দুর্গাপুরে ‘‘রুসা’’র নিরাপদ খাদ্য বিষয়ক  মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত

ডিএনবি নিউজ ডেস্ক:
‘‘জীবন ও স্বাস্থ্য সুরক্ষায় নিরাপদ খাদ্য’’ এই প্রতিপাদ্যে বে-সরকারি উন্নয়ন সংস্থা ‘‘রুসা’’ বাংলাদেশ এর আয়োজনে নেত্রকোনার দুর্গাপুরে নিরাপদ খাদ্য বিষয়ক এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার ১৮ (মে) দুপুরে স্থানীয় ডনবসকো কলেজ মিলনায়তনে সর্বস্তরের অংশগ্রহনে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
রুসা‘র পরিচালক এম এন আলম এর সভাপতিত্বে, সাংবাদিক মামুন রনবির এর সঞ্চালনায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন, নেত্রকোনা জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (ভার:) ইমদাদুল হক তালুকদার। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন, সহকারি কমিশনার (ভুমি) মো. মিজানুর রহমান, বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ এডভোকেট এম এ জিন্নাহ্, ডনবসকো কলেজের পরিচালক ফাদার পাওয়েল কোচিওলেক, ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর কালচারাল একাডেমির পরিচালক কবি পরাগ রিছিল, মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার বজলুর রহমান আনছারী, অফিসার ইনচার্জ খন্দকার শাকের আহমেদ। এ বিষয়ে প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন, জেলা নিরাপদ খাদ্য অফিসার হাবিবুর রহমান। এসময় স্থানীয় গন্যমান্য ব্যাক্তি, প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক্স মিডিয়ার সাংবাদিকগণ উপস্থিত ছিলেন।
মতবিনিময় সভায় বক্তারা নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্য নিয়ন্ত্রণ, বাজারে সুস্থ প্রতিযোগিতা নিশ্চিতকরণ, ভেজাল ও নিম্নমানের খাদ্যদ্রব্য প্রতিরোধ, নিয়মিত বাজার মনিটরিং জোরদার এবং অসাধু ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। সেইসাথে ভোক্তাদের স্বার্থ রক্ষায় প্রশাসনের তদারকি কার্যক্রম আরও জোরদার করা সহ বাজারের অস্থিতিশীলতা সৃষ্টিকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য উপজেলা প্রশাসনের কাছে জোর দাবী জানানো হয়।



ইসলামি শিক্ষা বাধ্যতামূলকসহ কওমি মাদরাসা শিক্ষক পরিষদের ১৮ দফা দাবি

ডিএনবি নিউজ ডেস্ক:

সংবিধানে ধর্মনিরপেক্ষতা ও সমাজতন্ত্র বাতিল করে ‘ইসলামি প্রজাতন্ত্র বাংলাদেশ’ প্রতিষ্ঠা, সাধারণ শিক্ষার সব স্তরে ইসলামি শিক্ষা বাধ্যতামূলক করা এবং কওমি শিক্ষার স্বকীয়তা রক্ষাসহ ১৮ দফা দাবি জানিয়েছে কওমি মাদরাসা শিক্ষক পরিষদ।

সোমবার (১৮ মে) সকালে রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাব-এর তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনটির সভাপতি অধ্যক্ষ মুহাম্মদ মিজানুর রহমান চৌধুরী (পীর সাহেব দেওনা) এসব দাবি তুলে ধরেন।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের সিনিয়র সহ-সভাপতি মাওলানা খালিদ সাইফুল্লাহ আইয়ুবী, সহ-সভাপতি মাওলানা আব্দুল বাসেত খান ও মাওলানা আলী আজম বি.বাড়িয়া, মহাসচিব মাওলানা মুস্তাকীম বিল্লাহ হামিদী, মাওলানা মেরাজুল হক মাযহারী, সাংগঠনিক সম্পাদক মুফতি দ্বীন মুহাম্মদ আশরাফ, মাওলানা লুৎফুর রহমান ফরায়েজী, মুফতি রেজুওয়ান রফিকী, মাওলানা নজরুল ইসলাম এবং মুফতি ইমরানুল বারী সিরাজীসহ অন্যান্য নেতারা।

