গাজায় আরো দুই ইসরাইলি রিজার্ভ সেনা নিহত

ডিএনবি নিউজ ডেস্ক:

ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় প্রতিরোধ যোদ্ধাদের হামলায় ইহুদিবাদী ইসরাইলের আরো দুই সেনা নিহত হয়েছে। ইসরাইলের সামরিক বাহিনী বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।

ইসরাইলি বাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, গতকাল (শনিবার) মধ্য গাজার একটি রাস্তার পাশে পেতে রাখা বোমার বিস্ফোরণে এই দুই রিজার্ভ সেনা নিহত হয়। নিহতদের একজন হচ্ছে লজিস্টিক অফিসার ইয়োতাম ইজ্জাক পেলেত এবং অন্যজন ট্রাক চালক মোরদেশাই ইয়োসেফ বেন শোয়াম।

ইসরাইলি বাহিনী বলেছে, পেলেত গাজা শহরের দক্ষিণে জেইতুন এলাকার আশপাশে সৈন্যদের সরঞ্জাম সরবরাহ করার জন্য একটি বহুরের নেতৃত্ব দিচ্ছিল। আর বেন শোয়াম ছিল সরবরাহ বহরের অন্যতম ট্রাক চালক। মধ্য গাজার নেটজারিম করিডোরে অভিযানের সময় বোমা বিস্ফোরণে তারা নিহত হয়।

ইসরাইলি গণমাধ্যমের তথ্য অনুসারে, ফিলিস্তিনি প্রতিরোধ যোদ্ধারা ইসরাইলি বহর লক্ষ্য করে গুলি চালায় এবং পরে তারা নিরাপদে চলে যেতে সক্ষম হয়।  ইসরাইল সরকার বলছে, গত অক্টোবর মাসের মাঝামাঝি গাজায় স্থল অভিযান শুরু হওয়ার পর থেকে সর্বশেষ এই দুই সেনার মৃত্যুতে তাদের সামরিক প্রাণহানির সংখ্যা ৩৩৪-এ পৌঁছেছে।#

সূত্র : পার্সটুডে




আবু সাঈদ হত্যা: পুলিশের সাবেক আইজিসহ ১৭ জনের নামে মামলা

ডিএনবি নিউজ ডেস্ক :

রংপুরে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আবু সাঈদ হত্যার ঘটনায় বাংলাদেশ পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন, রংপুর রেঞ্জের সাবেক উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি) আবদুল বাতেন, রংপুর মহানগর পুলিশের সাবেক কমিশনার মো. মনিরুজ্জামানসহ ১৭ জনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে।

আজ (রোববার) রংপুরের অতিরিক্ত মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলার আবেদন করেন আবু সাঈদের বড় ভাই রমজান আলী। মামলাটি গ্রহণ করার জন্য তাজহাট থানাকে নির্দেশ দেন এই আদালতের বিচারক রাজু আহমেদ। মামলার বাদীর আইনজীবী রায়হান কবীর ও রোকনুজ্জামান এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

মামলার অন্য আসামিরা হলেন- রংপুর মহানগর পুলিশের উপকমিশনার আল মারুফ হোসেন, সহকারী কমিশনার মো. আরিফুজ্জামান, আল ইমরান হোসেন, তাজহাট থানার সাবেক ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রবিউল ইসলাম, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ বিভূতি ভূষণ রায়, সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) আমির আলী ও কনস্টেবল সুজন চন্দ্র রায়।

আসামিদের মধ্যে আবদুল বাতেন ও মনিরুজ্জামানকে বাধ্যতামূলক অবসর দেওয়া হয়েছে। রবিউল ইসলাম, আমির আলী ও সুজনকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।

