খাগড়াছড়ির ঘটনায় ‘ভারতের ইন্ধন’ দেখছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা




আগামী মাসে সপরিবারে ওমরাহ পালনে যাচ্ছেন তারেক রহমান

ডিএনবি নিউজ ডেস্ক:

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান আগামী মাসে সপরিবারে পবিত্র ওমরাহ পালন করবেন। ওমরাহ পালন শেষে নভেম্বরে তার দেশে ফেরার পরিকল্পনা রয়েছে বলে লন্ডনে তারেক রহমানের ঘনিষ্ঠ বিএনপির একাধিক ব্যক্তি এ তথ্য জানিয়েছেন।

ওই ব্যক্তিদের বরাতে জানা গেছে, তারেক রহমান তার স্ত্রী জোবাইদা রহমান ও মেয়ে জাইমা রহমানকে নিয়ে ২০ অক্টোবর সৌদি আরবের উদ্দেশে যাত্রা করবেন। ওমরাহ পালন শেষে লন্ডনে ফিরে সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে নভেম্বরের তৃতীয় সপ্তাহে তিনি (তারেক রহমান) দেশে ফেরার পরিকল্পনা করছেন বলে ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।

এদিকে, ব্রিটেনে অবস্থানরত বিএনপির একাধিক নেতা তারেক রহমানের সঙ্গে ওমরাহ করতে যাওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করলেও পরিবারের সদস্যদের বাইরে একই ফ্লাইটে আর কারা যাচ্ছেন, সেই তালিকা এখনও চূড়ান্ত হয়নি বলে জানা গেছে।

এর আগে, তারেক রহমান সর্বশেষ ২০১৬ সালের সেপ্টেম্বরে পবিত্র হজ পালনের উদ্দেশ্যে সৌদি আরবে যান। সে সময় খালেদা জিয়া তার সঙ্গে যোগ দিয়েছিলেন। তার পূর্বে ২০১৪ সালেও তিনি খালেদা জিয়ার সঙ্গে ওমরাহ পালন করেছিলেন।




এবার ফিলিস্তিনকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি দিল ইউরোপের আরেক দেশ- সান মারিনো

এবার স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে ফিলিস্তিনকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি দিল ইউরোপের দেশ সান মারিনো। শনিবার নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৮০তম অধিবেশনে এ ঘোষণা দেন সান মারিনোর পররাষ্ট্রমন্ত্রী লুকা বেক্কারি। খবর আরব নিউজের।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “গত ১৫ মে আমাদের সংসদ সর্বসম্মত সমর্থনসহ সরকারকে এ বছরের মধ্যে ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছিল। আজ এই পরিষদের সামনে আমরা সেই নির্দেশ পূরণের ঘোষণা দিচ্ছি। সান মারিনো আনুষ্ঠানিকভাবে ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দিচ্ছে।’

বেক্কারি জাতিসংঘের প্রস্তাব অনুযায়ী নিরাপদ ও আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সীমানার ভেতরে ফিলিস্তিনকে একটি সার্বভৌম ও স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতির ঘোষণা দেন।

তিনি আরো বলেন, “একটি রাষ্ট্র পাওয়া ফিলিস্তিনি জনগণের অধিকার। এটি হামাসের জন্য কোনো পুরস্কার নয় এবং কখনো হতে পারে না।”

তিনি গাজা ও পশ্চিম তীরে চলমান মানবিক বিপর্যয়ের জন্য দুঃখ প্রকাশ করে এটিকে ‘অসহনীয়’ এবং ‘আমাদের সময়ের সবচেয়ে বেদনাদায়ক ও দীর্ঘস্থায়ী ট্র্যাজেডিগুলোর মধ্যে একটি’ হিসেবে অভিহিত করেন।

বেক্কারি ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর ইসরায়েলের ওপর হামাসের হামলার নিন্দা জানান এবং সব জিম্মিকে অবিলম্বে ও নিঃশর্ত মুক্তির আহ্বান পুনর্ব্যক্ত করেন।

তিনি আরো একবার তার দেশের দাবি পুনরুল্লেখ করেন, গাজায় অবিলম্বে স্থায়ী যুদ্ধবিরতি, পূর্ণ ও বাধাহীন মানবিক সহায়তার প্রবেশাধিকার এবং পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনি ভূমিতে ইসরায়েলের অবৈধ দখলদারিত্বের অবসান, যা যে কোনো ‘বাস্তবসম্মত শান্তির সম্ভাবনাকে’ নস্যাৎ করছে।

