদ্ধে ছিল। কিন্তু জাতীয় নির্বাচনের ফলাফল হাইজ্যাক করেছে একটি পক্ষ।’

হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি বলেন, ‘যেকোনো মূল্যে গণভোটের রায়কে আমরা আদায় করেই ছাড়ব। এই প্রজন্ম ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে সজাগ রয়েছে। তাদেরকে সঙ্গে নিয়ে যেকোনো অন্যায়ের বিরুদ্ধে আমরা লড়াই করবো।’

তিনি আরও বলেন, ‘জ্বালানি সংকট ও হাম সংক্রমণ ইস্যু নিয়ে সংসদে কথা বলতে গেলেই আমাদের মুখ বন্ধ করে দেয়া হয়। আমাদের নোটিশ আলোচনার জন্য উত্থাপন করা হয় না। সরকার বলছে, জ্বালানি সংকট নেই। কিন্তু আমি নিজের গাড়ির জন্যই প্রয়োজন মাফিক তেল পাই না।’

বিরোধী দলীয় নেতা আরও বলেন, ‘সংসদে জনগণের ভাগ্য নিয়ে যেন কেউ ছিনিমিনি খেলতে না পারে, সেজন্য আমরা লড়াই করে যাব।’




১৩৩টি অধ্যাদেশ নিয়ে সংসদে আলোচনা চান বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান

ডিএনবি নিউজ ডেস্ক :

১৩৩টি অধ্যাদেশ নিয়ে সংসদে বিস্তারিত আলোচনা করতে চান জামায়াতে ইসলামীর আমির ও সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান।

তিনি বলেন, ১৩৩টি অধ্যাদেশ যাচাই-বাছাই করার জন্য গঠিত হয়েছিল একটি বিশেষ কমিটি। সেই কমিটির পেশ করা রিপোর্ট আপনি (স্পিকার) অনুমোদন করেছেন। সেখানে কিছু অধ্যাদেশ ‘ল্যাপস’ (বিলুপ্ত) করার প্রস্তাব রয়েছে। আমরা আগের নোটিশের সঙ্গে মিলিয়ে দেখলাম, যে অধ্যাদেশগুলো ল্যাপস করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে সেগুলো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং ‘জুলাই স্পিরিটের’ সঙ্গে সম্পৃক্ত।

রোববার (৫ এপ্রিল) জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের দ্বিতীয় কার্যসূচি শুরুর আগে স্পিকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করে তিনি এ প্রস্তাব উত্থাপন করেন। তিনি বলেন, আমরা এই বিষয়ে আলোচনা করতে চাই।

বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, আজকের কার্যসূচিতে ‘সম্পূরক কার্যসূচি’ নামে একটি পাতা পেয়েছি। সেখানে কিছু বিল সামনে আনা হয়েছে এবং আমার ধারণা, সেগুলো অধ্যাদেশকে কেন্দ্র করেই আনা হয়েছে। যদি তাই হয়ে থাকে, তবে যে অধ্যাদেশগুলো ল্যাপসের তালিকায় রয়েছে সেগুলো নিয়ে সংসদে আলোচনার সুযোগ তৈরি করে দেওয়া হোক।

এমন প্রস্তাবের প্রেক্ষিতে স্পিকার আইনমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করলে আইনমন্ত্রী শুরুতে বলেন, বিরোধীদলীয় নেতা যে দুটি বিলের ব্যাপারে কথা বলেছেন, সেগুলো কোনো অধ্যাদেশ থেকে উৎসারিত নয়। এগুলো মন্ত্রণালয় থেকে পাঠানো একদম নতুন (ফ্রেশ) বিল, যা ওই ১৩৩টি অধ্যাদেশের অন্তর্ভুক্ত নয়। উনারা যেটা বলছেন আমরা ল্যাপস করেছি, কোনো কোনোটা হেফাজত করা হচ্ছে। আমরা পরবর্তীতে বিল আকারে অধিকতর যাচাই বাছাই করে আপনাদের সামনে সেগুলো আনবো। সেটা যথাসময় উত্তর দেব।

১৩৩টি অধ্যাদেশের বিষয়ে তিনি পরবর্তীতে বিল আকারে যাচাই-বাছাই করে সংসদে উত্থাপন করার কথা জানান।

এরপর স্পিকার সংসদ সদস্যদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, আমাদের ৯ তারিখের মধ্যে প্রায় ৯৩টি বিল পাস করতে হবে। আপনাদের অনেক বক্তব্য সেখানে থাকবে, আমরা বিষয়টি পরবর্তীতে দেখব।

