দুর্গাপুরে ট্রাক চাপায় শিশুর মৃত্যু

ডিএনবি নিউজ ডেস্কঃ

নেত্রকোনার দুর্গাপুরে ট্রাকের চাপায় সোহাগ মিয়া নামের ৭ বছরের এক শিশু নিহত হয়েছে।

মঙ্গলবার সকাল ১০টার দিকে বিরিশিরি-শ্যামগঞ্জ সড়কের কৃষ্ণেরচর এলাকায় একটি দ্রুতগামী ট্রাকের চাপায়  ঘটনাস্থলে নিহত হয় শিশু সোহাগ। নিহত শিশু সোহাগ উপজেলার কাকৈরগড়া ইউনিয়নের কৃষ্ণেরচর গ্রামের মোঃ হেলু মিয়ার ছেলে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায় ১২ এপ্রিল মঙ্গলবার সকালের দিকে বিরিশিরি-শ্যামগঞ্জ সড়কের কৃষ্ণেরচর বাজার সংলগ্ন রাস্তা পার হচ্ছিল সোহাগ।

এমন সময় দুর্গাপুরের দিকে আসা একটি দ্রুতগামী খালিট্রাক সোহাগ মিয়া’কে চাপা দেয় এতে ঘটনাস্থলে তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় উত্তেজিত জনতা ঐ ট্রাকটি ভাংচুর সহ সাময়িকভাবে গাড়ি চলাচল বন্ধ করে দেয়। এরপর পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণসহ যানচলাচল স্বাভাবিক করে দেয়।
দুর্গাপুর থানার অফিসার ইন-চার্জ(ওসি)ভার: মীর মাহবুবুর রহমান বলেন, ট্রাকটিকে জব্দ করা হয়েছে এবং চালক পলাতক রয়েছে। এ ব্যাপারে নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।




পুলিশের সামনে কৃষককে কুপিয়ে হত্যা, এসআই প্রত্যাহার

ডিএনবি নিউজ ডেস্ক:

শেরপুরের শ্রীবরদীতে পুলিশের সামনে এক কৃষককে কুপিয়ে হত্যার একটি ভিডিও ভাইরাল হয়েছে ফেসবুকে। এ ঘটনায় পুলিশের এক উপ-পরিদর্শককে (এসআই) প্রত্যাহার করা হয়েছে।

তবে পুলিশের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ নেই বলে জানিয়েছে নিহতের পরিবার। তারা বলছে, পুলিশ তাদের সঙ্গে আছে। দ্রুত আসামি ধরায় তারা পুলিশের ওপর খুশি।

গত রবিবার রাতে ফেসবুকে একটি ভিডিও ভাইরাল হয়। চার মিনিট ২০ সেকেন্ডের ওই ভিডিওতে দেখা যায়, স্থানীয় লোকজনের সামনে একজনকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। সেখানে পুলিশের তিন সদস্যও ছিলেন। গত ২৩ মার্চ শ্রীবরদী উপজেলার রাণীশিমুল ইউনিয়নের হালুয়াহাটি গ্রামে ঘটনাটি ঘটে। যাকে হত্যা করা হয় তিনি হালুয়াহাটি গ্রামের কৃষক শেখবর আলী।

এ ঘটনায় ২৪ মার্চ সকালে শেখবরের ছোট ভাই মাহফুজ ৩৯ জনের নামে শ্রীবরদী থানায় মামলা করেন। মামলায় প্রধান আসামি করা হয় হালুয়াহাটি গ্রামের জিকু মিয়াকে।

এজাহারে বলা হয়, দীর্ঘদিন ধরে জমি নিয়ে দুই ভাই জজ মিয়া ও জিকু মিয়ার সঙ্গে শেখবরের বিরোধ চলছিল। এ নিয়ে ২২ মার্চ জিকুসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ দেন শেখবরের মা মাহফুজা বেগম। ২৩ মার্চ বিকেলে শ্রীবরদী থানার এসআই ওয়ারেছ আলীসহ তিন পুলিশ সদস্য ঘটনা তদন্তে হালুয়াহাটি গ্রামে যান।

