নেত্রকোনার দুর্গাপুরে একটি বাড়িতে ভারতীয় প্রসাধনীর গোডাউন! বিপুল চোরাই পণ্য জব্দ

ডিএনবি নিউজ ডেস্ক :

নেত্রকোনার দুর্গাপুর উপজেলা প্রশাসন চোরাচালানের বিরুদ্ধে কড়া অবস্থান নিয়েছে। এর অংশ হিসেবে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ ভারতীয় চোরাই পণ্য জব্দ করেছে ভ্রাম্যমাণ আদালত ও পুলিশ। জব্দকৃত এসব প্রসাধনী সামগ্রীর আনুমানিক বাজার মূল্য আনুমানিক পাঁচ লাখ টাকা বলে জানা গেছে।

মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) দুপুরে উপজেলার বাকলজোড়া ইউনিয়নের গাভাউতা এলাকার একটি বসতবাড়িতে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।

প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, গাভাউতা এলাকার মো. সাইফুল ইসলাম সেকুল দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে সীমান্ত পথে ভারতীয় পণ্য এনে নিজের বাড়িতে মজুদ করে আসছিলেন। পরে সেখান থেকে এসব পণ্য দেশীয় বাজারে সরবরাহ করা হতো। এমন সুনির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে আজ (মঙ্গলবার) দুপুরে উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) আফরোজা আফসানা এবং উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. মিজানুর রহমানের নেতৃত্বে ওই বাড়িতে আকস্মিক অভিযান চালানো হয়। দুর্গাপুর থানা পুলিশের একটি দল এ অভিযানে সার্বিক সহায়তা প্রদান করেন।

প্রশাসনের দেওয়া তথ্য মতে, সাইফুল ইসলাম সেকুলের বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে বস্তাভর্তি বিপুল পরিমাণ ভারতীয় পণ্য উদ্ধার করা হয়। জব্দকৃত পণ্যের মধ্যে রয়েছে বিপুল পরিমাণ ভারতীয় পোন্ডস পাউডার, জেলবার, শ্যাম্পু, তেল ও বিভিন্ন দামি সাবান।

অভিযানের বিষয়ে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. মিজানুর রহমান জানান, “গোপন তথ্যের ভিত্তিতে গাভাউতা এলাকার সাইফুল ইসলাম সেকুলের বাড়িতে অভিযান চালানো হয়। তিনি দীর্ঘদিন ধরে শুল্ক ফাঁকি দিয়ে অবৈধভাবে ভারতীয় পণ্য এনে বাজারজাত করে আসছিলেন। তবে প্রশাসনের উপস্থিতি টের পেয়ে মূল হোতা সেকুল বাড়ি থেকে পালিয়ে যায়, ফলে তাকে তাৎক্ষণিকভাবে আটক করা সম্ভব হয়নি। তার বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।”

তিনি আরও জানান, “অভিযানের সময় বাড়িতে সেকুলের স্ত্রী ও ছোট শিশু সন্তান উপস্থিত ছিল। মানবিক দিক বিবেচনা করে এবং ছোট সন্তানের কথা ভেবে আপাতত তার স্ত্রীর কাছ থেকে ভবিষ্যতে এমন কর্মকাণ্ডে যুক্ত না হওয়ার শর্তে লিখিত মুচলেকা নেওয়া হয়েছে।”

সীমান্তবর্তী এলাকা হওয়ায় দুর্গাপুরে প্রায়শই চোরাচালানের ঘটনা ঘটে থাকে। তবে উপজেলা প্রশাসনের এমন ধারাবাহিক অভিযান চোরাকারবারীদের মনে আতঙ্ক তৈরি করেছে। জনস্বার্থে এবং দেশীয় অর্থনীতি রক্ষায় অবৈধ অনুপ্রবেশ ও চোরাচালানের বিরুদ্ধে প্রশাসনের জিরো টলারেন্স নীতি অব্যাহত থাকবে বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।




পেজেশকিয়ান: আমরা শত্রুর নিষ্ঠুর আগ্রাসনের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াব