মামলায় বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের গণিত বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মশিউর রহমান ও লোকপ্রশাসন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক আসাদুজ্জামান মণ্ডল, প্রক্টর অফিসের কর্মকর্তা রাফিউল হাসান, বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি পোমেল বড়ুয়া, সাধারণ সম্পাদক শামীম মাহফুজ, সাংগঠনিক সম্পাদক ধনঞ্জয় কুমার রায়, দপ্তর সম্পাদক বাবুল হোসেনকে আসামি করা হয়েছে। এ ছাড়া অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে ৩০ থেকে ৩৫ জনকে।

মামলার এজাহারে বাদী উল্লেখ করেন, কোটা সংস্কারের দাবিতে রংপুরে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতৃত্বে আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক ছিলেন আবু সাঈদ। গত ১৬ জুলাই আবু সাঈদ নিরস্ত্র ও একা ছিলেন। তিনি দৃশ্যত পুলিশের জন্য কোনো হুমকি ছিলেন না। তা সত্ত্বেও তাঁকে শটগান দিয়ে গুলি করা হয়। আবু সাঈদ পড়ে গিয়ে একাধিকার দাঁড়ানোর চেষ্টা করলে আসামিরা পূর্বপরিকল্পিতভাবে তাঁকে একাধিকার গুলি করেন।

এজাহারে বলা হয়েছে, ঘটনার দিন বেলা দুইটার দিকে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেতর থেকে শাখা ছাত্রলীগের সভাপতি পোমেল বড়ুয়ার নেতৃত্বে ছাত্রছাত্রীদের ওপর ইটপাটকেল নিক্ষেপ শুরু হয়। আবু সাঈদ পিছু না হটে দুই হাত প্রসারিত করে বুক পেতে দিয়ে এগিয়ে যান। পুলিশের সামনে এ সময় প্রক্টর অফিসের কর্মকর্তা রাফিউল হাসান হেলমেট পরে এসে আবু সাঈদকে লক্ষ্য করে ‘গুলি করুন, গুলি করুন’ বলে নির্দেশ দেন। অপর দুই আসামি বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই শিক্ষক মশিউর রহমান ও আসাদুজ্জামান মণ্ডল পুলিশকে গুলি করতে প্ররোচিত করেন।

আবু সাঈদ বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের ১২তম ব্যাচের শিক্ষার্থী ছিলেন। নিরস্ত্র আবু সাঈদকে পুলিশের গুলি করার ভিডিও ছড়িয়ে পড়লে সারা দেশে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়। এই হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে সোচ্চার হয় মানুষ। কোটা সংস্কার আন্দোলন একপর্যায়ে সরকার পতনের এক দফায় রূপ নেয়। ছাত্র-জনতার গণ-আন্দোলনের মুখে ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকারের পতন ঘটে। প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগ করে দেশ ছেড়ে ভারতে পালিয়ে যান শেখ হাসিনা।#

পার্সটুডে




৫ মে হেফাজতের সমাবেশে গুলি: ৩৪ জনের বিরুদ্ধে মামলার আবেদন

রাজধানীর মতিঝিলের শাপলা চত্বরে ২০১৩ সালের ৫ মে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশে নির্বিচারে গুলির ঘটনায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ৩৪ জনের বিরুদ্ধে ঢাকার এক আদালতে মামলার আবেদন করা হয়েছে।

আজ রোববার বাংলাদেশ পিপলস পার্টির চেয়ারম্যান মোহাম্মদ বাবুল সরদার চাখারী ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. জাকি আল ফারাবীর আদালতে এ আবেদন করেন।

শুনানির পর ম্যাজিস্ট্রেট অভিযোগকারীর বক্তব্য রেকর্ড করেছেন এবং এ বিষয়ে আজই পরবর্তী আদেশ দেবেন। এ নিয়ে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে ১১টি মামলা হয়েছে, যার মধ্যে ৮টি হত্যা, একটি অপহরণ এবং দুটি মানবতাবিরোধী অপরাধ ও গণহত্যার অভিযোগ রয়েছে।

গত ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের মুখে পদত্যাগ করে দেশ ছেড়ে পালিয়ে যান শেখ হাসিনা।