বেক্কারি আরো বলেন, “গাজায় নির্বিচারে বোমাবর্ষণ, অনাহার ও বাস্তুচ্যুতির মাধ্যমে ফিলিস্তিনি জনগণের সম্মিলিত শাস্তিকে কোনোভাবেই সমর্থন করা যায় না। আমরা যদি ঐক্য ও দৃঢ়তার সঙ্গে পদক্ষেপ না নিই, তাহলে মর্যাদা ও নিরাপত্তার সঙ্গে দুটি জাতির পাশাপাশি বসবাসের দৃষ্টিভঙ্গি হারিয়ে যাবে।”

উল্লেখ্য, সম্প্রতি জাতিসংঘের বৈশ্বিক সম্মেলনে ফিলিস্তিনকে স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে বেশ কয়েকটি পশ্চিমা দেশ। ফ্রান্স ও সৌদি আরবের আয়োজিত ওই সম্মেলনে যুক্তরাজ্য, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া, পর্তুগাল, ফ্রান্স, বেলজিয়াম, লুক্সেমবার্গ, মাল্টা, আন্দোর্রা ও মোনাকো ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দিয়েছে । এর আগে চলতি বছরের ২০ মার্চ মেক্সিকো সরকার জানায়, তারা ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দিয়েছে।




পাকিস্তানের জ্বালানি পরিবহনকারী ট্যাঙ্কারে হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল

ডিএনবি নিউজ আন্তর্জাতিক ডেস্ক:

ইসরায়েলের চালানো ড্রোন হামলার শিকার হয়েছে একটি জ্বালানি পরিবহনকারী ট্যাঙ্কার, যাতে ২৪ জন পাকিস্তানি ছাড়াও মোট ২৭ জন ক্রো ছিলেন। ইয়েমেনের একটি বন্দরে অবস্থানকালে এ হামলা চালানো হয়। শনিবার (২৮ সেপ্টেম্বর) পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মোহসিন নকভি বিষয়টি গণমাধ্যমে নিশ্চিত করেন।

মন্ত্রী জানান, ১৭ সেপ্টেম্বর ওই জাহাজটি ইয়েমেনের রাস ইসা বন্দরে নোঙর করেছিল, যা বর্তমানে হুতি বিদ্রোহীদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। ট্যাঙ্কারে কর্মরত ক্রুদের মধ্যে ২৪ জন পাকিস্তানি নাগরিক, দুজন শ্রীলঙ্কান ও একজন নেপালি ছিলেন। জাহাজটির ক্যাপ্টেনও পাকিস্তানের নাগরিক।

ড্রোন হামলার পরপরই ট্যাঙ্কারে বিস্ফোরণ ঘটে। তবে পরিস্থিতি দ্রুত সামাল দিয়ে আগুন নিভিয়ে ফেলেন জাহাজের ক্রুরা। মোহসিন নকভি বলেন, ‘এরপর হুথি নৌযান ট্যাঙ্কার থামায় এবং ক্রুদের জাহাজে বন্দি করে রাখে।’

তিনি আরও জানান, বর্তমানে জাহাজ ও এর আরোহীরা হুতিদের নিয়ন্ত্রণ থেকে মুক্ত হয়ে ইয়েমেনের জলসীমার বাইরে চলে গেছে।

ঘটনার পর যেসব পক্ষ সহযোগিতা করেছে, তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান নকভি। তিনি বলেন, ‘আমাদের নাগরিকদের নিরাপদ মুক্তি নিশ্চিত করতে নিরাপত্তা সংস্থাগুলো দিন-রাত অতুলনীয় পরিশ্রম করেছে।’ একইসঙ্গে তিনি ওমান ও সৌদি আরবে অবস্থানরত পাকিস্তানি কূটনৈতিকদের ভূয়সী প্রশংসা করেন।

এর আগে, পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছিল, জাহাজের ২৪ জন পাকিস্তানি ক্রু নিরাপদে আছেন এবং তারা ইয়েমেনি জলসীমা ত্যাগ করছেন। ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পরপরই ইয়েমেনের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে ইসলামাবাদ।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ভাষ্য অনুযায়ী, জাহাজে অবস্থানরত প্রত্যেকের পরিবারের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রক্ষা করা হয়েছে। বর্তমানে ট্যাঙ্কারটি যাত্রা শুরু করেছে এবং সব ক্রু নিরাপদে রয়েছে।




বোমা মেরে মসজিদ উড়িয়ে দেওয়ার পরিকল্পনাকারী সাবেক মার্কিন সেনা রিচার্ড ম্যাক আজ ধর্মপ্রাণ মুসলিম!

যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক মেরিন সেনা রিচার্ড ম্যাক ম্যাককিনি এক সময় ইসলাম ও মুসলমানদের চরম ঘৃণা করতেন। ২০০১ সালের নাইন-ইলেভেন ঘটনার পর তার মনে ইসলাম বিদ্বেষ জন্ম নেয়। ঘৃণা এতটাই তীব্র হয়ে ওঠে যে, তিনি নিজ শহরের একটি মসজিদে বোমা হামলার পরিকল্পনা করেন। কিন্তু সেই মসজিদেই যখন তিনি প্রাথমিক অনুসন্ধানের জন্য যান, তখন মুসলমানদের আচরণ ও ভালোবাসা তাকে বদলে দেয়। আজ সেই মানুষটিই একজন ধর্মপ্রাণ মুসলিম, এমনকি এখন সেই মসজিদের সভাপতির দায়িত্বও পালন করে আসছেন।

সেনাবাহিনীর চাকরি শেষে ইন্ডিয়ানা অঙ্গরাজ্যের মান্সি শহরে ফিরে আসেন ম্যাককিনি। তখন তার মনে ইসলাম সম্পর্কে নেতিবাচক ধারণা আরও গভীর হয়। তিনি ঠিক করেন, নিজের শহরের মান্সি ইসলামিক সেন্টার-এ একটি বোমা রেখে সেটিকে উড়িয়ে দেবেন।

তবে হামলার আগে পরিকল্পনা ও তথ্য সংগ্রহের জন্য তিনি মসজিদে যান “গোয়েন্দা সেজে”। তার ধারণা ছিল, মুসলমানরা তাকে বিদ্বেষপূর্ণ আচরণ করবে, যা তার হামলার পরিকল্পনাকে নৈতিক বৈধতা দেবে।

কিন্তু ঘটনাটি ঘটে সম্পূর্ণ বিপরীতভাবে। মসজিদে গিয়ে তিনি পান উষ্ণ অভ্যর্থনা, ভালোবাসা এবং খোলামেলা আলাপের পরিবেশ। মুসলিম সদস্যরা তার সঙ্গে খোলামেলা কথা বলেন, তাকে সাদর আমন্ত্রণ জানান এবং কোনোভাবেই তাকে অবজ্ঞার চোখে দেখেন না।

এরপর টানা আট সপ্তাহ ধরে তিনি ইসলাম সম্পর্কে জানতে থাকেন, কোরআন-এর অনুবাদ পড়েন এবং মুসলমানদের সঙ্গে সময় কাটান।

অবশেষে তিনি ইসলাম গ্রহণ করেন এবং নাম রাখেন মুহাম্মদ ম্যাককিনি। বর্তমানে তিনি মান্সি ইসলামিক সেন্টার-এর বোর্ড প্রেসিডেন্ট, অর্থাৎ মসজিদের প্রধান দায়িত্বে রয়েছেন।

তার জীবনের এই পরিবর্তন নিয়ে নির্মিত হয়েছে একটি প্রামাণ্যচিত্র (ডকুমেন্টারি ফিল্ম) — “স্ট্রেঞ্জার অ্যাট দ্য গেট” (Stranger at the Gate) — যা আন্তর্জাতিকভাবে প্রশংসিত হয়েছে এবং অস্কার মনোনয়নও পেয়েছে।

এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন: “আমি যাদের ধ্বংস করতে চেয়েছিলাম, তারাই আমাকে সবচেয়ে বেশি ভালোবেসেছে।”
“ইসলাম আমাকে শান্তি দিয়েছে, আর মুসলমানরা আমাকে নতুন জীবন।”

এই ঘটনা বিশ্বজুড়ে একটি শক্তিশালী বার্তা দেয় ঘৃণার জবাব ঘৃণা নয়, বরং ভালোবাসা ও সহানুভূতিই পারে মন পরিবর্তন করতে। আর মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) আমাদের সেই শিক্ষাই দিয়েছেন।




ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দিলো যুক্তরাজ্য-কানাডা ও অস্ট্রেলিয়া, স্বীকৃতি দেওয়া দেশের সংখ্যা দাঁড়ালো ১৫০

ফিলিস্তিনকে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে একযোগে স্বীকৃতি দিলো তিন প্রভাবশালী দেশ — যুক্তরাজ্য, কানাডা ও অস্ট্রেলিয়া। রোববার (২১ সেপ্টেম্বর) তিনটি দেশ পর্যায়ক্রমে এ ঘোষণা দেয়।

