নেত্রকোনার দুর্গাপুরে ৬০০ বোতল ‘ফেয়ারডিল’ জব্দ, আটক ২

ডিএনবি নিউজ ডেস্ক:

নেত্রকোনার দুর্গাপুরে অভিযান চালিয়ে ৬০০ বোতল ভারতীয় ফেন্সিডিলসদৃশ্য মাদক ‘ফেয়ারডিল’ সহ দুই মাদক কারবারিকে আটক করেছে পুলিশ। সোমবার (১৩ এপ্রিল) দুপুরে সাংবাদিকদের এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন থানার ওসি মো. কামরুল হাসান। এর আগে, ওইদিন ভোরে পৌর শহরের বুরুঙ্গা ভাঙাব্রীজ এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। আটককৃতরা হলেন, দুর্গাপুর উপজেলার চারিয়া মাসকান্দা গ্রামের আব্দুল আউয়ালের ছেলে মো. নাসির উদ্দিন (২৮) এবং একই গ্রামের তারা মিয়ার ছেলে মো. আলী আকবর (২৫)।

পুলিশ জানায়, মাদকদ্রব্য পাচারের গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশের একটি দল বুরুঙ্গা ভাঙাব্রীজ সংলগ্ন এলাকায় অভিযান পরিচালনা করা হয়। এ সময় পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে ওই দুই মাদক কারবারি পালানোর চেষ্টা করলে পুলিশ ধাওয়া দিয়ে তাদের আটক করে। পরে তল্লাশি চালিয়ে তাদের হেফাজতে থাকা চার বস্তায় ৬০০ বোতল ভারতীয় মাদক ‘ফেয়ারডিল’ জব্দ করা হয়, যার বাজার মূল্য প্রায় ২৪ লাখ টাকা।

এ ব্যাপারে দুর্গাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. কামরুল হাসান বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আমরা জানতে পেরেছি তারা মাদক ব্যবসায়ী। তাদের সঙ্গে আরও বড় একটি চক্র জড়িত রয়েছে। তারা এসব মাদকদ্রব্য এখান থেকে ময়মনসিংহসহ ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় পাচার করে আসছিল। তাদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে আদালতে সোপর্দ করার কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন।

তিনি আরও বলেন, জেলা পুলিশ সুপার মহোদয়ের নির্দেশনায় সীমান্তবর্তী এই এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযান ও চেকপোস্ট কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। এ ব্যাপারে কাউকে ছাড় দেয়া হবে না।




চলমান বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে ৯ ক্ষেত্রে ব্যয় কমাতে সরকারের বিশেষ নির্দেশনা

ডিএনবি নিউজ ডেস্ক:

চলমান বৈশ্বিক পরিস্থিতি ও অর্থনৈতিক অস্থিরতা বিবেচনায় নিয়ে বাংলাদেশ সরকার ৯টি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রে ব্যয় কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। গত ৯ এপ্রিল মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের উপসচিব তানিয়া আফরোজ স্বাক্ষরিত এ সংক্রান্ত পরিপত্র জারি করা হয়।

সোমবার (১৩ এপ্রিল) পরিপত্র প্রকাশ করা হয়েছে। সব সচিব, বিভাগীয় কমিশনার, জেলা প্রশাসক এবং উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বরাবর দেওয়া সেই পরিপত্রে নির্দেশনাগুলো অবিলম্বে কার্যকরের নির্দেশনা দেওয়া হয়।

মূলত গত ২ এপ্রিল মন্ত্রিসভা বৈঠকে বর্তমান বৈশ্বিক প্রেক্ষাপট ও চলমান সংঘাতের ফলে জ্বালানি তেল, গ্যাস, বিদ্যুৎ ও সার খাতে সৃষ্ট প্রভাব নিয়ে আলোচনা করা হয়। পরিস্থিতি মোকাবিলায় অর্থ বিভাগের স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি কর্মকৌশল এবং অর্থায়ন পরিকল্পনা পর্যালোচনা করে বেশকিছু ব্যয় সাশ্রয়ী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে সরকার।

বৈঠকে সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে অফিস সময় এক ঘণ্টা কমানো এবং দোকানপাট ও বিপণিবিতান বন্ধের সময়সীমা নির্দিষ্ট করে দেওয়াসহ জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে একগুচ্ছ গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

পরিপত্রে বলা হয়, সরকার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে যে সরকারের পরিচালন ব্যয় হ্রাসকল্পে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত—

১. সরকারি গাড়িতে মাসিক ভিত্তিতে বরাদ্দকৃত জ্বালানির ব্যবহার ৩০ শতাংশ হ্রাস করতে হবে।

২. সরকারি কর্মকর্তাদের গাড়ি ক্রয়ের জন্য সুদমুক্ত ঋণ দেওয়া এবং সরকারি অর্থায়নে সব বৈদেশিক প্রশিক্ষণ বন্ধ থাকবে।

৩. প্রশিক্ষণ ব্যয় ব্যতীত অভ্যন্তরীণ প্রশিক্ষণ ব্যয় ৫০ শতাংশ হ্রাস করতে হবে।

৪. সভা/সেমিনারে আপ্যায়ন ব্যয় ৫০ শতাংশ হ্রাস করতে হবে এবং সেমিনার/কনফারেন্স ব্যয় ২০ শতাংশ হাস করতে হবে।

৫. ভ্রমণ ব্যয় ৩০ শতাংশ হ্রাস করতে হবে।

৬. সরকারি খাতে গাড়ি, জলযান, আকাশযান এবং কম্পিউটার ক্রয় শতভাগ হ্রাস করতে হবে।

৭. সরকারি কার্যালয়ে জ্বালানি/বিদ্যুৎ/গ্যাস ব্যবহার ৩০ শতাংশ হ্রাস করতে হবে।

৮. আবাসিক ভবন শোভাবর্ধন ব্যয় ২০ শতাংশ এবং অনাবাসিক ভবন শোভাবর্ধন ব্যয় ৫০ শতাংশ হ্রাস করতে হবে।

৯. ভূমি অধিগ্রহণ ব্যয় শতভাগ হ্রাস করতে হবে।