এবার পাসের হারে এগিয়ে মাদরাসা বোর্ড

ডিএনবি নিউজ ডেস্ক:

এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশিত হয়েছে। ৯টি সাধারণ ও মাদরাসা এবং কারিগরি বোর্ড মিলিয়ে ১১টি শিক্ষা বোর্ডে এবার গড় পাসের হার ৫৮ দশমিক ৮৩ শতাংশ। সব বোর্ডের মধ্যে মাদরাসা বোর্ড পাসের হারে এগিয়ে। মাদরাসা বোর্ডে পাসের হার ৭৫.৬১। যদিও এই হার গত বছরের তুলনায় কম।

বৃহস্পতিবার (১৬ অক্টোবর) সকাল ১১টায় স্ব-স্ব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও ওয়েবসাইটে একযোগে এ ফলাফল প্রকাশ করা হয়।

প্রকাশিত ফলাফলে দেখা গেছে, এবার আলিমে পাসের হার ৭৫ দশমিক ৬১ শতাংশ। যেখানে গত বছর ছিল ৯৩ দশমিক ৪০ শতাংশ।

ফলে এবার শিক্ষার্থীর পাসের হার কমেছে। এছাড়া এ বছর আলিমে মোট জিপিএ পেয়েছেন ৪ হাজার ২৬৮। যেখানে গত বছর ছিল ৯ হাজার ৬১৩ জন।

সাধারণ শিক্ষা বোর্ডগুলোর মধ্যে ঢাকা বোর্ডে পাসের হার ৬৪.৬২ শতাংশ, রাজশাহী বোর্ডে পাসের হার ৫৯.৪০ শতাংশ, কুমিল্লা বোর্ডে পাসের হার ৪৮.৮৬ শতাংশ, যশোর বোর্ডে পাসের হার ৫০.২০ শতাংশ, চট্টগ্রাম বোর্ডে পাসের হার ৫২.৫৭ শতাংশ, বরিশাল বোর্ডে পাসের হার ৬২.৫৭ শতাংশ, সিলেট বোর্ডে পাসের হার ৫১.৮৬ শতাংশ, দিনাজপুর বোর্ডে পাসের হার ৫৭.৪৯ শতাংশ এবং ময়মনসিংহ বোর্ডে পাসের হার ৫১.৫৪ শতাংশ। আর কারিগরি শিক্ষা বোর্ডে পাসের হার ৬২.৬৭ শতাংশ।




যুদ্ধবিরতির পর কেমন হতে যাচ্ছে গাজার শাসনব্যবস্থা

ডিএনবি নিউজ আন্তঃ ডেস্ক:

অবশেষে যুদ্ধবিরতি কার্যকরের মাধ্য দিয়ে টানা দুই বছরের ইসরাইলি আগ্রাসন থেকে মুক্তি পাচ্ছে গাজাবাসী। এখন আলোচনা হচ্ছে ট্রাম্পের ২০ দফা প্রস্তাবে দ্বি-স্তরভিত্তিক শাসনব্যবস্থা নিয়ে। যেখানে বলা হয়েছে- নিত্য প্রয়োজনীয় বিষয়গুলো ফিলিস্তিনি কমিটি দেখভাল করলেও, অর্থনীতি আর প্রতিরক্ষার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে ‘বোর্ড অব পিস’। যার নেতৃত্বে থাকবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও সাবেক ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী টনি ব্লেয়ার।

তবে, এক যৌথ বিবৃতিতে গাজায় বিদেশি শাসন মেনে না নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে হামাসসহ ফিলিস্তিনের কয়েকটি স্বাধীনতাকামী গোষ্ঠীগুলো।

এমতাবয়স্থায় প্রশ্ন উঠছে, কেমন হতে যাচ্ছে গাজার শাসনব্যবস্থা?

এদিকে, হামাস-ইসরাইল যুদ্ধবিরতির পর গাজা উপত্যকা থেকে আংশিকভাবে সেনা প্রত্যাহার শুরু করেছে ইসরায়েল। নিজ ভূমিতে ফিরছে বাস্তুচ্যুত গাজাবাসী। চলছে হামাসের হাতে বন্দি ইসরাইলিদের মুক্তির প্রক্রিয়াও।

এতোসব অগ্রগতি সত্ত্বেও ট্রাম্প প্রস্তাবিত ২০ দফা শান্তি চুক্তির অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়েই রয়েছে অস্পষ্টতা। যার মধ্যে সবচেয়ে আলোচনা হচ্ছে যুদ্ধপরবর্তী গাজার শাসনব্যবস্থা নিয়ে। হামাসকে বাদ দিয়ে সেখানে একটি দুই-স্তরের শাসনব্যবস্থা গড়ে তোলার বিষয়ে আলোচনা চলছে।

এ বিষয়ে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষক ড. সানাম ওয়াকিল বলেন, ‘শুনেছি গাজায় একটি দ্বি-স্তরীয় শাসনব্যবস্থা নিয়ে আলোচনা হচ্ছে। বলা হচ্ছে, উপত্যকার দৈনন্দিন সেবা পরিচালনা করবে ফিলিস্তিনিদের একটি কমিটি। ওপরে থাকবে ‘বোর্ড অব পিস’। যার নেতৃত্বে থাকবেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প আর সাবেক ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী টনি ব্লেয়ার। ফিলিস্তিনি কমিটিকে নির্দেশনা দেওয়ার পাশাপাশি প্রতিরক্ষা ও অর্থনৈতিক বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন তারা। কার্যত এটিই হবে গাজার অঘোষিত সরকার।’