এক ভিডিওবার্তায় আনুষ্ঠানিকভাবে ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতির ঘোষণা দেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কেয়ার স্টারমার। তিনি জানান, দুই রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানকে পুনরুজ্জীবিত করতেই লন্ডনের এই সিদ্ধান্ত।

এদিকে, যৌথ বিবৃতিতে ফিলিস্তিনকে স্বাধীন ঘোষণা করে নিজেদের সিদ্ধান্ত জানায় অস্ট্রেলিয়া। প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজ ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী পেনি অং স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়।

এর আগে, জি-সেভেন জোটভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে প্রথম হিসেবে ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দেয় কানাডা। এ নিয়ে ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দেওয়া দেশের সংখ্যা দাঁড়ালো ১৫০।




নির্বাচন পদ্ধতি নিয়ে সিদ্ধান্ত নেবে রাজনৈতিক দলগুলো: প্রেসসচিব শফিকুল আলম

প্রধান উপদেষ্টার প্রেসসচিব শফিকুল আলম বলেছেন, আসন্ন নির্বাচনে পিআর ব্যবস্থা নাকি বর্তমান পদ্ধতি—এ সিদ্ধান্ত রাজনৈতিক দলগুলোই নেবে। এ বিষয়ে সরকারের অতিরিক্ত মন্তব্য না করাই ভালো।

রোববার (২১ সেপ্টেম্বর) গবেষণা সংস্থা ইনোভেশনের জরিপের ফলাফল উপস্থাপন অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে তিনি এ মন্তব্য করেন।

প্রেসসচিব বলেন, জরিপের পরিসংখ্যান প্রমাণ করছে সরকারের প্রতি জনগণের আস্থা রয়েছে। জরিপে ৯৫ শতাংশ মানুষ ভোট দিতে চাওয়ার বিষয়টি প্রমাণ করে যে আসন্ন নির্বাচন অন্তর্ভুক্তিমূলক হবে। “বাংলাদেশে কারও সাধ্য নেই নির্বাচনের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তোলার,” যোগ করেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, সবাই ভোট দিতে আসলে ভালো নির্বাচন হওয়া স্বাভাবিক।

ইনোভেশনের জরিপে দেখা যায়, দেশের ৬৯.৯ শতাংশ মনে করেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার একটি নিরপেক্ষ নির্বাচন আয়োজন করতে সক্ষম হবে।




আজ ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দিচ্ছে যুক্তরাজ্য

ডিএনবি নিউজ আন্তঃ ডেস্ক:

ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দেওয়ার ঘোষণা দিতে যাচ্ছে যুক্তরাজ্য। দেশটির প্রধানমন্ত্রী স্যার কিয়ার স্টারমার এই ঘোষণা দেবেন। রোববার (২১ সেপ্টেম্বর) এ ঘোষণা আসতে পারে বলে নিশ্চিত করেছে ব্রিটেনের সরকারি সূত্র।

রোববার এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি।

সংবাদমাধ্যমটি বলছে, ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার রোববার বিকেলে এক বিবৃতিতে ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে যুক্তরাজ্যের স্বীকৃতি দেওয়ার ঘোষণা দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

এর আগে চলতি বছরের জুলাইয়ে তিনি ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, সেপ্টেম্বরের মধ্যে যদি ইসরায়েল গাজায় যুদ্ধবিরতিতে রাজি না হয় এবং দীর্ঘমেয়াদি টেকসই শান্তিচুক্তির প্রতিশ্রুতি না দেয়, তবে যুক্তরাজ্য তাদের অবস্থান পাল্টাবে। এটি ব্রিটিশ পররাষ্ট্রনীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন, কারণ এতদিন ধরে দেশটির সরকারগুলো ধারাবাহিকভাবে বলছিল, ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের স্বীকৃতি আসবে কেবল শান্তি প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে এবং সর্বোচ্চ প্রভাব ফেলতে পারে এমন সময়ে।

এদিকে এই সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনা করেছে ইসরায়েলি সরকার, বন্দিদের পরিবার এবং কিছু কনজারভেটিভ নেতা। ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু বলেছেন, এমন পদক্ষেপ “সন্ত্রাসবাদকে পুরস্কৃত করবে”। তবে ব্রিটিশ মন্ত্রীরা বলছেন, দীর্ঘমেয়াদি শান্তি চুক্তির আশা বাঁচিয়ে রাখতে পদক্ষেপ নেওয়াটা নৈতিক দায়িত্ব।