আছরের নামাজের বিরতির পর আইনমন্ত্রী স্পিকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করে তার আগের বক্তব্যের সংশোধনী দেন। তিনি বলেন, একটি ছোট সংশোধন আছে। বিরোধীদলীয় নেতা যে দুটি আইনের কথা বলছেন, সেগুলো ওই ১৩৩টি অধ্যাদেশের মধ্যেই ছিল।

এরপর বিরোধীদলীয় নেতা পুনরায় আলোচনার প্রসঙ্গ টেনে বলেন, যে অধ্যাদেশগুলো ল্যাপস করার কথা বলা হয়েছে, আমাদের মতে তার প্রতিটি অতি গুরুত্বপূর্ণ এবং জনগণের অধিকার সংরক্ষণের সঙ্গে সম্পর্কিত। তাই আমার সুস্পষ্ট প্রস্তাব হচ্ছে, এগুলো সংসদে উত্থাপন করা হোক এবং আমরা এতে আলোচনা করতে চাই।

বিরোধীদলীয় নেতার এই প্রস্তাবের প্রেক্ষিতে আইনমন্ত্রী বলেন, প্রত্যেকটি অধ্যাদেশই সংসদে উত্থাপিত হবে। ফার্স্ট রিডিং ও সেকেন্ড রিডিংয়ের সময় আলোচনার সুযোগ থাকবে। বর্তমানে যে দুটি অধ্যাদেশ বিল আকারে এসেছে, সেগুলোর বিষয়ে বিশেষ কমিটি নিঃশর্তভাবে পাস করার পক্ষে মত দিয়েছিল।




সর্বাঙ্গ ব্যথা, ওষুধ দেবো কোথায়, হাসপাতালে এসে দেখি, হাসপাতালেরও সর্বাঙ্গে ব্যথা: ডেপুটি স্পিকার

ডিএনবি নিউজ ডেস্ক:-

ডেপুটি স্পিকার ও স্থানীয় সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বলেছেন, আমরা এই দেশেরেই মানুষ, এতএব আমরা একটু সদয়ভাবে যদি নিজেকে চিন্তা করি, সেবার মানসিকতা নিয়ে যদি এগোতে পারি তাহলে ভালো হবে।

নেত্রকোনার দুর্গাপুরে শনিবার (০৪ এপ্রিল) উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন তিনি। এ-সময় আরও উপস্থিত ছিলেন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক রাফিকুজ্জামান, উপজেলা নির্বাহী অফিসার আফরোজা আফসানা, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ভারপ্রাপ্ত স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. তানজিরুল ইসলাম রায়হান,  ওসি কামরুল হাসান প্রমুখ।

ব্যারিস্টার কায়সার কামাল আরও বলেন, রাষ্ট্রের সাংবিধানিক কিছু বাধ্যবাধকতা আছে, তার মধ্যে স্বাস্থ্য সেবাটা একটা পরে। এই স্বাস্থ্যের অবস্থা এতো ভয়াবহ, এটা আসলে খুবই দুঃখজনক। আমরা দুঃখজনক বলে যদি বসে থাকি তাহলে হয়তো হবে না। আমি কথাই বলি সর্বাঙ্গ ব্যথা, ওষুধ দেবো কোথায়। হাসপাতালে এসে দেখি, হাসপাতালেরও সর্বাঙ্গে ব্যথা।

তিনি বলেন বলেন, এই এলাকার এমপি হিসেবে দেড় মাস হয়েছে আমি দায়িত্ব নিয়েছি। আমি চেষ্টা করব সর্বোচ্চটা দিয়ে যেন স্বাস্থ্য সেবাটা নিশ্চিত করতে পারি। পাশাপাশি এর মধ্যেই আমরা চেষ্টা করবো যারাই আছেন এই হাসপাতালে, কমবেশি অভিযোগ আছে। দেখেছি এর আগেও দুর্নীতি দমন কমিশনের একটা অভিযান হয়েছে হাসপাতালের জন্য, এটা বদনামের বিষয়। যিনি এখন দায়িত্বে আছেন, এছাড়াও যারা দায়িত্বশীল ব্যক্তিরা আছেন আমরা যদি তার মাপকাঠিতে আরেকটু এগিয়ে যাই, তাহলে হয়তো এই ধরনের পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হবে না।

