ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় মসজিদের অজুখানা নিয়ে সংঘর্ষ : আহত ২০, গ্রেফতার ৪

ডিএনবি নিউজ ডেস্ক :

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা উপজেলার কাইয়ুমপুর ইউনিয়নের জগন্নাথপুর গ্রামে মসজিদের অজুখানা নির্মাণকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনায় অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন। গুরুতর আহত ১২ জনকে প্রথমে কসবা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। পরবর্তী অবস্থার অবনতি হলে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখান থেকে ৬ জনকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

সোমবার (২০ অক্টোবর) বিকালে উপজেলার কাইয়ুমপুর ইউনিয়নের জগন্নাথপুর পূর্বপাড়া জামে মসজিদের সামনে ঘটনাটি ঘটে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ওই মসজিদের অজুখানা নির্মাণ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে দুই পক্ষের মধ্যে বিরোধ চলছিল। সোমবার দুপুরে দুলাল মিয়া (৬০), পুলিশ নিয়ে এসে অজুখানার কাজ বন্ধ করে দেন। এ সময় আলম মিয়া (৬০), ফজলু মিয়া (৫৫) ও সাইদ মিয়া (৬৫) সহ নসু হাজির পরিবারের সদস্যরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। তখন দুলাল মিয়ার অনুসারীরা পুলিশের সামনেই অতর্কিত হামলা চালায়।

এ সময় দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ে। সংঘর্ষে উভয়পক্ষের অন্তত ২০ জন আহত হন। পুলিশ আহতদের উদ্ধার করে কসবা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠায়।

কসবা থানার ওসি রিপন দাস জানান, মসজিদের অজুখানা নির্মাণকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় চারজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাদেরকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। পরিস্থিতি বর্তমানে নিয়ন্ত্রণে আছে। এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।




জামায়াতের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক অভিযোগ এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদের

ডিএনবি নিউজ ডেস্ক :

পিআর নিয়ে জামায়াতে ইসলামীর আন্দোলনকে ‘একটি পরিকল্পিত রাজনৈতিক প্রতারণা’ বলে বিস্ফোরক অভিযোগ করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম।

রোববার (১৯ অক্টোবর) বিকেলে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে এ মন্তব্য করেন তিনি।

নাহিদ বলেন, ‘জামায়াতে ইসলামীর শুরু করা তথাকথিত “প্রোপোরশনাল রিপ্রেজেন্টেশন (পিআর) আন্দোলন” একটি পরিকল্পিত রাজনৈতিক প্রতারণা ছাড়া আর কিছুই না।’

ঐকমত্য কমিশনের সংস্কার প্রক্রিয়াকে লাইনচ্যুত করতে এবং জনগণের অভ্যুত্থানের পরিপ্রেক্ষিতে রাষ্ট্র ও সংবিধান পুনর্গঠন প্রশ্নে জাতীয় আলোচনাকে ভিন্ন খাতে সরিয়ে দিতেই ইচ্ছাকৃতভাবে এর নকশা করা হয়েছে’, বলেন তিনি।

নাহিদ বলেন, ‘ভোটের আনুপাতিক প্রতিনিধিত্বের ওপর ভিত্তি করে উচ্চকক্ষ প্রতিষ্ঠার মূল সংস্কারের দাবিকে একটি সাংবিধানিক সুরক্ষা হিসাবে কল্পনা করা হয়েছিল। আমরা এই ধরনের মৌলিক সংস্কারগুলোর ওপর ভিত্তি করে একটি আন্দোলন গড়ে তুলতে এবং বিস্তৃত জাতীয় ঐকমত্যের মাধ্যমে জুলাই সনদের আইনি কাঠামো প্রতিষ্ঠা করতে চেয়েছিলাম।’




যুদ্ধ শেষ হওয়ার পর ইসরাইল ৪৭ বার যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের রেকর্ড করেছে

ডিএনবি নিউজ আন্ত: ডেস্ক-

গাজায় যুদ্ধ শেষ হওয়ার পর থেকে ৪৭ বার ইসরাইল যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের রেকর্ড করেছে। গাজার সরকারি তথ্য অফিস এ তথ্য জানিয়েছে।

শনিবার গাজায় সরকারি তথ্য অফিস ঘোষণা করেছে: গাজায় ইসরাইল কর্তৃক যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন অব্যাহত রয়েছে। এই প্রতিবেদন অনুসারে, গাজায় যুদ্ধ শেষ হওয়ার পর থেকে ইসরাইল ৪৭ বার যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করেছে।

গাজার সরকারি তথ্য অফিসের মতে, ইহুদিবাদী ইসরাইল কর্তৃক যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের বিভিন্ন ঘটনা ঘটেছে। নাগরিকদের ওপর সরাসরি গুলি চালানো থেকে শুরু করে বোমা হামলা এমনকি ইচ্ছাকৃতভাবে বেসামরিক নাগরিকদের লক্ষ্যবস্তু করা পর্যন্ত বিভিন্নভাবে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করা হয়েছে।#

সূত্র: পার্সটুডে




রাফাহ ক্রসিং বন্ধের ঘোষণা নেতানিয়াহুর, হুমকির মুখে যুদ্ধবিরতি চুক্তি

ডিএনবি নিউজ আন্ত: ডেস্ক

গাজায় যুদ্ধবিরতির পরও জারি রয়েছে ইসরায়েলি আগ্রাসন। গেল ১০ অক্টোবর চুক্তি কার্যকরের পর থেকে এ পর্যন্ত ৪৭ বার যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করেছে তেল আবিব।