ট্রাম্পের ২০ দফা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘এ মুহূর্তে দৃশ্যমান অগ্রগতির চেয়ে প্রশ্নই বেশি। ট্রাম্পের ২০ দফা প্রস্তাবে গাজায় আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা বাহিনী গঠন করার কথা বলা হয়েছে। হামাসের নিরাস্ত্রীকরণ, ইসরাইলি সেনা প্রত্যাহার ও একটি ফিলিস্তিনি নাগরিক পুলিশ বাহিনী গঠনসহ বিভিন্ন দায়িত্ব পালন করবে তারা। তবে, এ বিষয়ে এখনো বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।’

ড. সানাম ওয়াকিল আরও বলেন, ‘এই পরিকল্পনা এখনই স্থায়ী শান্তির নিশ্চয়তা দিতে পারবে এমনটা মনে হচ্ছে না। সম্ভাবনা থাকলেও পরিকল্পনায় এখনো ফাঁক রয়ে গেছে। এখানে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের মনোযোগ প্রয়োজন। পাশাপাশি দরকার আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় ও আঞ্চলিক নীতিনির্ধারকদের সক্রিয় অংশগ্রহণ।’

তবে বিশ্লেষকদের মতে, শুধু শাসনব্যবস্থাই নয়, হামাসের নিরস্ত্রীকরণসহ গুরুত্বপূর্ণ আরও বেশকিছু বিষয়েও বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি প্রস্তাবে।

এদিকে, এক যৌথ বিবৃতিতে গাজার শাসনব্যবস্থা সম্পূর্ণরূপে ফিলিস্তিনিদের অভ্যন্তরীণ বিষয় বলে দাবি করেছে ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাস, ইসলামিক জিহাদ (পিআইজে) এবং দ্য পপুলার ফ্রন্ট ফর দ্য লিবারেশন অব প্যালেস্টাইন (পিএফএলপি)। এ ব্যাপারে বিদেশি হস্তক্ষেপ মানতে নারাজ তারা।

এ পরিস্থিতিতে ট্রাম্পের প্রস্তাবের ভিত্তিতে গাজায় স্থায়ী শান্তি ফিরবে কি না তা নিয়েই তৈরি হয়েছে সংশয়।

হোয়াইট হাউজ জানিয়েছে, আগামী শুক্রবার দ্বিতীয় দফার আলোচনায় অংশ নিতে মিসরে যেতে পারেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।




আইনের শাসন কাকে বলে এই নির্বাচনে দেখাতে চাই: সিইসি

ডিএনবি নিউজ আর্ন্তজাতিক ডেস্ক:

বাংলাদেশের প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দীন ভোট গ্রহণকারী কর্মকর্তাদের উদ্দেশে বলেছেন, ‘আসুন, একটা উদাহরণ সৃষ্টি করি এই দেশে যে আইনের শাসন কাকে বলে আমরা এই ইলেকশনে (ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন) এটা দেখাতে চাই। তাতে যা হওয়ার হবে।’

আজ (শনিবার ১১ অক্টোবার) সকালে চট্টগ্রাম নগরে ভোট গ্রহণকারী কর্মকর্তাদের নিয়ে অনুষ্ঠিত এক কর্মশালায় প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ কথা বলেন। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন তিনি। ‘নির্বাচনপ্রক্রিয়ায় ভোট গ্রহণকারী কর্মকর্তাদের দায়িত্ব পালনে চ্যালেঞ্জসমূহ নিরূপণ ও উত্তরণ’ শীর্ষক এ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয় নগরের আসকার দিঘি এলাকার আঞ্চলিক লোকপ্রশাসন প্রশিক্ষণকেন্দ্র মিলনায়তনে। কর্মশালার আয়োজন করে সিবিটিইপি প্রকল্প (নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় আইসিটি ব্যবহারে নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের সক্ষমতা বৃদ্ধি)।

কর্মশালায় প্রিসাইডিং কর্মকর্তাদের উদ্দেশে প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দীন বলেন, ‘যেদিন নির্বাচন হবে, সেদিন মনে রাখবেন, আপনি হচ্ছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার। আইনগতভাবে সর্বময় ক্ষমতা আপনাকে দেওয়া আছে। যদি গোলমাল করে, তাহলে ভোটকেন্দ্র বন্ধ করে দেবেন। তিনটা করলে তিনটা। দরকার হলে পুরো সংসদীয় আসন বাতিল করে দেবেন।’

প্রধান নির্বাচন কমিশনার বলেন, ‘আমরা সহজে ছাড়ার পাত্র নই। সহজে ছাড়ব না। আপনাদের পেছনে আমরা আছি। ইলেকশন কমিশন ফুল সাপোর্ট দিয়ে যাবে আপনাদের।’

