নেত্রকোনার দুর্গাপুরে বিশ্ব তামাকমুক্ত দিবস পালিত

ডিএনবি নিউজ ডেস্ক :

তামাক সেবন থেকে বিরত থাকার উদ্দেশ্যে এবং তামাক ব্যবহারের ব্যাপক প্রাদুর্ভাব ও মানবস্বাস্থ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাবের বিষয়ে ‘‘আকর্ষণের মুখোশ উন্মোচন : নিকোটিন ও তামাক আসক্তি মোকাবেলা” এই প্রতিপাদ্যে নেত্রকোনার দুর্গাপুরে বিশ্ব তামাক মুক্ত দিবস পালিত হয়েছে। রবিবার (৩১ আগষ্ট) সকালে উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে এদিবস পালিত হয়।

এ উপলক্ষে উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে একাডেমিক সুপারভাইজার মুহাম্মদ নাসির উদ্দীনের সঞ্চলনায়, ভারপ্রাপ্ত উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. মিজানুর রহমানের সভাপতিত্বে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
আলোচনা সভায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পঃ পঃ কর্মকর্তা (ভার) ডাক্তার তানজিরুল ইসলাম রায়হান, প্রেসক্লাব সভাপতি তোবারক হোসেন খোকন, প্রভাষক সমর সেন, অফিসার ইনচার্জ দুর্গাপুর থানা খন্দকার শাকের আহমেদ প্রমুখ।

বক্তারা বলেন, বাংলাদেশে তামাক ব্যবহার এখনো একটি বড় জনস্বাস্থ্য চ্যালেঞ্জ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। বিভিন্ন তথ্য অনুযায়ী, দেশে বর্তমানে প্রায় ৩ দশমিক ৭৮ কোটি মানুষ কোনো না কোনোভাবে তামাক ব্যবহার করে। তামাকজনিত বিভিন্ন রোগে প্রতিবছর প্রায় ২ লাখ মানুষের মৃত্যু ঘটে, যা দেশের স্বাস্থ্যখাতের জন্য বড় উদ্বেগের বিষয়। ২০২৪ সালের হিসাব অনুযায়ী, তামাক ব্যবহার ও উৎপাদনের কারণে স্বাস্থ্য ও পরিবেশগত ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ৮৭ হাজার কোটি টাকা। এ ক্ষতির পরিমাণ তামাকখাত থেকে অর্জিত রাজস্ব আয়ের দ্বিগুণেরও বেশি।

তামাকজনিত রোগের চিকিৎসা ব্যয় এবং কর্মক্ষমতা হ্রাসের আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ৩০ হাজার ৫৬০ কোটি টাকা। বিশ্বব্যাপী ১২৫টিরও বেশি দেশে তামাক চাষ হলেও আবাদযোগ্য জমির সীমাবদ্ধতা থাকা সত্ত্বেও তামাক চাষে বাংলাদেশের অবস্থান বিশ্বে ১৩তম। বিশ্বের মোট তামাক উৎপাদনের প্রায় ১ দশমিক ৩ শতাংশ বাংলাদেশে উৎপাদিত হয়। তরুণ প্রজন্মকে নিকোটিন ও তামাক আসক্তির ঝুঁকি থেকে রক্ষা করতে ই-সিগারেট, ভেপিংসহ নতুন ধরনের তামাকপণ্যের বিরুদ্ধে জরুরি ভিত্তিতে ব্যবস্থা নিতে প্রশাসনের উর্দ্ধতন দপ্তর থেকে কার্যকর নীতি ও আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারলে রক্ষা পাবে যুবসমাজ।




মাদক ও সামাজিক অবক্ষয়ের বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ ডেপুটি স্পিকারের

 

ডিএনবি) নিউজ ডেস্ক:

দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলেও মাদক এক ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে। নির্বাচনী প্রচারণায় গিয়ে আমি মা ও বোনেদের বুকফাটা আর্তনাদ শুনেছি, যাদের সন্তান কিংবা স্বামী মাদকের নেশায় পরিবারকে ধ্বংস করছে। এই আর্তনাদ আর শুনতে চাইনা। মাদক ও সামাজিক অবক্ষয়ের বিরুদ্ধে অত্যন্ত কঠোর অবস্থান ও হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন। অপরাধীদের যারা শেল্টার দেবে, আমি তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

নেত্রকোনার দুর্গাপুর উপজেলার বাকলজোড়া ইউনিয়নের প্রাথমিক ও মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক-শিক্ষিকাদের শিক্ষা ক্ষেত্রে অনন্য অবদান ও দীর্ঘদিনের নিষ্ঠাপূর্ণ সেবার স্বীকৃতিস্বরূপ ৩৯জন শিক্ষক-শিক্ষিকাকে বিশেষ ‘সম্মাননা স্মারক’ প্রদান করা হয়েছে।

শনিবার (৩০ মে) বিকেলে দুর্গাপুরের গুজিকোনা উচ্চ বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। গুজিকোনা উচ্চ বিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থীবৃন্দের উদ্যোগে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ও নেত্রকোনা-১ (দুর্গাপুর-কলমাকান্দা) আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।

অনুষ্ঠানে প্রবীণ ও অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকদের হাতে সম্মাননা স্মারক ক্রেস্ট তুলে দেওয়ার মাধ্যমে শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করা হয়। সাবেক শিক্ষার্থীদের এমন আয়োজন প্রবীণ শিক্ষকদের যেমন আবেগাপ্লুত করেছে, তেমনি শিক্ষক সমাজ ও নতুন প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করবে বলে অনুষ্ঠানে উপস্থিত সুধীজন আশা ব্যক্ত করেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল শুরুতে নিজের পারিবারিক ঐতিহ্য তুলে ধরে বলেন, আমার ঐতিহ্য, আমার ইতিহাস, আমার ব্যাকবোন হচ্ছেন আমার বাবা; যিনি একজন সাধারণ কৃষক ছিলেন। আমি কৃষকের সন্তান বলতেই স্বাচ্ছন্দবোধ করি।

ডেপুটি স্পিকার সমাজের পিছিয়ে পড়া মানুষের অধিকার এবং কলমাকান্দা-দুর্গাপুরের বঞ্চনার ইতিহাস টেনে বলেন, “এলাকায় কিষাণ কলেজ, পশু হাসপাতালসহ ঐতিহ্যবাহী অনেক প্রতিষ্ঠান ছিল, যা কালের বিবর্তনে হারিয়ে গেছে। আমরা দেশের সংবিধান স্বীকৃত মৌলিক অধিকারগুলো যতটুকু বেসিক প্রয়োজন, তাও এই জনপদে পাইনি”। তিনি আশ্বাস দেন রাতারাতি সব পরিবর্তন সম্ভব না হলেও পর্যায়ক্রমে এই অঞ্চলে আরও উন্নত মানের স্থাপনা ও প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা হবে।

জনপ্রতিনিধিদের মিথ্যা প্রতিশ্রুতির সংস্কৃতির সমালোচনা করে তিনি বলেন, “রাজনীতিবিদরা এসে আকাশকুসুম প্রতিশ্রুতি দেয়, আর জনগণ হাততালি দেয়। জনগণ যদি এসে বলে ‘এমপি সাহেব আকাশে চাঁদ লাগবে’, তবে অনেক নেতা বলবে ‘ঐটাও এনে দেব’। আমি প্রথাগত ধারার রাজনৈতিক কর্মী নই। আমি যা করতে পারব, ততটুকুই বলব, আর যা বলব তা বাস্তবায়নের সর্বোচ্চ চেষ্টা করব।”