গোলাবর্ষণ, টার্গেট হামলা ও বেসামরিকদের ওপরগুলি চালানোর অভিযোগ এনেছে স্থানীয় প্রশাসন। মিডিয়া অফিস জানিয়েছে, এসব হামলায় ব্যবহার করা হয়েছে ট্যাংক, ড্রোন ও সেনা যান।

শেজাইয়া, আল-তুফাহ ও যায়তুনেসেনা মোতায়েন অব্যাহত রেখেছে নেতানিয়াহু বাহিনী। খান ইউনিস থেকেও সেনা পুরোপুরি প্রত্যাহার করা হয়নি। এমনকি বেইত লাহিয়া ও বেইত হানুনে এখনও ফিলিস্তিনিদের প্রবেশ নিষিদ্ধ রয়েছে।

এই অবস্থার মধ্যে গাজার একমাত্র আন্তর্জাতিক প্রবেশদ্বার রাফাহ সীমান্ত খুলে দেয়ার কথা থাকলেও তা পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত বন্ধ থাকবে বলে জানিয়েছেন ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। তার দাবি, হামাস এখনো সব মৃত জিম্মির মরদেহ ফেরত দেয়নি, তাই সীমান্ত খোলা সম্ভব নয়।

ফিলিস্তিনি দূতাবাসের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল, গেল সোমবার থেকে রাফাহ খুলে দেওয়ার কথা। কিন্তু নেতানিয়াহুর সিদ্ধান্তে তা স্থগিত হয়ে যায়। স্বাধীনতাকামী সংগঠনের দাবি করেছে যে রাফাহ বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত যুদ্ধবিরতির শর্ত লঙ্ঘন।

রাফাহ সীমান্ত পুনরায় খোলা ও মানবিক সহায়তা প্রবেশের বিষয়টি যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় হওয়া যুদ্ধবিরতি চুক্তির অন্যতম প্রধান শর্ত ছিল। ওই চুক্তির লক্ষ্য ছিল যুদ্ধ বন্ধ করে গাজার মানবিক সংকট কিছুটা লাঘব করা।

হামাস শনিবার জানিয়েছে, যুদ্ধবিরতি চুক্তি লঙ্ঘন করে ইসরাইল রাফাহ সীমান্ত বন্ধ রাখলে বন্দিদের মরদেহ হস্তান্তর বিলম্বিত হবে।

এদিকে, যুদ্ধবিরতি চুক্তির আওতায় শনিবার রাতে গাজায় আরও দুই ইসরায়েলি জিম্মির মরদেহ রেডক্রসের কাছে হস্তান্তর করেছে হামাস।  ইসরাইলের প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) ও নিরাপত্তা সংস্থা (আইএসএ) এক যৌথ বিবৃতিতে এ তথ্য জানিয়েছে।




শাপলা চত্বর ও মোদিবিরোধী আন্দোলনে শহীদ ৭৭ পরিবার পেল অনুদানের চেক

ডিএনবি নিউজ ডেস্ক:

বিগত ২০১৩ সালের ৫ মে শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের মহাসমাবেশকে কেন্দ্র করে সংঘটিত হত্যাযজ্ঞে শহীদ ৫৮ জন এবং ২০২১ সালের মার্চে নরেন্দ্র মোদিবিরোধী বিক্ষোভ কর্মসূচিতে শহীদ ১৯ জনের পরিবারকে ১০ লাখ টাকা করে অনুদানের চেক হস্তান্তর করেছে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়। মোট ৭ কোটি ৭০ লাখ টাকার চেক প্রদান করা হয়েছে।

শনিবার (১৮ অক্টোবর) রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে এক অনুষ্ঠানে এই আর্থিক অনুদান প্রদান করা হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া।

প্রধান অতিথি আসিফ মাহমুদ বলেন, ২০১৩ সালে হেফাজত ইসলামের আন্দোলনেই ফ্যাসিবাদ বিরোধী আন্দোলনের সূচনা হয়েছিল। সেদিন সরকার নিরপরাধ ও নিরীহ হেফাজত কর্মীদের হত্যা করে ভেবেছিল, দেশ থেকে ইসলামকে নিশ্চিহ্ন করা যাবে। জুলুম-নির্যাতনের বিরুদ্ধে গণমানুষের আন্দোলনকে স্তব্ধ করে হত্যা করা যাবে। কিন্তু এই অনুষ্ঠান প্রমাণ করে, জুলুম ও নির্যাতন কখনো স্থায়ী হয় না।

উপদেষ্টা বলেন, হেফাজত ইসলামের সেই আন্দোলনের সূত্র থেকেই ২০২৪ সালে ফ্যাসিবাদ বিরোধী আন্দোলনের জন্ম। ছাত্র-জনতার তীব্র আন্দোলনের মুখে ফ্যাসিবাদের নেত্রী শেখ হাসিনা পালিয়ে যেতে বাধ্য হন।

উপদেষ্টা আরও বলেন, ২০১৩ সালে নবম শ্রেণিতে পড়তাম। টেলিভিশনে দেখেছি লাখো জনতা কিভাবে আন্দোলনে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল। কিন্তু সেদিনের প্রকৃত তথ্য জাতিকে জানানো হয়নি।