নির্বাচনের বাতাস বইতে শুরু করেছে উল্লেখ করে প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দীন বলেন, ‘সবাই মিলে একটা সুন্দর নির্বাচন করতে হবে। এ জন্য ভোট গ্রহণের দায়িত্বপ্রাপ্ত রিটার্নিং কর্মকর্তা, প্রিসাইডিং কর্মকর্তাদের ক্ষমতায়িত করা হচ্ছে। সব ক্ষমতা দেওয়া হবে তাঁদের। ক্ষমতা ব্যবহার করতে হবে। যদি ক্ষমতা ব্যবহার না করেন, তাহলে অপরাধ হিসেবে ধরে নেওয়া হবে এবং যথাসময়ে উপযুক্ত ব্যবস্থা না নেন, তাহলে তা ভালোভাবে নেওয়া হবে না। ক্ষমতা থাকা যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি ক্ষমতা ব্যবহারও গুরুত্বপূর্ণ। যতক্ষণ আইন ও বিধি অনুযায়ী কাজ করবেন, ততক্ষণ নির্বাচন কমিশন পাশে থাকবে।’

নির্বাচনে বিভিন্ন ধরনের চ্যালেঞ্জের কথা উল্লেখ করে প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দীন বলেন, ‘দেশে যখন নির্বাচন হয়, তখন বড় কিছু চ্যালেঞ্জ থাকে। যেমন প্রশাসনিক চ্যালেঞ্জ, নিরাপত্তার চ্যালেঞ্জ, আইনগত চ্যালেঞ্জ, প্রযুক্তিগত চ্যালেঞ্জ। তবে ভোট গ্রহণের জন্য নিরাপত্তা বা সিকিউরিটি চ্যালেঞ্জ হচ্ছে বড় চ্যালেঞ্জ। এটি বিশাল আকারে দেখা দিয়েছে এবং এটা নিয়ে সবাই দুশ্চিন্তার মধ্যে আছে। এটি মোকাবিলাটা আমাদের জন্য একটা বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দাঁড়াবে।’

জাতীয় নির্বাচন করা শুধু একা নির্বাচন কমিশনের দায়িত্ব নয় বলে মন্তব্য করেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দীন। তিনি বলেন, ‘জাতীয় নির্বাচন জাতীয়ভাবেই করতে হবে। এটি নির্বাচন কমিশনের একার কাজ নয়। এটি জাতীয়, দায়িত্ব সবার। প্রশাসন, পুলিশসহ সবাই মিলে করতে হবে। সবার সহযোগিতা ও সমন্বয় দরকার। সুষ্ঠু ও সুন্দর নির্বাচনের জন্য সমন্বয় দরকার। নির্বাচন কমিশন সচিবালয় থেকে উপজেলা পর্যন্ত ইমার্জেন্সি সেল থাকবে।’

কর্মশালায় প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দীন আরও বলেন, ‘বেশির ভাগ প্রিসাইডিং কর্মকর্তা হচ্ছেন শিক্ষক। তাঁদের অনেকেই ক্রাইসিস ম্যানেজমেন্টের সঙ্গে পরিচিত নন। তাই এ রকম মুহূর্ত তৈরি হলে কীভাবে মোকাবিলা করতে হবে, তা প্রশিক্ষণ দিতে হবে। তবে পুলিশের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেছেন, গত ১৫ বছরে পুলিশকে ক্রাইসিস ম্যানেজমেন্ট মোকাবিলায় নিয়োজিত করা হয়নি। বিশেষ বিশেষ বাহিনী দিয়ে ক্রাইসিস ম্যানেজ করা হতো। সুতরাং পুলিশের মধ্যেও ক্রাইসিস ম্যানেজমেন্ট নিয়ে সমস্যা রয়েছে।’#

সূত্র: পার্সটুডে




ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ (সরাইল–আশুগঞ্জ) আসনে ধানের শীষের প্রার্থী হতে যাচ্ছেন মাওলানা জুনায়েদ আল হাবীব

ডিএনবি নিউজ ডেস্ক :

বিএনপির সহ-আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানার আসন ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ (সরাইল–আশুগঞ্জ) এ ধানের শীষের প্রার্থী হতে যাচ্ছেন মাওলানা জুনায়েদ আল হাবীব। তিনি কওমি মাদ্রাসাভিত্তিক প্রাচীন রাজনৈতিক সংগঠন জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের সহ-সভাপতি এবং হেফাজতে ইসলামের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব।

স্থানীয়ভাবে একজন বরেণ্য আলেম ও ইসলামি স্কলার হিসেবে তার রয়েছে ব্যাপক জনপ্রিয়তা। দীর্ঘদিন ধরে তিনি এ আসনে নির্বাচনী প্রস্তুতি ও প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন।

বিশ্বস্ত সূত্রে জানা গেছে, আসনটি তাকে দিয়ে দেওয়ার বিষয়ে বিএনপির পক্ষ থেকে ইতিবাচক সাড়া পাওয়া গেছে। তবে তার প্রার্থীতা এখনো নির্ভর করছে জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোটে পুনরায় যুক্ত হওয়া-না-হওয়ার সিদ্ধান্তের ওপর।

উল্লেখ্য, জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ (উবায়দুল্লাহ ফারুক–আফেন্দি) ২০২১ সালে বিএনপির বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ তুলে ২০ দলীয় জোট থেকে বেরিয়ে আসে। তবে সংগঠনটির বর্তমান নেতৃত্ব আগামী জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে বিএনপির সঙ্গে পুরোনো সম্পর্ক পুনরুদ্ধারের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

গত এক বছরে জমিয়ত ও বিএনপির লিয়াজো কমিটির মধ্যে জোট ও আসন সমঝোতা নিয়ে একাধিক বৈঠক হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