ডিএনবি নিউজ আন্ত: ডেস্ক-

ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান তার দেশে আগ্রাসনকারীদের বিরুদ্ধে ইরানি জাতি ও সরকারের অব্যাহত প্রতিরোধের ওপর জোর দিয়েছেন।

পার্সটুডের এক প্রতিবেদন  অনুযায়ী, সোমবার মন্ত্রিসভার বৈঠকের ফাঁকে এক সাক্ষাৎকারে প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান ভবিষ্যতের জন্য আশা প্রকাশ করে ইরানি জাতি ও সরকারের অব্যাহত প্রতিরোধের ওপর জোর দিয়ে বলেছেন, “একে অপরের সঙ্গে মিলে ঐক্যবদ্ধ হয়ে এবং শক্তি ও সংহতির ওপর নির্ভর করে আমরা এই ঐতিহাসিক ও ভাগ্যনির্ধারক পথকে মর্যাদার সাথে সম্পন্ন করার জন্য শত্রুদের নিষ্ঠুর আগ্রাসনের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াব।

সূত্র: পার্সটুডে




শিক্ষা ব্যবস্থায় অনলাইন-অফলাইন সমন্বিত ক্লাস চালুর চিন্তাভাবনা করছে সরকার-শিক্ষামন্ত্রী

ডিএনবি নিউজ ডেস্ক:

জ্বালানি সাশ্রয়ের লক্ষ্যে শিগগিরই দেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় অনলাইন ও অফলাইন সমন্বিত ক্লাস পদ্ধতি চালুর চিন্তাভাবনা করছে সরকার বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহসানুল হক মিলন।

মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) জ্বালানি পরিস্থিতি নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত উচ্চ পর্যায়ের এক বৈঠক শেষে তিনি এ কথা জানান।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, সম্প্রতি রোজার ছুটি, বিভিন্ন আন্দোলন এবং অন্যান্য কারণে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পাঠদানের সময়সূচিতে বিঘ্ন ঘটেছে। এ ক্ষতি পুষিয়ে নিতে সপ্তাহে পাঁচদিনের পরিবর্তে ছয়দিন ক্লাস চালুর বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে অনলাইন শিক্ষাকে আরও গুরুত্ব দিয়ে কিছু ক্লাস ভার্চুয়ালি নেওয়ার পরিকল্পনাও রয়েছে।

তিনি বলেন, একটি জরিপে দেখা গেছে, প্রায় ৫৫ শতাংশ শিক্ষার্থী ও অভিভাবক আংশিক অনলাইন শিক্ষার পক্ষে মত দিয়েছেন। তবে সম্পূর্ণ অনলাইন শিক্ষা চালু করা হলে শিক্ষার্থীরা সামাজিকভাবে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়তে পারে- এ বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে সরকার।

প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী আমরা কাজ করছি। আগামী বৃহস্পতিবারের মন্ত্রিসভা বৈঠকে এ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হবে এবং সেখানেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসতে পারে, বলেন মন্ত্রী।

শিক্ষামন্ত্রী আরও বলেন, প্রাথমিকভাবে স্কুল পর্যায়ে এ পদ্ধতি চালুর বিষয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হলেও কলেজ পর্যায়েও তা প্রযোজ্য হতে পারে কিনা, সে বিষয়েও আলোচনা চলছে। তবে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে আপাতত ভিন্ন ব্যবস্থাপনা থাকতে পারে বলে ইঙ্গিত দেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, বিশেষ করে মহানগরীগুলোতে ট্রাফিক জট, জ্বালানি সংকট এবং আন্তর্জাতিক পরিস্থিতির প্রভাব মোকাবিলায় বিকল্প ব্যবস্থাও ভাবা হচ্ছে। এর মধ্যে শিক্ষার্থীদের জন্য বাস সার্ভিস চালু, বৈদ্যুতিক বাস, মেট্রো ও সৌরশক্তি চালিত পরিবহন ব্যবস্থার বিষয়গুলো গুরুত্ব পাচ্ছে।