তিনি আরও জানান, হেফাজত ইসলামের শহীদদের নামের তালিকা সম্বলিত একটি স্থায়ী স্মৃতিস্তম্ভ শাপলা চত্বরে তৈরি করা হবে। এতে এই আন্দোলন আগামী প্রজন্মের জন্য প্রেরণা যোগাবে।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে ধর্ম উপদেষ্টা ড. আ. ফ. ম. খালিদ হোসেন বলেন, ২০১৩ সালে শাপলা চত্বরে হেফাজত কর্মীদের নৃশংসভাবে হত্যা করে তৎকালীন সরকার মনে করেছিল জুলুম-নির্যাতন বিরোধী আন্দোলন দমন করা যাবে।

ওই আন্দোলনে শহীদ ও আহতদের একটি তালিকা প্রস্তুত করার হেফাজত ইসলামের নেতাদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি। এ বিষয়ে ধর্ম মন্ত্রণালয় সব ধরনের সহযোগিতা করবে বলেও আশ্বাস দেন।

তিনি অভিযোগ করে বলেন, সেদিন শাপলা চত্বরে সাত হাজারের বেশি পুলিশ, র‌্যাব ও বিজিবির সদস্যরা হেফাজত কর্মীদের ওপর হামলা চালিয়েছিল। প্রায় দেড় লক্ষ গুলি খরচ করা হয়েছিল। তারপরও ইতিহাস থেকে সেই ঘটনা মুছে ফেলা যায়নি।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের সচিব রেজাউল মাকসুদ জাহিদী।

আরও উপস্থিত ছিলেন হেফাজত ইসলাম বাংলাদেশের আমির মুহিবুল্লাহ বাবুনগরী, মহাসচিব মাওলানা মাজেদুর রহমান, জামাত ইসলামের কেন্দ্রীয় সেক্রেটারি অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরোয়ার, খেলাফতে ইসলামের নেতা মাওলানা মামুনুল হক, গণধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নূর প্রমুখ।

শহীদ পরিবারকে আর্থিক সহায়তা দেওয়ার জন্য স্থানীয় সরকার উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়াকে কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জানান মাওলানা মুহিবুল্লাহ বাবুনগরী।




জুলাই জাতীয় সনদে ২৫ দল ও জোটের যে সকল নেতা স্বাক্ষর করেছেন

ডিএনবি নিউজ ডেস্ক :

জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের উদ্যোগে আয়োজিত ‘জুলাই জাতীয় সনদ-২০২৫’ স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে ২৫টি রাজনৈতিক দল ও জোটের নিম্নোক্ত প্রতিনিধিরা স্বাক্ষর করেছেন।

১। লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি-এলডিপি

ড. রেদোয়ান আহমেদ, মহাসচিব

ড. নেয়ামূল বশির, প্রেসিডিয়াম সদস্য

২। খেলাফত মজলিস

মাওলানা আব্দুল বাছিত আজাদ, আমীর, খেলাফত মজলিস

ড. আহমদ আবদুল কাদের, মহাসচিব, খেলাফত মজলিস

৩। রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলন

হাসনাত কাইয়ুম, প্রধান সমন্বয়ক

সৈয়দ হাসিবউদ্দীন হোসেন, মিডিয়া সমন্বয়ক

৪। আমার বাংলাদেশ পাটি (এবি পার্টি)

মোহাম্মদ মজিবুর রহমান ভূঁইয়া মঞ্জু, চেয়ারম্যান

ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ, সাধারণ সম্পাদক

৫। নাগরিক ঐক্য

মাহমুদুর রহমান মান্না, সভাপতি

শহীদুল্লাহ কায়সার, সাধারণ সম্পাদক

৬। জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক আন্দোলন (এনডিএম)

ববি হাজ্জাজ, চেয়ারম্যান

মোমিনুল আমিন, মহাসচিব

৭। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, মহাসচিব

সালাহউদ্দিন আহমেদ, সদস্য, জাতীয় স্থায়ী কমিটি

৮। বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস

মাওলানা ইউসুফ আশরাফ, সিনিয়র নায়েবে আমীর

মাওলানা জালালুদ্দীন আহমদ, মহাসচিব

৯। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী

ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ তাহের, কেন্দ্রীয় নায়েবে আমীর

মিয়া গোলাম পরওয়ার, সেক্রেটারী জেনারেল

১০। গণসংহতি আন্দোলন

জোনায়েদ সাকি, প্রধান সমন্বয়কারী

আবুল হাসান রুবেল, নির্বাহী সমন্বয়কারী

১১। জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-জেএসডি

শহীদ উদ্দিন মাহমুদ স্বপন, সাধারণ সম্পাদক

মিসেস তানিয়া রব, সিনিয়র সহ-সভাপতি

১২। গণঅধিকার পরিষদ (জিওপি)