চিকিৎসা সেবার কথা বলতে গিয়ে তিনি বলেন, আমি আউটডোরে প্রবেশ করে দেখলাম রোগীদের কিছু কমন ঔষধ দেওয়া হচ্ছে। যে ক’জনকে দেখছি, সবার হাতেই একই ঔষধ। এ বিষয়ে সতর্ক হতে হবে।

চিকিৎসকদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, রোগীদেরকে আপনারা মা-বোন ভাই ও সন্তান হিসেবে বিবেচনা করেন, তাহলে ভালো হয়। যারা যতদিন দায়িত্বে থাকবেন, তাদের জন্য শ্রেষ্ঠ সময় হয় এই প্রত্যাশা রাখছি।




চলমান যুদ্ধে ইসরায়েল ছেড়ে পালাচ্ছে দখলদার ইহুদিরা!

ডিএনবি নিউজ আন্ত: ডেস্ক-

ফিলিস্তিনি ভূখণ্ড দখল করে ১৯৪৮ সালে গড়ে তোলা ইসরায়েল নামে দখলদার ইহুদি রাষ্ট্রটির জন্মের পর একাধিকবার মুসলিমদের সঙ্গে যুদ্ধ-সংঘাতে জড়িয়েছে। জয়-পরাজয় যা-ই হোক না কেন, ভূমি ছাড়ার দৃশ্য বা নিজেদের মধ্যে অনৈক্য কখনও দেখেনি তেলআবিব। কিন্তু, ২০২৩ সালে হামাসের দীর্ঘদিনের পুঞ্জিভূত ক্ষোভের বিস্ফোরণ ইহুদিদের ভিত কাঁপিয়ে দেয়। ধ্বংস হওয়ার ভয় ঢুকেছে তাদের অন্তরে।

এরপর টানা দু’বছর ধরে ফিলিস্তিনিদের ওপর চালানো ইসরায়েলি নৃশংস গণহত্যাও ‘ব্যাক ফায়ার’ করেছে। ইরানের হামলায় টিকতে না পেরে অবৈধ এ ভূখণ্ড ছাড়তে ইহুদিদের মধ্যে প্রতিযোগিতা শুরু হয়। ঢল নামে সীমান্ত এলাকা ও বিমানবন্দরগুলোতে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রকে নিয়ে ইরানে যৌথ আগ্রাসন শুরু করে ইসরায়েল। এতে বেশ ক্ষুব্ধ খোদ ইসরায়েলিরাই।

যুদ্ধের চিত্র বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, মার্কিন-ইসরায়েলি ভয়াবহ হামলায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে ইরানের। দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনিসহ সরকার ও সামরিক বাহিনীর উচ্চপদস্থ অনেক নেতার মৃত্যু হয়েছে। সব মিলিয়ে ইরানে নিহতের সংখ্যা দুই হাজার ছুঁই ছুঁই। এ ছাড়া সামরিক ও বেসামরিক হাজার হাজার অবকাঠামো বিধ্বস্ত হয়েছে, কিন্তু হাল ছাড়েনি ইরানিরা।

ধীরে ধীরে যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে একাট্টা হয়ে উঠছে সাধারণ নাগরিকরা। সর্বশেষ গত ৩ এপ্রিল ইরানে মার্কিন বিমান বিধ্বস্ত হওয়ার পর কিছু ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে, যেখানে উপজাতি নারীদেরও বন্দুক হাতে মার্কিন পাইলটকে খুঁজতে দেখা যায়। এই দৃশ্য ইরানিদের যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে একাট্টা ও প্রতিবাদী হওয়ার স্পষ্ট প্রমাণ।

অপর দিকে ইসরায়েলের চিত্র পুরোপুরি উল্টো। ইরানের রেজিম চেঞ্জ বা শাসন ব্যবস্থা পরিবর্তনের জন্য আগ্রাসন শুরু করলেও সরকারবিরোধী আন্দোলন হচ্ছে ইসরায়েলে। দফায় দফায় প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর পদত্যাগ, যুদ্ধবন্ধসহ বিভিন্ন দাবিতে রাস্তায় নামছে ইসরায়েলিরা। সর্বশেষ শনিবার (৪ এপ্রিল) যুদ্ধবিরোধী ব্যানার বহন করে এবং প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে স্লোগান দিয়ে তেল আবিবে শত শত ইসরায়েলি ইরানের সঙ্গে যুদ্ধের প্রতিবাদে সমাবেশ করেছে। ইরানের সঙ্গে সংঘাতের কারণে গণজমায়েতের ওপর বিধিনিষেধ থাকা সত্ত্বেও বিক্ষোভকারীরা একটি কেন্দ্রীয় চত্বরে জড়ো হন। তাদের হাতে থাকা প্ল্যাকার্ডে লেখা ছিল: ‘বোমা নয়—আলোচনা করুন! অন্তহীন যুদ্ধ বন্ধ করুন!’

