হরমুজ প্রণালী থেকে দুটি তেলবাহী ট্যাংকার ফিরে গেছে

ইকোনমিক গ্রুপ এবং ব্লুমবার্গ স্যাটেলাইট চিত্রের কথা উল্লেখ করে ফার্সনিউজ এজেন্সি জানিয়েছে আজ রবিবার হরমুজ প্রণালী দিয়ে পারস্য উপসাগরে প্রবেশের চেষ্টাকারী দুটি খালি তেলবাহী ট্যাংকার ফিরে গেছে।

ডিএনবি নিউজ আন্ত: ডেস্ক-

সংস্থাটি দাবি করেছে যে, তবে মোম্বাসা বি নামের একটি তেলবাহী ট্যাংকার ইরানের অনুমোদিত একটি পথ (লার্ক দ্বীপ এবং কেশমের মধ্যবর্তী) দিয়ে পারস্য উপসাগরে প্রবেশ করতে সক্ষম হয়েছে।

ইরান বারবার বলেছে যে, হরমুজ প্রণালীর নিরাপত্তা তেহরানের অনুমতি, আইআরজিসি নৌবাহিনীর অনুমোদন এবং ইরানের পক্ষ থেকে নিরাপদ পথ নিশ্চিত করার ওপর নির্ভরশীল। এবং সাম্প্রতিক সময়ে প্রণালী থেকে জাহাজ ফিরে আসা কোনো নতুন বিষয় নয়। যখন ট্রাম্প ইরানের দশটি শর্ত মেনে নিয়ে যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হন, তখন ইসরায়েল আলোচনা শুরুর একটি শর্ত, অর্থাৎ লেবাননে হামলা না করার শর্তটি লঙ্ঘন করার সাথে সাথেই ইরান হরমুজ প্রণালী বন্ধ করে দেয়; একই সময়ে, স্যাটেলাইট চিত্রে দেখা গেছে ইরানি জাহাজ ছাড়া অন্য কোনো জাহাজ প্রণালীটি দিয়ে যাতায়াত করছিল না।

এরপর খবর আসে যে, ইরানের কাছ থেকে অনুমতি নেওয়ার জন্য জাহাজগুলো হরমুজ প্রণালীর মুখে জড়ো হচ্ছে। স্যাটেলাইট চিত্র থেকে বোঝা যায় যে, হরমুজ প্রণালী দিয়ে যাতায়াতকারী ৭০ শতাংশেরও বেশি ট্যাংকার হয় ইরানি অথবা ইরানের সাথে তাদের যোগসূত্র রয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের বিরুদ্ধে ইসরায়েল-মার্কিন জোটের আক্রমণের পর হরমুজ প্রণালীর পরিস্থিতি আর আগের মতো হবে না এবং হরমুজ প্রণালীতে থাকা ইরানি সামরিক বাহিনীই নির্ধারণ করবে কোন জাহাজ কোন পণ্য নিয়ে যেতে পারবে। ব্লুমবার্গের প্রতিরক্ষা বিভাগের প্রধান বেকা ওয়াসারের মতে, হরমুজের ব্যাপারে এই আদেশ ইরানের শর্ত সাপেক্ষে এবং শিগগিরই এর কোনো পরিবর্তন হবে না।#

সূত্র: পার্সটুডে




জুলাই গণ-অভ্যুত্থানকে রক্ষা করতে আমরা আবারও আন্দোলনের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছি, নাহিদ ইসলাম

ডিএনবি নিউজ ডেস্ক:

জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেছেন, আমরা আবারও প্রস্তুতি নিচ্ছি। আমরা দল-মত নির্বিশেষে ঐক্যবদ্ধ আছি। এটি কোনো দলের বিষয় নয়, এটি কোনো জোটের বিষয় নয়; এটি বাংলাদেশকে রক্ষা করার বিষয়। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানকে রক্ষা করার বিষয়। জুলাইয়ের শহীদদের রক্ত যাতে বৃথা না যায়, এটি সেই উদ্যোগের বিষয়। এর জন্য আমরা সবাই ঐক্যবদ্ধ থাকব।

রোববার (১২ এপ্রিল) দুপুরে ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স, বাংলাদেশ (আইডিইবি) মিলনায়তনে জুলাইয়ের শহীদ পরিবার ও যোদ্ধাদের সঙ্গে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

নাহিদ ইসলাম বলেন, আমরা হয়তো অন্তর্বর্তী সরকারের সময় আপনাদের পাশে সম্পূর্ণভাবে দাঁড়াতে পারিনি। তারপরও আমরা সর্বাত্মক চেষ্টা করেছি। এই সরকার জুলাই যোদ্ধাদের পক্ষে বড় বড় কথা বলে; আমরা দেখতে চাই তারা জুলাই যোদ্ধাদের জন্য এবং সংস্কারের জন্য অন্তর্বর্তী সরকারের চেয়ে বেশি কী করছে?

জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ বলেন, জুলাই অধিদপ্তর ও জুলাই শহীদ স্মৃতি ফাউন্ডেশন অন্তর্বর্তী সরকারের সময় গঠন করা হয়েছিল। তারা সেই বিষয়গুলো কিছুটা বাস্তবায়ন করার চেষ্টা করছে, তবে অনেক ক্ষেত্রে তাদের অনীহা দেখা যাচ্ছে।

নাহিদ বলেন, আপনাদের প্রতি আহ্বান ও অনুরোধ থাকবে, আমরা আবারও প্রস্তুতি নিচ্ছি। আমরা দল-মত নির্বিশেষে ঐক্যবদ্ধ আছি। এটি কোনো দলের বা জোটের বিষয় নয়; এটি বাংলাদেশকে রক্ষা করার এবং জুলাই গণ-অভ্যুত্থানকে রক্ষার বিষয়। জুলাইয়ের শহীদদের রক্ত যেন বৃথা না যায়, সেই লক্ষ্যে আমরা সবাই ঐক্যবদ্ধ থাকব।

তিনি বলেন, আজকে আপনারা যারা উপস্থিত হয়েছেন, সবাই হয়তো কথা বলতে পারেননি; কিন্তু যারা বলেছেন সবার মধ্যেই আমরা সমান স্পিরিট দেখেছি। সবার মনের ভাষা আমরা বুঝতে পেরেছি। আমরা আবারও ঐক্যবদ্ধ আছি এবং রাজপথের জন্য প্রস্তুত আছি। ইনশাআল্লাহ, আপনারাও সবাই প্রস্তুত আছেন।

এনসিপি আহ্বায়ক বলেন, রাজপথের আন্দোলনে আপনারা সন্তান হারিয়েছেন, কেউ পা হারিয়েছেন, কেউ হাত হারিয়েছেন। এবার আপনারা সামনে নয়, বরং আজকে এই মঞ্চে যারা বসে আছি, আমরাই সবার সামনের সারিতে থাকব।

তিনি বলেন, গুলি এলে আগে আমাদের বুকে লাগবে। আপনারা শুধু আমাদের সহযোগিতা করবেন এবং দোয়া করবেন। ইনশাআল্লাহ, নতুন বাংলাদেশ ও সংস্কার প্রতিষ্ঠিত হবেই। শুধু বিএনপি কেন, অন্য যে শক্তিই হোক না কেন, চাই সে কোনো পরাশক্তি বা বৈদেশিক শক্তি হোক, আমরা তাদের পরাজিত করে ছাড়ব।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।