নুরুল হক নুর, সভাপতি

মো. রাশেদ খাঁন, সাধারণ সম্পাদক

১৩। বাংলাদেশের বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি

সাইফুল হক, সাধারণ সম্পাদক

বহ্নিশিখা জামালী, রাজনৈতিক পরিষদ সদস্য

১৪। জাতীয়তাবাদী সমমনা জোট

ড. ফরিদুজ্জামান ফরহাদ, সমন্বয়ক, জাতীয়তাবাদী সমমনা জোট ও চেয়ারম্যান, এনপিপি

বীর মুক্তিযোদ্ধা খন্দকার লুৎফর রহমান, সভাপতি, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি-জাগপা

১৫। ১২ দলীয় জোট

শাহাদাত হোসেন সেলিম, মুখপাত্র, ১২ দলীয় জোট ও চেয়ারম্যান, বাংলাদেশ এলডিপি

১৬। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ

অধ্যাপক আশরাফ আলী আকন, প্রেসিডিয়াম সদস্য

মাওলানা গাজী আতাউর রহমান, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব

১৭। গণফোরাম

বীর মুক্তিযোদ্ধা সুব্রত চৌধুরী, জ্যেষ্ঠ এডভোকেট, ভারপ্রাপ্ত সভাপতি

ডা. মো. মিজানুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক

১৮। জাকের পাটি

আলহাজ্ব শহীদুল ইসলাম ভুইয়া, ভাইস চেয়ারম্যান

জহিরুল হাসান শেখ, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক, গাজীপুর জেলা ছাত্রফ্রন্ট

১৯। জাতীয় গণফ্রন্ট

আমিনুল হক টিপু বিশ্বাস, কেন্দ্রীয় কমিটির সমন্বয়ক

মঞ্জুরুল আরেফিন লিটু বিশ্বাস, সদস্য কেন্দ্রীয় কমিটি

২০। বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম পার্টি

মাওলানা আবদুল মাজেদ আতহারী, সিনিয়র নায়েবে আমীর

মাওলানা মুসা বিন ইযহার, মহাসচিব

২১। বাংলাদেশ লেবার পার্টি

ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, চেয়্যারম্যান

খন্দকার মিরাজুল ইসলাম, ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব

২২। ভাসানী জনশক্তি পার্টি

বীর মুক্তিযোদ্ধা শেখ রফিকুল ইসলাম (বাবলু), চেয়ারম্যান

ড. মোহাম্মদ আবু ইউসুফ (সেলিম), মহাসচিব

২৩। জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ

মাওলানা আব্দুর রব ইউসুফী, সহ-সভাপতি

মাওলানা মঞ্জুরুল ইসলাম আফেন্দী, মহাসচিব

২৪। ইসলামী ঐক্যজোট

মাওলানা আব্দুল কাদের, চেয়ারম্যান

মুফতী সাখাওয়াত হোসাইন রাজী, মহাসচিব

২৫। আমজনতার দল

কর্নেল মিয়া মশিউজ্জামান (অব:), সভাপতি

মো. তারেক রহমান, সাধারণ সম্পাদক

এগুলো ছাড়াও শহীদ পরিবারের পক্ষ থেকে শহীদ মীর মাহফুজুর রহমান মুগ্ধর বাবা মীর মোস্তাফিজুর রহমান এবং শহীদ তাহির জামান প্রিয়র মা শামসী আরা বেগম জুলাই জাতীয় সনদ স্বাক্ষর মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন।




আফগান সীমান্তে আত্মঘাতী হামলা, ৭ পাক সেনা নিহত

ডিএনবি নিউজ ডেস্ক:

প্রতিবেশী আফগানিস্তনের সঙ্গে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের পর অস্থায়ী যুদ্ধবরতির শেষ দিনে এ হামলার ঘটনা ঘটে।

পাকিস্তানের নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের বরাতে শুক্রবার বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ তথ্য জানিয়েছেন।

পাকিস্তানের পাঁচজন নিরাপত্তা কর্মকর্তা জানিয়েছেন, উত্তর ওয়াজিরিস্তানে একটি সামরিক ক্যাম্পে সশস্ত্র গ্রুপের হামলায় পাঁচ সেনা নিহত ও ১৩ জন আহত হয়েছেন।

কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, একজন জঙ্গি বিস্ফোরক ভর্তি গাড়ি একটি সামরিক শিবির হিসেবে ব্যবহার করা একটি দুর্গের প্রাচীরে আঘাত করে। এ সময় অন্য দুজন ভেতরে প্রবেশের চেষ্টা করলে নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে তারা নিহত হয়।

এ বিষয়ে তাৎক্ষণিককোনো মন্তব্য করেনি পাকিস্তান সেনাবাহিনী।

পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী বলেন, ভারতের নির্দেশে  তালেবান সরকার পাকিস্তানে হামলা চালিয়েছে। আফগানিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আমির খান মুত্তাকি যখন ভারত সফরে ছিলেন, তখনই এই হামলার ঘটনা ঘটে।

এদিকে পাল্টাপাল্টি সংঘর্ষের পর ৪৮ ঘণ্টার অস্থায়ী যুদ্ধবিরতিতে আছে পাকিস্তান ও আফগানিস্তান। শুক্রবার গ্রিনিচ মান সময় দুপুর ১টায় এই যুদ্ধবিরতি শেষ হওয়ার কথা। বৃহস্পতিবার (১৬ অক্টোবর) পাক-আফগান সীমান্ত উত্তেজনা নিয়ে ফেডারেল মন্ত্রিসভার বৈঠকে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ বলেন, স্থায়ী যুদ্ধবিরতির জন্য বল এখন তালেবান সরকারের কোর্টে।