সম্প্রতি সরাইল উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় গণসংযোগকালে মাওলানা জুনায়েদ আল হাবীব বলেন, ‘১৯৮১ সালে হাফেজ্জী হুজুরের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের সময় থেকেই আমি রাজনীতির ময়দানে আছি। পরবর্তী প্রতিটি নির্বাচনে মুফতি আমিনীর প্রধান নির্বাচনী এজেন্ট হিসেবে কাজ করেছি। এই এলাকার মানুষ আমাকে ভালোভাবে চেনে, আমি প্রতিটি গ্রামে গিয়েছি। ইনশাআল্লাহ, জাতীয় নির্বাচনে আমি ভালো ফলাফল বয়ে আনতে পারব।’

তবে এই আসনে ধানের শীষের প্রতীকে লড়তে চান বিএনপি’র আরও নয়জন প্রার্থী। তাদের মধ্যে রয়েছেন—ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা, কেন্দ্রীয় বিএনপি সদস্য শেখ মো. শামীম, যুবদলের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এসএন তরুণ দে, আশুগঞ্জ উপজেলা বিএনপি সভাপতি শাহজাহান সিরাজ, সাবেক ছাত্রদল নেতা আহসান উদ্দিন খান শিপন, ডা. নাজমুল হুদা বিপ্লব, সরাইল উপজেলা বিএনপি সভাপতি মো. আনিসুল ইসলাম ঠাকুর ও সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট নুরুজ্জামান লস্কর তপু।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আসন সীমানা পুনর্র্নিধারণ নিয়ে চলমান বিতর্ক ও নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তের ফলে এলাকাবাসীর মধ্যে কিছুটা বিভক্তি তৈরি হয়েছে। এর সঙ্গে বিএনপির একাধিক আগ্রহী প্রার্থী থাকায় মনোনয়ন সংকট ও অভ্যন্তরীণ জটিলতাও তৈরি হয়েছে।

যদি মাওলানা জুনায়েদ আল হাবীবকে বিএনপি জোট থেকে ধানের শীষের প্রার্থী করা হয়, তাহলে তা জোটের ঐক্য ও পারস্পরিক আপসের প্রতীক হিসেবে কাজ করবে বলে মনে করছেন স্থানীয় ভোটাররা।

২০০১ সালের নির্বাচনে এ আসন থেকে চারদলীয় জোটের শরিক ইসলামী ঐক্যজোটের চেয়ারম্যান মুফতি ফজলুল হক আমিনী ধানের শীষ প্রতিকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন।

সংশ্লিষ্টদের ধারণা, আলেম–ওলামা ও ইসলামি জনতা অধ্যুষিত সরাইল–আশুগঞ্জ আসনে একজন আলেম প্রার্থীকে মনোনয়ন দেওয়ার মাধ্যমে বিএনপি ধর্মীয় ভোটব্যাংকে ইতিবাচক বার্তা দিতে পারে।




ইসরায়েল থেকে মুক্ত শহিদুল আলম, আজই ফিরছেন দেশে

ইসরায়েলের কারাগার থেকে মুক্ত হয়ে তুরস্কে চলে এসেছেন আলোকচিত্রী শহিদুল আলম। টার্কিশ এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইটে তিনি আজ শুক্রবার দুপুরে তুরস্কের ইস্তাম্বুলে পৌঁছান।

স্থানীয় সময় বেলা ২টা ২৫ মিনিটে (বাংলাদেশ সময় বিকেল ৫টা ২৫ মিনিট) শহিদুল আলমকে বহনকারী ফ্লাইটটি ইস্তাম্বুল বিমানবন্দরে অবতরণ করে বলে তুরস্কে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত এম আমানুল হক জানিয়েছেন। ইস্তাম্বুলে বাংলাদেশের কনসাল জেনারেল মো. মিজানুর রহমান বিমানবন্দরে শহিদুল আলমকে স্বাগত জানান।

রাষ্ট্রদূত আমানুল হক জানিয়েছেন, আজই ঢাকার উদ্দেশে যাত্রা করছেন শহিদুল আলম। ইস্তাম্বুলের স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৬টা ৪৫ মিনিটে টার্কিশ এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইট ঢাকা উদ্দেশে উড্ডয়ন করবে। ওই ফ্লাইটে দেশের পথে যাত্রা করবেন শহিদুল আলম। ফ্লাইটটি আগামীকাল শনিবার ভোর ৪টা ৫৫ মিনিটে ঢাকা পৌঁছাবে।

আলোকচিত্রী শহিদুল আলম স্বাধীন মিডিয়া প্রতিষ্ঠান দৃকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক। নাগরিক অধিকার নিয়েও সোচ্চার তিনি। গাজা অভিমুখী একটি নৌবহরে অংশ নিয়ে গত বুধবার ইসরায়েলি বাহিনীর হাতে আটক হন শহিদুল আলম।

ফিলিস্তিনে ইসরায়েলের নৃশংসতা বন্ধ এবং গাজায় ইসরায়েলি নৌ অবরোধ ভাঙার প্রত্যয় নিয়ে ‘ফ্রিডম ফ্লোটিলা কোয়ালিশন’ নামের একটি বৈশ্বিক প্ল্যাটফর্ম গাজা অভিমুখে ওই নৌযাত্রা শুরু করেছিল। ইসরায়েলি আগ্রাসন বন্ধের দাবিতে আত্মপ্রকাশ করা আরেক উদ্যোগ থাউজেন্ড ম্যাডলিনস টু গাজার আটটি নৌযানও এ যাত্রায় অংশ নিয়েছিল। মোট ৯টি নৌযানের এ বহরে বিভিন্ন দেশের রাজনীতিবিদ, সাংবাদিক, চিকিৎসক ও অধিকারকর্মীরা যোগ দিয়েছিলেন। সেই দলে ছিলেন আলোকচিত্রী শহিদুল আলম। গত বুধবার ওই নৌবহরে আক্রমণ করে সব অধিকারকর্মী ও নাবিককে ধরে নিয়ে যান ইসরায়েলি সেনারা।