মাদক নির্মূলে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর জিরো টলারেন্স নীতির কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে তিনি প্রশাসন ও দলীয় নেতাকর্মীদের প্রতি কড়া নির্দেশ জারি করেন। তিনি বলেন, “আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তাদের দায়িত্ব পালন করছে। আমি রাজনীতি করব, সমাজের নেতৃত্ব দেব, আর মাদক ব্যবসায়ী বা অপরাধীদের আশ্রয়-প্রশ্রয় দেব- তা হতে পারে না। অপরাধীদের যারা শেল্টার দেবে, তাদের বিরুদ্ধেও কড়া ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আমি অপরাধীদের
প্রশ্রয় দিয়ে নিজের বিবেকের কাছে দায়ী থাকতে পারব না।”
মাদকাসক্ত যুবকদের স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনতে তিনি অতীতে নিজের ব্যক্তিগত উদ্যোগে ধর্মীয় ও সামাজিক মোটিভেশনের (চিল্লায় পাঠানো) উদাহরণও তুলে ধরেন।

সবশেষে তিনি নাগরিকদের দায়িত্ববোধের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেন, “শুধু সরকারের দিকে তাকিয়ে থাকলে চলবে না। বাড়ির সামনের রাস্তাটি সরকার করে দেওয়ার পর আমরা কয়জন তার পাশে দুটি গাছ লাগাই? রাষ্ট্রের প্রত্যেক নাগরিক স্বতঃস্ফূর্তভাবে সমাজ পুনর্গঠনে এগিয়ে না এলে কোনো সমাজ বা রাষ্ট্র স্বাবলম্বী হতে পারে না। আজকে যারা শিক্ষার্থী, তোমাদেরও মনে রাখতে হবে তোমরাই দেশের নেতৃত্বে আসবে। সঠিকভাবে পড়াশোনাই হচ্ছে ছাত্রদের একমাত্র লক্ষ।

অনুষ্ঠানে স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তা, উপজেলা ও বাকলজোড়া ইউনিয়নের রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ, গুজিকোনা উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, সাবেক শিক্ষার্থীবৃন্দ এবং এলাকার সর্বস্তরের সাধারণ মানুষ উপস্থিত ছিলেন। আলোচনা শেষে উপজেলা শিল্পকলা একাডেমির শিল্পী ও স্থানীয় শিল্পীরা এক মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশন করেন




যে কোন কাজে সততা থাকলে ঐকাজে মহান আল্লাহ্ বরকত দেন : ডেপুটি স্পীকার

ডিএনবি নিউজ ডেস্ক :

যে কোন কাজে সততা থাকলে ঐকাজে মহান আল্লাহ্ বরকত দেন। আমার কাছে সততাই হলো মুলচাবিকাঠি। সেই সততার পথ দেখিয়েছেন শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান। তিনি কেবল একজন রাষ্ট্রনায়ক বা সেনাপ্রধান ছিলেন না, তিনি ছিলেন একজন ‘জন্মগত নেতা’। সততা, দেশপ্রেম ও সাহসিকতার মাধ্যমে তিনি আধুনিক বাংলাদেশের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছিলেন।

আজ শনিবার ( ৩০ মে) দুপুরে নেত্রকোনার দুর্গাপুরে উপজেলা বিএনপি আয়োজিত জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাত বার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ও নেত্রকোনা-১ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার কায়সার কামাল এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, সিদ্ধান্তহীনতার সময়ে মৃত্যুভয় উপেক্ষা করে জিয়াউর রহমান স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়ে মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েন। পরবর্তীতে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব নিয়ে তিনি দেশে বহুদলীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা করেন। আজকের গার্মেন্টস শিল্প ও কৃষি বিপ্লব তার দূরদর্শী চিন্তারই ফসল।

রাষ্ট্রক্ষমতায় থেকেও জিয়ার সাদামাটা জীবনযাপন ও সততাকে অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত হিসেবে উল্লেখ করেন ডেপুটি স্পিকার। তিনি নেতাকর্মীদের শুধু আবেগে বা ‘হুযুগে’ রাজনীতি না করে, জিয়ার আদর্শ বুকে ধারণ করে জনকল্যাণে কাজ করার আহ্বান জানান।

এসময় উপজেলা বিএনপির সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক, সাংগঠনিক সহ বিএনপি ও তার অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীগণ উপস্থিত ছিলেন।