ক্ষোভ-বিক্ষোভের মুখে জুলাই সনদের অঙ্গীকারনামার পঞ্চম দফা সংশোধন

ডিএনবি নিউজ ডেস্ক :

ব্যাপক ক্ষোভ-বিক্ষোভের মুখে জুলাই জাতীয় সনদের অঙ্গীকারনামার পঞ্চম দফা সংশোধন করেছে বাংলাদেশের জাতীয় ঐকমত্য কমিশন।

দফাটিতে আগে ছিল, ‘গণঅভ্যুত্থানপূর্ব ১৬ বছরের ফ্যাসিবাদ বিরোধী গণতান্ত্রিক সংগ্রামে গুম, খুন ও নির্যাতনের শিকার হওয়া ব্যক্তিদের এবং ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানকালে সংঘটিত সকল হত্যাকাণ্ডের বিচার, শহীদদের রাষ্ট্রীয় মর্যাদা প্রদান ও শহীদ পরিবারগুলোকে যথোপযুক্ত সহায়তা প্রদান এবং আহতদের সুচিকিৎসা ও পুনর্বাসনের ব্যবস্থা নিশ্চিত করব।’

সংশোধিত দফায় বলা হয়েছে, ‘গণ-অভ্যুত্থানপূর্ব বাংলাদেশে ১৬ বছরের আওয়ামী ফ্যাসিবাদ বিরোধী গণতান্ত্রিক সংগ্রামে গুম, খুন ও নির্যাতনের শিকার হওয়া ব্যক্তিদের এবং ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্ট গণ-অভ্যুত্থান কালে ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ ও তার সহযোগী আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কতিপয় সদস্যদের দ্বারা সংঘটিত সকল হত্যাকাণ্ডের বিচার, শহীদদের রাষ্ট্রীয় মর্যাদা প্রদান ও শহীদ পরিবারকে এবং জুলাই আহতদের রাষ্ট্রীয় বীর, আহত জুলাই বীর যোদ্ধাদের যথোপযুক্ত সহায়তা প্রদান যেমন মাসিক ভাতা, সুচিকিৎসা, পুনর্বাসন ব্যবস্থা এবং শহীদ পরিবার ও আহত বীর যোদ্ধাদের আইনগত দায়মুক্তি, মৌলিক অধিকার সুরক্ষা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করবো।’

আজ (শুক্রবার) বেলা ২টার দিকে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই সংশোধনের কথা জানানো হয়।

দফাটি নিয়ে আপত্তি তুলেছিলেন নিজেদের ‘জুলাই শহীদ পরিবার ও আহত যোদ্ধা’ পরিচয় দেওয়া ব্যক্তিরা। তাঁরা গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে জাতীয় সংসদ ভবনের সামনের মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে বিক্ষোভ করেন। আজ সকালে তাঁরা জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় ‘জুলাই সনদ ২০২৫’ স্বাক্ষর অনুষ্ঠানস্থলে অবস্থান নেন। দুপুরের দিকে অনুষ্ঠানের মঞ্চের সামনে থেকে তাঁদের সরিয়ে দেয় পুলিশ। সেখানে অবস্থানকারীদের লাঠিপেটা করতে দেখা যায় পুলিশকে। পরে পুলিশের সঙ্গে তাদের সংঘর্ষ, পাল্টাপাল্টি ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষ চলাকালে কয়েকটি যানবাহন ভাঙচুর করা হয়। ইটপাটকেল নিক্ষেপ, বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। আগুন জ্বলতে দেখা যায়। এই ঘটনায় ‘জুলাই যোদ্ধাদের’ কয়েকজন আহত হন। তাঁদের হাসপাতালে নিয়ে যেতে দেখা যায়।

বিক্ষোভ চলার মধ্যে দফাটি সংশোধন করা উচিত বলে আজ বেলা ১১টা ৮ মিনিটে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া এক পোস্টে মত দেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ।

সালাহউদ্দিন আহমদ তার পোস্টে লিখেন, দফাটি সংশোধিত হওয়া উচিত বলে তিনি মনে করেন। কারণ, ছাত্র গণ-অভ‍্যুত্থান ২০২৪-এ আওয়ামী লীগ ফ‍্যাসিস্ট বাহিনী ও তাদের অনুগত কতিপয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস‍্য নিরীহ-নিরস্ত্র আন্দোলনকারী ছাত্র-জনতার ওপর হানাদার বাহিনীর মতো ঝাঁপিয়ে পড়ে, নির্বিচারে গণহত্যা চালায়। তবে জনগণের প্রতিরোধের মুখে হানাদার বাহিনীর কিছু লোকও প্রাণ হারায় (তারা গাদ্দার, বিশ্বাসঘাতক)। জনতার আদালতে তাঁদের বিচার হয়ে গেছে। সুতরাং, যৌক্তিক কারণে তাদের বিচার গন-অভ্যুত্থানের যুদ্ধের ময়দানে সম্পন্ন হয়ে গেছে।

