দুর্গাপুরকে ‘পর্যটন হাব’ হিসেবে গড়ে তোলা হবে: দুর্গাপুর প্রেসক্লাব’র রজতজয়ন্তীতে ডেপুটি স্পিকার

ডিএনবি নিউজ ডেস্ক:

নেত্রকোনার সীমান্তবর্তী ও ঐতিহ্যবাহী উপজেলা দুর্গাপুরকে একটি ‘মানবিক জনপদ’ ও সমৃদ্ধ ‘পর্যটন হাব’ হিসেবে গড়ে তোলার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার এবং নেত্রকোনা-১ (দুর্গাপুর-কলমাকান্দা) আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার কায়সার কামাল। তিনি বলেছেন, “আমরা কথায় নয়, কাজে বিশ্বাসী। সস্তা হাততালির জন্য মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দিতে আসিনি, সৃষ্টিকর্তার সন্তুষ্টি এবং মানুষের কল্যাণের জন্যই কাজ করতে চাই।”

রবিবার (২২ মার্চ) দুপুরে ‘দুর্গাপুর প্রেসক্লাবে’র ২৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত ‘রজতজয়ন্তী উদ্‌যাপন’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। দুর্গাপুর প্রেসক্লাব প্রাঙ্গণে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন প্রেসক্লাবের সভাপতি তোবারক হোসেন খোকন।

অনুষ্ঠানের শুরুতে ডেপুটি স্পিকার দুর্গাপুর প্রেসক্লাবের প্রয়াত সাংবাদিকদের স্মরণ করেন এবং তরুণ সাংবাদিকদের বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতার প্রশংসা করেন। সাংবাদিকদের সমাজের ‘দর্পণ’ ও ‘নির্যাতিত মানুষের ঢাল’ হিসেবে আখ্যায়িত করে তিনি বলেন, “আপনারা নিউজের ভেতরের নিউজগুলো বের করে আনেন। দীর্ঘদিনের পচনশীল রাজনৈতিক কাঠামো ও দূষিত রাজনৈতিক কালচার থেকে বের হয়ে আসতে আপনাদের লেখনী জরুরি। সমাজের অসঙ্গতিগুলো তুলে ধরুন, আপনাদের তথ্যের ভিত্তিতেই প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিরা ব্যবস্থা নিতে পারবে।”

রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় অবৈধ দখলের তীব্র সমালোচনা করে ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বলেন, “কোনো প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তি বা বিত্তশালী যদি সাধারণ মানুষের সম্পদ, মসজিদ বা মন্দিরের জায়গা দখল করে, তবে তা মেনে নেওয়া হবে না। আমরা এমন দুর্গাপুর চাই, যেখানে গোরো, হাজং, হিন্দু, মুসলিম ও খ্রিষ্টান- সবাই সমান অধিকার ভোগ করবে। আইনের চোখে সবাই সমান, এখানে কেউ কারো অধিকার খর্ব করতে পারবে না।”

দুর্গাপুরের যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে বর্তমান সরকারের পদক্ষেপ তুলে ধরে ডেপুটি স্পিকার জানান, দুর্গাপুরে নতুন রেললাইন স্থাপনের প্রতিশ্রুতি তিনি নির্বাচনের আগেই দিয়েছিলেন এবং বর্তমানে সেটির ভিত্তিপ্রস্তরের কাজ চলমান রয়েছে। এছাড়া সোমেশ্বরী নদীর ওপর একটি গুরুত্বপূর্ণ সেতু এবং মহাদেও নদীর ওপর সেতু নির্মাণসহ একাধিক মেগা প্রকল্পের ‘ফিজিবিলিটি স্টাডি’ বা সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের কাজ চলছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, নেত্রকোনা সদর ও পূর্বধলার সংসদ সদস্যদের সমন্বিত প্রচেষ্টায় খুব শিগগিরই এসব প্রকল্পের দৃশ্যমান অগ্রগতি সাধারণ মানুষ দেখতে পাবে।

স্থানীয়দের দীর্ঘদিনের উদ্বেগের বিষয় ‘বালু উত্তোলন’ প্রসঙ্গেও তিনি স্পষ্ট বক্তব্য রাখেন। তিনি বলেন, “অবৈজ্ঞানিক পন্থায় বালু উত্তোলন করে মুষ্টিমেয় কিছু মানুষের পকেট ভারী করার সহজ পন্থা আমরা বন্ধ করতে চাই। যত্রতত্র বালু উত্তোলনের ফলে ভূমিকম্পের মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগে ভবন ধসে ব্যাপক প্রাণহানির ঝুঁকি রয়েছে। নদী ও প্রাকৃতিক সম্পদের ভারসাম্য বজায় রেখে, বিজ্ঞানভিত্তিক ও বৈধ উপায়ে বালু উত্তোলনের ব্যবস্থা করা হবে। যা একইসাথে পরিবেশ রক্ষা করবে এবং অর্থনৈতিক উন্নয়নও ঘটাবে।”

দুর্গাপুরের অপার সম্ভাবনার কথা উল্লেখ করে ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বলেন, কুল্লাগড়া, দুর্গাপুর সদর, লেংগুরা, খারনৈ এবং রংছাতি- এই পাঁচটি ইউনিয়নকে কেন্দ্র করে একটি ‘ট্যুরিজম হাব’ বা পর্যটন কেন্দ্র গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে। এটি বাস্তবায়িত হলে স্থানীয় হাজারো মানুষের কর্মসংস্থান হবে এবং সারাদেশ থেকে পর্যটকরা এ অঞ্চলের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করতে আসবেন। এর ফলে উন্নত হাসপাতাল ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ আনুষঙ্গিক নাগরিক সুবিধা স্বয়ংক্রিয়ভাবেই বৃদ্ধি পাবে।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, নেত্রকোনার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) সুখময় সরকার, পুলিশ সুপার মো. তরিকুল ইসলাম এবং দুর্গাপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার আফরোজা আফসানা, বিশিষ্ট চিকিৎসক ও সমাজসেবক ড. দিবালোক সিংহ।

এছাড়া অনুষ্ঠানে স্থানীয় প্রশাসন, রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি এবং জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে দায়িত্বপালনকারী গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।