
ইরান যুদ্ধ চায় না / দয়া, সততা এবং ন্যায়বিচার হল ঐশী ধর্মের মূল শিক্ষা: পেজেশকিয়ান
ডিএনবি নিউজ ডেস্ক :
ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের নীতি হল যুদ্ধ এড়ানো এবং ঐক্য ও জনগণের সেবা করার উপর মনোনিবেশ করা- এ কথা উল্লেখ করে ইরানের প্রেসিডেন্ট বলেছেন, ধর্মীয় শিক্ষার সারমর্ম হল দয়া, সততা ও মানবাধিকারকে সম্মান করা এবং উন্নতির পথে বাধা সৃষ্টির জন্যই অর্থনৈতিক চাপ প্রয়োগ করা হয়।
ইসলামী বিপ্লবের বিজয়ের ৪৭তম বার্ষিকী উপলক্ষে সোমবার রাতে বিভিন্ন ধর্মের নেতা এবং অনুসারীদের এক সভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান ঐশী ধর্মের অভিন্ন ভিত্তির কথা উল্লেখ করেছেন এবং সমাজে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা, দয়া ছড়িয়ে দেওয়া এবং মানবাধিকার রক্ষায় নবীদের ভূমিকার কথা উল্লেখ করেছেন। পেজেশকিয়ান বলেছেন যে, ঐশী শিক্ষার উপর ভিত্তি করে, সকল নবীকে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা এবং সত্যের উপর ভিত্তি করে বিচার করার জন্য পাঠানো হয়েছিল। তিনি আরও বলেন: ঐশী ধর্মের যুক্তিতে, মানুষ একটি “একক জাতি” এবং নবীদের প্রধান আহ্বান ছিল আল্লাহর উপাসনা করা, পরকালে বিশ্বাস করা এবং একে অপরের অধিকারকে সম্মান করা।
এই নীতিগুলি থেকে নিজেকে দূরে রাখার ফলে অনেক মতপার্থক্যের সৃষ্টি হয়েছে এ কথা উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন: যদি মানুষ ভ্রাতৃত্ব, দয়া এবং ক্ষমার মনোভাব নিয়ে আচরণ করে, তাহলে অনেক দ্বন্দ্বের অবসান ঘটবে, কারণ অতিরিক্ত লোভের কারণে এবং সত্যের পথ থেকে নিজেদের দূরে সরিয়ে রাখায় মতপার্থক্য তৈরি হয়েছে।
ইসলামী বিপ্লবের শুরু থেকেই দেশের সামনে বিরাজমান চ্যালেঞ্জের পর্যালোচনা করে ইরানের প্রেসিডেন্ট বলেন: “ইরানী জাতির স্বাধীনতা অর্জনের প্রথম দিন থেকেই দেশের মানুষকে নানা ষড়যন্ত্র, সংঘাত এবং চাপিয়ে দেওয়া যুদ্ধ মোকাবেলা করতে হয়েছে এবং এই ভূমির শ্রেষ্ঠ সন্তানরা ন্যায়বিচার ও ভৌগোলিক অখণ্ডতা রক্ষার জন্য তাদের জীবন উৎসর্গ করেছেন।”
মক্কা বিজয়ে নবী মুহাম্মদ (সা.)-এর বাণীর কথা উল্লেখ করে পেজশকিয়ান বলেছেন, প্রকৃত ধর্মীকতা কেবল ব্যক্তিগত ইবাদতের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয় বরং দায়িত্ব, সততা এবং জনগণের অধিকারের প্রতি শ্রদ্ধা হল ধার্মিকতার প্রধান মানদণ্ড।
ইরানের মৌলিক নীতি হলো ঐক্য, সংহতি এবং জনগণের সেবা করা, এই কথা উল্লেখ করে ইরানের প্রেসিডেন্ট বলেন: “ইরানি জাতি একটি সমৃদ্ধ ও গর্বিত দেশ গড়ে তোলার জন্য হাতে হাত মিলিয়ে কাজ করবে।”#
সূত্র: পার্সটুডে