তাই দফাটি নিম্নলিখিতভাবে সংশোধন করা উচিত: গণঅভ্যুত্থানপূর্ব বাংলাদেশে ১৬ বছরের ফ্যাসিবাদ বিরোধী গণতান্ত্রিক সংগ্রামে গুম, খুন ও নির্যাতনের শিকার হওয়া ব্যক্তিদের এবং ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থান কালে ফ্যাসিস্ট আওয়ামীলীগ ও তার সহযোগী কতিপয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কতিপয় সদস্যদের দ্বারা সংঘঠিত সকল হত্যাকান্ডের বিচার, শহীদদের রাষ্ট্রীয় মর্যাদা প্রদান ও শহীদ পরিবার, আহত বীর যোদ্ধাদের যথোপযুক্ত সহায়তা প্রদান যেমন মাসিক ভাতা, সুচিকিৎসা, পুনর্বাসন ব্যবস্থা এবং শহীদ পরিবার ও আহত বীর যোদ্ধাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করবো।

ঐকমত্য কমিশনের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, জুলাই বীর যোদ্ধাদের দাবির প্রতিফলন ঘটিয়ে সনদের অঙ্গীকারনামার পঞ্চম দফা সংশোধন করা হয়েছে।

কমিশনের সহসভাপতি অধ্যাপক আলী রীয়াজ বলেছেন, জুলাই বীর যোদ্ধাদের সঙ্গে গতকালের আলোচনাসহ রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে যোগাযোগের মাধ্যমে জুলাই জাতীয় সনদ ২০২৫-এর অঙ্গীকারনামার পঞ্চম দফার পরিবর্তন করা হয়েছে। এর মাধ্যমে জুলাই বীর যোদ্ধাদের দাবির প্রতিফলন ঘটিয়ে প্রয়োজনীয় জরুরি সংশোধন করা হয়েছে।

আজ জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় আন্দোলনরত জুলাই বীর যোদ্ধাদের উদ্দেশে এসব কথা বলেন আলী রীয়াজ।

কমিশনের সহসভাপতি জানান, কমিশন এই অঙ্গীকারনামা বাস্তবায়নের ব্যাপারে সরকারকে সুস্পষ্ট ও সুনির্দিষ্টভাবে উপস্থাপন করবে। এ বিষয়ে রাজনৈতিক দল ও ঐকমত্য কমিশনের কোনো মতপার্থক্য নেই।#

সূত্র : পার্সটুডে




দুই বছর যুদ্ধ করেও আমরা জিততে পারিনি গাজা এখন হামাসের হাতে: ইসরায়েলি সাংসদ

ডিএনবি নিউজ আন্ত: ডেস্ক:

ভঙ্গুর যুদ্ধ-বিরতি পরিস্থিতি! ইসরায়েলের নতুন ব্যাপক হামলা কি আসন্ন?

যদিও ফিলিস্তিনি ইসলামী প্রতিরোধ আন্দোলন হামাস এখনও গাজা যুদ্ধবিরতির শর্তাবলী মেনে চলছে এবং ইহুদিবাদী বন্দীদের ফিরিয়ে দিয়েছে তা সত্ত্বেও, ইসরায়েলি যুদ্ধমন্ত্রী বলেছেন: “যদি হামাস চুক্তি বাস্তবায়ন করতে অস্বীকৃতি জানায়, তাহলে আমরা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাথে সমন্বয় করে আবারও যুদ্ধে ফিরে যাব।”

ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইস্রায়েল কাট‌্জ‌্ ঘোষণা করেছেন: “যুদ্ধ পুনরায় শুরু হলে হামাসকে আত্মসমর্পণে বাধ্য করার জন্য আমি সেনাবাহিনীকে একটি বিস্তৃত সামরিক পরিকল্পনা প্রস্তুত করার নির্দেশ দিয়েছি।”

কাটজ আরও দাবি করেছেন যে গাজা অস্ত্রমুক্ত না হওয়া এবং ইসরায়েলের জন্য কোনও হুমকি না হওয়া পর্যন্ত আমরা গাজার সুড়ঙ্গ ধ্বংস করার জন্য মার্কিন নেতৃত্বাধীন আন্তর্জাতিক বাহিনীর সাথে কাজ করব।

ইসরায়েলি যুদ্ধমন্ত্রী বলেন যে হামাস গাজা যুদ্ধবিরতির সমস্ত বিধান মেনে চলে এবং ইহুদি বন্দীদের ফিরিয়ে দিয়েছে, তবে হামাসকে অবশ্যই নিহত সকল বন্দীর মৃতদেহ ফিরিয়ে দিতে হবে এবং তাদের অস্ত্র ধ্বংস করতে হবে।

এর আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছিলেন যে, হামাস যদি যুদ্ধবিরতি চুক্তি মেনে চলতে অস্বীকৃতি জানায়, তাহলে ইসরায়েলি বাহিনী আবার আক্রমণ শুরু করতে পারে। বুধবার সন্ধ্যায় সিএনএন-এর সাথে এক সংক্ষিপ্ত সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন: “হামাসের সাথে যা ঘটছে, তা দ্রুত সমাধান করা হবে।”

গাজা যুদ্ধ-পরবর্তী পরিস্থিতি থেকে হামাসকে বাদ দেওয়ার বিষয়ে ইসরায়েলি ও আমেরিকান কর্মকর্তাদের বিবৃতি এমন এক সময়ে এসেছে যখন গাজায় যুদ্ধবিরতি চুক্তির পর, অনেক বিশেষজ্ঞ এবং ইসরায়েলি বিশ্লেষক স্বীকার করেছেন যে ইসরায়েল প্রতিরোধ আন্দোলনকে ধ্বংস এবং গাজাকে নিরস্ত্র করার লক্ষ্য অর্জন করতে ব্যর্থ হয়েছে।