লিখিত বক্তব্যে সভাপতি বলেন, বাংলাদেশের সংবিধান প্রণয়নের সময় দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলমান জনগোষ্ঠীর ধর্মীয় মূল্যবোধ ও ঐতিহ্যের যথাযথ প্রতিফলন ঘটেনি। তিনি দাবি করেন, ১৯৭২ সালের সংবিধানে ধর্মনিরপেক্ষতা ও সমাজতন্ত্র সংযোজন জনগণের আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ছিল না। মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ রাষ্ট্র হিসেবে ইসলামি শিক্ষা, সংস্কৃতি ও মূল্যবোধকে সাংবিধানিক স্বীকৃতি দেওয়ার দাবি জানান তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে নেতারা বলেন, বর্তমান শিক্ষা ব্যবস্থায় ইসলামী শিক্ষাকে প্রান্তিক করে রাখা হয়েছে। প্রাথমিক থেকে উচ্চমাধ্যমিক পর্যন্ত ইসলামী শিক্ষা বাধ্যতামূলক করার আহ্বান জানিয়ে তারা বলেন, ধর্মীয় শিক্ষার ঘাটতির কারণে নতুন প্রজন্ম দ্বীনি জ্ঞান ও নৈতিকতা থেকে দূরে সরে যাচ্ছে। একই সঙ্গে কওমি মাদরাসা শিক্ষার স্বাধীনতা ও স্বকীয়তা অক্ষুণ্ণ রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

তারা অভিযোগ করেন, কওমি শিক্ষাব্যবস্থাকে “সংস্কার” করার নামে এর মৌলিক বৈশিষ্ট্য নষ্টের চেষ্টা চলছে। কওমি শিক্ষাকে মূলধারার শিক্ষার সঙ্গে একীভূত করার যেকোনো উদ্যোগ বন্ধের দাবি জানিয়ে নেতারা বলেন, এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে দেশের শীর্ষ আলেম ও কওমি বোর্ডগুলোর মতামত নিতে হবে।

সংবাদ সম্মেলনে কওমি মাদরাসাগুলোর সামাজিক ও মানবিক অবদানের কথাও তুলে ধরা হয়। নেতারা বলেন, সরকারি অনুদান ছাড়াই কওমি মাদরাসাগুলো দীর্ঘদিন ধরে দরিদ্র ও এতিম শিক্ষার্থীদের আবাসন, খাদ্য ও ধর্মীয় শিক্ষা দিয়ে আসছে। এছাড়া কভিড-১৯ মহামারির সময় কওমি আলেমদের ভূমিকারও প্রশংসা করা হয়।

সংগঠনটির ঘোষিত ১৮ দফা দাবির মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো—সংবিধান সংশোধন করে “ইসলামী প্রজাতন্ত্র বাংলাদেশ” প্রতিষ্ঠা, সব স্তরে ইসলামী শিক্ষা বাধ্যতামূলক করা, ইসলামি সংস্কৃতি সংরক্ষণে সাংবিধানিক সংশোধন, ধর্ম অবমাননা বিরোধী আইন প্রণয়ন, শরিয়াহ আদালত প্রতিষ্ঠা, কওমি মাদরাসার আইনি সুরক্ষা নিশ্চিত করা, কওমি মাদরাসার দান-অনুদান আয়করমুক্ত রাখা, শিক্ষা কমিশন ও জাতীয় শিক্ষাক্রম বোর্ডে কওমি আলেমদের অন্তর্ভুক্তি, অশ্লীলতা ও মাদকাসক্তি রোধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ এবং কোরবানির চামড়ার ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা।

সংবাদ সম্মেলনের শেষে সংগঠনের নেতারা তাদের দাবির পক্ষে জনমত গড়ে তুলতে গণমাধ্যমকর্মীদের সহযোগিতা কামনা করেন।