যুক্তরাজ্যের সরকারি সূত্র জানিয়েছে, সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে গাজায় পরিস্থিতি ভয়াবহভাবে খারাপ হয়েছে। তারা ক্ষুধা ও সহিংসতার ছবি তুলে ধরে স্বীকৃতির পক্ষে কথা বলেছেন। জাতিসংঘের এক কর্মকর্তার মতে, গাজা সিটিতে ইসরায়েলের সর্বশেষ স্থল অভিযান ছিল “বিধ্বংসী”, যা লাখো মানুষকে পালাতে বাধ্য করেছে।

গত সপ্তাহে জাতিসংঘের তদন্ত কমিশন গাজায় ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে গণহত্যার অভিযোগ তোলে। যদিও ইসরায়েল এই অভিযোগকে “বিকৃত ও মিথ্যা” বলে প্রত্যাখ্যান করে। একইসঙ্গে পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি বসতি সম্প্রসারণকেও স্বীকৃতির সিদ্ধান্তের প্রধান কারণ হিসেবে দেখছে ব্রিটিশ সরকার।

যুক্তরাজ্যের বিচারমন্ত্রী ডেভিড ল্যামি বলেছেন, পশ্চিম তীরে অবৈধ বসতি সম্প্রসারণ ও সহিংসতা দুই রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানের সম্ভাবনাকে ধ্বংস করছে। বিশেষ করে বিতর্কিত ই১ বসতি প্রকল্পের দিকে ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, এটি কার্যকর হলে ফিলিস্তিনি রাষ্ট্রের সম্ভাবনা শেষ হয়ে যাবে।




খুলনা মহানগরীর এক ইমামকে রাজকীয় বিদায়

ডিএনবি নিউজ ডেস্ক:

খুলনা মহানগরীর পশ্চিম টুটপাড়া জামে মসজিদের ইমাম মাওলানা আব্দুস সালামের কর্মজীবন শেষে রাজকীয় বিদায় দিয়েছে এলাকাবাসী। গতকাল শুক্রবার (১৯ সেপ্টেম্বর) জুমার নামাজ শেষে মসজিদ কমিটির উদ্যোগে পাগড়ি পরিয়ে ও ফুলেল শুভেচ্ছা দিয়ে তাকে বিদায় জানানো হয়। দীর্ঘ ৩৭ বছর ৮ মাস ইমামের দায়িত্ব পালন শেষে ৮৫ বছর বয়সে অবসরে গেলেন তিনি।

তার বিদায়ের দিন জুমার নামাজ শেষে মসজিদে তৈরি হয় এক আবেগঘন পরিবেশ। দীর্ঘদিনের ইমামকে হারানোর বেদনায় চোখ ভিজে ওঠে বহু মুসল্লির।

জানা যায়, মাওলানা আব্দুস সালাম ১৯৮৭ সালে পশ্চিম টুটপাড়া জামে মসজিদে ইমাম হিসেবে যোগ দেন। এরপর থেকে একনিষ্ঠভাবে ইসলামের দাওয়াত ও নামাজের ইমামতি করে গেছেন তিনি। এর আগে খুলনা আলিয়া কামিল মাদ্রাসায় দীর্ঘদিন শিক্ষকতা করেছেন। প্রায় ১৫ বছর আগে শিক্ষকতা থেকে অবসর নিলেও মসজিদে ইমামতির দায়িত্ব পালন করে গেছেন আজ অবধি। কিন্তু বয়সজনিত নানা শারীরিক জটিলতা এবং দাঁড়িয়ে নামাজ পড়তে অক্ষম হয়ে পড়ায় এবার দায়িত্ব থেকে অবসর নিলেন তিনি।

টুটপাড়া জামে মসজিদের খতিব হাফেজ মাওলানা আবুল খায়েরের উপস্থাপনায় মাওলানা আব্দুস সালামের বিদায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন খুলনার দারুল উলুম মাদ্রাসার মোহতামিম হাফেজ মাওলানা মোসতাক আহমেদ। বিশেষ অতিথি ছিলেন মুফতি জিয়াউর রহমান। মসজিদের প্রধান উপদেষ্টা ও প্রতিষ্ঠাতা সদস্য খান আব্দুল আজিজের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন পশ্চিম টুটপাড়া জামে মসজিদের মোতাওয়াল্লি এস এম শামছুল আরিফ ও ইসলামিয়া জামে মসজিদের সভাপতি কামরুল ইসলাম।