ইসরায়েলি-ফিলিস্তিনি তৃণমূল গোষ্ঠী ‘স্ট্যান্ডিং টুগেদার’ এর সহ-পরিচালক অ্যালন-লি গ্রিন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘আমরা এখানে ইরান, লেবানন ও গাজায় চলমান যুদ্ধ বন্ধের পাশাপাশি পশ্চিম তীরে গণহত্যা বা পরিকল্পিত আক্রমণ বন্ধের দাবি জানাতে এসেছি।’

গ্রিন বলেন, ‘ইসরায়েলে সবসময়ই যুদ্ধ লেগে থাকে। তাই যদি আমাদের বিক্ষোভ করতে দেওয়া না হয়, তবে আমাদের কখনোই কথা বলতে দেওয়া হবে না।’

এর আগে ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম ওয়াইনেটের এক প্রতিবেদনে জানা যায়, যুদ্ধ অবসানের দাবিতে গত ২৮ মার্চও ইসরাইলজুড়ে হাজার হাজার বিক্ষোভকারী সমাবেশ করেছে। তেল আবিব, হাইফা ও জেরুজালেমে এ প্রতিবাদী কর্মসূচি পালিত হয়।

বিক্ষোভকারীরা জানান, চলমান ক্ষেপণাস্ত্র হামলার হুমকি সত্ত্বেও তারা ‘জীবনের জন্য’ এই বিক্ষোভে অংশ নিয়েছেন এবং যুদ্ধকালীন সরকারি নীতির তীব্র বিরোধিতা করছেন।

ইরানে মার্কিন-ইসরায়েলি আগ্রাসন শুরু হওয়ার পর জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়েছে ইসরায়েলিদের। ক্রমেই বাড়ছে মূল্যস্ফীতি। জ্বালানির মূল্য, খাবারের দাম, পরিবহন খরচ-সবই বেড়েছে। সঙ্গে বিঘ্ন ঘটছে বাণিজ্যে।

ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র হামলা থেকে বাঁচতে ইসরায়েলিদের দিন-রাতের অধিকাংশ সময় থাকতে হচ্ছে বাঙ্কারে, যা তাদের উৎপাদন কমিয়ে ভোগ বাড়িয়ে দিয়েছে।

যেকোনো একটি শহরে ছোট্ট একটি ড্রোন বা একটি রকেট আঘাত হানলে সর্বোচ্চ ক্ষতি হতে পারে একটি ফ্ল্যাটের বা কোনো একটি দোকানের। কিন্তু, আকাশে সেই বস্তুর আগমন শনাক্ত হওয়ার পর যে সাইরেন বাজে তাতে একটি শহরের সব বাসিন্দাকে পালাতে হয়। এক মাসের বেশি সময় ধরে এ লুকোচুরি খেলা খেলতে গিয়ে তাদের জীবন নাজেহাল হয়ে পড়েছে।

অপরদিকে কমছে আয়। উৎপাদন ব্যাহত হওয়া ও কাজ করতে না পারায় কমে যাচ্ছে ইসরায়েলিদের আয়। এর বিপরীতে বাড়ছে জীবনযাত্রার ব্যয়। এ ছাড়া যুদ্ধ চালাতে গিয়ে প্রতি সপ্তাহে ইসরায়েলের ৩০০ কোটি ডলারের বেশি খরচ হচ্ছে, যা তাদের সামগ্রিক অর্থনীতিতে ভয়াবহ সংকট তৈরি করছে। এতে কমে যাচ্ছে মুদ্রার মানও।

এসব কারণে যুদ্ধের বিরুদ্ধে ফুঁসে উঠছে ইসরায়েলিরা। ঘরের মধ্যে ইরানি ক্ষেপণাস্ত্রের হামলায় মৃত্যুর চেয়ে তারা রাস্তায় প্রতিবাদ করে জীবন দিতে চায়, তাই ঝুঁকি নিয়ে রাস্তায় নেমে যাচ্ছে। এ ছাড়া তাদের উল্লেখযোগ্য অংশ ভবিষ্যত নিয়ে অনিশ্চয়তায় ভুগছে, ডুবে যাচ্ছে হতাশার সাগরে।