এরপর পুলিশের সামনেই জজ মিয়া ও জিকু মিয়া তাদের লোকজন নিয়ে শেখবরকে কুপিয়ে হত্যা করেন।

পুলিশ জানায়, ঘটনাস্থল থেকে জিকুর স্ত্রী, জজ মিয়া ও জজ মিয়ার স্ত্রীকে আটক করা হয়। পরদিন শেখবরের ভাইয়ের মামলায় তাদের গ্রেপ্তার দেখানো হয়। এরপর বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে র‌্যাব-১৪ রাণীশিমুল ইউনিয়নের বালিঝুড়ির পাহাড় থেকে জিকুকে এবং রাত ১১টার দিকে জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সহসভাপতি মিজানুর রহমান রাজাকে ডিবি পুলিশ গ্রেপ্তার করে। মো. সাইফুল নামের একজনকেও এই মামলায় গ্রেপ্তার করা হয়।

মাহফুজ বলেন, ‘জিকু, জিকুর ছেলে স্বাধীন, সাইফুল, জজ মিয়া আমাদের সামনেই আমার ভাইকে নির্মমভাবে কুপাইয়া খুন করে। বাঁচাইতে গেলে আমাগো প্রতিবেশী সরাফত আলীরেও কোপ দেয়। আমারেও কোপায়। পুলিশ বাধা দিতে গেলে স্বাধীন, সাইফুলরা পুলিশের ওপর আক্রমণ করতে যায়।

‘পরে শ্রীবরদী থানা থাইক্কা আরও পুলিশ যাইয়া তিনজনরে ধইরা আনে। আমি আমার ভাইয়ের হত্যার বিচার চাই। পুলিশ আমাগো সঙ্গে আছে। তারা খুব তাড়াতাড়ি অনেক আসামি ধরছে। আর যাদের ধরা বাকি তাদেরও যেন তাড়াতাড়ি ধরে।’

ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর অনেকেই পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।

তবে শেখবরের ছেলে মিনার হোসেন বলেন, ‘পুলিশের তো জানের ভয় ছিল। এরাও রক্ষা করতে পারে নাই। পুলিশ আমাদের সঙ্গেই আছে। আমি প্রধানমন্ত্রীর কাছে আসামিদের বিচার চাই।’

শেরপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আবু বক্কর সিদ্দিক জানান, হত্যা মামলার প্রধান আসামিসহ ছয়জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। জিকু ও সাইফুল আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছেন। বাকিদেরও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

এই পুলিশ কর্মকর্তা বলেন, ‘সেদিন ঘটনাস্থলে এসআই ওয়ারেছ আলীসহ কয়েকজন পুলিশ ছিল। তারা থাকার পরও কীভাবে, কেন এই ঘটনা ঘটল তা জানার চেষ্টা চলছে। ২৫ মার্চ ওয়ারেছকে প্রত্যাহার করে পুলিশ লাইনসে সংযুক্ত করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

‘পুরো বিষয়টি পুলিশ সুপার মহোদয় দেখছেন। এ বিষয়ে যাদের গাফিলতি পাওয়া যাবে, তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে।’




ডিএনবি নিউজ ডেস্কঃ:
 আজ রবিবার (৩ এপ্রিল) থেকে শুরু হয়েছে রমজান মাস। বছর ঘুরে মুসলিম উম্মাহর মাঝে আবার ফিরে এসেছে রহমত, মাগফিরাত ও নাজাতের এই মাস। এই মাসেরই কদরের রাতে নাজিল হয়েছিল মানব জাতির হেদায়েতের গ্রন্থ আল কোরআন। আগামী ২৮ এপ্রিল বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে পালিত হবে পবিত্র শবেকদর।
জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমে অনুষ্ঠিত জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির সভা শেষে চাঁদ দেখার এই ঘোষণা দেওয়া হয়।