পরে শহিদুল আলমসহ আটক অনেককে ইসরায়েলের কেৎজিয়েত কারাগারে নেওয়া হয়। ইসরায়েলে আটক হওয়ার পর থেকেই শহিদুল আলমের মুক্তি নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ সরকার জর্ডান, মিসর ও তুরস্কের মাধ্যমে কূটনৈতিক তৎপরতা চালিয়ে আসছিল।

কারামুক্ত হয়ে শহিদুল আলম আজই ইসরায়েল থেকে তুরস্কের উদ্দেশে যাত্রা করেন। শহিদুল আলমের মুক্তি ও ইসরায়েল থেকে তাঁর প্রত্যাবর্তনে সাহায্য করার জন্য তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়্যেব এরদোয়ানের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস।#




পবিত্র কুরআন শরীফ অবমাননাকারির ফাঁসির দাবীতে দুর্গাপুরে বিক্ষোভ মিছিল

দুর্গাপুর (নেত্রকোনা) প্রতিনিধি :

নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থী অপূর্ব পাল ধর্ম নিয়ে কটূক্তি এবং পবিত্র কুরআন অবমাননার প্রতিবাদে নেত্রকোনার দুর্গাপুরে বিক্ষোভ  মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার (০৮ অক্টোবর) বিকেলে দুর্গাপুর উপজেলার  যুবসমাজের আয়োজনে এই বিক্ষোভ মিছিল  ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। এতে সর্বস্তরের তৌহিদী জনতা অংশ গ্রহণ করেন।

বিক্ষোভ সমাবেশ ও মিছিলে বক্তারা বলেন, আমরা ৯০ শতাংশ মুসলমানদের দেশে বসবাস করি। এর পরও এই দেশে সম্প্রীতি নস্ট করার জন্য, বারবার অন্য ধর্মের লোকেরাই আল কুরআন অবমাননার ঘটনা ঘটাচ্ছে। আমরা কুরআন অবমাননাকারী অপুর্ব পালের ফাঁসি চাই। এই দেশে আর কেউ পবিত্র কুরআন অবমাননা করুক আমরা তা চাই না, কুরআনকে নিয়ে কটুক্তি করুক আমরা আর শুনতে চাইনা।

সমাবেশে মুফতি নুরে আলমের সভাপতিত্বে এবং জামাল উদ্দীন কারিমী‘র সঞ্চালনায়, অন্যদের মাঝে বক্তব্য রাখেন, মুফতি সাব্বির আহমেদ, যুবনেতা সম্রাট গণি, মুফতি রেজাউল করীম, মুফতি বরকত উল্লাহ্, মাওলানা ইমরান। আলোচনা শেষে দোয়া পরিচালনা করেন হাফেজ মাওলানা মনজুরুল হক।




দুর্গাপুর প্রেসক্লাবকে কম্পিউটার সেট দিলেন ব্যারিস্টার কায়সার কামাল

ডিএনবি নিউজ ডেস্ক :

নেত্রকোনার দুর্গাপুর প্রেসক্লাবকে একটি কম্পিউটার সেট প্রদান করেছেন কেন্দ্রীয় বিএনপি‘র আইন বিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার কায়সার কামাল। বুধবার (৮ অক্টোবর) বিকেলে প্রেসক্লাব নেতৃবৃন্দের কাছে ওই কম্পিউটার সেট হস্তান্তর করেন শিবগঞ্জ-দুর্গাপুর সেতু কমিটির সদস্যগণ।

কম্পিউটার সেট হস্তান্তর পুর্ব আলোচনায় প্রেসক্লাব সভাপতি তোবারক হোসেন খোকন এর সভাপতিত্বে, সাধারণ সম্পাদক মাসুম বিল্লাহ্ এর সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন, সেতু কমিটির সদস্য পঙ্কজ মারাক, প্রভাত সাহা, বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ও উপজেলা বিএনপি‘র সাবেক সভাপতি এম এ জিন্নাহ, উপজেলা বিএনপি‘র সহ:সভাপতি আব্দুল্লাহ আল মামুন মুকুল, সাংগঠনিক সম্পাদক আলহাজ¦ জামাল উদ্দিন মাস্টার, কুল্লাগড়া ইউনিয়ন বিএনপি‘র সাধারণ সম্পাদক মো. শাহা আলম এছাড়া অনুষ্ঠানে বিএনপি ও তার অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীগণ উপস্থিত ছিলেন।

আলোচনা সভায় এম এ জিন্নাহ বলেন, কেন্দ্রীয় বিএনপি’র আইন বিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার কায়সার কামালের উদ্যোগে জনস্বার্থে সোমেশ্বরী নদীতে কাঠের সেতু নির্মাণ করা হয়েছিলো। সেই সেতু থেকে আদায়কৃত টাকার মধ্যে সেতু নির্মান খরচ বাদে অবশিষ্ট টাকা বিভিন্ন সামাজিক, ধর্মীয় ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বিতরণ করা হচ্ছে। তারই অংশ হিসেবে দুর্গাপুর প্রেসক্লাবে একটি কম্পিউটার সেট প্রদান করা হয়েছে।