বর্তমানে, অনেক ইহুদিবাদী বিশ্লেষক, দুই বছরের গাজা যুদ্ধে লক্ষ্যগুলো অর্জনে ইসরায়েলের ব্যর্থতার দিকে ইঙ্গিত করে, গাজায় হামাস আন্দোলনের টিকে থাকা, এর অবিসংবাদিত শক্তি হওয়া এবং ফিলিস্তিনিদের মধ্যে এর জনপ্রিয়তার বিষয়টি স্বীকার করেছেন।

ইহুদিবাদী বিশেষজ্ঞ ওরিট পার্লফ বলেন: “হামাসের কোন বিকল্প নেই এবং গাজার জনগণ এই আন্দোলনকে সমর্থন করে।”

তিনি আরও বলেন: “এখন, হামাস তার শক্তির শীর্ষে রয়েছে, ইসরায়েল যে সমস্ত বিকল্প তৈরি করার চেষ্টা করছিল তা ধ্বংস করার জন্য ময়দানে প্রবেশ করেছে হামাস।”

এই ইহুদিবাদী বিশেষজ্ঞ আবারও জোর দিয়ে বলেছেন যে হামাসের কোন বিকল্প থাকবে না, তিনি বলেন: “হামাস উত্তর গাজার নিয়ন্ত্রণ ফিরে পাচ্ছে, এবং এই উপত্যকার জনগণ হামাসের কর্মকাণ্ডকে সমর্থন করে।”

সম্প্রতি, ইসরায়েলি পার্লামেন্টের (নেসেট) সদস্য অমিত হালাভিও বলেছেন: “হামাসের কাছে আমরা পরাজিত হয়েছি; এই আন্দোলন তার সর্বশক্তি দিয়ে গাজায় তার শক্তি প্রদর্শন করছে; আমরা দুই বছর ধরে নিজেদেরকে প্রতারিত করেছি, কিন্তু আমরা জিততে পারিনি, এবং এখন গাজার নিয়ন্ত্রণ হামাসের হাতে।” #

সূত্র: পার্স টুডে




দুর্গাপুরে প্রধান শিক্ষকের রহস্যজনক মৃত্যুর বিচারের দাবীতে মানববন্ধন

দুর্গাপুর (নেত্রকোনা) প্রতিনিধি :

নেত্রকোনার দুর্গাপুর উপজেলার বারমারী উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক চন্দন দাস (রাখাল) (৫৭) ময়মনসিংহের সিবিএমসি হাসপাতালে পাঁচদিন নিবিড় পর্যবেক্ষনে থেকে মঙ্গলবার (১৪ অক্টোবর) সন্ধ্যা ০৭ ঘটিকায় মৃত্যুবরণ করেন। স্যারকে ময়মনসিংহে নেয়ার সময় তার বাম হাতে ও গলায় বিভিন্ন কাটা চিহ্ন থাকায় এই মৃত্যু রহস্যজনক দাবী করে, এলাকাবাসী ও শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের আয়োজনে এক মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার (১৫ অক্টোবর) বিকেলে সীমান্তবর্তী বারোমারী উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে এ কর্মসুচী অনুষ্ঠিত হয়। চন্দন কুমার দাস পৌরশহরের ৪নং ওয়ার্ডের আমলাপাড়া এলাকার মৃত চন্দ্র শেখর দাসের বড় ছেলে।

ওই স্কুলের শিক্ষক ও স্থানীয়রা জানান, গত শুক্রবার (১০ অক্টোবর) সকাল ১০ ঘটিকার সময় প্রধান শিক্ষকের স্ত্রী শেলী রানী দাস স্কুলের এক শিক্ষক কে মুঠোফোনে বলেন, তাঁর স্বামী অসুস্থ্য দ্রুত তাঁর বাসায় চলে আসতে। পরবর্তিতে ওই শিক্ষক হেড স্যার অসুস্থ্য বলে তার অন্যান্য শিক্ষকদের নিয়ে প্রধান শিক্ষকের বাসায় যান, হেড স্যারের স্ত্রী তাদের স্যার কে দেখতে বারণ করেন এবং তাড়াাতাড়ি ডাক্তার কে খবর দিতে বলেন। পরে এলাকাবাসী এবং ওই সহকারী শিক্ষকগণ স্যারকে হাসপাতালে নিতে চাইলে তার স্ত্রী হাসপাতালে না নিয়ে বাড়িতেই ডাক্তার আনতে বলেন। পরবর্তিতে এ বিষয়টি কারো কারো সন্দেহ হলে, একপ্রকার জোর করেই কয়েকজন ঘরে প্রবেশ করে দেখতে পান, স্যারের শরীর প্রায় ঠান্ডা হয়ে আসছে। ওনার হাতে এবং শরীরের বিভিন্ন স্থানে কাঁটাচিহ্ন রয়েছে এবং রক্ত ঝড়ছে। পরে দ্রুত অটোরিক্সাযোগে তাকে দুর্গাপুর সরকারি হাসপাতালে নিয়ে গেলে, রোগীর অবস্থার অবনতি দেখে কর্তব্যরত চিকিৎসক উন্নত চিকিৎসার জন্য রোগীকে দ্রুত ময়মনসিংহে নেয়ার পরমর্শ দেন। পরবর্তিতে রোগীর স্বজনরা দুপুর ১২ঘটিকার দিকে এম্বুলেন্সের মাধ্যমে উন্নত চিকিৎসার জন্য ময়মনসিংহে নিয়ে কমিউনিটি বেসড মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। প্রায় ৫দিন নিবিড় পর্যবেক্ষনে থেকেও তাঁকে বাঁচাতে পারেননি চিকিৎসকগন।