এবার বরিশালের চরমোনাই মাহফিলে অংশ নিতে এনসিপি’র নেতৃবৃন্দ

সাবেক অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উপদেষ্টা ও এনসিপির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার নেতৃত্বে দলের একটি প্রতিনিধি দল বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) সকালে বরিশালের চরমোনাই দরবারে পৌঁছেছে। তারা চরমোনাই মাহফিলে অংশ নিতে সেখানে যান।

জানা গেছে, ফজর নামাজের পর পীর সাহেব চরমোনাই মুফতী সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম বয়ানে অংশ নেন। বয়ান শেষে তিনি এনসিপি প্রতিনিধি দলের সঙ্গে সংক্ষিপ্ত এক ঘরোয়া মতবিনিময় সভায় অংশ নেন।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় মিডিয়া সেলের প্রধান সমন্বয়ক কেএম শরীয়াতুল্লাহ।

এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন ইসলামী আন্দোলনের যুগ্ম মহাসচিব ও মুখপাত্র মাওলানা গাজী আতাউর রহমান, যুগ্ম মহাসচিব ইঞ্জিনিয়ার আশরাফুল আলম, এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক সারোয়ার তুষার, যুগ্ম সদস্য সচিব ফয়সাল মাহমুদ শান্ত, কেন্দ্রীয় সংগঠক ও ন্যাশনাল ওলামা এলায়েন্সের সদস্য সচিব মাওলানা সানাউল্লাহ খান, কেন্দ্রীয় সদস্য হামজা মাহবুব, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কেন্দ্রীয় সভাপতি রিফাত রশীদ, ছাত্রনেতা ও সাবেক ডাকসু ভিপি প্রার্থী আব্দুল কাদের এবং জাতীয় ছাত্র শক্তির নেতা যোবায়ের হোসেনসহ অন্যান্যরা।

এনসিপি নেতারা বৃহস্পতিবার সারাদিন চরমোনাইয়ে অবস্থান করবেন। বাদ জোহর মাহফিলের মূল মঞ্চে বক্তব্য রাখার কথা রয়েছে এনসিপির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার।




চোখের সামনে তলিয়ে গেল চরমোনাই মাহফিলে আসা মানিক ৪ লঞ্চটি,কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি

ডিএনবি নিউজ ডেস্ক:

বরিশালের চরমোনাইয়ে মাহফিলে আসা একটি লঞ্চ ঘাটে বাঁধা অবস্থায় সবার সামনেই তলিয়ে গেছে। তবে লঞ্চটিতে তখন কোনো যাত্রী ছিলেন না। এতে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।

বুধবার (১ এপ্রিল) দুপুর ১২টার দিকে এই লঞ্চডুবির ঘটনা ঘটে।

ডুবে যাওয়া এমভী মানিক ৪ লঞ্চটি গতকাল মঙ্গলবার রাতে চরমোনাই মাহফিলে যাত্রী নিয়ে মুন্সিগঞ্জ থেকে চরমোনাই’র উদ্দেশ্যে ছেড়ে আসে। লঞ্চটি ভোর রাতে যাত্রী নামিয়ে দিয়ে ঘাটে অবস্থান করছিল। ভাটার কারণে পানি কমে গেলে লঞ্চের পেছনের দিকটা আটকে গিয়ে লঞ্চটি ডুবে যায়। তবে এসময় কোনো যাত্রী বা লঞ্চ সংশ্লিষ্ট কেউ ভেতরে না থাকায় কোন হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।

লঞ্চ সংশ্লিষ্ট ও প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে লঞ্চটি মজবুত করে বেঁধে না রাখায় পানি কমে যাওয়ার সাথে সাথে এ দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। লঞ্চের ভেতরে রাখা মুসল্লিদের বেশকিছু মালামাল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানা গেছে।

বিষয়টি নিশ্চিত করে বিবৃতি দিয়েছেন, চরমোনাই মাহফিলের মিডিয়া সমন্বয়ক কেএম শরীয়াতুল্লাহ।

প্রসঙ্গত, দুপুরে উদ্বোধনী বয়ানের মধ্যদিয়ে তিন দিনব্যাপী বার্ষিক মাহফিল শুরু হয়েছে।