ঐতিহ্যবাহী দুর্গাপুর প্রেসক্লাবকে কম্পিউটার সেট প্রদান করায়, কেন্দ্রীয় বিএনপি‘র আইন বিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার কায়সার কামালের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন দুর্গাপুর প্রেসক্লাবের প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক্স মিডিয়ার সকল সাংবাদিকগণ।




ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচনের জন্য জনগণ প্রস্তুত: রুহুল কবির রিজভী

প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ পদে একটি ধর্মভিত্তিক দলের অনুগতদের বসানো হচ্ছে বলে অভিযোগ তুলেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।

তিনি বলেন, দল অনুগত প্রশাসন দিয়ে সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব হবে না। ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচনের জন্য জনগণ প্রস্তুত; তারা পূর্বের মতো ডামি নির্বাচন চায় না।

শনিবার সকালে ইঞ্জিনিয়ার্স এসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (এ্যাব) নবগঠিত কমিটির সদস্যদের নিয়ে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সমাধিতে শ্রদ্ধা শেষে এ কথা বলেন তিনি।

রিজভী বলেন, নতুন ইস্যু তৈরি করে জনগণের মাঝে বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা চলছে। ভ্রান্ত কথা বলে মিথ্যা পরিসংখ্যান দিয়ে জনগণকে বিভ্রান্ত করা যাবে না। গত ১৫ বছর কারা আপোষহীন লড়াই করেছে তা সাধারণ মানুষ জানে।




ক্ষমতাচ্যুত শাসকগোষ্ঠী ও তাদের দোসররা ফেব্রুয়ারির নির্বাচন চায় না: ড. ইউনূস

ডিএনবি নিউজ ডেস্ক:

বাংলাদেশের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, ক্ষমতাচ্যুত শাসকগোষ্ঠী ও তাদের দোসররা চুরি করা অর্থ ব্যবহার করে ভুয়া তথ্য ছড়ানোর মাধ্যমে দেশকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা চালাচ্ছেন। তিনি আরও বলেন, তারা ফেব্রুয়ারির নির্বাচন চায় না। কিছু আন্তর্জাতিক মহলও তাদের পৃষ্ঠপোষকতা করছে।

জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের সঙ্গে বৈঠকে তিনি এ অভিযোগ করেন। যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে স্থানীয় সময় সোমবার জাতিসংঘ সদর দপ্তরে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। গুতেরেস বাংলাদেশে চলমান গণতান্ত্রিক উত্তরণ ও সংস্কার প্রক্রিয়ায় তার পূর্ণ সমর্থন ও সংহতির অঙ্গীকার করেছেন।

রাজনৈতিক সংস্কার, আগামী ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচন, জুলাইয়ের গণ–অভ্যুত্থানে সংঘটিত নৃশংসতার দায় নিরূপণ, সংরক্ষণবাদী শুল্কনীতির কারণে বৈশ্বিক বাণিজ্য উদ্বেগ এবং ৩০ সেপ্টেম্বর (আজ) অনুষ্ঠেয় আন্তর্জাতিক রোহিঙ্গা সম্মেলনসহ নানা বিষয়ে বৈঠকে আলোচনা হয়।

প্রধান উপদেষ্টা অন্তর্বর্তী সরকারের নেওয়া সংস্কার পদক্ষেপ এবং অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন নিশ্চিতের অঙ্গীকার জাতিসংঘ মহাসচিবকে জানান। তিনি বলেন, আগামী কয়েক মাস অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নির্বাচন আয়োজনে আপনাদের সহযোগিতা প্রয়োজন।

এ সময় জাতিসংঘ মহাসচিব বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক উত্তরণ ও সংস্কার কর্মসূচির প্রতি দৃঢ় সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেন। পাশাপাশি রোহিঙ্গা সংকটের স্থায়ী সমাধানে বৈশ্বিক পর্যায়ে জাতিসংঘের ধারাবাহিক ভূমিকার প্রতিশ্রুতি দেন।#

সূত্র: পার্সটুডে




ট্রাম্পের ২০ দফা পরিকল্পনা; গাজায় যুদ্ধে পরাজয় থেকে ইসরায়েলকে রক্ষার চেষ্টা

আঞ্চলিক প্রতিরোধ গোষ্ঠীগুলো মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ২০ দফা গাজা পরিকল্পনাকে 'ইহুদিবাদী ইসরায়েলকে পরাজয় থেকে বাঁচানোর চেষ্টা' হিসেবে অভিহিত করেছে।

ডিএনবি নিউজ আন্ত: ডেস্ক-

ফিলিস্তিনের ইসলামি জিহাদ আন্দোলন, হামাস এবং ইয়েমেনের আনসারুল্লাহ ঘোষণা করেছে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের গাজা বিষয়ক নতুন পরিকল্পনা মূলত ইসরায়েলি শাসকগোষ্ঠীকে গাজার যুদ্ধে পরাজয় থেকে রক্ষা করার জন্য তৈরি করা হয়েছে।

দখলদারিত্বের নতুন নির্দেশিকা: ইসলামি জিহাদ

ইসলামি জিহাদ আন্দোলনের মহাসচিব জিয়াদ আল-নাখালা বলেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়োমিন নেতানিয়াহু’র যৌথ সংবাদ সম্মেলনের বিবৃতি দখলদারিত্ব অব্যাহত রাখার নির্দেশিকা ছাড়া আর কিছুই নয়।