মসজিদে কুবা আরো দশ গুণ বড় করবে সৌদি আরব

ডিএববি নিউজ আন্তর্জাতিক ডেস্ক : 
ইসলামের ইতিহাসের প্রথম মসজিদ ‘মসজিদে কুবা’। মহানবী (সা.)-এর নির্মিত মদিনার সন্নিকটে অবস্থিত ঐতিহাসিক মসজিদে কুবা বর্তমানের চেয়ে ১০ গুণ সম্প্রসারণ করার উদ্যোগ নিয়েছে সৌদি সরকার। প্রথম হিজরিতে নির্মাণের পর এবারই প্রথম এত বড় সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
শুক্রবার (৮ এপ্রিল) সৌদি যুবরাজ মুহাম্মদ বিন সালমান মদিনা মুনাওয়ারা সফরকালে বিখ্যাত কুবা মসজিদ সম্প্রসারণ প্রকল্পের উদ্বোধন করেন।
আরব নিউজে প্রকাশিত প্রতিবেদনে জানা গেছে, মসজিদটি ৫০ হাজার বর্গমিটার সম্প্রসারণ করা হবে। যেখানে একসঙ্গে ৬৬ হাজার মুসল্লি নামাজ আদায় করতে পারবেন। বর্তমানে এর পরিধি পাঁচ হাজার ৩৫ বর্গমিটার।
কুবা সেন্টারে এখানকার ঐতিহাসিক বৈশিষ্ট্যগুলো নথিভুক্ত করার পাশাপাশি মসজিদের আশপাশের প্রাচীন ও ঐতিহাসিক স্থাপনা সংরক্ষণ করা হবে। কুবা মসজিদ ঘিরে ক্রমবর্ধমান চাহিদা পূরণের লক্ষ্যে এ সম্প্রসারণ প্রকল্পের ঘোষণা দেওয়া হয়।
ঐতিহাসিক স্থাপনার মধ্যে উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় কূপ, খামার, বাগান ও মহানবীর তিনটি পথসহ মোট ৫৭টি স্থান রয়েছে। সৌদি ভিশন ২০৩০-এর লক্ষ্যমাত্রা পূরণে হজযাত্রীদের সেবার মান বৃদ্ধির জন্য এ প্রকল্পের উদ্যোগ নেওয়া হয়।
মসজিদে কুবায় নামাজ পড়ার অনেক ফজিলতের কথা হাদিসে বর্ণিত হয়েছে। এক বর্ণনায় এসেছে, ‘নবী কারিম (সা.) প্রতি শনিবার কুবা মসজিদে আসতেন,  কখনও পায়ে হেঁটে, কখন আরোহণ করে।’ (সহিহ বুখারি, খণ্ড : ০২, হাদিস : ১১১৯)
উসাইদ ইবনে খুদাইর (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে আছে, ‘মসজিদে কুবায় নামাজ, ওমরাহর সমতুল্য।’ (তিরমিজি, হাদিস : ২২৪; ইবনে মাজাহ, হাদিস : ১৪১১)
সাহাল ইবনে হানিফ (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে এসেছে, ‘যে ব্যক্তি নিজের ঘরে ভালোভাবে পবিত্রতা অর্জন করে (সুন্নত মোতাবেক অজু করে) মসজিদে কুবায় আগমন করে নামাজ আদায় করে তাকে একটি ওমরার সমপরিমাণ সওয়াব দান করা হবে।’ (সুনান ইবনে মাজাহ, খণ্ড : ০১, হাদিস : ১৪১১)

 




‘শিক্ষাঙ্গনে ধর্ম পালনে বাধার সম্মুখীন হলে এর দায় সরকারকে নিতে হবে’

ডিএনবি নিউজ ডেস্কঃ

শিক্ষার্থীরা শিক্ষাঙ্গনে ধর্মীয় রীতি-নীতি মানার ক্ষেত্রে বাধার সম্মুখীন হলে দায়ভার সরকারকে নিতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সহকারী মহাসচিব ও ঢাকা মহানগর উত্তর সভাপতি অধ্যক্ষ হাফেজ মাওলানা শেখ ফজলে বারী মাসউদ।

