ঘুমের মধ্যে ৩৫ অসহায় ফিলিস্তিনিকে হত্যা করল মানবতার শত্রু ইসরাইল

ডিএনবি নিউজ ডেস্ক :

বর্বর ইসরাইলি সেনারা গাজা উপত্যকার একটি ভবনে হামলা চালিয়ে অন্তত ৩৫ অসহায় ফিলিস্তিনিকে হত্যা করেছে যাদের বেশিরভাগ শিশু ও প্রতিবন্ধী মানুষ। গাজায় ইসরাইলি আগ্রাসন শুরুর ৪০০তম দিনে রোববার গভীর রাতে ওই পাশবিক হামলা চালানো হয়।

উত্তর গাজার জাবালিয়া এলাকার ওই ভবনে নিজেদের বাড়িঘর হারিয়ে শরণার্থীতে পরিণত হওয়া ফিলিস্তিনিরা আশ্রয় নিয়েছিলেন। এদের মধ্যে নারী, শিশু ও প্রতিবন্ধীদের সংখ্যা ছিল বেশি। ভবনটি বিমান হামলা চালিয়ে ধ্বংস করে ফেলার আগে কোনো সতর্কবার্তা দেয়নি দখলদার সেনারা। এর ফলে ভবনটিতে অবস্থানকারী কোনো মানুষ প্রাণে রক্ষা পায়নি।

আল-জাযিরা এক রিপোর্টে জানিয়েছে, “ভবনটির সবাই নিহত হয়েছে বলে আমরা নিশ্চিত হয়েছি। এটির ধ্বংসাবশেষ থেকে কেবল হতভাগ্য মানুষের টুকরা টুকরা ও থেঁতলে যাওয়া লাশ বের করা হয়েছে।”

ফিলিস্তিনি সেন্টার ফর হিউম্যান রাইটস বলেছে, জাবালিয়ার এই হত্যাকাণ্ডে তাদের গবেষক মোহাম্মাদ আলুশের পরিবারের এক ডজনেরও বেশি সদস্য শহীদ হয়েছেন। মানবাধিকার সংস্থাটি জানিয়েছে, এসব নিরপরাধ মানুষ অনাহারে ও অর্ধাহারে গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন থাকা অবস্থায় শহীদ হয়েছেন।

ঘণ্টায় ঘণ্টায় গাজায় এভাবে অসহায় মানুষদের হত্যা করা হচ্ছে জানিয়ে সংস্থাটি বলেছে, পশ্চিমা দেশগুলো অবিলম্বে যুদ্ধবিরতি কার্যকর করার জন্য ইসরাইলকে চাপ দেয়ার পরিবর্তে অস্ত্র সরবরাহ করে চলমান গণহত্যায় নিজেদের অংশগ্রহণ অব্যাহত রেখেছে।

# পার্সটুডে




তিন দিন ধরে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কে চলছে শ্রমিক অবরোধ

ডিএনবি নিউজ ডেস্ক :

তিন ধরে চলছে ঢাকা–ময়মনসিংহ মহাসড়কে পোশাকশ্রমিক বিক্ষোভ ও অবরোধ। বকেয়া বেতনের দাবিতে এ কর্মসূচি পালন করছেন গাজীপুরের টিএনজেড অ্যাপারেলস কারখানার শ্রমিকরা। কর্তৃপক্ষের আশ্বাসের পরও বেতন না পাওয়ায় মহাসড়কটি অবরোধ করে রেখেছেন তারা। সোমবার সকাল আটটার দিকে নগরের মালেকের বাড়ি এলাকায় শ্রমিকদের এ কর্মসূচি পালন করতে দেখা গেছে। গত শনিবার সকাল ৮টা থেকে তারা বিরতিহীনভাবে এ অবরোধ পালন শুরু করেন।

শিল্প পুলিশ ও শ্রমিক সূত্রে জানা গেছে, গাজীপুরের মোগরখাল এলাকায় টিএনজেড অ্যাপারেলসের ছয়টি কারখানার প্রায় তিন হাজার শ্রমিক গত তিন মাস বেতন পাচ্ছেন না। কয়েক দফা আন্দোলনের সময় শিল্প পুলিশসহ বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা তাদের বেতন পরিশোধের আশ্বাস দিয়েছিলেন। শ্রমিকরা তা মেনে নিয়ে আবার কাজে ফিরে যান। কিন্তু কয়েক দফায় বেতন পরিশোধের দিন নির্ধারিত হলেও কারখানা কর্তৃপক্ষ তা করেনি।

এতে শ্রমিকেরা ক্ষিপ্ত হয়ে গত শনিবার সকাল আটটা থেকে কারখানার সামনে জড়ো হতে শুরু করেন। ওই দিন সকাল পৌনে নয়টা থেকে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ শুরু করেন তারা। এরপর থেকেই মহাসড়কটিতে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। যানবাহন চলাচল করতে না পারায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন যাত্রী ও চালকরা। অনেকে ট্রেনে বা বিভিন্ন আঞ্চলিক সড়ক দিয়ে গন্তব্যে যাতায়াতের চেষ্টা করছেন।

সোমবার শ্রমিকদের কেউ রাস্তায় বসে আছেন, কেউ কেউ স্লোগান দিচ্ছেন। তাদের অনেকের হাতেই লাঠিসোঁটা। কোনো যানবাহন যাওয়ার চেষ্টা করলেই সেগুলো আটকানোর চেষ্টা করছেন। রাতে যেসব শ্রমিক সড়কে অবস্থান করেছেন, তাদের অনেকেই ফিরে যাচ্ছেন, আবার নতুন করে মহাসড়কে এসে অবস্থান নিচ্ছেন শ্রমিকদের আরেকটি অংশ। এতে মহাসড়কটির উভয় পাশে সোমবারও দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়েছে।

হাবিবুর রহমান নামে এক শ্রমিক গণমাধ্যমকে বলেন, দুই মাস ধরে তারা ঘরভাড়া দিতে পারছে না। দোকানের বাকিও শোধ করতে পারছে না। অথচ বেতন দেওয়া হচ্ছে না। তাই বাধ্য হয়েই রাস্তায় নামতে হয়েছে।

গাজীপুর শিল্পাঞ্চলের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ সারোয়ার আলম বলেন, মালিকপক্ষকে একাধিকবার সময় দেওয়া হয়েছিল, তারা বারবার বেতন পরিশোধে ব্যর্থ হয়েছেন। এ কারণে শ্রমিকরা এখন আর আমাদের কথা বিশ্বাস করছে না। আমরা তাদের একাধিকবার বোঝানোর চেষ্টা করেছি। কিন্তু ওরা নাছোড়বান্দা, মহাসড়ক ছাড়বে না।