তিনি আরও বলেন, ইসরায়েল যুক্তরাষ্ট্রের মাধ্যমে যেসব লক্ষ্য যুদ্ধে অর্জন করতে ব্যর্থ হয়েছে, তা রাজনৈতিকভাবে হাসিল করতে চাইছে। তাই এই তথাকথিত মার্কিন-ইসরায়েলি পরিকল্পনা আসলে গোটা অঞ্চলকে বিস্ফোরণের দিকে ঠেলে দেওয়ার নির্দেশনা।

হামাসের অবস্থান: অস্ত্র, বন্দি মুক্তি ও দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধবিরতি

একই বিষয়ে হামাস নেতা তাহের আল-নোনো আল-আরাবি টিভিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, প্রতিরোধের অস্ত্র ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার সঙ্গে অবিচ্ছেদ্যভাবে জড়িত। ‘ইসরায়েলি’ বন্দিদের মুক্তি- যুদ্ধের অবসান ও গাজা থেকে দখলদার বাহিনীর প্রত্যাহারের সঙ্গে সম্পর্কিত এবং এ বিষয়ে তারা আন্তরিক। তবে বন্দি মুক্তি অবশ্যই এমন এক চুক্তির অংশ হতে হবে যা যুদ্ধ শেষ করবে এবং দখলদার সেনাদের প্রত্যাহার নিশ্চিত করবে।

তিনি আরও জানান, হামাস দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধবিরতিতে প্রস্তুত এবং গাজা উপত্যকার জন্য স্বাধীন প্রশাসন গঠনে মিশরের প্রস্তাব মেনে নিয়েছে। একই সঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন, তারা মার্কিন পরিকল্পনাটি এমনভাবে বিবেচনা করবেন যাতে ফিলিস্তিনিদের অধিকার ও স্বার্থ রক্ষা হয়। হামাস যুদ্ধ দীর্ঘায়িত করতে চায় না এবং ফিলিস্তিনি স্বার্থবিরোধী নয় এমন যেকোনো প্রস্তাব তারা গুরুত্বের সঙ্গে অধ্যয়ন করবে। আল-নোনো স্পষ্ট করে বলেন, ফিলিস্তিনি জনগণ অপ্রাপ্তবয়স্ক নয় এবং তারা বাইরে থেকে কোনো অভিভাবকত্ব মেনে নেবে না।

হামাসের আরেক নেতা মাহমুদ মারদাউই বলেন, ট্রাম্পের পরিকল্পনা মূলত আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র স্বীকৃতির অগ্রযাত্রাকে বাধাগ্রস্ত করার চেষ্টা। ঘোষিত পরিকল্পনা অস্পষ্ট এবং এতে কোনো নিশ্চয়তা নেই।

তিনি জানান, হামাস এমন কোনো প্রস্তাব গ্রহণ করবে না যাতে ফিলিস্তিনি জনগণের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার ও গণহত্যা থেকে সুরক্ষা অন্তর্ভুক্ত নেই। মারদাউই আরও বলেন, ট্রাম্পের পরিকল্পনা এখনো হামাসের কাছে পৌঁছেনি, এমনকি কোনো ফিলিস্তিনি পক্ষও তা পায়নি। যদিও তারা পরিকল্পনাটি সরাসরি দেখেননি, তবু এর বিধানসমূহ স্পষ্টতই ‘ইসরায়েলি’ দৃষ্টিভঙ্গির প্রতিফলন।

আনসারুল্লাহর প্রতিক্রিয়া: হামাসকে বিচ্ছিন্ন করার প্রচেষ্টা

ইয়েমেনের আনসারুল্লাহ আন্দোলনের জ্যেষ্ঠ সদস্য মোহাম্মদ আল-ফারাহ এ সম্পর্কে বলেন, ট্রাম্পের গাজার নতুন যুদ্ধবিরতি পরিকল্পনা অবিবেচক এবং অকার্যকর। এর মূল উদ্দেশ্য হলো হামাসকে বিচ্ছিন্ন করা এবং বিশ্বব্যাপী ইসরায়েলবিরোধী ক্ষোভ নিয়ন্ত্রণ করা। তার মতে, এই পরিকল্পনার কোনো বাস্তবায়নযোগ্য কাঠামো নেই।

অনেক বিশ্লেষক ও ফিলিস্তিনি প্রতিরোধ গোষ্ঠীর দৃষ্টিতে ট্রাম্পের ২০ দফা পরিকল্পনা হলো গাজায় সামরিক ও রাজনৈতিক ব্যর্থতা থেকে ইসরায়েলি শাসনকে রক্ষার প্রচেষ্টা। ইসরায়েল গাজা যুদ্ধে তার সামরিক লক্ষ্যগুলো অর্জন করতে ব্যর্থ হয়েছে; যেমন প্রতিরোধের অবকাঠামো ধ্বংস করা, বন্দি ইসরায়েলিদের মুক্ত করা, কিংবা গাজার আশেপাশের ইসরায়েলি বসতিগুলোতে নিরাপত্তা ফিরিয়ে আনা। এখন ট্রাম্পের পরিকল্পনার কেন্দ্রবিন্দু হলো হামাসকে নিরস্ত্র করা এবং গাজাকে আন্তর্জাতিক সংস্থার হাতে তুলে দেওয়া—যা মূলত সেই লক্ষ্যগুলো রাজনৈতিক পথে অর্জনের চেষ্টা।