নামাজ শেষে মাওলানা আব্দুস সালাম বিষাদ ভারাক্রান্ত হৃদয়ে সবার দোয়া কামনা করেন। তিনি বলেন, শারীরিক অসুস্থতার কারণে আর দাঁড়িয়ে নামাজ পড়তে পারছি না। তাই দায়িত্ব ছেড়ে দিচ্ছি। আল্লাহ যেন আমাকে দাঁড়িয়ে নামাজ পড়ার তৌফিক দেন। সবার কাছে সেই দোয়া চাই।

পরে তাকে ফুল দিয়ে সাজানো গাড়িতে পুরো টুটপাড়া এলাকায় শোভাযাত্রা করে ঘোরানো হয়। মোটরসাইকেল বহরসহ মুসল্লিরা তাকে নগরীর ছোট খালপারের বাসায় পৌঁছে দেন। এই ব্যতিক্রমী আয়োজনকে এলাকাবাসী এক অনন্য দৃষ্টান্ত হিসেবে দেখছেন।




একমাত্র রাষ্ট্রক্ষমতায় ইসলামকে চাই, কোনো খুনিকে নয়: ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ

ডিএনবি নিউজ ডেস্ক :
৪ দফা দাবি আদায়ের লক্ষ্যে বিক্ষোভ মিছিলের আয়োজন করেছে বাংলাদেশ ইসলামী আন্দোলনের ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ শাখা। বৃহস্পতিবার (১৮ সেপ্টেম্বর) জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের উত্তর গেট থেকে বিক্ষোভ শুরুর আগে আয়োজিত সমাবেশে বক্তারা বলেন— “ইসলামকে রাষ্ট্রক্ষমতায় দেখতে চাই, কোনো খুনিকে নয়।”

দুপুরে নেতাকর্মীরা দলে দলে সমাবেশস্থলে জড়ো হন। জোহরের নামাজের পর কোরআন তিলাওয়াতের মধ্য দিয়ে শুরু হয় বিক্ষোভ-মিছিল পূর্ব সমাবেশ।

বক্তারা বলেন, সংস্কারের নামে দেশে তামাশা চলছে। শিশুদের গান শেখানোর পরিবর্তে প্রতিটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বাধ্যতামূলক ধর্মীয় শিক্ষক নিয়োগ দিতে হবে। অন্যথায় রাজপথে কঠোর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।

তারা আরও বলেন, সংস্কার ছাড়া নির্বাচন হতে পারে না। নির্বাচন হতে হবে পিআর পদ্ধতিতে এবং জুলাই সনদের আইনের ভিত্তিতে। যারা নির্বাচন বানচাল করতে চায়, জনগণ তাদের পরবর্তী নির্বাচনে বঙ্গোপসাগরে নিক্ষেপ করবে।

দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত রাজপথে থাকার ঘোষণা দেন বক্তারা।

ঐকমত্য কমিশনে আলোচনা চলাকালেই জামায়াতসহ একাধিক ইসলামী দল রাজপথে কর্মসূচি পালন করছে। বৃহস্পতিবার বায়তুল মোকাররমের উত্তর ও দক্ষিণ গেটসহ বিভিন্ন স্থানে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, জামায়াতে ইসলাম, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসসহ সাতটি ইসলামী দল সমাবেশ ও বিক্ষোভ মিছিল করেছে।

জোহরের পর ইসলামী আন্দোলন উত্তর গেটে এবং আসরের পর জামায়াত দক্ষিণ গেটে সমাবেশ করেছে। অন্যান্য পাঁচ দলও পৃথক সময়ে একই কর্মসূচি পালন করে।

এই ইসলামী দলগুলোর অভিন্ন দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে— জুলাই সনদের আইনি ভিত্তিতে নির্বাচন, পিআর পদ্ধতির বাস্তবায়ন, নির্বাচনে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিতকরণ, জুলাই-আগস্ট গণহত্যার বিচার কার্যকর করা, বিশেষ ট্রাইব্যুনালে জাতীয় পার্টি ও ১৪ দলের বিচার এবং বিচার চলাকালে তাদের কার্যক্রম নিষিদ্ধকরণ।

ঘোষণা অনুযায়ী, আগামী শুক্রবার বিভাগীয় শহরে এবং ২৬ সেপ্টেম্বর সারাদেশের জেলা ও উপজেলায় বিক্ষোভ মিছিল কর্মসূচি পালন করবে দলগুলো।