সোমবার (১১ এপ্রিল) নগরীর আইসিএবি মিলনায়তনে ইসলামী ছাত্র আন্দোলন বাংলাদেশ ঢাকা মহানগর উত্তরের উদ্যোগে আয়োজিত ‘মহিমান্বিত মাহে রমজানের তাৎপর্য’ শীর্ষক আলোচনা সভা ও ইফতার মাহফিলে তিনি এ কথা বলেন।

শেখ ফজলে বারী মাসউদ বলেন, সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলিম সন্তানরা শিক্ষাঙ্গনে পর্দাসহ অন্যান্য ধর্মীয় বিধান পালনে বাধাগ্রস্ত হওয়া সরকারের ব্যর্থতার বহিঃপ্রকাশ। মুসলিম নারী শিক্ষার্থীরা তাদের ধর্মীয় পোশাক পরে শিক্ষাঙ্গনে যাবে, এটা তাদের ধর্মীয় স্বাধীনতা। এই স্বাধীনতা হরণের পায়তারা করা হলে তা বরদাশত করা হবে না।

তিনি বলেন, রমজানকে কেন্দ্র করে একশ্রেণির কালোবাজারি ও অসাধু ব্যবসায়ী আদাজল খেয়ে মাঠে নেমেছে। নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্য ও পণ্যসামগ্রীর কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে জিনিসপত্রের দাম বৃদ্ধির মাধ্যমে নিম্নবিত্ত ও মধ্যবিত্ত আয়ের মানুষদের জীবন দুর্বিষহ করে তুলেছে।

নগর সভাপতি নাঈম বিন জামশেদের সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক ইউসুফ সিরাজীর সঞ্চালনায় প্রধান বক্তা হিসবে উপস্থিত ছিলেন ইসলামী ছাত্র আন্দোলন বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি শরিফুল ইসলাম রিয়াদ।

শরিফুল ইসলাম রিয়াদ বলেন, আমরা গভীর উদ্বেগের সাথে লক্ষ্য করছি,দেশের ধর্মীয় সম্প্রীতি নষ্ট করতে একটি চিহ্নিত গোষ্ঠী নতুন করে মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে। তারা দেশে একটি অস্বাভাবিক পরিবেশ তৈরী করতে চায়। দেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্ট করতে যে ষড়যন্ত্র শুরু হয়েছে তা রুখে দিতে প্রশাসনের প্রতি আহবান জানান তিনি।

সভাপতির বক্তব্যে নাঈম জামশেদ বলেন, আল্লাহ তায়ালা মাহে রমজানকে তাকওয়া অর্জনের অনুশীলন এবং ইবাদত-বন্দেগি ও আল্লাহর নৈকট্য অর্জনের জন্য ভরা বসন্ত বানিয়েছেন। এ মাস শুধু একটি মাসই নয়; বরং গোটা বছরের জন্য এটা তাপকেন্দ্র। এ মাস থেকেই মুমিন গোটা বছরের তাকওয়া-তাহারাতের সঞ্চয় গ্রহণ করে। পুরো বছরের ঈমানি প্রস্তুতি গ্রহণের এটাই মোক্ষম সময়।

ইফতার মাহফিলে আরও উপস্থিত ছিলেন- ইসলামী ছাত্র আন্দোলন নগর উত্তরের তথ্য গবেষণা ও প্রচার সম্পাদক মুহাম্মাদ আনাস আবদুল্লাহ, অর্থ ও কল্যাণ সম্পাদক সুহাইল তানভীর, প্রকাশনা ও দপ্তর সম্পাদক মিযান বিন নাযির,কওমী মাদরাসা সম্পাদক মাহদী হাসান তাছনিম, স্কুল ও কলেজ সম্পাদক নুরুন্নবী ইসলাম, সাহিত্য ও সংস্কৃতি সম্পাদক মুহাম্মাদ হাবিবুল্লাহ মেসবাহ, শুরা সদস্য নাঈমুল ইসলাম, এইচ এম মাহমুদ হাসান, আরিফুল ইসলাম ও ইমরান হুসাইনসহ নগরের আওতাধীন থানা ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান শাখার নেতৃবৃন্দ।