ওয়াশিংটনের হোয়াইট হাউসে স্থানীয় সময় গতকাল সোমবার ২০ দফা গাজা শান্তি পরিকল্পনা তুলে ধরেন ট্রাম্প। যৌথ সংবাদ সম্মেলনে পাশে ছিলেন ইসরায়েলের উগ্রবাদী প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু। এই পরিকল্পনায় ফিলিস্তিনি প্রতিরোধ গোষ্ঠীগুলোকে সম্পূর্ণভাবে নিরস্ত্র করার এবং গাজার প্রশাসন থেকে বাদ দেওয়ার প্রস্তাব রাখা হয়েছে। অর্থাৎ, যুদ্ধক্ষেত্রে ব্যর্থ হয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল রাজনৈতিকভাবে প্রতিরোধের প্রধান শক্তিগুলোকে সরাতে চাইছে।

টনি ব্লেয়ার ও GITA: পশ্চিমা নিয়ন্ত্রণের নতুন রূপ

পরিকল্পনা অনুযায়ী, যুক্তরাজ্যের সাবেক প্রধানমন্ত্রী টনি ব্লেয়ার গাজার অস্থায়ী প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব নেবেন এবং তিনি ‘গাজা ইন্টারন্যাশনাল ট্রানজিশন অথরিটি’ বা GITA-র নেতৃত্ব দেবেন। ব্লেয়ার, যিনি দীর্ঘদিন ধরে আমেরিকা ও ইসরায়েলের ঘনিষ্ঠ, তাকে সামনে আনার মানে হলো পশ্চিমা-নিয়ন্ত্রিত আন্তর্জাতিক কাঠামোর মাধ্যমে গাজাকে নিয়ন্ত্রণ করা। এটি ফিলিস্তিনি জনগণ ও প্রতিরোধ শক্তির ইচ্ছাকে পাশ কাটিয়ে যাওয়া ছাড়া আর কিছু নয়।

গাজার বাসিন্দাদের মিশর বা জর্ডানে স্থানান্তরের প্রস্তাবকেও প্রতিরোধ গোষ্ঠীগুলো ‘জাতিগত নিধন’ ও ‘জোরপূর্বক উচ্ছেদ’ হিসেবে বর্ণনা করেছে। পরিকল্পনায় ইসরায়েলি সেনাদের দখলকৃত গাজা অঞ্চল থেকে প্রত্যাহারের কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা উল্লেখ করা হয়নি। ফলে প্রতিরোধ গোষ্ঠীর মতে, এটি কেবল আন্তর্জাতিক চাপ কমানোর জন্য ইসরায়েলের এক রাজনৈতিক কৌশল।

প্রতিরোধ গোষ্ঠীর দৃষ্টিতে, ট্রাম্পের পরিকল্পনা সংকট সমাধানের পথ নয়, বরং ইসরায়েলি শাসনকে পরাজয় থেকে বাঁচানোর চেষ্টা এবং ফিলিস্তিনি জনগণের উপর মার্কিন-ইসরায়েলি ইচ্ছা চাপিয়ে দেওয়ার প্রচেষ্টা। এটি ইসরায়েলি দখলদারিত্ব শেষ করার বদলে সেটিকে দীর্ঘায়িত করবে।

ফিলিস্তিনি প্রতিরোধ ও বহু বিশ্লেষকের মতে, ট্রাম্পের ২০ দফা পরিকল্পনা ফিলিস্তিনি জনগণের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করে না। পরিকল্পনার কাঠামো, বিষয়বস্তু ও লক্ষ্য সবই ফিলিস্তিনিদের ঐতিহাসিক, মানবিক ও বৈধ চাহিদাকে উপেক্ষা করে, এবং কেবল ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেয়।

এই পরিকল্পনা ফিলিস্তিনিদের অংশগ্রহণ ছাড়াই তৈরি হয়েছে, যেখানে গাজা বা পশ্চিম তীরের জনগণের মতামত নেওয়ার কোনো ব্যবস্থা নেই। এটি আন্তর্জাতিক আইনের মৌলিক নীতি “জনগণের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার”-এর সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। পরিকল্পনায় প্রতিরোধ গোষ্ঠীগুলোকে পুরোপুরি নিরস্ত্র করার কথা বলা হলেও, ইসরায়েলি দখলদারিত্বের অবসান, বসতি নির্মাণ বন্ধ করা বা ফিলিস্তিনি শরণার্থীদের প্রত্যাবর্তনের বিষয়ে কোনো নিশ্চয়তা দেওয়া হয়নি। ফলে এই পরিকল্পনা প্রতিরোধকে প্রতিরক্ষা থেকে বঞ্চিত করবে, কিন্তু ফিলিস্তিনিদের জন্য নিরাপত্তা বা স্বাধীনতা নিশ্চিত করবে না।

ট্রাম্পের পরিকল্পনা মূলত গাজায় ইসরায়েলের পরাজয় রোধে একটি হাতিয়ার, যা মার্কিন-ইসরায়েলি স্বার্থের ভিত্তিতে নতুন শৃঙ্খলা চাপিয়ে দিতে চায় এবং ফিলিস্তিন সংকটের কোনো ন্যায্য সমাধান দেয় না।#

 সূত্র: পার্সটুডে