একাধিক এলাকাবাসী সুত্রে জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার মধ্য রাতে স্বামী-স্ত্রীর মাঝে প্রচন্ড বাগ-বিতন্ডতা শুনতে পাই এবং কিছু জিনিষপত্র ভাংচুরেরও শব্দ পেয়েছি। তবে মাঝে মধ্যেই তার স্ত্রীর এমন আচরণ আমরা লক্ষ করি। যার কারনে আমরা ওইদিন রাতে ওই বাড়িতে কেউই যাইনি। পরদিন সকালে বিস্তারিত জানতে পারি।

প্রধান শিক্ষকের সহকর্মী মোজাম্মেল মাস্টার বলেন, চন্দন স্যারকে তার বাসা থেকে অচেতন অবস্থায় হাসপাতালে নেয়ার পর দেখতে পাই তার গলায় এবং বাম হাতে কাটা চিহ্ন রয়েছে এবং কাটার ক্ষতস্থান দিয়ে তখনো রক্ত ঝরছিলো, সেইসাথে মুখ দিয়ে গন্ধযুক্ত লালা বেরোচ্ছো। তিনি আরও বলেন, প্রধান শিক্ষককে শারীরিক এবং মানসিক নির্যাতন সহ চেতনানাশক কোন কিছু খাওয়ানো হয়ে থাকতে পারে। আমাদের স্যারকে হয়তো অজ্ঞান করার পর, নির্যাতনও করা হয়েছে। স্যারের মৃত্যু রহস্যজনক, আমরা শিক্ষক সমাজ, এলাকাবসী ও স্কুলের শিক্ষার্থীদের একটাই দাবী তদন্ত সাপেক্ষে এর দৃষ্টান্তমুলক শাস্তি।

ঘন্টাব্যাপি মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, আমরা এই মৃত্যু মেনে নিতে পারছিনা। গভীর উদ্বেগ প্রকাশ সহ ন্যায় বিচারের দাবীতে বারোমারী এলাকায় আমরা মানবন্ধন শুরু করেছি। এই মৃত্যু রহস্যজনক। প্রশাসন অনতিবিলম্বে যদি দোষিদের গ্রেফতার না করে, তাহলে পুরো উপজেলায় হরতাল দিবো। দুর্গাপুরের প্রানপ্রিয় প্রধান শিক্ষকের নির্যাতনে জড়িত ব্যক্তিদের খুঁজে বের করে, তদন্ত সাপেক্ষে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা অচিরেই নিতে হবে। 

উপজেলা বিএনপি‘র সাবেক সাধারণ সম্পাদক আব্দুল্লাহ আল মামুন মুকুল বলেন, চন্দন দাস আমার প্রতিবেশি, তার ছোট ভাই টুকন চন্দ্র দাস গত ছয় মাস আগে আকষ্মিক মৃত্যুবরণ করেন। বিবাহিত জীবনে চন্দন দাসের কোন সন্তানাদি না থাকায়, একমাত্র ছোট ভাইয়ের মেয়ে টুম্পা দাস কে নিজের মেয়ের মতো লালন পালন করতেন। এটি দেখেই তার স্ত্রী শেলী দাস, ঈর্ষান্বিত হয়ে প্রায়ই ওই শিক্ষকের সাথে ঝগড়া বিবাদ করে সংসারে অশান্তি লাগিয়ে রাখতেন। আমরা এই মৃত্যুর বিচার চাই।

এ সময় অন্যদের মাঝে, ইউনিয়ন বিএনপি‘র সভাপতি ফজলুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক বোরহান উদ্দীন, স্কুলের শিক্ষক, মোজাম্মেল হক, সুপলার মৃ, সাঈদ হাসান, প্রবীণ আদিবাসী নেতা কম্প ম্রং সহ অনেকেই বক্তব্য রাখেন। 

উল্লেখ্য : গত বৃহস্পতিবার পর্যন্ত রাখাল স্যার স্কুলে ক্লাশ নিয়েছেন। স্যারের এই হঠাৎ মৃত্যু আমরা মেনে নিতে পারছিনা। প্রাণপ্রিয় প্রধান শিক্ষক রাখাল স্যারের মরদেহ এক নজর দেখার জন্য, পৌরশহরের প্রেসক্লাব মোড়ে গতকাল রাত থেকে আজকে বিকাল পর্যন্ত শত শত মানুষ দাঁড়িয়ে রয়েছে। এছাড়া রাখাল স্যারের মৃত্যুর তদন্ত সাপেক্ষে বিচারের দাবীতে উপজেলার বিভিন্ন স্কুলে মানববন্ধন চলমান থাকবে বলে জানিয়েছেন ওই স্কুলের সহকারি শিক্ষক সাইদ হাসান।